|। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।|
- বাংলা: ২০ই মাঘ ১৪৩০
- ইংরেজী: ০৫ই ফাল্গুন ২০২৪
- বার: রবিবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
ই-সার্টিফিকেট দেখুন ফেসবুক পেজে লিংক সবার শেষ।
✒️ লিখেছেন:
উঠলে ট্রেনে
শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
উঠলে ট্রেনে খিদে পেলে
খেও বাদাম খাজা,
মনে হবে তুমি ভবে
একটা দিনের রাজা।
ঝাল মুড়িটা খেতেই পারো
নারকেল লঙ্কা সাথে,
ট্রেনের যাত্রীর ধাক্কা ফেলবে
নজর রেখো হাতে।
দিলখুশ গজা পাবে সবাই
খেও ইচ্ছে হলে,
মুখে দিলে নিমেষেতে
তাহা যাবে গলে।
শশা লেবু পেয়ারা সব
পাবে তুমি রেলে,
উদর ভরে খাবার পাবে
ভাজা পাবে তেলে।
নিত্য দিনের জিনিষ পাবে
ভালো মানের তাহা,
সঠিক দামে কিনতে পাবে
মন্দ যে নয় যাহা।।
মুস্তাক আহমেদ
সবার একটা হৃদয় মোচড়ানো গল্প থাকে -
মনের মধ্যে আর একটা মন থাকে-
সেই মনটি সংগোপনে আঁটোসাটো
নির্বিঘ্নে তালা মারা ।
ওই খানটাতেই গল্পটি সযত্নে
ঘুম পাড়িয়ে রাখে।
কিন্তু, অন্ধকারে তার সর্বত্র বিচরণ
পুরো ইন্দ্রিয় জুড়ে,
সারাক্ষণ সাথে নিয়ে ঘোরে।
শৈশব
কাজল মৈত্র
মাথায় ছাতা কচুর পাতা
বৃষ্টি ভেজা বই খাতা
শৈশবের হাজার স্মৃতি
বকুল ফুলে প্রজাপতি
বর্ণমালায় সুরের ছন্দ
পুরানো জমা স্মৃতির গন্ধ
তপ্ত দুপুরে গাছের তলে
ফল পাড়তাম নিখুঁত ঢিলে
বিকেল মানেই মাঠের আসর
ফিরেই আসুক শৈশবের দোসর।
কালের কণ্ঠ বাংলা ভাষা
ইয়াহইয়া আহমেদ মাঝারভূইয়া
মায়ের ভাষা মাতৃভাষা
মেটায় আমার মনে আশা
সকল ভাষার থেকে,
বাংলায় আমার তৃষ্ণা মেটে
বাংলায় আমি যাই সে হেঁটে
সকল ভাষা রেখে।।
প্রাণ ঢালা সেই বীণার তারে
বাংলা গানের বেণুর হারে
শান্তি আসে মনে,
সেই তো বিতান তানে তানে
আনন্দ আজ সবার প্রাণে
গায় যে পাখি বনে।।
সকল ভাষা দূরে রেখে
পাই সে শান্তি একে একে
বাংলা মাটির টানে,
রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশি
বাংলাকে সেই ভালোবাসি
মধুর পবন তানে।।
লড়াই করে টিকে এলো
বাংলা মাটির রক্ত গেলো
শহীদ হলো কত,
কালের কণ্ঠ বিশ্ব জুড়ে
বিজয় কেতন বিশ্ব মুড়ে
উড়বে শত শত।।
বাংলা মাটির ভাটিয়ালি
বাংলা গানের লিরিক্স ডালি
প্রাণটা রাখে শান্তি,
মাঝি ভাইয়ের মধুর গানে
চাষিদের ওই কন্ঠ টানে
যায় সে সকল ক্লান্তি।।
My dear children
Wr/Cp: Supriya Gangopadhyay
গোধূলি বেলা
নিতাই শর্মা
দিনের শেষে সন্ধার পূর্বে,
সূর্যের অবস্থান পশ্চিম দিগন্তে।
অস্ত যায়নি রয়েছে পশ্চিমে,
গরু নিয়ে ফেরে রাখাল।
খুরের আঘাতে উড়ে ধূলো,
ধূলোর পরে শেষ রশ্মি।
ভূমিতে এক অপরূপ বর্ণচ্ছটা,
গোধূলি বলে কবি সাহিত্যিক।
রুদ্রোর কবিতা
আফরিনা সুলতানা ঈশিতা
রুদ্র
দেখা দাও রুদ্র,
তোমার প্রেম সাগরে ভাসছি।
তোমার কবিতার ছন্দের জোয়ারে ছুটে চলেছি।
অজানা কোন সে গন্তব্য ;
কোন সে নতুন শব্দাবলী?
রুদ্র,
কথা কও
দেখা দাও
মুছে দাও আমার চোখের জল,
তুমি হীনা,তুমি বীনা,
শব্দভাণ্ডার শুণ্য
নেই কোন কলমী চিহ্ন।
তব শব্দাবলী নেইতো।
রুদ্র,
তোমার হাতের কলমের কালিতে;লিখে ফেলো মুচকি হাসির কথা।কিছু অজান্তেই একটি কবিতা
প্রকাশ করতে স্পর্শ লাগে। তুমি কি জানোনা তা।
বুঝলেনা
তাপস কুমার বর
ব্যথিত হৃদয় আজ গুমড়ে ওঠে,
কান্না মেশানো অশ্রুসাগরে।
কত খুঁজেছি তোমায়....
আমার হৃদয়ে প্রেম জাগানো সুরে।
তোমার মিষ্টি মাখানো স্মৃতি গুলি,
আজ মৌন হয়ে সমুদ্রের বেলাভূমির কিনারে কাঁদছে।
কখন তুমি বুঝবে আমায়?
কান্নার সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে,
আজ ব্যর্থ যন্ত্রণার সাগরে মৃত্যুর ডাক আসে।
আমি রঙিন স্বপ্নের প্রজাপতির ডানা মেলে,
তোমার কাছে গেছি কতবার....
শুধু অপমানের যন্ত্রণা সইতে।
আজ মৌন হয়ে পড়েছি আমার বোবা কান্নায়,
আমি রূপসীর স্বপ্ন দেখেছি,
কত ভোর জাগানো আমার কান্নার ভেজা বালিশে।
আজ রঙিন স্বপ্নের মায়া গেছে হারিয়ে,
এখনো রূপসী তোমার দরজায় অপেক্ষার প্রহর গুনে।
আমার যন্ত্রণার ম্যারাথন দৌড়ে,
তুমি কি আমায় বুঝবে সেদিন?
আমার যন্ত্রণায় বেছানো মরুসাগরে।
শত বিন্দু ফোঁটার কত জড় কান্না,
ছুটতে ছুটতে সে আজ ব্যর্থ।
বুঝলে না তুমি আমাকে?
আমার পিয়ানো বাজানো সেই বিরহ প্রেমে।
বুড়ির ঘরে চোর
শিবনাথ মন্ডল
শীতের রাতে একলা ঘরে
ঘুমাচ্ছিল এক বুড়ি
মাঘ মাসের দারুন শীতে
লেপ দিয়ে মুড়ি।
শোবার আগে একটা কুকুর
কখন ঢুকেছিল ঘরে,
খাটের তলায় শুয়ে কুকুর
সেথায় ঘুমিয়ে পরে।
মাঝ রাতে কুকুরের যখন
ভেঙ্গে গেলে ঘুম
চারিদিক নিসুতি তখন
রাত যেন নিঝুম।
ঘরের দরজা ভিতর থেকে
ছিল খিল আঁটা
বাইরে বেরোবার জন্য কুকুর
করছে হুটোপাটা ।
শব্দ পেয়ে বুড়ির ঘুম ভেঙ্গেছে
ভেবেছে ঘরে ঢুকেছে চোর
বুড়ির বাইরে বেরিয়ে
শিকল এঁটে দিল দোর।
বুড়ি এবার চেঁচায় জোড়ে
ঘরে ঢুকেছে চোর
বুড়ির ডাকে এলো সবাই
ভেঙে ঘুমের ঘোর।
বুড়ির বাড়ি লোকে ভর্তি
লাঠি নিয়ে হাতে
চোর ব্যাটাকে ধরতে হবে
পুলিশ নিয়ে সাথে।
বুড়ির বাড়িটা ঘিরে ফেলল
গ্ৰামবাসি আর পুলিশ দিয়ে
দারোগা পুলিশ সাবধানে
রইল বন্দুক নিয়ে।
দরজা টা যেই খুলেছে অমনি
ছুটে পালালো খেঁকি কুকুর
পুলিশ চোর ভেবে ধরতে গিয়ে
পড়ল পানা পুকুর।।
সুখী সংসার
মিহির সেন
নদীর ধারে ঝোপের মাঝে
নির্জন একটি বাসা,
ছোট্ট দুটি দোয়েল পাখি
ঘর বেঁধেছে খাসা।
সারাদিনটি চরে বেড়ায়
সন্ধ্যায় ফেরে ঘরে,
দু'জনের এই শান্তির নীড়
দুলছে আদরে।
দু'দিন পরে তাদের ঘরে
খুশির আলো ফোটে,
মা দোয়েল ডিমে বসে
বাবা একাই ছোটে।
জোগাড় করে পোকামাকড়
দু'জনে আহার করে,
ক'দিন পরে আলো করে
অতিথি আসে ঘরে।
মা খাওয়ায় বাবা খাওয়ায়
কত তোড়জোড়,
ভালোবাসা উপচে পড়ে
সকাল সন্ধ্যা ভোর।
দিনে দিনে হয় বড়
গজায় তাদের ডানা,
মায়ের কাছে হাতে খড়ি
উড়তে নেই মানা।
দেরী করে খবর পেয়ে
কালসর্প আসে,
বাচ্ছা তখন মেলছে ডানা
উড়ছে আকাশে।
মা বলে, শুনছো তুমি
সোনা মানিক নিয়ে,
দূরে কোথাও যাই উড়ে
আমরা দুইয়ে দুইয়ে।
গন্তব্য
পম্পা ঘোষ
ছোটবেলা পুতুল খেলা
ভোর বেলা তে স্নানটি সারা,
মায়ের কথায় হলুদ মাখা
প্রথম শাড়ি গাঁদার খোঁপা।
বীণাপাণির বরণ করা
অল্প সময় স্কুল যাওয়া।
আতনুমন বসন্তের ছোঁয়া
তোমায় একটু লুকিয়ে দেখা,
আকাশ কুসুম স্বপ্ন বোনা
সন্ধ্যা হলে বাড়ি ফেরা।
দীপ ধূপ ঘর সেজে ওঠা
মন যে করে উথাল পাথাল।
বসন্তের ছোঁয়া কোকিল ডাকা
আটপৌরে জীবন গাঁথা।
ভোর বেলাতে এখন দেখি
বউ কথা কও ডাকছে কি!
বলছে আমায় অনেক বাকি
ভাবনাটাকে লুকিয়ে রাখি,
চুপ্টি করে মায়ের কাছে
ওই পাখিটা এখনো ডাকে।
ডাকি মাগো বড় কর
দাও বিদ্যাবুদ্ধি জ্ঞানের আলো,
চারিদিকে আজ তাকিয়ে দেখো
ঝড়ঝঞ্ঝা আসবে কত।
কার সঙ্গ পথে পাবো
জীবন পথ আলো কর।
চরবো গাড়ি পড়বো মেলা
শ্বেত বস্ত্র পরিহিতা,
তোমার কাছে ফিরে যাওয়া।
খোকা তুই বড্ড সাধের
উদয় নারায়ণ বাগ
বলি হ্যাঁ রে হতচ্ছাড়া
তোর লাজ লাগে নাই,
সারাটাদিন টো-টো করা
এটাই কী তোর বাই?
দেখেছিস তো এই খাড়াটা
দেবো একটা ঘা,
খাড়ার ঘায়ে সাতসকালে
ভেঙে যাবে পা।
পড়াশোনার ইচ্ছেটা নেই
শুধুই দৌড়ঝাঁপ,
ছিপের কাঁটায় ব্যাঙ গেঁথে তুই
ধরিস ঢোঁড়াসাপ।
তোকে নিয়ে পারি না আর
দুষ্টু ভারি তুই,
কীভাবে যে মানুষ হবি
ভেবে কাঁপে ভুঁই।
খাবি কী রে সারা জীবন
জমিজায়গা কই?
পরের ঘরে কাক তাড়িয়ে
করবি রে হইহই।
তুই যে আমার বড্ড সাধের
তাই তো লাগে ভয়,
তোর জন্য আজ পাড়া-সুদ্ধু
মন্দ কথা কয়।
একরত্তি তুই যখন ছিলি
মরল তোরই বাপ,
আয় রে খোকা বসবি পড়তে
লাগছে ভীষণ চাপ।
মানুষ হবি কবে খোকা
বল্ না আমায় বল্,
তোর চিন্তায় মনের ভেতর
হচ্ছে রে টলমল।।
কোথা সেই শৈশব জীবন
রবিন রায়
প্রীতিরও আশীষে ভরা ছিলো সে নিতি,
আজ গায় কবি রবি সে মনোহর গীতি।
আহারে! কোথা সেই শৈশব জীবন?
ছিলো যেনো ঠিক এক রঙিন স্বপন।
খেলা ছিলো, ছিলো খুশির মেলা ;
নবীন বিশ্বে ছিলো বিস্ময় ঢালা।
গুরুজনের স্নেহ ছিলো,
তাজা উচ্ছ্বাসে দিবস মিঠালো ;
ডাকতেন মা খোকা! কইরে খোকা?
খেয়ে নিবি আয়, আর পারি নাকো!
দিতেন বকা বাবা যেই শাসনের স্বরে,
অমনি বুকটা কাঁপতো সমীহের ডরে।
নিঝুম আঁধার করে নামতেই রাত,
বেঘোর নিদ্রায় দৌরাত্ম্য চিতপাত।
জানতাম না তখন এই বাস্তবতা,
তবে সামিল হতো আবদার যথা;
কাজ ছিলো কেবলই পড়া,
ছান্দসিকের ছন্দবদ্ধ ছড়া।
শুয়ে শুয়ে মায়ের কোলে,
বলতাম আধো আধো বোলে।
আজ কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে -
পৌঁছেছি এসে বার্ধক্য সীমায়ে ;
কর্তব্য, দায়ভার মিটিয়ে দেখি হায়!
একাকিত্বের এই জীবন বিষাদময়।
ক্ষয়িষ্ণু কায় বয়ে বেড়ায় ক্লান্ত আত্মা,
নিরলস অবসন্নতায় ছুটি চায় যে স্বত্ত্বা।
সহসা উদিল ভাব অন্তর গহণে,
চির সুন্দর সেই মহানন্দ ক্ষণে।
থমকে গেছে মন আমার শিশুবৎ স্বভাবে,
ফিরতে চায় ব্যাগ্র প্রাণ ফের সেই শৈশবে।।
ছবির নাম: মা সরস্বতী
|
| শিল্পীর নাম: সিমিকা বৈরাগ্য |
বাবুর প্রতি
ভুবনেশ্বর মন্ডল
ভুল বুঝিস না বাবু
তোকে একটা রাস্তার সন্ধান দিতে চাই।
সোজা সরল রাস্তা কোথাও বাঁক নেই
ও রাস্তায় আছে পান্থশালা সরাইখানা
গাছের ছায়া ঝর্নার জল আরো কত কি
বয়স তো অল্প জীবনটাকে চিনতে অনেক বাকি
বিশ্বাস কর ভরসা রাখ
গাছের কাছে নত হতে শেখ
জানিস তো গাছ কিনা দেয় নিঃশেষে
তুই তো বটানির ছাত্র ,জানিস গাছেদের ব্যাকরণ
শিকড়ে শিকড়ে প্রত্যয়ের গান ডাকছে অনবরত
বাবু, যেন স্রোতের শ্যাওলা হয়ে যাস না
ভুলে যাস না মাটিকে, সে যে মা
ওটাই তোর আকাশ আলো মুক্তির স্বর্গ।
দরিদ্র সেবা
রাজকুমার সরকার
অনেক রকম সেবা আছে
দীনের সেবা প্রধান,
দীনদুখীর মাঝেই জেনেও
রয় যে ভগবান।
আগে দীনের সেবা কর
তারপর অন্য,
দরিদ্রকে করলে সেবা
জীবন হবে ধন্য।
ফেলে আসা সেই স্মৃতি
সুদীপ্ত দে
সেদিন ছিলো বেশ চিন্তাহীন স্বপ্নের সে এক দেশ
মধুর ছিলো সেই জগৎ,
জটিলতা আসেনি সেই প্রহরে।
সে ছিলো বেশ, আমার ফেলে আসা শৈশবের দেশ।
কি সুন্দর ছিলো তা, স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে,
ত্রিরিশ বছর আগের বসন্ত বেলা।
কতো সরল ছিল ওই
আবেগে ভরা শৈশব জীবন মোর।
খোলা মাঠ, নদীর পাড় উঁকি দেয় শৈশবের আঙিনায়।
উষা হতে দিনান্তে খেলে যায় রোদ চৈতালি বসন্তে।
আমের বোল, পলাশ ফুল মালা গাঁথা অবসরে।
অলস সেই দুপুরে বাজে বেনু দিগন্তে
মালাখানি গলে দোলে বাজে নূপুর রাঙা পদে।
সে ওই মনোরমা সাথী মোর বিকেলের
লুকোচুরি, কানামাছি আমবনে গোপনে।
সাঁঝবেলায় ধুলো মাঝে বাজে শাখ উঠোনে
কলধ্বনি মুখরিত নামতার সুরে সুরে।
একতারা ফকিরের গান উঠে নিশিথে
গল্পেরা স্থান নেয় ঘুম ভরা নয়নে।
আজ যদি ফিরে চাই ফেলে আসা দিনপানে
হাত নেড়ে বলে ওরা, ভালো আছি সোনাঝরা বিকেলে।
হারিয়ে গেছে
সঞ্জয় বৈরাগ্য
হারিয়ে গেছে চু-কিতকিত
রুমাল চুরি, লুকোচুরি খেলা।
শৈশব আজ মোবাইলে বন্দি
সবাই যে-যার একলা।
হারিয়ে গেছে শৈশব আর
ঠাম্মা, দাদুর আদর।
হারিয়ে গেছে অকৃত্রিম
স্নেহ, ভালোবাসার চাদর।
দুরন্ত শৈশব
প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস
আনাছে, কানাছে মাঠ থেকে মাঠ পেরিয়ে।
দুরন্ত উদ্দীপনা আর সাহস নিয়ে যায় এগিয়ে।।
মানবে না হার, যতই আসুক বাঁধার পাহাড় কি দারুণ উদ্দীপনা।
দূর থেকে সূদুরে ছুটে চলে, মেলে পাখির মতো ডানা।।
বোঝেনা কিছু, ভয় করে না পিছু যেন দুঃসাহসী হৃদয়।
যতবার পড়ে, ততবারই উঠে করে না বিপদের ভয়।।
ছোট্ট ছোট্ট পা, কিছুতেই থামে না কি দুরন্তপনা ভীষণ!!
যতই করো বকাবকি, করো যতই ডাকাডাকি শুনে না কারো শাসন - বারণ।
দুরন্ত কিশোর এক, মেটাতে সকল শখ করে চেষ্টা যত বাঁধাই আসুক।
দুষ্টুমি আর হাসি মজা, সব কিছুতেই উদ্দীপনা হারিয়ে গেলে এই সময় "পাবো" কোথায়??
জানতে বড়ই উৎসুক।।
পাত্র নয় হার মানবার, বিপদে যেন দূর্ণিবার এখনই তো সময় ।
করতে হবে সেই সবকিছু আপনও মন যা চায়।।
দিনবদলের গল্প
সামসুজ জামান
গ্রামেতে ছিল যে অনেক পুকুর ছিল কত গাছপালা।
প্রাণে ভরা হাসি, গান, সুর ছিল, যতই থাকুক জ্বালা।
গাছ ভরা আম, জাম, লিচু আর পেয়ারা কিংবা তাল
সব গাছেতেই স্বপ্ন ঝরত, ভ'রে যেত যত ডাল।
তালপুকুর থাক কিংবা না থাক দিঘি ভরা ছিল জল।
শাপলা-শালুক, পদ্ম তাতেই করত যে টলমল।
তাল ডুবাডুব খেলা কিংবা সাঁতারে কাটতো প্রহর।
বটের ঝুড়িতে দোল খেতে খেতে ছেলেরা ভুলতো ঘর।
শরৎ হেমন্তে আকাশে উড়তো রঙ-বেরঙের ঘুড়ি।
সব ছেলে-মেয়ে রাজার পুত্র, লালপরী, নীলপরী!
সবার মুখেতে হাসি ভরা ছিল, দেখিনিকো মুখ ভার।
সবাই ছিল যে সবার আপন, ছিল না অহংকার।
ঘরেতে অভাব জোটেনা আহার যদি মেলে ডাল-ভাত
রাজকীয় সেই খাবার খেয়েই কাজ করে দিনরাত।
আজ সেই গ্রামে ইটের পাঁজর, গাছপালা নিঃশেষ।
জলাশয় বুজে ইমারত গ'ড়ে সভ্য হচ্ছে দেশ।
খরা বন্যায় একের দুঃখ দেখেও দেখেনা অন্যে,
সহানুভূতির লেশ নিয়ে কেউ ভাবেনাকো কারো জন্যে।
আজকে হঠাৎ আধুনিকতার ছবি মুছে দিল গ্রাম।
কোথা ছিল এসে এমন নরক ভেঙে দিল স্বর্গধাম।
আজ প্রাণে তাই শুধু হাহাকার ভরে আছে কোটি দুঃখ।
কারো মুখে দেখো স্বর্গীয় হাসি?! সবার মেজাজ রুক্ষ!
তবু মনে আশা হবে নাকো শেষ, কোরনাকো কেউ হেলা,
চিরতরে দেখো হারিয়ে যাবেনা সোনাঝরা ছেলেবেলা।
শুভবোধ আর অঙ্গীকারে তুমি অটুট হবে যে কবে?
ভাঙবে কোমর স্বার্থ-দানব সেদিন নিথর হবে।
তুমি, তুমি, তুমি, তুমিই পারবে! -- কর দৃঢ় সংকল্প!
স্বর্গ তো আছে তোমারই বুকেতে এ'তো নয় মিছে গল্প!!
ও দাদু...
তপন মাইতি
ও দাদু তুমি হাঁটবে কেমন করে?
হাতের লাঠি গেল কোথায়?
কে কেড়েছে বলতে পারো?
একাকী করছো কেন হরে হরে?
বৃদ্ধাশ্রম ভালো লাগে তোমার বুঝি?
আমরা খুঁজি তুমি কোথায়?
তিন মাথাতে বুদ্ধি নেব
ফোঁকলা গালে কারা খাওয়াবে সুজি?
তুমি কাঁধে ভর্ দিয়ে হাঁটবে কবে?
নাতি নাতনি বসে আশায়
হাতের লাঠি নাতি নাতনি
এখন যত্ন আদরের সময় সবে।
হাত ধরে হাঁটলাম কখন তোমার সাথে?
ছেলে বউ যেমন হোক যা তা
তোমার কথা মনে পড়ে
তোমার হাতে খেয়েছি দুধে ভাতে।
নাতি নাতনি দাদুর ছায়ায় থাকতে চায়
দাদুর শক্তি নাতি নাতনি
গল্প কথায় জমুক জীবন
ভাগ্যিস ভালো যদি তার সান্নিধ্য পায়।


