পরিচয় শিশু সাহিত্য | চতুর্থ সংখ্যা | প্রকাশ ১ই অক্টোবর ২০২৩

পরিচয় শিশু সাহিত্য 

তৃতীয় সংখ্যা
প্রকাশ ৯ই জুন ২০২৩ 

পরিচয় শিশু সাহিত্য | চতুর্থ সংখ্যা | প্রকাশ ১ই অক্টোবর ২০২৩
পরিচয় শিশু সাহিত্য | চতুর্থ সংখ্যা | প্রকাশ ১ই অক্টোবর ২০২৩

কবিতার নাম: ছোট্ট সোনামণি।

কবির নাম:- বাপী নাগ ।

ঘুরে বেড়ায় ছোট্ট সোনামণি
প্রিয় সে রাজকুমারী।
করে বায়না সে মায়ের কাছে
যাবে সে মামারবাড়ি।

দেখল সে বাবা মায়ের জন্য 
জগতের এই আলো।
শিখেছে বাবা-মায়ের কাছে 
এই সে অক্ষরগুলো।

সব সময় মা-বাবার কাছে-ই 
সে যে রাজকুমারী।
ছিল ছোট্ট সোনামণি মায়ের  
বড় সে আজ্ঞাকারি।

খুব বায়না ছোট্ট সোনামণির  
আনতে হবে খেলনা।
ভালোবাসে বড্ড সাজতে সে
হবে যে দিতে আয়না।

পড়তে বসে ছোট্ট সোনামণি 
ওদিক এদিক চায়।
বসে পড়তে সোনামণি মাকে
ভয় সে পেয়ে যায়।

সোনামণি কত আনন্দে বলে
যাবো এবার খেলতে।
করে বায়না সে বাবার কাছে
যাবে সোনা মেলাতে।

কবিতার নাম:- শিশু শ্রমিক।

কবির নাম:- অভিজিৎ দত্ত।

শিশু শ্রমিক এক অমানবিক প্রথা 
কচি বয়সে পড়াশোনার বদলে 
মাথায় তাদের একরাশ কাজের বোঝা।

শিশুরা যদি পড়ার সুযোগ না পায় 
হৃদয়বৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ 
ঠিকমত কখনোই আর সম্ভব নয়।

কচি,কচি শিশুরাই 
দেশের আসল রত্ন 
তাদেরকে ঠিকমত তৈরি 
করতে না পারলে
বিফল হবে আমাদের সব স্বপ্ন।


শিশুদের নিয়ে উন্নত দেশগুলি 
আজ হয়েছে কত সচেতন 
প্রাচীন কালে বিশ্বকে পথ দেখানো 
ভারতবর্ষ আজ কেন অবচেতন?
কী করে হবে তাহলে দেশের উন্নয়ন?

কবিতার নাম:- রোদ বৃষ্টির খেলা।

কবির নাম:- সৌগত গোস্বামী ।

মুঠো মুঠো রোদ নিয়ে পাশে চাই 
তোমাকে সকাল বেলা, 
ফোটা ফোটা বৃষ্টি জলে ভেজাতে
চাই তোমাকে একেলা। 

রোদ চাই, বৃষ্টি চাই সাথে আবার     
চাই রোদ বৃষ্টির খেলা, 
রোদ বৃষ্টি ও তোমাকে সাথে নিয়ে
বসাতে চাই খুশি- মেলা। 

আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরুক, রোদ
উঠুক তার মাঝে মাঝে, 
দুটোর মধ্যে আনন্দ নেচে উঠুক
আমার অকাজে কাজে। 

ভালোবাসি রোদ ভালোবাসি বৃষ্টি
আর ভালোবাসি তোমাকে, 
আমি চাই তোমার সাথেই দেখতে
রোদ বৃষ্টি এসেছে একডাকে।

কবিতার নাম:- চাঁদের কনা।

কবির নাম:- তপন মাইতি।

খোকন দারুণ ভালো ছেলে 
তাকিয়ে রয় খুব 
মায়ের কোলটি একটু পেলে 
থাকে ভীষণ চুপ।

প্রশ্ন এত বেশি করে 
উত্তর জানা সব?
উত্তর দিলে স্বপ্ন গড়ে 
স্মৃতি ঘেরা টব।

ভুল দেব না এটাই হবে 
অনেক ক্ষেত্রেই চুপ 
ছোট্ট এখন শিখছে সবে...
সুবাস ঢালে ধূপ।

কোলে কোলে বেড়ায় ঘুরে 
পাড়ার সবাই নেয় 
আউলা বাউল গানের সুরে 
ভালোবেসে দেয়। 

খোকন ধীরে হচ্ছে বড় 
সাথে জারুল গাছ 
তাকিয়ে চোখ বড় সড় 
যেন কাতলা মাছ। 

যখন তখন ভয় ধরে যায় 
কাঁদে গভীর রাত 
ঘামের বিনিময় পায় না হায়...
দুধের কৌটো ভাত।

যেটাই পায় সেটাই খায় সোনা 
কান্না করে না 
ভদ্র ছেলে চাঁদের কণা 
আদর ধরে না। 

কবিতার নাম:- পাখিটি।

কবির নাম:- তাপস মাইতি।

পাখিটি আবার এসেছে উড়তে উড়তে
বসেছে ভাঙা কার্নিশে। 

আমার তো তখন দূর আকাশে
নীলের অনুরক্তগুলি
দুচোখে ভরবার কথা। 

পাখিটি আসে যখন- তখন
একদিন এসেছিল পালক খ'সিয়ে। 
ওদিন মেঘেদের বৃষ্টির ফোঁটা
তুলছিলাম দুহাত ভরে। 

পাখিটি এখন আর আসে না
এখন ছাদে মরা বাতাস
আর আমার কবিতা হয় না রচনা। 


অনুগল্প:- বস্ত্তগত চিন্তা থাকলে।

লেখকের নাম:- বিমল চন্দ্র পাল।


তখন ১৯৭৩ খৃ . এর মে মাস। রাত তখন বারোটা পলাশ পাল বাম আন্দোলনের এলাকায় একজন নেতৃস্হানীয় কর্মী । তখন রাজ্যে এক স্বৈরাচারী শাসক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এই শাসকের দমন মূলক স্বৈরাচারী আইন ' মিসা ' মামলার আসামী সে। পুলিশের তাড়া খেয়ে জমিদার ব্যানার্জীদের বিশাল আম বাগানের একটি গাছের তলায় তলায় বন্ধু সুভাষকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাগানটির সামনের দিকটা চওড়া প্রাচীর দিয়ে
ঘেরা ছিল। ঘটনার সময় তার আর সেই বলিষ্ঠতা 
ছিল না । এখন বাগান আছে, প্রাচীর নেই বললেই চলে। জমিদারের শেষ বংশ ধর এখন
শহরবাসী। সেখানে দুই ঘর বিনা পয়সার ভাড়াটিয়া বাস করে।

আম গাছের তলায় ওরা দুজন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ গাছ থেকে ছর ছর করে জল পড়তে লাগলো। সুভাষ একটু ভীতু স্বভাবের ছেলে। সে বলে উঠল,' পলাশ এ আবার কিরে , ভুত প্রেত নাকি!' পলাশ তার মুখ চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো,' চুপ করে থাক ।'
কিছুক্ষণ দুজনে চুপ করে থাকার পর শুনতে পেল নাকি সুরে কে যেন বলছে ,' এখনো গেলিনা ঘারে লাফিয়ে পড়ব নাকি।'সুভাষ ভয় পেয়ে পালাবার চেষ্টা করতেই পলাশ তার হাত চেপে ধরে বলল,' এখন ভয় পাবি না ,কাল তোকে সব দেখাবো। আরো কিছুক্ষণ সময় সেখানে থেকে এক সময় তারা বাড়ি চলে গেল।

পরদিন পলাশ সুভাষকে নিয়ে পাশের একটা বাড়িতে গেল। সেখানে গিয়ে দেখে তার ধারনাই ঠিক। সেখানে এক ঝুড়ি কাঁচা আম। পলাশ তাকে বলল,' ভালো করে দ্যাখ , ঐ আম গাছের তলায় গত কাল রাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম তো ?' সুভাষ ভালো করে দেখে বলল,' হ্যা , তাইতো। কিন্তু তুই বুঝলি কি করে ?' পলাশ বলল,' আমরা যখন ঐ গাছের তলায় দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন এদের বাড়ির কেউ ঐ গাছটির কাঁচা আম চুরি করছিল। হাত ফসকে একটা আম পড়লে ধরা পড়ে যাবে। তাই প্রস্রাব করে ভয় দেখিয়ে আমাদের তাড়াবার চেষ্টা করে সফল না হয়ে নাকি সুরে ভয় দেখিয়ে কাজ হাসিল করতে চেষ্টা করেছে । কিন্তু কোন ফল হয়নি।'

সুভাষ বলল,' এত শত তুই বুঝলি কি করে?' ‌ওটা তেমন কিছু নয়। কিছু মনের জোর আর ভৌতিক নামক অলীক বিষয়ের প্রতি দৃঢ় অবিশ্বাস থাকলে এসব সহজেই বোঝা যায়। চিন্তা চেতনায় বস্ত্তগত বোধ থাকলে ভুত ,প্রেত , আলোকিতা থেকে মুক্ত থাকা যায়। '

আর কথা না বাড়িয়ে তারা চলে গেল।

কবিতার নাম:- রকমারি।

কবির নাম:- মিহির সেন।

আম জাম লিচু কাঁঠাল
আঙুর আপেল চেরি,
বেল তাল লেবু কলা
কত ফল রকমারি।

কেউ স্বাদে হয় টক
কেউ চিনি গোলা,
কেউ তেঁতো কেউ ঝাল
কেউ আবার জলা।

হাজার রকম ফলে ভরা
এ বিশ্ব মাঝে,
স্বাদের সাথে গন্ধ বিরাজ
কেউ রূপে সাজে।

কেউ বড় কেউ ছোট
স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন,
রং রূপ রস গন্ধে
পৃথিবী হলো ধন‍্য।

কবিতার নাম:- এ কার আগমনী।

কবির নাম:- বিবেক পাল।

শীত এখনো বহুদূর---
শিশিরের নিবিড় আলিঙ্গনে 
কাশবন ভরে গেছে ফুলে ফুলে ।

বর্ষার মেঘ উড়ে যায়--
নতুন ঠিকানায় ; ঝলমলে মিঠে রোদ ,
বাতাসে বেড়ায় ভেসে সুর আগমনীর ।

নিশীথে ফোটে শাপলা শালুক শিউলি 
পাখিদের কলতানে আঁধারের আঁচল সরিয়ে ,
"চির নতুন হয়েও অচিন/ এ কার আগমনী ।"

আনমনা বাতাসে সহসা বজ্র ধ্বনি-
শুনি , আবেগী প্রাণ ছুটছে 
ব্যভিচারের বিরুদ্ধে , সন্মুখ সমরে ।

দুরাচারে ভরে আছে চারিধার
শিশিরের জলে ধুয়ে যায় না এই সন্তাপ
মৃন্ময়ী মাতা চিন্ময়ী হবে কি তুমি ?

চিঠিপত্র 

লিখেছেন:- অনিন্দিতা দত্ত।

প্রিয় 
ছেলেবেলা...... 

তোমার সাথে পরিচয় সেই ছোট্ট বেলা থেকে, যখন আমরা ঝড়ের দিনে আম কুড়িয়ে খুশিতে মিলে যেতাম,
বৈশাখে মিলে মিশে মেলায় হারাতাম,
প্রতি ছুটির দিনে বিটি়ভির চ্যানেলে চোখ রেখে অপেক্ষায় থাকতাম হাতিম তাইয়ের,
ছুটির দিনে সকাল সকাল সিসিমপুরের, বিকেল বেলায় লুকোচুরি ছুটোছুটি আরো কতো কি খেলা আমরা একসাথে ছিলাম,
বড় আনন্দে ছিলাম তোমার সাথে,
তোমায় নিয়ে লিখতে গেলে আমার ডায়েরীর পাতা ফুড়িয়ে আসবে তবুও ছোটবেলার গল্প শেষ হবেনা,
হঠাৎ সময় বদলাতে শুরু করল, 
বড়দের সাথে তাল মিলিয়ে বড়দের কাতারে হারিয়ে গেলাম,
দায়িত্ব বেড়ে গেলো, জীবন ট্রেনের গতি বদলে গেলো, চাহিদা মেটানোর দায়িত্ব নিয়ে নিলাম,
জীবন থেকে বন্ধু হারালো, প্রিয় মানুষ গুলো সরে দাড়ালো নিজস্ব স্বার্থের অভাবে, জীবনের প্রত্যেকটা পদক্ষেপে নিতে শুরু করলো নতুন নতুন পথের মোড়, জীবনের নিয়ম কানুন একটা রুটিনে চলতে শুরু করলো,
সারাটা দিন দায়ীত্বের ভার কাঁধে নিয়ে কাজবাজ চলতে শুরু করলো,
আর রাতের আঁধারে চলতে থাকলো জীবন যুদ্ধের হিসেব নিকেষ, 

তোমার মনে আছে ছেলেবেলা?
সেকালে তোমার কাছে থেকে বড় আফসোস করতাম, 
কবে একটু বড় হবো, নিজের নিয়মে জীবন সাজাবো,
সেকালে করা আফসোস একালে এসে অপরাধবোধে পরিনত হয়েছে,
বড় অপরাধী মনে হয় নিজেকে,
ইসস,,, সেদিন যদি বড় না হইতে চাইতাম, এমন কথা মনে মনে অনেকবারই,
তবে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলে মানিয়ে নিজেকে,
আড়াল করতে থাকলাম মনের চিত্তে লেপ্টে থাকা অনুভূতি গুলে,
পড়ে নিলাম মিথ্যা সুখের মুখোশ,
আমি ঠিক জানি তোমার কাছে আমার এ চিঠি পৌছাবে না,
ভেসে বেড়াবে হাওয়ায় হাওয়ায়,

তোমায় হারিয়ে ফেলে, নিজেকেও হারিয়ে ফেলেছি, তুমি আছো আজও আমার সুখময় স্মৃতি হয়ে,
বিষাদ সময়ে তোমার কথা মনে পরতেই এক চিলতে হাসি একটু প্রশান্তি লাগে প্রাণে।

ইতি 
তোমার বন্ধু বর্তমান, 

কবিতার নাম:- ভূতের বাসা।

কবির নাম:- মানস দেব।

 দত্তবাবুর বাঁশের ঝোপে
 ভূত বেঁধেছে বাসা
 রাস্তা দিয়ে মানুষ গেলে
 মুন্ডু খাওয়ার আশা ।

 ভূত চতুর্দশী আসছে দেখে
 ভীষণ আনন্দ মনে
 বহু বছর পর সে এমনি করে 
 ঘর বেঁধেছে এ বনে।

 মায়ের সাথে হাতটি ধরে
 দত্ত খোকা হাঁটছে পথ
 হঠাৎ ভীষণ উঠল বাতাস
 সম্মুখে এক বিরাট ঘট !

 দত্ত খোকা ছুটে গিয়ে
 ঘট ধরেছে যেই
 কালো ধোঁয়ায় গেল ছেয়ে
 দত্ত খোকা আর নেই !

কবিতার নাম:- অহংকার।

কবির নাম:- অধীর কুমার রায়।

জলির বিলের পুঁটি মাছ
বড্ড যে তার লাফ।
মানুষ যেন মানুষ নয়
এমনি খানা ভাব ।

সুনাই নদীর রাঘব বোয়াল
বড় বড় দাঁত।
জলির বিলে ঢুকে পড়লো
ভেঙে নদীর বাঁধ।

এমন সময় চাঁদ উঠেছে
হাঁ করেছে বোয়াল।
মুখের মধ্যে ঢুকে গেলো
পুঁটি মাছের চোয়াল।

কোথায় গেলো লম্ফ ঝম্প
কোথায় অহংকার।
হাসি কান্নার খেলাঘর
ভেঙে গেলো তার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)