পরিচয় শিশু সাহিত্য | দ্বিতীয় সংখ্যা
প্রকাশ ৭ই জুলাই ২০২৩
কবিতা - লেখাপড়া - শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
শোন রে সোনা আমার কথা
হৃদয় দিয়ে ভাই,
লেখাপড়া না শিখলে তোর
জীবন হবে ছাই।
সমাজ বুকে লোকে তোকে
দেবে না যে দাম,
তোকে নিয়ে সবার কাছে
দেবে সে বদ' নাম।
নিজের ভালো বুঝতে গেলে
শিক্ষা তোমার চাই,
মান সম্মানকে পেতে গেলে
শিক্ষা দেবে ঠাঁই।
কষ্ট করে লেখাপড়া
শিখেছে ভাই আজ,
সমাজ তাকে শিয়রে দেয়
সম্মানের সেই তাজ।
আর দেরি নয় সময় থাকতে
খাতা কলম ধর্,
অঙ্ক বাংলা ইংরেজি সব
নিজের মতো কর্।
রাজার কান চুরি - সুনন্দিতা দত্ত
হাসিখুশি মহারাজা
হলো গম্ভীর মুখ তার
সেপাইরা চুপচাপ
কি যে হলো সব্বার ?
তারপরে জানলাম
রাজার কাকে নিয়ে গেছে কান ,
সেই খবর পেয়ে হলো
রানীমাও অজ্ঞান ।
এরপরে রাজসভায়
পড়লো খুব হুড়োহুড়ি
সকলেই জানলো
রাজার কান গেলো চুরি ।।
ইংরেজি কবিতা - A TO Z - সুপ্রিয়া গঙ্গোপাধ্যায়
ALPHABETS 'RE A TO Z;
TALK BY THOSE TILL GO TO BED.
A B C D E F G
FOND OF MILK & DON'T HAVE TEA.
H I J K L M N O P
FRIENDS 'RE GOOD;THOSE PLAY WITH ME.
L M N O P Q R S T
ALPHABETS RUN, STOP & SEE
U V W X Y Z
DRESSED WITH BLUE THOUGH REST 'RE RED.
WORLD IS LOCKED UP, MAKE IT FREE!
WHO CAN DO IT?A-Z KEY.
অনুগল্প - প্রকৃতিতে আসা যাওয়া - প্রদীপ দে
-- সত্যি বলছি মা --!
আমার স্কুলে যেতে একদমই ভালো লাগে না। স্কুল ছাড়িয়ে দাও না? আমি মাঠে জঙ্গলে ঘুরে
বেড়াবো, পুকুরে সাঁতার দেবো আর ঘুড়ি ওড়াবো।
-- হ্যাঁ রে তোর মাথাটা কি একদম গেছে রে? একটা ক্লাস সিক্সে পড়া ছেলের মুখে এ
কেমন কথা রে?
-- সত্যিই বলছি মা! আমার ভাল্লাগে না!
-- যা পারিস করগে! আমার অনেক কাজ আছে, মেলা তোর সঙ্গে বকবক করে লাভ নেই।
মা চলে গেল রেগে। আমি কি যে করি? কেউ আমার কথা বোঝে না। বাবা -- সেতো আরো এক
ভয়ানক রাগী লোক। তার সামনেই যাওয়া যায় না। একমাত্র কিছুটা বোঝে দাদু। কিন্ত মায়ের
কাছে সে আবার চুপ। মা যে দাদুকেও বকে - এটা করবেন না, ওটা ধরবেন না, ওখানে যাবেন
না, ওরা ভালো নয় - ইত্যাদি প্রভৃতি সব।
আমার জন্ম এই সরসীনীরে। এটা একেবারে অঁজ পাড়াগাঁ। গাছ পুকুর জঙ্গল ভরা আমার এই
গ্রাম।
গাছে ফুল আছে ফল ভরে ঝুলে পড়ে, পুকুরে কত মাছ আর তাদের কি নাচানাচি - দাপাদাপি আর
সত্যি কিনা জানিনা হয়তো বা মা ভয় দেখানোর জন্য একেবারে ছোটবেলা থেকে বলে আসছে ওই
পুকুরের নিচে নাকি কুমির আর দৈত্য দানবেরা সব থাকে। এখন একটু বুদ্ধি হয়েছে তাও
মায়ের কথায় মজা পাই আর রোমাঞ্চ হয় ,বেশ মজাই লাগে। ঠিক যেমনটা লাগে ছোটবেলায়
মায়ের আর মাসির মুখে শোনা জঙ্গলে বাঘ ভালুকের কথা। আমি এখন মাঝেমধ্যে জঙ্গলে গিয়ে
বাঘের অপেক্ষা করতে খুব ভালোবাসি। হ্যাঁ একটা প্রধান কথা বলতে একদম ভুলে গেছি
যেখানে গেলে আমার মন ভাল হয়ে যায় - না থুড়ি মন হারিয়ে যায় সেটা এক ফালি নদী - যা
আমাদের গ্রামকে ছুঁয়ে পাশের গ্রামে ঢুকে পড়েছে। বাউলেরা গান গেয়ে আর নেচে ওর পাড়
ধরে চলে কি আনন্দই না পায়!
-- আচ্ছা দাদু, তুমি যখন ছোট ছিলে তখনও এই গ্রামটা কি এরকমই ছিল?
দাদুর বয়স বাহাত্তর। ভালো নাম ক্ষিরোদ বাড়ুর্জ্জে। দেখতে একেবারে ক্ষিরের পুতুলের
মতোই। কিন্তু বেশ শক্তসামর্থ। সব কাজই করতে পারে। ভোর বেলা থেকে উঠে জপ ধ্যান করে
বাগানের কাজ করে তারপর বাড়ির বাজার থেকে ফাইফরমাস - সবে একেবারে সিদ্বহস্ত!
কিন্তু দাদুর একেবারে মনের কাজ হলো - সময় করে কবিতা লেখা।
দাদু আমার মাথায় হাত বুলায় আর বলে --
-- দাদুভাই সময় বয়ে যায় আর সব কিছুই পাল্টায়। প্রকৃতির রূপ ক্রমাগত পরিবর্তনশীল।
তবু গাছ গাছই থাকে, পাখি একইভাবে উড়ে চলে।
-- দাদু আজ মাকে বলেছি আমি আর স্কুলে যাবো না।
-- না -না ! দাদুভাই এটা ঠিক নয়। পড়াশোনা না করলে, না শিখলে, না জ্ঞান থাকলে
জগৎকে তুমি ধরতে ছুঁতে পারবে না।
আমি বুচাই চেপে যাই। দাদুকে হাত ধরে টান মারি,আমরা দুজনে পিছনের খিড়কি দোর দিয়ে
আলপথ ধরি, বাবাকে এড়িয়ে, স্কুল ফাকি মেরে।
দাদু কবিতা বলে আর আমি গাছের গায়ে হাত বুলিয়ে পুকুরে নেমে যাই, মুঠো করে জল তুলে
আকাশের পানে ছুঁড়ে দিই -কাঁদামাটি তুলে দৌড়ে জঙ্গলে ঢুকে পড়ি। দাদু ও আমার
পিছনে ছোঁটে আর হাঁফিয়ে ওঠে। আমরা নদীর পাড়ে গিয়ে বসে পড়ে, বুক ভরে হাওয়া গিলি!
দাদু নিঃশেষে আবৃত্তি করে --
অরন্য ঘর্মাক্ত গায়ে - আলপথ ধরে
কাশফুল হাওয়ায় পাখা মেলে ওড়ে
পাখিদের ডানা ভেজা নদী বয়ে চলে
স্নান সারে - নদীর নিংরানো জলে !
যখন বাড়ি ফিরি তখন পাখিরা শেষ প্রদক্ষিণ শুরু করে দিয়েছে। একরাশ ঘন কালো অন্ধকার
যেন ছুটে আসছে পুরো গ্রামটাকে গোগ্রাসে গিলে খেতে। চাঁদ বড় তাড়াতাড়ি করে সূর্য কে
পাশ কাটাতে ব্যস্ত আর তারারা তখনও লুকিয়ে।
বাড়ির দরমার গেটে রেগে চোখ লাল করা যে একজন তিনিই একাধারে আমার বাপ অন্যধারে
দাদুর ছেলে ………………
-- বাবা, শেষ পর্যন্ত আপনি বুড়ো বয়সে যাবার সময়, আমার ছেলেটার মাথা খেয়ে
যাবেন?
মাও কম যায় কিসে? -- লজ্জায় আমার মাথা কাটা যাচ্ছে আর আপনি ওর দাদু হয়ে ছেলেটাকে
উস্কাচ্ছেন?
অপমানিত অভুক্ত দাদু দাওয়ায় এলিয়ে বসে পড়ে। ক্রোদান্বিত কারোর নজরে আসে না, আমি
দেখি দাদু বুক চেপে শুয়ে পড়ে -শেষ-শোয়া!
আমি জীবনে এই প্রথম এক মৃত্যুর আহবান অনুভব করলাম।
অনেকদিন কেটে গেল। পড়াশোনা ছাড়তে পারিনি। একদিন নদীর ধারে বসে দাদুর কত কথাই ভাবি
-- প্রকৃতি তার নিয়মেই চলে শুধু রূপ বদলায়। গাছ পাখি নদ নদী সব আগের মতোই।
চিৎকার শুনে ঘোর কাটে।ছুটে যাই একটা দূরের কুটিরে, মহিলাদের হুল্লোড় কাটিয়ে বেড়ার
জানালা দিয়ে উঁকি মারি -- এক সদ্যোজাত ভুমিষ্ট সন্তানের প্রসবোত্তর জ্যান্ত ছবি
আমার চোখে ধরা পড়ে।
দাদুর মৃত্যু - পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার স্বাক্ষী হয়েছিলাম আগেই। আর এখন আমি আমার
জীবনে এই প্রথম পৃথিবীতে কারোর আগমন চাক্ষুষ করলাম।
কবিতা - একে অন্যের তরে - মনোরঞ্জন ঘোষাল
গাদা গাদা ফুল
কেন মিছি মিছি
ঢালি দেবতার পায়।
যদি ঐ ফুল
পদে নাহি ঢালি
কার কিবা আসে যায়।
শুন নৃপ বর
খুলি কর্ণ কূহর
অনেকের হাঁড়ি চড়ে।
একে অপরের
হাতে হাত ধরে
সংসার চরাচরে।
|
| অঙ্কন - নিশাত ফারযানা |
কবিতা -আমরাই বাঁচাবো - তাপস দাস
বৃষ্টি ভেজা মাঠ বন,
দেখতে বড়োই মজা।
ও মা আমিও হবো,
বর্ষা ঋতুর রাজা।
দেখ চেয়ে বৃষ্টি ভিজে
গাছেরা সতেজ কেমন!
আমিও চাই সবুজ প্রাণ,
ঠিক গাছেরা যেমন।
স্যার বলে,"বৃষ্টি হলে
হয় আমনের চাষ।
পরিবেশ বাঁচাতে বেশি করে
লাগাতে হবে গাছ।"
ছোট্ট আমরাই দল বেঁধে সাজাবো পৃথিবীকে।
গাছ লাগাবো,গাছ বাঁচাবো,
স্কুল,বাড়ি,বিশ্বের দিকে দিকে।
খোকা - পূর্ণা গাঙ্গুলী
খোকা যাবে স্কুলে,
সঙ্গে যাবে কে ?
দিদানসোনা বাড়িতে আছে,
যাবেন খোকার স্কুলে।
রাস্তায় যেতে যেতে,
কত মজাটাই না হবে..
স্কুলে যাবার নামে,
খোকা কাঁদবে না আর মোটে।।
আকুলে ডাকি তোমায় - ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল
বর্ষা! হায় বর্ষা, -
জানিনা তুমি পুরুষ না প্রকৃতি
যেহেতু আকৃতি দাও তাই তুমি নারী
মা বলেই ডাকি তোমায়।
দূত করে পাঠাবো কোথায়?
মা বলে যদি ডেকে নেয় কেউ!
চাষিরা, বৃক্ষ ,গুল্মাদি ,মাছেরা
কাতরে ডাকছে তোমায়।
প্রাণ দাইনি প্রাণ দাও,
এখনো আবদ্ধ আছে সিমানায় সম্পর্ক গুলো
আনমনা মেঘেদের উদাসীনতা কাটিয়ে
একাকার হয়ে ঝরে পড়ো ধরিত্রীর বুকে,
আনন্দে মাতোয়ারা হোক
রথের মেলার জিলিপি, পাঁপড়
আর তোমার দেওয়া অন্নে ইলিশ খেয়ে।
হব কি তালগাছ ? - রিয়াজুদ্দিন মন্ডল
মা আমি আর পড়বো না
লাগছেনা আমার ভালো,
বাইরে দেখো ঘোর কেটে
ফুটেছে ভোরের আলো।
সেই ভোরে উঠেছি আমি
ছেড়েছি গায়ের কাঁথা ,
তখন থেকে লিখে আমার
হাত হয়েছে
ব্যাথা ,
এবার আমায় ছুটি দাও
হয়েছে অনেক দেরি
বাইরে গিয়ে ভয়ের সাথে
দেখবো টম জেরি।
মা বলে দুষ্টুমি ছেড়ে
চুপ করে পড়ো,
না পড়লে তুমি কিন্তু
হতে পারবেনা বড়ো।
অবাক হয়ে ছেলের প্রশ্ন
হব কি তালগাছ
?
তাহলে তো ঝড় আসলে
করতে হবে নাচ ।
ছেলের কথায় অবাক মা
বললি কি তুই খোকা !
এসব কথা শুনলে লোকে
বলবে তোকে বোকা।
কবিতা - পিঁপড়ে - বাসুদেব সরকার
কোথায় আছে মিষ্টি দ্রব্য
পিঁপড়েরা তা জানে,
দেখতে ছোট হলে তবু
বড়ো শক্তি জ্ঞানে।
নিজ ওজনের চেয়ে বড়ো
সকল প্রকার খাবার,
টেনে নিয়ে যায় সে একা
বিষয়টি খুব ভাবার!
সারা বছর খাবার খুঁজে
জমিয়ে সে রাখে,
জমা খাবার শীতে খায় সে
নিরাপদে থাকে।
পিঁপড়ে নিয়ে জনশ্রুতি
আছে তো গ্রাম বাংলায়,
খনার জিহ্বা খেয়ে না কি
এতো বুদ্ধি সে পায়।
|
| অঙ্কন - নাফরায আহমেদ |
শিয়াল রাজার বিয়ে - অনিমেষ চন্দ্র চন্দ্র
রিম ঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ে
শিয়াল রাজার বিয়ে,
আনন্দে সব পশুসহ
নাচছে বনের টিয়ে।
পাত্রী হলো শিয়াল রাণী
ওই পাশের জঙ্গলের,
রাগী ভীষণ শিয়াল রাণী
রাজা পাবে বেশ টের।
মাছের টোপর মাথায় দিয়ে
শিয়াল রাজা খুশি,
বুঝছে না সে বউ এবারে
দেবে তাকে ঠুসি।
দুপুর শেষে রাজা-রাণীর
ভালোই মিটলো বিয়ে,
জমিয়ে আজ খাওয়া হবে
প্রচার করলো টিয়ে।
প্রচার শুনে মাথাতে হাত
কিপটে শিয়াল রাজার,
রাণী বলে সবাই খাবে
করে আনতে বাজার।
শিয়াল রাণীর পাল্লায় পড়ে
রাজা হলো জব্দ,
জঙ্গলটা হয়েছে এখন
ভীষণই নিস্তব্ধ।
কচিকাঁচা দল - আনন্দ বক্সী
রোজ ভোরে উঠে
একসাথে জুটে
মাঠে যায় ছুটে
মজা নেয় লুটে
লাগে ফুটফুটে।
হাসি কোলাহল
ভারি নির্মল
বুক ভরা বল
ওরা উচ্ছল
কচিকাঁচা-দল।
বলো দেখি! - গোবিন্দ মোদক
বলো দেখি ‘ডিম ভাজা’
কেন হলো ‘ওমলেট’,
ভুলে যাওয়া হলো কেন
সোজাসুজি ‘ফরগেট’?
দর-ও নেই বেশ-ও নেই
তবু নাম ‘দরবেশ’,
‘ইট’ মানে খাওয়া-দাওয়া
ঝামেলার একশেষ!
জাম নেই দানি-ও নেই
তবু সে জামদানি,
‘ইমপোর্ট’ মানে নাকি
ধরা হয় ‘আমদানি’!
বলো দেখি কাঁঠালটা
কেন হলো ‘জ্যাকফ্রুট’,
ভুল রাস্তায় চলে গেলে
কেন তা ‘রংরুট’?
বলো দেখি ‘বুক’ মানে
কেন হল “পুস্তক”,
ভাবলেই মাথা ঘোরে
জল খাই ঢকঢক!




খুব ভালো লাগলো এই উদ্যোগ। শিশুদের জন্য রইল শুভকামনা অনেক।
উত্তরমুছুন