পরিচয় শিশু সাহিত্য
সপ্তম সংখ্যা
প্রকাশ ৪ই অক্টোবর ২০২৩ | সময় সকাল ৭টা
|
কবিতার নাম:- আষাঢ়ে বৃষ্টি।
কবির নাম:- বিবেক পাল।
আষাঢ়ে অঝোরে ঝরবে বলে
মেঘেরা জড়ো হয় আকাশ তলে ,
মেঘ ফুঁড়ে উঁকি দেয় চাঁদ শুক্লা দ্বাদশীর ।
সজল বাতাসে
মেঘেদের কানাকানি ,
মেঘের রাজ্যে চাঁদের বিন্দু যেন হীরক দ্যুতি !
সারারাত জল ঝরে অঝোরে
যুঁথী কামিনী কদম বকুল ঘুমিয়ে ,
ভিজে দূর্বাঘাসের চাদরে।
পাঁপড়ি জুড়ে লেগে থাকা ঘ্রাণে
ভ্রমরের গুঞ্জন দিনমান জুড়ে ,
আকাশ বেত ফুলের মতো ম্লান !
মেঘ বালিকারা সারে স্নান
মৌসুমী বায়ুর আহ্লাদে ,
সুরভিত ফুলের আবেশে ।
কাগজের নৌকা ভাসে
আঙিনায় , রাত শেষে দিনজুড়েও ,
আষাঢ়ে বৃষ্টি আসা যাওয়া করে !
ভিজে বাতাস উদাসী মন
স্মৃতিরা গোল হয়ে বসে ,
যে দিন গুলো হারিয়ে যায় ; তারা আসে না কভু ফিরে !
চিকচিক করে ওঠে আঁখির তারা
মস্তিষ্কে অস্থিরতা ,
হৃদয় গহীনে স্মৃতিরা পাশ ফিরে শুয়ে !
বৃষ্টি ঝরে অঝোরে
এ যেন মেঘদের কান্না ,
হারিয়ে যাওয়া দিনের তরে !!
কবিতার নাম:- পূণ্য।
কবির নাম:- অনিমেশ বিশ্বাস।
তোমার পূজা নিত্য করি গুপ্ত নিশাচরে
মনের মাঝে অশ্রু-কণা ঝর্ণা হয়ে ঝরে
আঁধার ভেঙে তোমায় খুঁজি
আলোক আমার রিক্ত রোজই
চরণ খানি ধরবো বুঝি যাও কেন সরে ?
আছো তুমি মাটিতে মিশে, ধুলার মাঝারে
সেথায় আমার অশ্রু ঝরে,কোটল আকারে
রৌদ্র জলে আছো চুমি
আকাশ বায়ু ধারণ ভূমি
সৃষ্টি সাধন করেছ তুমি , কুশল বাহারে ।
তোমার বক্ষ নিত্য ভিজাই নয়ন বারি ঢেলে
তবে তুমি দাও হে মুছে আঁচল খানি ফেলে
বস্ত্র তোমার ভিজুক জলে
তোমার শুচি বসন তলে
জীবন আমার পূন্য হবে,পরশ তোমার পেলে ।
কবিতার নাম:- সুখ।
কবির নাম :- পূর্ণা গাঙ্গুলী।
সুখ খুঁজছো ? সুখ কি পেলে ?
ডিঙি নৌকায় সংসার -সাগরে ভাসতে গিয়ে..
সুখের দেখা কি পেলে ?
সুখ,সে তো অচিন পাখি,
থাকে না সে কোনো খাঁচায় !
চাই তার মুক্ত আকাশ,
অগোছালো ঝোড়ো বাতাস..
যা তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে..
নতুন দেশে ।।
কবিতার নাম:- ভুঁড়ির ছুরি।
কবির নাম:- দীপঙ্কর বৈদ্য।
ভুঁড়ি আমার ভুঁড়ি,
দিচ্ছে খিদের ছুরি,
না পেলে তাই আড়ি,
খাবো গড়াগড়ি।
হচ্ছে ডাকাডাকি,
খাওয়া এখন বাকি,
জমিয়ে খাবার রেশ,
খেলেই হবে শেষ...
কবিতার নাম:- বর্ণ শিক্ষা।
কবির নাম:- দেবব্রত মাজী।
মূর্তি ও ছবিতে আছো
আজও বিরাজমান,
আমাদের জনক বলে
দিতে হয় না প্রমাণ।
'জল পড়ে পাতা নড়ে'
সবাই জানে উক্ত,
বর্ণ শিক্ষা বিহনে
উত্তীর্ণ হওয়া শক্ত।
কবিতার নাম:- মামা বাড়ি।
কবির নাম:- বিবেকানন্দ মাইতি।
এই যে খোকন , যাচ্ছ কোথায় ?
--মামা বাড়ি
--হঠাৎ কেন ?
--বিয়ে বাড়ি
--কার বিয়ে ?
--মাসির বিয়ে
-কোন মাসি?
--ঝিলিক মাসি
--বয়স কত?
--উনিশ-কুড়ি ।
--ফিরবে কবে ?
--দু- দিন পরে
--কে দিয়েছে নতুন জামা ?
-- আমার মামা
---কী হবে খাওয়া-দাওয়া?
---শুনেছি , মাছ- মাংস
মন্ডা -মিঠাই , লুচি
আলুর দম আর হালুয়া ।
-অতসব কি পেটে সইবে ?
-কিছুতো খেতে হবে ?
-- ভারী মজা তাই না?
--মাসির বিয়ে হবে না !
কবিতার নাম:- খোকনের বিয়ে।
কবির নাম:- বাপী নাগ।
খোকন যাবে বিয়ে করতে
সঙ্গে যাবে পুচকু।
পুচকু তো হাঁটে হেলে দুলে
সে তো কতটুকু।
নতুন সাজে খোকা যাবে
ঘোড়ার গাড়ি চড়ে।
ধুতি পাঞ্জাবি গলায় মালা
যাবে আনন্দ করে।
ঘোড়ার গাড়ি নেই লাইট
জ্বালায় দারোয়ান।
রাস্তায় নেই কোন আলো
চারিদিক শুনশান।
খোকার আজ মহা আনন্দ
ঘরেতে বউ আসবে।
শ্বশুরবাড়ি মধুর হয় হাড়ি
খোকা বসে খাবে।
ঘুমের ঘোরে হঠাৎ খোকা
তাকিয়ে দেখে ঘরে।
হয়তো স্বপ্নটা দেখছিল সে
খোকা ঘুমের ঘোরে।
রাত পেরিয়ে ভোর হলো
উঠলো সে জেগে।
বউকে নিয়ে ফিরতে হবে
স্বপ্ন গেছে ভেঙ্গে।
কবিতার নাম:- দুর্গাপুজো।
কবির নাম:- শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর কিছুদিন পরে মা আসছে ঘরে
আনন্দ তাই সবার মনের কোনে ধরে।
আগমনীর সে সুরে মন গেছে ভরে
মা দুর্গার আবাহন চলছে ঘরে ঘরে।
ধুপ ধুনোর সৌরভ আমরা যে পাই
মনের মাঝে শান্তিটা একটু তো চাই।
মায়ের পুজোকে ঘিরে প্রার্থনা যে করি
হাজার দুখের মাঝে খুশি মনে ধরি।
কৈলাশ বাসিনী দেবী আমাদের শক্তি
পূজা অর্চনায় তাই আছে সেই ভক্তি।
কার্তিক গণেশ সবে দেবী আসে ভবে
আমাদের মাঝে তারা চারদিন রবে।
তাদের ঘিরে মোদের আনন্দ ধারা
বাঙালীর উৎসব শ্রেষ্ঠ তবে সারা।
কবিতার নাম:- ইলিশ।
কবির নাম:- দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়।
ইলশে গুঁড়ি ইলশে গুঁড়ি
ইলিশ ঝুড়ি ঝুড়ি
ইলিশ এনে পিস কাটিয়ে
কলাপাতায় মুড়ি ।
রূপালী রঙ ঝকঝকা ঝক
নোটের তাড়া চকচকা চক
ফেললে পরেই টকটকা টক
পেয়ে যাবে গোটা কতক।
খাওনা ভেজে তেলে ঝালে
সরষে বেটে ভাপিয়ে নিয়ে
টক বানিয়ে তেঁতুল গুলে
কচুশাকের ঘন্টা দিয়ে ।
খাবার পরে ভাবনা কোর
হিসাব খাতা তখন খুলো
আরাম করে ঘুমিয়ে পোড়ো
স্বপ্নে থাকুক ইলিশ গুলো।।
উপেন্দ্রকিশোরের রচনা ও ছাপাখানা
ডঃ রমলা মুখার্জী
বাংলার বুকে সবুজের সুখে বয়ে যায় বহুনদী-
ছোটদের নিয়ে মন রঙ দিয়ে ভাবেন প্রথম যদি
তিনি আমাদের শিশু জগতের উপেন্দ্রকিশোর চৌধুরী,
শিশু-কিশোর মজায় বিভোর গল্প-জাদুর বাহাদুরি।
কিশোর সাহিত্য রচনার পথিকৃৎ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীকে জানাই অন্তরের গভীর
শ্রদ্ধা ও প্রণাম। তাঁর শিশু সাহিত্যে অবদান অনেকেই জানি, কিন্তু তাঁর মুদ্রণ
শিল্পের কথা অনেকেই হয়তো জানি না। শিশু কিশোর সাহিত্যের জন্য তাঁর অক্লান্ত
প্রচেষ্টা সত্যই প্রশংসনীয় ও চিরস্মরণীয়।
শিশু-দোসর উপেন্দ্রকিশোর তাঁর দূর সম্পর্কের কাকা হরিকিশোর
রায়চৌধুরীর দত্তক পুত্র। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল কামদারঞ্জন। তাঁর যখন পাঁচ বছর বয়স
তখন ঐ আত্মীয় তাঁকে দত্তক নেন এবং নাম বদলে রাখেন উপেন্দ্রকিশোর।
উপেন্দ্রকিশোরের বাবা কালিদাস চৌধুরীর পাঁচ পুত্র ও তিন কন্যা ছিল।
উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন পিতার দ্বিতীয় পুত্র। কালিদাস চৌধুরী ছিলেন নানা শাস্ত্রে
পণ্ডিত, সেই কারণে মুন্সী শ্যামসুন্দর নামে তাঁর খ্যাতি ছিল।
ময়মনসিংহ জেলার মাসুয়া গ্রামের বিখ্যাত ছিল জমিদার চৌধুরী পরিবার।
এই পরিবারে উপেন্দ্রকিশোর ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে ১২ই মে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি
ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে পড়াশোনা করেন ও ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পাশ করার পর
প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু পরে তিনি কলেজ পরিবর্তন করেন ও ১৮৮৪
খ্রিস্টাব্দে মেট্রোপলিটন ইন্সটিটিউট থেকে বি.এ পাশ করেন। ক্রমশই শিশু
সাহিত্যিকের মনের মধ্যে শিশুদের জন্য বই লেখার প্রবল ইচ্ছে ডানা মেলতে থাকল, কারণ
উপেন্দ্র অনুভব করলেন বাংলাতে শিশু সাহিত্য খুবই অবহেলিত। এই ইচ্ছে ডানায় ভর দিয়ে
তিনি ছোটদের নানান বিষয়ের বই একদিকে যেমন পড়তে থাকলেন, অন্যদিকে ছোটদের জন্যে
লিখতেও লাগলেন। আমরা পেলাম তাঁর অসামান্য সেই সব গল্প- টুনটুনির গল্প, বাঘের
গল্প, ছেলেদের রামায়ণ আরো কত কি, শিশু কিশোরের প্রবন্ধগুলিও তাঁর অনবদ্য- সেখানে
আছে আকাশের কথা, পুরানো দিনের জীবজন্তুর কথা, এমন কি মুদ্রণশিল্পের কথাও তিনি
লিখে গেছেন। কিন্তু শুধু লিখেই উপেন্দ্রকিশোর ক্ষান্ত হলেন না। তিনি খুব সুন্দর
ছবি আঁকতে পারতেন- তাই ছোটদের লেখার সঙ্গে জুড়ে ছিলেন উপযোগী মজার মজার সব ছবি আর
পরিকল্পনা করলেন ছোটদের জন্য বই প্রকাশ করার। তাঁর এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেবার
জন্য তিনি ছবি এনগ্রেভিং সম্বন্ধে পাঠ নিতে লাগলেন- সত্যই কি তপস্যা, কি সাধনা-
ভাবতেই অবাক লাগছে তাই না? এখনও পরম আশ্চর্যের ব্যাপারটাই বাকি।
১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন ‘ইউ রায় এন্ড সন্স’ নামে
উন্নত এক ছাপাখানা, সেখানকার যন্ত্রপাতিগুলি তিনি বিদেশ থেকে আনিয়েছিলেন। বিপুল
সম্ভারে সজ্জিত হল সেই প্রেস। এমনকি ছবি আঁকা ও ছবি তোলার স্টুডিও প্রেসে হল।
হাফটোন ছবি ও ছাপার বিষয়ে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে লাগলেন। সে এক গভীর
গবেষণা। এই বিষয়ে তাঁর রচিত প্রবন্ধ প্রকাশিত হল বিলেতের ম্যাগাজিন ‘পেনরোজ
অ্যানুয়ালে’ এবং প্রবন্ধটি উচ্চ প্রশংসাও পেয়েছিল। এই সূত্রেই এই পত্রিকার
সম্পাদক মি.গম্বেলের সঙ্গে উপেন্দ্রকিশোরের একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে আর তাঁরই
চিঠি নিয়ে তাঁর পুত্র সুকুমার রায় লন্ডনের এল.সি.সি স্কুল অফ ফটো এনগ্রেভিং এবং
লিথোগ্রাফিতে পরে ভর্তি হতে পেরেছিলেন। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে ডিসেম্বর এই শিশু
সাহিত্যের পথিকৃতের জীবনাবসান হয়, কিন্তু আপামর বাঙালির কাছে চির অম্লান হয়ে
থাকবেন শিশু সাহিত্যে তাঁর বিপুল অবদানের জন্য।
ছড়ায় মজিয়ে ছবি সাজিয়ে উপেন রচেন রামায়ণ-
ভ্রমণ, গল্প অরূপ-কল্প হাজার তারার রূপায়ণ।
আঁকেন ছবি যুগের নবী,ক্ষান্ত এতেই নন-
শিশু-মিত্র বই সচিত্র প্রকাশেও ব্রতী হন।
লেখায় রেখা নিউ ক্যামেরায় নিজ তৈরী প্রেস-
শিশু-সাহিত্যের নতুনত্বের দিগন্তের উন্মেষ।
সুকুমার-পিতা উজল সবিতা দেখালেন আলো-পথ
জ্বেলে প্রদীপ সত্য-সন্দীপ ওড়ালেন জয়রথ।
কবিতার নাম:- ইলিশের বিয়ে।
কবির নাম:- মিহির সেন।
ইলিশ বাছার বাজার দর
বাড়ছে দিনে দিনে,
বোয়ালের কপালে ভাঁজ
এসব কথা শুনে।
ইলিশের মায়ের কাছে
বোয়াল করে আবদার,
ইলিশের সাথে বিয়ে দেবে
ভাগ্নি পাবদার।
এমনিতেই রূপে গুণে
পাবদা অনেক ভালো,
জলের মাঝে নেচে বেড়ায়
চারদিক করে আলো।
ইলিশের মা শুনে বলে
ভাববো বর্ষার পরে,
রপ্তানির বাজার ভালো
কিছু টাকা আনি ঘরে।
কবিতার নাম:- ফিরিয়ে দাও শৈশবের দিনগুলি।
কবির নাম:- এইচ.এম.সাজিদ চৌধুরী।
নিঝুম পৃথিবী-নিস্তব্ধ চারপাশ,কোথাও-
বিন্দু বাতাস কেবলি শব্দ হারিয়েছে নীল গগনে!
শুধুই চাঁদ বুঝি দাঁড়িয়েছে-উপর মাতায়,
শৈশবে কাঁদে ব্যাগ ফিরছি যখন বাড়ি-
মনে পড়ে! দিনগুলি শৈশবের।
রাস্তার দু'পাশ পাতায় জমজমাট,
পালাইতে-লাফাইতে বুঝি বাড়ি।
ঐশী,আসিফ, সাজিদ আর মধু-পলাশ!
দপশ করে মারছি ছুটে পাঠশালারই ব্যাগ,
কেবলই বই-খাতা আর স্কুলড্রেস-
মনে পড়ে! দিনগুলি শৈশবের।
সাজিদ ছুটে চলন্ত ট্রেনেগতিবেগে- ফেলে জোর নিঃশ্বাস,
মাতব্বর পাড়া ঐ মস্ত পুকুরের চারপাশে!
ঝড়ু হাতে আর তলে বড় বডে,
কুড়াই পাতা আর তলায় চাতা!
ঐশী শুন-এপাশ আমার,শুন এপাশও-
কুড়াই ঐশী মধুর পাতা-মধু কুড়ে পলাশের।
করতাম তুমুল ঝগড়া-আড়ি!
মনে পড়ে! দিনগুলি শৈশবের।
ফিরত কত স্যার-ম্যাডাম, বন্ধু শত শত,
গাঁয়ের বড় গলি রাস্তায় বাঁ-দিক ভেসে!
কেউ বা দিত পাতা ছিটিয়ে,
দিত হটাৎ হিংসা! কেউ বা পাঠশালায়। হারিয়েছি লজ্জা-সরম,
অচিন পৃথিবীর নীল গগনে,
মোরা গরিব ঘরের গরিব পোলা-
মনে পড়ে! দিনগুলি শৈশবের।
কখনো দুপুর বেলায়,
হাসান পুরের মস্ত কুয়ায়!
কেবলই সন্ধ্যায়,দিতাম সাঁতার-
মনখুস মনে সকলেই।
এপার থেকে ঐপারে-
কার পরে কে? দিতাম ডুব!
কে? কতক্ষণ! জম ডুব-
মনে পড়ে! দিনগুলি শৈশবের।
বসতো মেলা সন্ধ্যা বেলা ঘুড়ির উৎসব! ডানগুলি আর ফুটবল-
কখনো ক্রিকেট কিংবা হা-ডুডু!
ছিল কবি'র প্রিয় কেবল ডানগুলি ও হা-ডুডু,
নাবিলা প্রিয় ঘুড়ির উৎসব-কেবল কানামাছি ভোঁ ভোঁ!
জমতো খেলা-বসতো মেলা সন্ধ্যা-বেলা।
সবার পড়ে কবি'র ও ভিষণ-
শৈশব-কৈশোরে স্মৃতি কাতরগুলি!
মনে পড়ে! দিনগুলি শৈশবের।
গগন ঠিকই দাঁড়িয়ে আছে,শায়িত জমিন,
দেশ ও জাতি, উন্নয়ন ছুঁয়েছে-
দেশবঙ্গ থেকে ছুঁয়ে বিশ্ব-বিশ্বলয়ে!
মিথ্যে কেবল সত্য বাণী-
বয়সে মানুষ বড় না,কেবলই বুড়োই!
তাই মানুষ বুঝি স্মৃতি কাতর হয় আর কাঁদে শৈশব ভেবে- দুঃখ কেবল কষ্ট।
মনে পড়ে! দিনগুলি শৈশবের।
কবিতার নাম:- পাখি।
কবির নাম:- শান্তি দাস।
ইচ্ছে ডানা মেলে পাখি
নীল আকাশে দেয় পাড়ি,
যেথা সেথায় দিগন্ত শেষে
যায় সে অনেক দূরে উড়ি।
এ পাশ ওপাশ উড়তে গিয়ে
হাঁপিয়ে যখন পড়ে,
বিশ্রাম নিতে ডানা ঘুচিয়ে
মনটাকে রাখে ধরে।
ইচ্ছে মতো ঘুরে ফিরে পাখি
খাবার জোগাড় করে,
সন্ধ্যা হলে ছোট্ট পাখিটির
মুখে খাবার টুকু ধরে।
ভোরের বেলা বাসা ছাড়ে
নীলাম্বর যায় উড়ে,
দিনটা ভয়াবহ সময় কাটায়
শিকার পেলে গপ করে ধরে।
এমনই করে যায় দিন তার
নিশি কেটে ভোর হয়,
ধুকতে ধুকতে বাঁচতে চায়
লাগে না কখনো তার ভয়।
কবিতার নাম:- শীতের আগমনী।
কবির নাম:- গোরাচাঁদ পাল।
শিশির ঝড়া ঘাসে
শীতের আগমনী,
শীতল শীতল মিঠেল আবেশ
পাতা খসার ধ্বনি।
নতুন নতুন শীত বন্ধুর
সেই পঙরাতন ছোঁয়া,
ঠান্ডা সকাল ঠান্ডা রাতে
মিষ্টি পরশ পাওয়া।
ডগায় ডগায় শিশির বিন্দু
সবুজ ঘাসে হাসে,
চলকে ওঠে সোনালী রোদ
সোনার বরণ শীষে।
শীতের মজা পিঠে পুলি
নতুন খেজুর গুঁড়ে,
শীতের মজা বনভোজনে
টুসু গানের সুরে।
কবিতার নাম:- স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু ।
কবির নাম:- তাপস কুমার বর।
হে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
কোথায় আমাদের শেখ মুজিব?
কোটি কোটি জনগণের সম্মুখে তুমি
ডাক দিয়েছো স্নেহের বাণী।
ওগো আমার বাংলা ভূমি
আমরা বাংলা ভাষাতেই বাঁচি।
তোমার রূপের সৌন্দর্যে আজও
বেঁচে আছে শেখ মুজিবের স্বপ্নভূমি।
মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা তুমি
পিতাকে নির্জনে খুঁজি।
আশীর্বাদের হাতটা আজ
কন্যার অশ্রু মোছাতে আসি।
বাংলাদেশের পিতা তুমি
গর্জে উঠেছে প্রতিবাদের বাণী।
জাতি ধর্ম নির্বিশেষে
আমরাই বাংলাদেশের ঐক্য বাণী।
কোথায় আমার বাংলাদেশ
প্রথম ডিজিটালের বঙ্গভূমি।
উন্নায়নের মুজিব স্বপ্নে
গড়ে উঠেছে পদ্মা সেতুর এক বাস্তব ছবি।
কবিতার নাম:- বক।
কবির নাম:- উদয় নারায়ণ বাগ।
সরু সরু ঠ্যাং দুটি
ছপছপ জলে,
একমনে দিঘি পারে
কী যে খুঁজে চলে!
দুধসাদা রং তার
বড়ো শোভা গায়ে,
হেলেদুলে ঘাড় দুলে
ডাইনে ও বাঁয়ে।
ঠোঁট এক বাঁশি যেন
বক বক বক,
চুপচাপ কষে চলে
শিকারের ছক।
ঘাড়ে ধরে মাছ ব্যাঙ
গপগপ খায়,
সাদা সাদা ডানা মেলে
উড়ে বাসা যায়।
গাছে গাছে মগডালে
করে তারা বাসা,
খিদে পেটে ছানাগুলো
করে থাকে আশা।
খকখক পেট থেকে
ব্যাঙ মাছ তুলে,
তাই খেয়ে কচি ছানা
খিদে যায় ভুলে।
কবিতার নাম:- পুজোয় মন।
কবির নাম:- তপন মাইতি।
পুজো পুজো গন্ধ এলে দুর্বা-শিশির খেলা
কাশের বনে দখিন হাওয়া শারদীয়া বেলা
পেঁজা তুলোর মেলা
খামখেয়ালির ভাসছে ভেলা
এসব যায় না ফেলা।
পাড়ায় ভার্চুয়ালে বৃদ্ধ বৃদ্ধা ঠাকুর দেখে
পুজো পরিক্রমায় প্রসাদ খিচুড়ি ভোগ চেখে
নীলাকাশে ছেঁকে
উৎসব মুখর বসে জেঁকে
এক পৃথিবী ডেকে।
শরৎ এলে রূপকথার মত ঢাক বাদ্যি বাজে
মনের মত মনের উৎসব ভীষণ রকম সাজে
মর্ত্যে শুরু কাজে
পদ্ম সৌন্দর্য রূপ ভাঁজে
মুখরোচক ভাজে।
শিউলি ফুল শরৎ ভোরের আলোয় ঝরে পড়ে
কুমোরটুলি মাটি লেপে কাঠামো ওই খড়ে
মায়া ভরে গড়ে
সুখের পায়রা যেন ওড়ে
শরৎ হৃদয় দড়ে।
🔹️ ই- সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন - Click Now
🔸️ লেখা ও শিল্পকলা পাঠান - Click Now

