|। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।|
।। ২৮তম সংখ্যা ।।
![]() |
| তৈরির: মিলন পুরকাইত |
📢 প্রকাশ:
বাংলা: ২০ই মাঘ ১৪৩০
ইংরেজী: ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বার: রবিবার।
সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
ই-সার্টিফিকেট দেখুন ফেসবুক পেজে লিংক সবার শেষ।
✒️ লিখেছেন:
শিশু শ্রমিক
অভিজিৎ দত্ত
শিশু শ্রমিক এক অমানবিক প্রথা
কচি বয়সে পড়াশোনার বদলে
মাথায় তাদের একরাশ কাজের বোঝা।
শিশুরা যদি পড়ার সুযোগ না পায়
হৃদয়বৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ
ঠিকমত কখনোই আর সম্ভব নয়।
কচি,কচি শিশুরাই
দেশের আসল রত্ন
তাদেরকে ঠিকমত তৈরি
করতে না পারলে
বিফল হবে আমাদের সব স্বপ্ন।
শিশুদের নিয়ে উন্নত দেশগুলি
আজ হয়েছে কত সচেতন
প্রাচীন কালে বিশ্বকে পথ দেখানো
ভারতবর্ষ আজ কেন অবচেতন?
কী করে হবে তাহলে দেশের উন্নয়ন?
খুকুর দিনরাত
শংকর ব্রহ্ম
মা বলে ভাত খাও
আমি বলি যাও যাও
বাবা বলে বই পড়ো
আমি বলি সরো সরো
দিদা বলে আয় খুকি
আমি বলি 'দিদা টুকি'
এইভাবে কাটে দিন
রাত্তিরে ঘুমে লীন।
বসন্ত এসে গেছে
নিতাই শর্মা
শীতের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে ভুবনে,
কুয়াশার চাদর খসে পড়ে বসন্তাগমনে।
ছিন্নপত্র বৃক্ষ শাখায় নবরূপে সাজবে,
সবুজ শ্যামল পল্লবে সুসজ্জিত হবে।
তীর্যক সৌর রশ্মি লম্বভাবে পড়বে,
শীতের রুক্ষতা পুনঃ বিদায় নেবে।
আকাশে রাঙা মেঘ ভেসে বেড়াবে,
মুখরিত চারিধার কোকিলের কুহু রবে।
কাননে বাগিচায় ফুটবে নানা ফুল,
মধু অন্বেষণে উড়বে যত অলিকুল।
আম্রবৃক্ষে শুভ্র মুকুলে ভরে যাবে,
ভ্রমর ভ্রমরী গুঞ্জরিয়া উড়ে বেড়াবে।
পরিযায়ী পাখিরা চলে যাবে দূরদেশে,
পাখির কূজন বসন্তের মৃদুমন্দ বাতাসে।
হোলি আর দোল পূর্ণিমা বসন্ত কালে,
নানা রঙের আবীর লাগায় দোলে।
কৃষ্ণচূড়া শিমুল পলাশ ফুটে দিগন্তে,
বাগদেবীর আরাধনা হয় বসন্তে।
বিদ্যা বুদ্ধি লাভের তরে ছাত্র ছাত্রীগন,
শ্রীপঞ্চমী তিথিতে করেন দেবীর পূজন।
অঙ্কন
|
| বাপী নাগ |
কথার ফুলঝুরি
উদয় নারায়ণ বাগ
তারারা যখন কথা হয়ে গিয়ে
দাঁড়ায় মনের কোণে,
মুখ থেকে ওরা বেরিয়ে তখন
রাশি রাশি আলো বোনে।
বন্ধুরতার গহীন আঁধারে
মত্ততা যায় জেগে,
ক্ষিপ্রগতিতে অমানিশা ভাগে
আলোর পরশ লেগে।
যমের যাতনা হারায় অদূরে
চির-সৌম্য ভাবে,
নিদারুণ এক শান্তির তরী
খেয়াঘাট দিয়ে যাবে।
বাক-দরিয়ার কূলকিনারায়
ফুটবে কাশের ফুল,
ঊর্ধ্ব-গগনে ওই নীলিমায়
গা'বে গান বুলবুল।
অস্থিরতার দোলাচল-মন
হারাবে নিজের কাছে,
কথার দীপ্তে গড়বে সোপান
মমতা জড়ানো সাঁচে।
ভাসবে ভাসাবে নির্মল বায়ে
বিশ্ব হাসবে দোরে,
হৃদি-আঙিনায় হামা দিয়ে রবি
উঠবে নিশার ভোরে।
তাই আজ কথা শুধু নয় কথা
আলোর বন্যা ধারা,
অবনির পরে নিজেকে হারিয়ে
হয়েছে আত্মহারা।
যদি আসে শীত
মহা রফিক শেখ
যদি আসে শীত
দুলে দুলে- সরষে ফুলে
মাঠ হয় যে পীত।
যদি আসে শীত
ঠিক ভুলে- গলা খুলে
গায় যে কত গীত।
যদি আসে শীত,
কম্বলে আর অম্বলে
হই যে কেবল চিৎ।
যদি আসে শীত
কুয়াশায় আর ধোঁয়াশায়
লাগে যে কুৎসিত।
প্রাণের খুকু
শান্তি দাস
খুকু আমার সোনামনি রান্না
বাটি নিয়ে করছে খেলা,
মাথায় ঝুটি বাঁধা নেড়েচেড়ে
হেসে হেসে নাচছে সারাবেলা।
কলাপাতায় ঘর বানিয়ে তাতে
রাখে প্রদীপ জ্বেলে,
বকুল ফুলের মালা গাঁথে
পুতুল পুতুল বিয়ে খেলে।
কখনো কখনো আবার বায়না
ধরে কাঁচের চুরি বালা,
কখনো আবার বলে লাগবে
তার স্বর্ণ পুঁতির মালা।
কথায় কথায় কেঁদে ফেলে
থামে না তার অশ্রুধারা।
চকলেট দিলেই কান্না থামে
নাচতে থাকে পাগলপারা।
দুষ্টু বুড়ি মিষ্টি প্রাণের খুকু
বলে পাকা পাকা কথা,
গিন্নি সেজে করছে শাসন
কারো মনে লাগে না ব্যথা।
বই মেলাতে চল
আফরিনা সুলতানা ঈশিতা
চল চল চল
বই মেলাতে যাই,
হরেক রকম বই আছে
বই মেলাতে ভাই।
বিজ্ঞানের বই আছে
উপন্যাস টাও পাই,
গল্পজুড়ে পশু পাখি
নদী সাগরও চাই।
গান কবিতার বইয়ের সাথে
ইংলিশ পড়াও পাই,
কবি সাহিত্যিক কি আর বলবো!
সব এক জায়গাতেই পাই।
শিশু, কিশোর,যুবক, বৃদ্ধ
সবাই বই মেলাতে চল,
রেস্কোর্স ময়দান জুড়ে চলছে
নানান রকম বইয়ের ঢল।
আমার মা
|
| আরিয়ন বিশ্বাস |
বিধি ও বামি
রবিন রায়
বিধাতার বিঁধিতে বিকৃত এক জন্,
ভাগ্যের বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ প্রাণ ;
সইতে না পেরে নিষ্ঠুর নিয়তির প্রকোপ,
সর্বদাই ঈশ্বরকে করতো দোষারোপ।
সব, সবই তো তোমার কারসাজি,
অগ্নি দানে বিচ্ছুরিত আমি আতশবাজি ;
জ্বলছি ঘুরে ঘুরে নিতান্ত অসহায়,
আমাকে দ্বগ্ধিতে দেখে কি আনন্দ হয়?
শৈশব, কৈশোর,যুব আর এই বার্ধক্যে,
এক নাগাড়েই দিলে যাতনা এ বক্ষে ;
আর কত, কত আর দেবে পাষণ্ড দন্ড,
এই বুঝি দান,আমি কি গর্হিত প্রচন্ড?
অভিযোগে তিতিবিরক্ত ঈশ্বর হলেন ক্ষিপ্ত,
প্রকাণ্ড আলোক দীপ্ততায় সম্মুখে ব্যপ্ত ;
বল অবোধ, তোর মনে কি আছে আশা,
সম্পদ নাকি প্রিয়জনের ভালোবাসা ?
সহসা বিস্ময়ে ইতস্তত দেখে অদ্ভূত কান্ড,
বর্তমান পরিস্থিতি ভেবে নিল দুদণ্ড ;
সম্পদ চাই, আর সব এমনিতেই পাবো,
শেষ জীবনে আর কিইবা এমন চাবো?
ঈশ্বর বলেন ভেবে দেখ বারংবার,
পরে কোনো অনুযোগ রাখবি না আর!
হ্যাঁ, প্রভু ভেবেই চেয়েছি আমি শেষ বার,
আপনি সম্পদই দেন, যদি হয় দেবার।
সহাস্য বদনে ঈশ্বর বলেন বৎস্য তথাস্তু,
লহমায় অন্তর্ধানে বিলীন, আশীষ স্থিতু ;
তারপর দিনক্রমে আসে সম্পদ রাশি,
হেয়কৃত জনেও তদবিরে করে খুশি।
জীবনের বাকি সুখ, প্রেম আর পিরিতি,
অনায়াসে সহবস্থানে করে যে বসতি ;
সুন্দর প্রাসাদে আসে মোহ মোক্ষ রানী,
ধীরে ধীরে দায়িত্বের ভারে হন মহারানী।
লোভী মন, লালসার বশত মতি ভ্রান্ত,
চরম স্বার্তপরতায় করে নির্ভুল চক্রান্ত ;
নিজেই চায় সমগ্র বিষয়ে হতে সর্বেসর্বা,
বিষাক্ত মানসিকতায় লিপ্ত হয় গরলগর্ভা।
গরল দানে গর্হিত স্বামীকে করে হত্যা,
নামের শ্রাদ্ধে, আজ সে সমুচ্চে হোতা ;
বিরাগভাজনে দেহ ত্যাগে সে আত্মা -
মরন দূত সনে দিলেন নির্দিষ্টে যাত্রা।
যেতে যেতে মাঝ পথে আবারও ঈশ্বর,
ক্ষণিক তিষ্ঠ হেথা মৃত্যু যাত্রী বর ;
কিছু প্রশ্ন ছিলো আমার অন্তরে নিহিত,
অর্থ যাচনায় কি লাভ? করো বিহিত ।
মৃদু হেসে নিষ্পাপ আত্মা বলে আনন্দে,
আমার অভিলাষা স্বার্থক আজি নিসন্দে;
শুনেছি আত্মহত্যা নাকি মহাপাপ, ভূপে,
তাই তো হত্যার কারণ নির্বাচন সন্তাপে।
তোমার আশীষে পেয়েছি যক্ষ্মের ধন,
সেই বিষয়ের বিনিময়ে পেয়েছি মরন ;
জানতাম নিশ্চিত ব্যর্থ হতো মৃত্যু সাধা,
কারণ তুমিও তো নিয়মের হাতে বাঁধা।
তাই অন্তপ্রাণে এই সমারোহের আয়োজন,
মুক্তিই ছিলো আমার একান্ত প্রয়োজন ;
সে অশেষ দানে প্রভু শতকোটি প্রণামি,
ধন্য হয়েছি আমি, চিরকৃতজ্ঞ এই বামি।।
সবুজ টিয়া পাখিটা
(ছোটদের জন্য গল্প)
সামসুজ জামান
বৈদ্যপুরে রথের মেলায় গিয়ে খুব খুশি হয়ে গেল মঙ্গল। টিয়া পাখি তার এমনিতেই
খুব পছন্দের পাখি আর একটা লোক খাঁচার মধ্যে টিয়া পাখি নিয়ে বিক্রি করছে। দাম
শুনে একটু পিছিয়ে ছিল সে কিন্তু মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত বদল করে ভাবল খেলনা কেনার
জন্য মা যে টাকা দিয়েছে সেটার বদলে সে টিয়া পাখি কিনবে। খুব আনন্দে মঙ্গল
বন্ধুদের নিয়ে একটা টিয়া পাখি পছন্দ করে খাঁচার সঙ্গে নিয়ে নিল।
সকালবেলায় যখন সে রথের মেলায় আসার অনুমতি চেয়েছিল মায়ের কাছে
স্বাভাবিকভাবেই মা পিছে গিয়েছিলেন কিন্তু পাড়ার সৌমেন টুবলু রফিক এরা যেহেতু
সঙ্গে যাচ্ছে এই শর্তে বাবা খুব সহজে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন এবং মা ও সেই হিসেবে
অনুমতি দিয়েছিলেন মেলায় যাবার জন্য। আর এখন সেই সব বন্ধুদের সঙ্গে নাচিতে
নাচতে একটা টিয়া পাখি নিয়ে তারা ফিরল।
কিন্তু বাড়িতে ঢুকতেই বাবা প্রবল আপত্তি করে উঠলেন একটা পাখিকে কেন শুধু শুধু
খাচায় বন্দি করে রাখা তবে এখন মা বেঁকে বসলেন বললেন পয়সা দিয়ে যখন কেনা
মঙ্গলের ইচ্ছা অনুযায়ী ও পাখিটা পশু নিরুপায় বাবা অগত্যা বাধ্য হলেন সারাটা
দিন পাখির পিছনে পড়ে রইলো মঙ্গল ঝোপে জঙ্গলে মাঠে ময়দানে ঘুরে ঘুরে পাখির
খাবার যোগাড় করতে লাগলো সে নতুন উৎসাহ উদ্যমে। ঘাসে বসে থাকা গঙ্গা ফড়িংগুলো
দেশলাই বক্সের খুলে চাপা দিয়ে ধরে আর গাছ থেকে পেয়ারা সবজি বাগান থেকে
কাঁচালঙ্কা ছিড়ে এনে পাখির খাবারের জন্য ব্যবস্থা করছিল নেওয়া খাওয়া প্রায়
ভুলে যাবার অবস্থা।
খাঁচার মধ্যে টিয়া পাখি ছাড়া বেলা ছটফট করে কাটালেও কেটে গেল যেমন তেমন ভাবে
কিন্তু সন্ধ্যের পর থেকেই শুরু হল পাখিটার চিৎকার বাবা অনেকবার বোঝালেন মঙ্গল
কে কিন্তু সে কিছুতেই পাখিকে ছাড়া বান্দা নয় আর মুশকিল বাড়লো রাত বেশি হলে।
অবশেষে অনেক বুঝিয়ে শুুঝিয়ে মঙ্গল কে বিছানায় নিয়ে যাওয়া হলো। তারপর সে
ঘুমিয়ে পড়লেও একসময় কিন্তু পাখিটার চিঞ্চিত কার কিছুতেই থামে না।
শেষমেষ বাবা অমগ রায় দিলেন টিয়াটাকে ছেড়ে দেয়া হোক মঙ্গলের অজান্তে। মা
চেয়েছে উঠলেন কিছুতেই না তাহলে সকাল বেলা মঙ্গলকে সামলানো কিছুতেই সম্ভব হবে
না এদিকে পাখির চিৎকার বেড়েই চলেছে। আর তাতে বাবা-মা কিছুতেই বিছানায় শুতে
যেতে পারছিলেন না। তাই শেষমেষ বাবা মঙ্গল কে ঘুম থেকে জাগিয়ে নিয়ে গেলেন
পাখির কাছে। বললেন দেখ পাখিটার অবস্থা দেখ একে ছেড়ে না দিলে আমরা কেউই ঘুমাতে
পারবো না।
কিন্তু মঙ্গল বায়না ধরল কিছুতেই সে এই পাখিকে ছাড়বে না অগত্যা বাবা স্নেহের
সঙ্গে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন মনে কর তুমি কাল সকাল থেকে নিখোঁজ হয়ে
গেলে হারিয়ে গেলে দূরে কোথাও তুমি কি থাকতে পারবে মঙ্গল ছুটে মাকে জড়িয়ে ধরে
বলল কিছুতেই না। আমি মাকে ছেড়ে একদিনও থাকবো না বাইরে। তাহলে পাখিটার কথা ভাবো
বাচ্চা একটা পাখি তার মাকে হারিয়ে রাতের বেলা চিৎকার করছে কত কাঁদছে মায়ের
কাছে যাবার জন্য সেটা কি তোমার ভালো লাগছে খুব?
মঙ্গল পাল্টে গেল হঠাৎ বাবার কথা শুনেই সে বলল বাবা ওকে ছেড়ে দিলে পাখিটা যে
আর আমার কাছে আসবে না ওতো আর ফিরে আসবে না বাবা বললেন সে তো নিশ্চয়ই। ও তোর
মায়ের কাছে চলে যাবে। আবার আসবে কেন তোমাকে কেউ ধরে নিয়ে গেলে একবার যদি
মায়ের কাছে দেখা করিয়ে দেয় আবার নিয়ে চলে যায় আর তার কাছে আটকে রাখে তাহলে
কি তোমার মন ভরবে মঙ্গল মাকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মত। যদিও তার মন খুব খারাপ
হয়ে গেল খাঁচাটা নিজের হাতে তুলে নিয়ে মঙ্গল ফিরে এসে বাবার হাতে দিয়ে বলল
বাবা আমি ছাড়তে পারবো না পাখি ডাকে বাবা আদর করে তার মাথায় আবার হাত বুলিয়ে
কাঁচার দরজাটা খুলে দিতেই পাখিটা উড়ে গিয়ে গাছের ডালে বসলো মঙ্গল অজান্তেই
টাটা বাই বাই বলতে বলতে হাতটা ছিল। কিন্তু চোখ দিয়ে জল পড়ছিল তার।
মা মঙ্গলকে জড়িয়ে ধরে ওর মাথায় চুমু খেতে লাগলেন আর আদর করে বললেন পাগল ছেলে
কাঁদে না ওভাবে আর বাবা বললেন শোনো তুমি খুব ভালো কাজ করলে একটা। একটু পরে পাখি
দাও ওর মায়ের কাছে ফিরে গিয়ে এইরকমই আদর খাবে। যেমন তুমি এখন মায়ের কাছে
খাচ্ছ বোকা ছেলে কাঁদে কখনো একটা পাখি বন্দি হয়েছিল সে এখন মায়ের কাছে ফিরে
যাচ্ছে তোমার তো খুব আনন্দ হওয়া উচিত অকারনে খুব জোরে হেসে উঠলো হঠাৎ আর হাসতে
গিয়ে কান্নায় তার গলা বুঝে গেল মা আবার বুকের চেপে ধরলেন মঙ্গলকে। আর অবাক
হয়ে দেখলেন ওর বাবা আড়ালে মুখটা লুকিয়ে জামার কোডটা দিয়ে নিজের চোখের কোনটা
মুছে নিলেন একবার।
হতাশা
কৌশিক বর্মন
স্বপ্নের মত দিনগুলো সব
চলে গেল কি করে
বসে বসে আমি ভাবি সারাদিন
সকলকে নাস্তানাবুদ করে
হবো ডাক্তার, হবো ইঞ্জিনিয়ার
হবো সরকারী কেরানি
জীবন শেষে হয়ে গেলাম আমি
কোনো এক ফকিরের গোলামী
চলে যায় দিন
চলে যায় রাত
চলে যায় গোধূলি বেলা
আমি যেথা ছিলাম
সেথা রয়ে গেলাম
কিছুই হলনা পাওয়া
আবার যদি স্বপ্নগুলো
সত্যি হয় কখনো
সেদিন বুঝব সূর্যের মুখ
বিপরীতে ওঠে কখনো।।
খুকুর জন্মদিন
পুতুল সাহা
আজকে খুকুর জন্মদিন
ভারী মজা তাই,
তা-ধিন-ধিন তা-ধিন-ধিন
খুশির সীমা নাই।
মা রেঁধেছে পায়েস আর
বাবা আনবে কেক,
দাদা আনবে রংবেরঙের
খেলনা-বাটির সেট।
সকাল থেকেই ব্যস্ত সবাই
ব্যস্ত নানান কাজে,
সন্ধ্যা হলেই কেক কাটবে
খুকু সবার মাঝে।
আসবে সকল বান্ধবীরা
দেবে হাততালি,
তাই তো খুকুর আনন্দেতে
বেড়েছে পাগলামি।
কাগজের নৌকা
মনোজ কুমার রায়
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে রয়েছে অজস্র
রহস্য।তা ভেদ করার জন্য আজীবন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বৈজ্ঞানিক। একবিংশ
শতাব্দীতে আমরা এখন ও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ খুবই নগণ্য।
বিজ্ঞানের অবদানে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলে ও আমাদের বিবেক জাগ্রত হয় নি। জীবনের
তরে বেঁচে থাকার লড়াই এ আমরা ক্রমশ হেরে যাচ্ছি। তাঁর উপর নির্ভর করে আমার
ছোট্ট গল্পের উপস্থাপন করা।
এই জীবনের মধ্যে অনেক মানুষের অস্তিত্ব
হারিয়ে গেছে ভাসমান এই পৃথিবীর বুক থেকে। জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ মানুষগুলো হেরে
গেছে সময়ের অধীনে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চাকাঙ্খী মানুষের আকাঙ্খা অসীম।
ভালভাবে বেঁচে থাকার চিন্তা ভাবনা নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে রাখতে সদা ব্যাস্ত
থাকে।নিজেই নিজের প্রতিযোগিতা করতে করতে জীবন নিঃশেষ হয়ে যায়।যত সময় যাচ্ছে
প্রজন্ম ও নিম্নমুখী হচ্ছে।
রাত অন্তত বারোটা বেজে। এখন ও পাড়ার অনেক
ছেলে শহরের কোন এক জায়গায় জমায়েত হয়ে ফুর্তি করছে। ঠিক ঐ সময় বাজার থেকে
ফেরা লোক তার পসরার জিনিস পত্র একটি টোটো তে নিয়ে যাচ্ছে।একটু দূর থেকে ওদের
দেখতে পেয়ে লোকটি শঙ্কা বোধ করে। ওদের অতিক্রম করে যেতে হলে কিছু দাবী করতে
পারে সেই চিন্তায় লোকটি থেমে গেল। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর আবার অগ্রসর হতেই
ছেলেগুলো জড় হয়ে এগিয়ে আসে। তারপর জিজ্ঞেস করে,''কাকু আমাদের কিছু মালকড়ি
না দিলে তো যেতে পারবে না। ওদের দল বলল,"যদি আপনার ভালো চান তাহলে অতি সত্ত্বর
টাকা দিয়ে চলে যান,নইলে বিপদ হবে। তখন বাধ্য হয়ে লোকটি কিছু টাকা দেয়। তারপর
ওরা ডেকে বলে বাদল কাকু আমাদের রোজকার চাঁদা দিতে যেন ভুল না।
এই বাদল কাকু সমাজের অনেক কাজ করে যাচ্ছেন
দীর্ঘদিন থেকে।উনার প্রচেষ্টায় ঐ গ্রামে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র
স্থাপিত হয়। তাছাড়া তিনি নিজের উদ্যোগে বেকারদের স্বাবলম্বী করতে সরকার থেকে
অনুদান নিয়ে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলেন।যাতে বেকার যুবকেরা বিপথে না গিয়ে
নিজেদের জীবন কে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে পারে।এই লোকটির নাম হচ্ছে বাদল মুখার্জি।
অনেক ধন সম্পদ থেকে ও সাধারণ জীবন যাপন করতে ভালবাসেন। একটি শহরের মধ্যে যতটুকু
সম্প্রসারণ হয়েছে,সেই ভাবেই তিনি গ্রামকে দেখতে চান।যেমন পরিকল্পনা তেমন ঊনার
কাজ। সমাজ সেবী না হলে ও সমাজ সেবায় পরোক্ষ ভাবে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছেন।
সেদিন পাড়ায় মীনা দত্ত নামে একটি ষোড়সী
মেয়ের জীবন যুদ্ধ থেকে থমকে দাঁড়ান। ওকে জিজ্ঞেস করেন, "তুমি কি কর?না কাকু
আমি অনেক কিছুই করার ইচ্ছে আছে। কিন্তু অভাবের দরুণ কোন কিছুই করতে পারছি না।
আমার মা বিকলাঙ্গ ও বাবার যক্ষা রোগ।এই কথা শুনে বাদলবাবু বললেন,"তুমি তোমার
বাবাকে নিয়ে কাল এসো। তারপর যা কিছু করার আমি করব।এই বলে মীনাকে ওখানে ছেড়ে
ঊনি ঊনার মুদী দোকানে চলে যান।দোকান ছাড়া ও ঊনার কয়েকটি শিল্প উদ্যোগ আছে।
কিন্তু উনি সবসময় সাধারণ ভাবে থাকেন বলে কেউ থাকে অনুমান করতে পারে না। তিনি
আদৌ কেন সবার সাহায্য করতে চান?
পরদিন মীনা তার মাকে নিয়ে উনার বাড়ীতে যায়। সেখানে অতিথি আপ্যায়ন করতে
ভুলেন নি। তারপর মীনা ও ওর মা মণিকা কে নিয়ে শহরের একটি নাম করা চিকিৎসালয়ে
ভর্তি করান। ডাক্তার এসে মীনার মায়ের চিকিৎসা আরম্ভ করেন। তারপর মুখার্জি কে
বললেন,"চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে উনাকে অন্তত এক সপ্তাহ রাখতে হবে। ঠিক আছে
বলে মুখার্জি মীনাকে নিয়ে বেরিয়ে যান।
যাবার সময় মীনাকে বললেন,"তুই কাল যেন আমার সঙ্গে দেখা করিস এই বলে উনি চলে
যান।
পরদিন মীনা স্নান টান সেরে চুড়িদার ও সালোয়ার কামিজ পরে
বেরিয়ে যাওয়ার আগে নিজের অবিন্যস্ত চুল গুলো কে প্রথমে আঁচড়ে নেয় তারপর
একটি দীর্ঘ বেণী বেঁধে ঘর থেকে বেরোয়। ইতিমধ্যে মীনার কাছে মুখার্জি বাবুর
একটি ফোন আসে।ঊনি বললেন,"তুই তাড়াতাড়ি আয়।", মীনা বলল,"আমি শীঘ্রই আসছি
কাকু। ফোন কেটে মীনা কাকুর ঘরের দিকে এগিয়ে যায়।কাকু আগে থেকেই তৈরি ছিলেন।আর
সময় নষ্ট না করে দুজন একটি অফিসের দিকে ছুটলেন। সেখানে গিয়ে অফিসারের সম্মুখে
মীনার বায়োডাটা রাখলেন। তারপর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। মীনার সিলেকশন হয়ে
যায়। সঙ্গে সঙ্গে অফিসার নিযুক্তি পত্র তুলে দেন।মীনা হতভম্ভ হয়ে যায়। মীনা
হতবাক দৃষ্টিতে মুখার্জীর দিকে চেয়ে থাকে।চল তোকে এখন মিষ্টি মুখ করাব বলে
পাশের একটি দোকানে নিয়ে যান। মীনার চোখে মুখে শুধু কৃতজ্ঞতার ভাষা বেসে।মীনা
কিছুক্ষন ভেবে সেই কাগজের নৌকা হয়ে স্বপ্নের ঘোরে ভাসে।
অপরাজিতা
কার্তিক চন্দ্র বল
হাজার গোলাপ চারার মাঝে তুমি
কাঁটাহীন আমার অপরাজিতা।
স্নিগ্ধ হাসি ভরা,
চোখে মায়াবী অধরা।
নীল শাড়ি পরে হয়েছো ফুলের বৃতি-
কালো নদী ঢেউ খেলানো মতো,
চুলখানি তোমার এলোমেলো।
তুমি বর্ণমালার সাজানো লিপি।
কপালে তোমার কালো টিপে,
রক্তজবা কমল ঠোঁটে
কেড়েছো নজর।
ভালোবাসার গন্ধ ছড়িয়ে
করেছে আমায় স্পর্শ।
তুমি আমার মনের মাঝে স্নিগ্ধ অপরাজিতা।।
আনুষ্ঠানিক
ভুবনেশ্বর মন্ডল
ধরুন আজ কোন বিপ্লবীর জন্মদিন
ফুল মালা চন্দনে মঞ্চ সেজেছে
আমরাও সেজেছি অনেক
পতাকা উঠলো জাতীয় সংগীত হলো
হলো পুষ্পার্ঘ্য প্রদান
জয়ধ্বনি কাঁপালো আকাশ
তারপর শব্দব্রহ্ম ঘুমালো ইথারে
আনুষ্ঠানিক পোশাক খুলে
আমরা এখন যে যার মত ঘরে
স্মরণ মননের গাছ শুকোচ্ছে রোজ
সারাটি বছর কে জল দেয়?
কে রাখে তার খোঁজ?
কারো কোন দায় নেই আমরা নির্বিকার
জন্মদিন আসে জন্মদিন যায়
বুকে নেই কোন অনুতাপ হাহাকার।
সরস্বতী মায়ের ছড়া
গোবিন্দ মোদক
ঠিক শুনেছো বন্ধুরা সব, চোদ্দই ফেব্রুয়ারি,
বুধবার দিন পঞ্চমীতেই পূজা হবে তাঁর-ই।
কিনতে হবে খাগের-কলম, দোয়াত, পলাশ ফুল,
নানারকম ফলের সাথে থাকবে আপেল, কুল।
বাসন্তী-রঙা গাঁদা ফুলে গাঁথতে হবে মালা,
আমের মুকুল, ফুল-দূর্বায় সাজানো বরণডালা।
আবীর-অভ্র, কাঁচা হলুদ, বেলপাতা আর ধান,
সলতে, প্রদীপ, সুগন্ধী ধূপ, পঞ্চশস্য, পান।
শীতের মধ্যেই স্নানটি সেরে নতুন পোশাক প’রে,
আমরা সবাই মণ্ডপেতে শ্রীপঞ্চমীর ভোরে।
ঠাকুরমশাই এলেই শুরু পূজা-পাঠ, অর্চনা,
ঘণ্টা-কাঁসর, ঢাক-বাদ্য — সুচারু আলপনা।
করবো সবাই মন্ত্রোচ্চারণ নমঃ! সরস্বত্যৈ নমঃ!
পঞ্চপ্রদীপ – কর্পূর-দানি, বেলকাঠেতে হোম-ও।
পূজা শেষে হোমের টিপ, পাবো মায়ের প্রসাদ,
বিদ্যা-বুদ্ধি দিও মাগো — কোরো আশীর্বাদ!!
বিদায় বসন্ত
অনুপ কুমার জানা
শিমুল ফুলের পাপড়িগুলো
কবেই গেছে ঝরে ,
লাল পলাশও ঝরছে এখন
বসন্ত বিদায় করে ।
কুহু কুহু কোকিল ধ্বনি
আসছে ম্লান হয়ে ,
চাতক পাখির ফটিক জলের
কাতর কণ্ঠ দিয়ে ।
নাতিশীতোষ্ণ গেছে যে আজ
দূর দেশেতে পারি ,
রবির কিরণ মারণ মুখি
হৃদয় গেছে চুরি ।
করঞ্জা গাছের সবুজ পাতায়
মারছে উঁকি ফুলঝুরি ,
তাই না দেখে মেহগনি-শাখায়
উন্মুক্ত কুসুম কুঁড়ি ।
কামিনী কহিছে কনকের কানে ,
" এসেছে বৈশাখ দেখরে ,
দিবাকর আজ খেপেছে বুঝি
দেখিতে না পেয়ে তোমারে "।
গোলাপখাস আমগুলো শাখে
রেঙেছে লাল সিঁদুরে ,
হিমসাগর পা দুলিয়ে দুলিয়ে
উল্লসিত কতো অদূরে !
রবির কিরণের একঘেয়েমিতা
পছন্দ নয় বাতাসের ,
তপ্ত বায়ু উঠেছে খেপে
কালবৈশাখী হয়েছে আদরের ।
পাগল করা মাতাল বায়ুর
সঙ্গী হয়েছে ধূলিঝড় ,
বৃক্ষ শাখার খুশির জোয়ার
অতিপিক্তে ভাঙছে কড়কড়্ ।
আলোক উজ্জ্বল মুখ
প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস
হাজার গোলাপের সৌন্দর্য ধরা দেয় যেন ওই মুখে।
মায়াবী হরিণী চোখ যেন স্বর্গীয় সুখ আনে বুকে।।
কতই না মায়া ভরা তাদের করুন চাহনিতে।
জীবনের ঘোর কাটে যেন তাদের ওই মিষ্টি হাসিতে।।
দুষ্টুমি আর মজা যেন জীবনের সর্বসুখ।
হৃদয় খুশিতে যায় ভরে দেখলে তাদের আলোক উজ্জ্বল মুখ।।
কোলমতি শিশু যেন ঈশ্বর প্রদত্ত সোনা।
চাঁদের সমস্ত পূণির্মা যেন তাদের রুপের প্রতিমা।।
আলোর পথের যাত্রী তারা, ভরিয়ে দেয় যে বুক।
সবকিছু যেন যায় ভুলে দেখলে তাদের " আলোক উজ্জ্বল মুখ"।।
ভিড়ের মধ্যে
তপন মাইতি
ভরদুপুরে শীতের বেলা
ছোট্ট হয়ে আসে
সবুজ লালে দীঘির জলে
পদ্ম শাপলা ভাসে।
জোড়া শালিক সকাল বিকাল
পায়ে পায়ে পথে
সামনে বসে যাওয়া সাইকেল
চাইছে নিজের হতে।
ছেলে মানুষ তাকিয়ে রয়
ভিড়ের মধ্যে একা
এতদিনের পরে শৈশব
চোখটি তুলে দেখা।
আলোর দিশা
সঞ্জয় বৈরাগ্য
অন্ধকারে থেকো না বসে
জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালো।
আলোয় রাঙিয়ে, আঁধার ঘুচিয়ে
জ্বালাও শিক্ষার আলো।
অন্ধকার তো শেষ কথা নয়
আলোর খবর আছে জানা।
চাই শুধু তার সঠিক দিশা
সেই অজানার ঠিক ঠিকানা।
প্রাণের মশাল তুলে ধরো
বিশ্বাসে ভরো আকাশ'খানা
পাপ, মিথ্যা মুছে একদিন ঠিকই
আশার পাখি মেলবে ডানা।
------------------------------
পরিচয় শিশু সাহিত্যের ই-সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন*
ডাউনলোডপরিচয় শিশু সাহিত্যের জন্য লেখা/ছবি নিয়মাবলী দেখুন*
নিয়মাবলী


