পরিচয় শিশু সাহিত্য
তৃতীয় সংখ্যা
প্রকাশ ৯ই জুন ২০২৩
জ্যোৎস্না | অনিমেশ বিশ্বাস
জ্যোৎস্নালোকেরহাসি যেন উথলেপড়ে যায়
নিগূঢ় বনের পাতার উপর কভু সীমানায়
জলের উপর ছায়া পড়ে শুভ্র ফেনা প্রায়
সেই জলেতে চন্দ্র বুঝি পড়লো টুটে হায় ।।
দূর বনেতে ঢাকা যেন গভীর রাতের পাপে
যেথায় মেলি চক্ষু দুটি বক্ষ যে মোর কাঁপে
ভয় যে লাগে অন্ধকারে,বিকট তানের সুর
গুঞ্জরিছে কীট পতঙ্গ অজানা আলের দূর ।।
ভয় বুঝিবা কাটিয়া যায়, হেরিনু যবে আলো
চাঁদের প্রভার স্নিগ্ধচয়ন মোছে বনের কালো।
যে বনেরই পথটা ধরে যাইবো যেথায় চলে
সে বনের কোলে কোলে চাঁদের আলো ঢলে ।।
ভরসা রাখি আপন মনে, সাহস নিয়ে গড়ি
দুঃসাহসের সাধ্য খানা জিতব আলোয় ভরি
আজ যতটুক শঙ্কা ছিল সকল কাজের তরে
সব ঘুচিল চাঁদের আলোয়, পড়ল যখন ঝরে ।।
মায়ের অপেক্ষায় | বাসুদেব সরকার
দূর প্রবাসে আছি বসে
ক্ষণে ক্ষণে প্রতিক্ষণে,
পূজনীয়া মায়ের কথা
খুব বেশি আজ পড়ে মনে।
মায়ের স্নেহ মায়ের আদর
আমার মায়ের ভালোবাসা,
অকৃত্রিম তো সেই মাতৃপ্রেম
ভালোবাসা অটুট খাসা।
মাকে শুধু ভাবছি বসে
মায়ের জন্যই হৃদয় পোড়ে,
মা যে আমার ভক্তি মুক্তি
আছেন আমার অন্তর জুড়ে।
হৃদয়টা মোর যাচ্ছে ফেটে
মায়ের কথা স্মরণ করে,
মা'র বিরহে কষ্ট বুকে
দু'চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে।
অপেক্ষার আজ গুনছি প্রহর
মায়ের সাথে দেখা হবে,
পদধূলি মাথায় নেবো
সেই শুভক্ষণ আসবে কবে?
|
| অঙ্কন - তপময় মন্ডল |
আঁটে ফন্দি | রঞ্জন ভাওয়াল
গলা ছেড়ে রাতের বেলায়
গাইছে শিয়াল গান
রেগে গিয়ে ভালুক ভাইয়া
মুলে দিল কান।
দেখতে পেয়ে খরগোশেরা
আনন্দেতে দেয় হাততালি
লজ্জা পেয়ে শিয়াল পন্ডিত
দেয় হুক্কা হুয়া গালি।
গালি শুনে পশুরাজ
গেলেন ভীষণ তেড়ে
অনেক হয়েছে, এবার থামো
নইলে দেবো মেরে।
শিয়াল পন্ডিত মনে মনে
আঁটে একটা ফন্দি
কি করে রাতের বেলায়
করবে খরগোশেদের বন্দী।
রঙের ভিড়ে | সুপ্রিয়া গঙ্গোপাধ্যায়
লাল জবা ফুল,রক্তের রঙ
আর লঙ্কার গুঁড়ো;
অপরাজিতার নীল বরন আর
আকাশটা নীল পুরো।
সূর্যমুখী ও কলকে হলুদ_
মশলাও এই দলে;
সবুজ শ্যাওলা, ঘাস আর
ঐ কচি পাতাদের বলে।।
মোবাইল নয় | শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
শিশুর হাতে মোবাইল নয়
খাতা কলম দাও,
কম বয়সে যন্ত্র দিয়ে
যান্ত্রিক করতে চাও?
মোবাইলে কার্টুন দেখে
সময় কাটে যেই,
তোমার শিশুর জীবন হবে
আবর্জনা সেই।
দেহের মনের বিকাশ তাদের
তেমন কিছু নাই,
চার দেওয়ালের মধ্যে ওদের
হবে জীবন ঠাঁই।
সমাজ মাঝে মেলা মেশায়
হবে ওদের ক্ষয়,
মানবতার সব কিছুতে
হবে যে নয় ছয়।
সময় থাকতে যন্ত্র কেড়ে
দাও গো খেলার বল,
রবির আলো বাতাস লাগলে
সতেজ হবে কল।
গল্প শোনাও যন্ত্র ফেলে
বইটা পড়ে ভাই,
পড়ার নেশা তবেই হবে
হবে বইয়ের ডাঁই।
প্রিয় | মম
ঘুগ্নি আর লুচি।
সঙ্গে শশা, পেঁয়াজ, গাজর কুঁচি।
সকালে, দুপুরে, বিকেলে, রাতে -
যদি পাই আমার পাতে,
ওরেঃ! পরান ভরে যায় রে।
আমার মন আরও আরও আরও চায় রে।
দিল্লীর কিচেনে আমি বানাই।
প্রিয় আমার এই খানাই।
আর পড়শীদেরও আমন্ত্রণ জানাই।
দিল ওয়ালী দিল্লীর আমি।
বাঙালি আমরা, ছেলে, আমি আর আমার স্বামী।
দিল্লীতে কত্তা, গিন্নী থাকি।
আমেরিকায় থাকে আমাদের ছেলে।
ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি।
লুচি, ঘুগ্নি খাওয়াই, ও দিল্লীতে এলে।
প্রিয় ওরও এ খাবার।
আর প্রিয়ও এটা ওর বাবার।
প্রিয় লুচি, ঘুগ্নি আমরা একসঙ্গে বসে খাই।
বড় তৃপ্তি পাই।
গাছেরা বন্ধু | পূর্ণা গাঙ্গুলী
গাছেরা দেয় শুদ্ধ বাতাস,
দেয় ছায়া ফুল ফল,
আরো না জানি অনেক কিছু,
তবুও আমরা দিই কষ্ট তাদের,
কাটি গাছ অনবরত,
তারা চিৎকার করে ওঠে,
করে বারণ বারবার,
শুনি না তাদের কথা আমরা,
কাটি তাদের ইচ্ছে হলেই ।।
চাঁদের বুড়ি | তাপস দাস।
চাঁদের বুড়ি বলো কবে
আসবে নেমে ঘরে ?
রোজ আমাকে গল্প বলবে
সবাই গেলে পরে।
যাবো আমি তোমার সাথে
তোমার চাঁদের বাড়ি।
পিকনিক করবো সবাই মিলে
নিয়ে কড়াই হাড়ি।
দূর থেকে আর কতদিন
দেখবো বলো তোমায়,
চাঁদের বুড়ি,নিয়ে যাওনা
এসে আজই আমায়!
মা বাবা চাকরি করে
ফিরে অনেক রাতে।
খাবার আমায় খেতে হয়
আয়া আন্টির হাতে।
সন্ধ্যা হলেই আয়া আন্টি
বসে টিভি চালিয়ে।
পড়ার টেবিলে একা ঘরে
বইয়ের উপর যাই ঘুমিয়ে।
একা একা লাগে না ভালো
জানালায় চেয়ে থাকি।
রাত নামলে আকাশ পানে
তোমায় আমি ডাকি।
কেউ শোনায় না গল্প আমায়।
তাইতো আমি ডাকছি তোমায়।
এসো হে চাঁদের বুড়ি,
সঙ্গে নিয়ে গল্পের ঝুড়ি।
তোমায় আমি খেতে দেবো
দশ বস্তা মুড়ি।
সাথে দেবো অনেক লাড্ডু
আর এক বাটি কুড়কড়ি।
নেমে এসো তাড়াতাড়ি।
গল্প নিয়ে আমার বাড়ি।
ও চাঁদের বুড়ি।
সূর্য আমায় দাও আলো দাও | সামসুজ জামান
সূর্য আমায় দাও আলো দাও মন ভরো।
আমার মনের আঁধার যত দূর কর।
বলছি আমি ছোট্ট শিশু আমার কথা ভুলনা।
নীল আকাশ হোক বন্ধু আমার নেই কোন তার তুলনা।।
দুঃখে যাদের ঝরছে চোখের জল।
এক মুঠো ভাত একটা কাপড় না পেয়ে জীবন বিফল।
আমি যেন তাদের সবার হই।
দুঃখেতে তাদের পাশে রই।
অশ্রু তাদের মুছিয়ে দিতে নিজের পথে রই অটল।।
আজ নতুন দিনে নতুন কলতান।
ভরছে বাতাস নতুন সুরে কী আনন্দ অফুরান।
বেদনায় রবে না কেউ ম্লান,
গাইব সবাই নতুন গান।
উল্লাসে প্রাণ ভরিয়ে তুলে সবার বুকে জাগুক বল।।
টিকটিকির ডাক |দীপক রঞ্জন কর,
টিকটিকি টিক্ টিক্
ডেকে যাক্ ঠিক ঠিক,
ডাকে সাঁঝ সকালে
কিবা দুপুর বিকেলে ।
বাধা নেই যেতে ঐ
রাতে প্রাতে সর্বত্রই ,
মনে বৃথা সংশয়
অযথা পাছে ভয় ।
কাজ করি যে যার
ডেকে যাক্ দেদার,
টিকটিক ডাক্ তার
ডাকটাই শুধু সার।
ঋতু বৈচিত্র্য | নিতাই শর্মা
বছরের শুরুটা বৈশাখের হাতে,
বসন্তের বিদায়ে গ্রীষ্মের সাথে।
জৈষ্ঠ্যের দাবদাহ তীব্রতর হয়,
তপ্ত তপনে অগ্নি বর্ষে হাওয়ায়।
আষাঢ়ের হাত ধরে বর্ষা আসে,
কালো মেঘেরা গগনে ভাসে।
শ্রাবণের ধারা বহে ভূমির পরে,
নদীর স্রোতের বেগ যায় বেড়ে।
ভাদ্রে শরতের আগমন হয় ধরায়,
কাশবনে শ্বেত শুভ্রতা বেড়ে যায়।
আশ্বিনে আকাশে সাদা মেঘের ভেলা,
শিউলির সৌরভ ছড়ায় ভোর বেলা।
কার্তিকের হাত ধরে হেমন্ত আসে,
মাঠের সোনালী ফসলেরা হাসে।
কৃষকেরা সোনার ফসল ঘরে তোলে,
নবান্ন উৎসবে মেতে উঠে সকলে।
পৌষের মেলা বসে শান্তি নিকেতনে,
কচিকাঁচা শিশুরা মাতে নাচে গানে।
তীব্র শৈত্য প্রবাহ বহে স্থানে স্থানে,
রকমারী খাবার করে মাঘের পার্বণে।
ফাগুনের নবীন আনন্দে আসে বসন্তে।
রকমারী ফুল ফুটে বাগিচা দিগন্তে।
চৈত্রের বাতাসে বিদায়ের সুর ,
বৈশাখের শুরুতে হবে নতুন ভোর।
|
| অঙ্কন- নিশাত ফারযানা ক্লাস-পঞ্চম শ্রেণী |
খাই খাই করো | বিমল চন্দ্র পাল
খাই খাই কর কেন
কি কি খাবে বলো ?
কত কিছু খেতে পারো
দেখি তবে চলো।
খিদে পেটে খাবারটা
লাগে বেশ ভালো,
হোঁচট খেতেই হবে
যদি না দেখে চলো।
গাল মন্দ খাবে তুমি
ভুল পথে চললে
কম বেশী খাবে মার
পড়াটা না করলে।
আদর খাইয়ে দাদি
মাথা খেল নাতিটার,
দিব্যি খেয়ে বলতে পারি
সর্বনাশ হবেই তার।
পথ মাঝে আছাড় খেয়ে
চারিদিকে চায় দাদু,
' কাঁচকলা খাবি তোরা
বিশ্রামে বসি শুধু।'
খেতে খেতে বিষম খেলে
জবাব নেই,খাবি খাও,
গুন নেই গ্যাস খেলে
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে নাও।
ঘুষ খেলে অফিসেতে
ঝাপটাটা খেতে হবে
রোগ হলে ঔষধ খেও
নিরাময় হবে তবে।
গরম খেয়ে পরের কথায়
কভু অপরাধ ক'রো না,
উত্তম -মধ্যম খাবে কিন্তু
হাওয়া খাওয়া হবে না।
ভুল ক'রে কানমলা
কতবার খেয়েছো,
নিম পাতার স্বাদ কভু
চেখে তুমি দেখেছো ?
কতশত খাওয়ালাম
পেটটা কি ভরল,
খেতে খেতে বিষম খাও
কার মনে পড়ল।
ঘা খেয়ে বন্ধুর কথায়
মনে পাও ব্যথা,
জলে দুধে মিশে যাবে
হবেনা অন্যথা।
কথার জবাব দিতে নারো
খাও শুধু খাবি,
ভুল করে পাক খেলে
কি হবে তা ভাবি।
তরল জিনিস করে পান
তবুও বলে খাচ্ছি,
সিগারেট বিড়ির ধোঁয়া
তবুও খেয়ে যাচ্ছি।
এমন কিছু নেই ভাই
মানুষ যা খায়না,
গাড়ি গুলো খায় কি
চালক তা ভোলে না।
ঘুড়ি ওড়ে আকাশে
কত তার রং,
সেও দেখি গোৎ খায়
যেন এক সঙ।
ঝাল খেলে পরের মুখে
প্যাক খাবে তুমি,
ছেঁড়া চটিতে হোঁচট খাবে
উঁচু নীচু জমি।
বন বন পাক খায়
কিবা তার নাম,
শিশুরা লাট্টু বলে
এই ধরা নাম।
আর নয়,চল তবে
খাবার খেয়ে আসি,
আসল খাওয়াতে তাই
কেন গড়িমসি?



