পরিচয় শিশু সাহিত্য | ষষ্ঠ সংখ্যা | প্রকাশ ৩ই অক্টোবর ২০২৩

 পরিচয় শিশু সাহিত্য 

ষষ্ঠ সংখ্যা
প্রকাশ ৩ই আগস্ট ২০২৩ | সময় সকাল ০৭টা


কবিতার নাম:- দুর্গা কাঁদে ফুটপাতে।

কবির নাম:- তাপস কুমার বর।

এখনো আমার দুর্গা কাঁদে ফুটপাতে,
অভুক্ত গুলো তাদের গিলছে।
সাদা ভাত ওরা ভুলে গেছে,
বুকের ভেতর যন্ত্রণাগুলো কাঁদছে।
ভাত দাও বাবু, একমুঠো ভাত,
রাস্তার অখাদ‍্য কু-খাদ‍্যগুলো
কেন কুড়িয়ে কুড়িয়ে খাচ্ছে?
একদিন এদের আঙুলের টিপগুলো...
শাসন দিয়েছিল তোমায়!
এখনো কেন ওরা অভুক্ত কাঙাল?

আমার দুর্গার অশ্রু ফোঁটাগুলো,
অভুক্তের চুল্লিতে হয়েছে পাথর।
কখনো বা না খেয়ে...
কখনো,জল খেয়ে ওদের কাটছে জীবন।
আমার দুর্গা অবহেলিত অত‍্যাচারে,
শেষ জীবনে জুটেছে কেন বৃদ্ধাশ্রম?
একদিন এদের ঘুম ভাঙবে যখন....
একটা প্রতিবাদী দুর্গার পেছনে,
দাঁড়িয়ে আছে শত শত কন্ঠের গর্জন।

আমার দুর্গা এখনো কাঁদে,
পূজোর প‍্যান্ডেলের শেষ লাইনে যখন।
কেন কেউ করেনা ওদের আহ্বান?
ওরা না কি মলিন বস্ত্র পরা
ফুটপাতের অভুক্ত কাঙাল!
একদিন ওরা গর্জে উঠলে...
হয়ে যাবে গোপন শত শত সত‍্যের প্রকাশ।

কবিতার নাম:- স্বপ্ন ফুল ।

কবির নাম:- তপন মাইতি।

সদ্য ভোরের স্বপ্নগুলো 
শিশু মনে জাগে 
শরৎ হাওয়া মাটি ছুঁলো 
সবুজ ডালের ফাগে।

কচি কাঁচা চাওয়াগুলো 
ছড়ায় জ্যোৎস্না আলো 
হাতির কান যে দেখতে কুলো 
মুছছে মেঘলা কালো। 

সাদা খাতায় আঁকছে দেখ 
শারদীয়ার আকাশ 
বলার সাথে লিখতে শেখ 
দখিনা বয় বাতাস। 

নিষ্পাপ শিশু ফুলের মত 
বাহানাতেই পাগল
স্বপ্নে কুসুম ফুটবে যত 
ভাঙবে বাধার আগল।


কবিতার নাম:- আমি।

কবির নাম:- বিমল চন্দ্র পাল।

আজকের আমি, পঞ্চসপ্ততি বছর আগে
আমি ছিলাম কি?
নৈ শিশুর জীবন থেকে হামাগুড়ি
চিন্তা ভাবনা হীন অদ্ভুত জীবন----
কখন যেন হাতে ওঠে জ্ঞানের আধার।
ক্রমে দায়িত্বের বোঝা গুলো উঁকি মারে
যৌবনের দরজা দিয়ে।
কখন যেন নতুন সৃষ্টির দায় মাথায় চাপে
আমি- বৃক্ষে ডালপালা ছাড়ে।
এক সময় আবার নতুনের আহ্বান আসে
মূল ও মাটি আলগা হতে থাকে।
মাটি খসতে খসতে কখন যেন 
গাছটি উল্টে যাবে।
নতুন একটা গাছ ' আমি ' হয়ে দেখা দেবে
আর আমি হয়ে যাবো ইতিহাস।
এভাবেই আমি,আমি ,আমি আবার আমি---

কবিতার নাম:- ভোম্বল শিকারী।

কবির নাম:- তাপস মাইতি।

এক ডাকে চেনে সবে
                 ভোম্বল শিকারী
কাঠ কেটে বন করে
                    জঙ্গল সাফারী। 
নেই তার ভয়- ডর
                  বাঘে বলো উল্লুকে
হায়নায় কিলে ভাগে
                  গুঁতো খায় ভাল্লুকে। 
হরিণের শিং ধরে
                    যেই ছোঁড়ে আকাশে
সিংহ দেখে ভাব করে
                    যেন কোনো বোকা সে! 
ফুটবল পায়ে খেলে
                     বাঘরোল - শেয়ালে
হাতি তুলে কাঁধে নেয়
                      আপনার খেয়ালে। 

কবিতার নাম:- খোকার প্রশ্ন।

কবির নাম:- মিহির সেন

আকাশ কেন হয় নীল
সাগর কেন নোনা,
আঁধার রাতে লক্ষ তারা
যায়না কেন গোনা।

মেঘে কোথায় বৃষ্টি থাকে
কেন মাটির নীচে জল,
ফুল কেন নানা রঙের
মিষ্টি কেন ফল।

সূর্য কেন পূব আকাশে 
লাল হয়ে ওঠে,
গ্রহ কেন কক্ষপথে
বনবনিয়ে ছোটে।

মা বলে, জানবে বাছা
আগে পড়াশোনা কর,
স্কুল গিয়ে দাদার মত
হবে যখন বড়।

কবিতার নাম- কেন তুমি চলে গেলে একুশে(সুকান্ত স্মরণে)?

কবির নাম:- মন্মথ হালদার।

কেন তুমি চলে গেলে একুশে?
জীবন বীনার তারে উঠেছিল যে ঝংকার
সুরের তরঙ্গ উঠিতে না উঠিতে পাড়ি দিলে নিরুদ্দেশে।
যে ফুল সবে মেলছিল কলি বাতাসে সুবাস ভরি,
কে ছিড়িল বৃন্ত তাহার নিষ্ঠুর পরিহাসে?
শিশির সিক্ত রক্ত গোলাপ অকালে পড়িল ঝরি।

কেন তুমি চলে গেলে একুশে?
আজি রক্তস্নাত ধর্ষিত তোমার স্বদেশ ভূমি।
কন্যাকুমারিকা হতে হিমালয়ের পাদদেশে,
শিশুঘাতি নারীঘাতি রক্তপিপাসু হায়নার দলে
হানিছে আঘাত পাশবিক উল্লাসে।
মানুষ হারিয়েছে পরিচয় তার ধর্মের মোহজালে।

কেন তুমি চলে গেলে একুশে?
মায়ের ছোঁয়ায় অপবিত্র হায় দেবতার প্রাঙ্গণ।
ধর্ষিতা শিশু রক্তস্নাত দেবতার পাদদেশে।
মাতৃদ্বার ছিন্ন রুধির স্রোত বহিল দেবাঙ্গণে।
দেবতার পুজা সাঙ্গ হল ধর্ষিতার বিকৃত লাশে।
নির্ভয়া অভয়া উন্নাহে নারকীয় ধর্ষণ খুন হাথরসে।

কেন তুমি চলে গেলে একুশে?
মহামৃত্যুর মহাযজ্ঞ গঙ্গা ভরেছে লাশে।
আজি ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ সমুদ্যত তোমার স্বদেশভূমি
" রক্ত খরচের " হিসাব নিতে "বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি?"
কে করে আহ্বান " এস তবে আজ বিদ্রোহ করি।"
দানবের সাথে সংগ্ৰামের তরে জাগ্ৰত বিবেক প্রস্তুত ঘরে ঘরে।

কবিতার নাম:- প্রজাপতি।

কবির নাম:- পূর্ণা গাঙ্গুলী।

প্রজাপতিরা কথা বলে..
শুনেছো কি তাদের কথা ?
শুধু কানটা পেতে থাকতে হবে,
তাদের ভালোবাসতে হবে,
বলবে তখন তারা,
তাদের সুখ দুঃখের কথা !
দুঃখ বুঝি তাদেরও হয় ?
না পাওয়ার কষ্ট ?
প্রাণীদের অনুভূতি বুঝিনা আমরা,
তাই শুনিনা তাদের কথা !
স্বার্থপর মানুষ আমরা,
আছি শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত,
রোজ রোজ দুহাতে করে যাই,
তাই প্রকৃতিকে ধ্বংস !!

কবিতার নাম:- কাশফুল।

কবির নাম:- শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাথা দোলে ফুলে ফুলে মাঠ নদী তীরে 
দক্ষিণা বাতাসে দুলে হাসে তারা ফিরে।
মেঠো পথে ধারে ধারে সাদা রাশি রাশি
গিয়ে তাহা দেখে যারা সুখে মেলে হাসি।
রাখালের বাঁশি বাজে মেঠো সুরে যাহা
শোভা দেখে পথ মাঝে আমি বলি আহা।
গান ধরি খুলে গলা রবি সুরে তাই 
আমার যা ছিলো বলা কাশফুলে পাই।

শরতের নীলাকাশে সাদা পেঁজা তুলো
জলধরে সেথা ভাসে হাতে গোনাগুলো,
মাটির ভবেতে কাশ করে চলে খেলা
চারিদিকে এক রাশ কাশফুলে মেলা।

কবিতার নাম:-হরে কর কমবা ।

কবির নাম:- গোবিন্দ মোদক।

সেদিন এক দোকানেতে গিয়েছিলাম ভাই 
পশু-পাখির জিনিস দেখে অবাক বনে যাই!
দোকানেতে পাওয়া যায় হরে-কর-কমবা-ই 
ফর্দটা করলে হবে বেশ বড়ো লম্বা-ই! 
বিড়ালের বুট-জুতো — কুকুরের কুর্তি 
ছাগলের ঝালাপালা ফেউয়ের ফূর্তি! 
গোরুদের জন্য আছে গরদের থান শাড়ি
বাঘেদের বায়নাক্কা — সিংহের ঝকমারি!
টিয়ার টায়রাটা — দোয়েলের দোপাট্টা 
ভাল্লুকের হেব্বি-লুক — গুবরের গাট্টা! 
হাতিদের হাতমোজা গাধাদের গয়না 
চড়ুইদের চড়ুইভাতি শিস্ দেয় ময়না!
মোষেদের মোসাহেব, গোরিলার গণ্ডি 
বাঁদরের বাঁদরামি — রেগে রণচণ্ডী! 
সবকিছু মিলেমিশে হরে-কর-কমবা-ই 
দারুণ-ই বেচাকেনা, ফেলবার ‘দম’ নাই!!


কবিতার নাম:- একালের শিক্ষা ও শিক্ষক সমাজ

কবির নাম:- মোহাঃ নাসিমুদ্দিন হক 
 
শিক্ষকের আগে স্থান পেয়ে 
থাকেন জন্মদাতা পিতা-মাতা ;
শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে নেই এখন
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা।
 
অসদাচারের সমুদ্রে হাবুডুবু খেয়ে 
উদয় হয়েছে চরম ভয়াবহতা ;
সেখানে স্থান করে নিচ্ছে- 
স্বার্থ, লোভ আর দাম্ভিকতা।
 
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের 
সম্পর্ক রূপ নেবে বৈরিতায়; 
শিক্ষা তথা সমাজের অগ্রগতি 
কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
 
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতির 
শিহরন লাভ করতে পারে না ;
স্বার্থ, লোভ লালসায় অন্ধ হয়ে 
আজ এসব হয়ে গেছে অজানা।
 
শত শত বছর ধরে শিক্ষকরা মানুষ 
গড়ার কারিগর হিসেবে বিবেচিত ;
দিন দিন এ দেশে শিক্ষার পরিবেশ 
হারিয়ে শিক্ষা ও শিক্ষক অবহেলিত।  
 
তাই শিক্ষকতা পেশাটি শিক্ষকদের 
কাছে নিচ্ছে আজ ভয়ংকর রূপ;
ভেঙে পড়া শিক্ষাকে পুনরায় সজীবতা
না ফিরিয়ে থাকা ঠিক হবে না চুপ।
 
শাসন করলে শাসানি দেবে 
শাসন করেছো যারে !! 
শাসন বিহীন লেখাপড়ায় শিক্ষা
আর কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে !!? 
 
বহুদিন থেকে শুনে আসছি, 
শিক্ষায় নাকি জাতির মেরুদণ্ড !!  
আত্মবাদীরা পেটে ছুরি মেরেই চলেছে, 
চিনতে পারো না কোন্ সে ভন্ড !!? 
 
তুমিও কি আত্মানুরাগীদের একজন !?
ঢের সন্দেহ জাগে তুমিও তাদের স্বজন !! 
সময় বোঝাতে ভুলবে না নিশ্চয়ই !! কী জ্বালা, 
মহানন্দে স্বজনপোষণ আর এক সঙ্গে ভোজন !! 
 
ঠিককে ভুল, ভুলকে ঠিক বুঝিয়েছো, 
তা-ই বুঝেছে খাঁটি বিশ্বাসীরা ;
এ থেকে নিজের সর্বনাশ 
নিয়মিত করেই চলেছে তারা।
 
সময়, শক্ত ও ক্ষমাহীন হৃদয়ে সঠিক
পথ সবাইকে দেখাবে নির্বিঘ্নে ;
জীবনের চোরাবালি থেকে পুরনো 
ছন্দ ফিরে পেয়ে চলবে সযত্নে।    
 

কবিতার নাম:- শরৎ সকাল।

কবির নাম:- হীরামন রায়।

এসেছে শরৎ লাগলো দোলা
             কাশের বনে বনে।
ফুল পাখিরা করছে খেলা
            ফুলের সঙ্গোপনে।।
খুকুর নাচন শিউলি তলে 
            ফুলের সাজি হাতে।
রুনুর ঝুনুর নূপুর মলে 
            নতুন ছন্দে মাতে।।
নীল আকাশে যায় ভেসে 
           ঐ সাদা মেঘের ভেলা।
বাদ্যি বাজে ঠাকুর আসে 
            পূজোর কদিন মেলা।।
নতুন জামা পরবো মিলে
            পূজোর কটি দিন।
আয় রে তোরা আয় সকলে  
             নাচবো তাধিন ধিন।।
শরৎ মানে পূজোয় ঘোরা
             মন ছোটে সুদূর ।
শরৎ মানে নেইকো পড়া 
             আনন্দে ভর পুর।।

কবিতার নাম:- এক যে ছিল।

কবির নাম:- সুশান্ত সেন।

এক যে ছিল উড়নচণ্ডী ছেলে
মাঠে ঘাটে ঘুরতো সে , সমস্ত কাজ ফেলে।
তার ছিল এক সাথী
এক্কা দোক্কা খেলে তারা করতো মাতামাতি ।
আম বাগানের মাঠে
ঝরে পরা আম খুঁজে নেয় দুজনে এক সাথে ,
বঙ্কু খুড়োর ডাকে
দেয় না সাড়া দুষ্টু দুজন, চুপটি করে থাকে।
ঝড় উঠলে পরে
খান্ত হলো তাদের খেলা, বাড়ির পথ ধরে ।
পড়লো বেজায় তাড়া
ভালোমানুষ সেজে শেষে , বাড়ি ফিরলো তারা ।

কবিতার নাম:- টুকটুকি।

কবির নাম:- দর্পনা গঙ্গোপাধ্যায়।

 টুকটুকে টুকটুকি রোজ কাটে আঁকি-বুকি
 ফুটে উঠে নানা ছবি, জল রঙে লাল রবি
 খেলা আছে ঝুড়ি ঝুড়ি সাথী তার গুড়গুড়ি
 করে শুধু হুড়োহুড়ি ভালবাসে বুড়ো বুড়ি ।

 করে শুধু বায়না ভাত রুটি খায় না 
খায় সে বার্গার ফোনে দিয়ে অর্ডার।।


কবিতার নাম:- রোপন করি গাছ।

কবির নাম:- শান্তি দাস।

 সবুজে মাঠ সবুজে ঘাট
রোপন করবো সবুজ গাছ। 
 চারাগাছ সব পাতা মেলে
পরেছে নতুন সাজ।

গাছ লাগাবো পুকুর পাড়ে, 
অলস পড়া জায়গা দ্বারে। 
বাদ যাবে না এমন কিছু, 
পরিবেশের টান পিছু পিছু। 

গাছ লাগাবো কলেজ মাঠে, 
মনোনিবেশ করবো পাঠে। 

প্রকৃতির ভার সাম্য রক্ষা করবে, 
অক্সিজেন দান দিয়ে জীবন গড়বে। 

ফুলে ফলে ভরিয়ে তুলবে
ছায়া আর শান্তি দেবে। 
যদি দুষন মুক্ত দেখতে চাও, 
সবুজে সবুজে পরিবেশ বাঁচাও।

আষাঢ়ে রোপন করো গাছ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাঁচানোর কাজ, 
গাজ লাগাবো পাবো সতেজ বায়ু
দুষনমুক্ত অক্সিজেন বাড়বে আয়ু।


🔹️ ই- সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন -  Click Now
🔸️ লেখা ও শিল্পকলা পাঠান - Click Now

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)