পরিচয় শিশু সাহিত্য | ৩২তম সংখ্যা

|। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।| 

● ৩২তম সংখ্যা ●

📢 প্রকাশ:

  • বাংলা: ২৬শে ফাল্গুন ১৪৩০
  • ইংরেজী: ১০ই মার্চ ২০২৪
  • বার: রবিবার।
  • সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
  • এই "●" পয়েন্ট গুলো গত সপ্তাহের কারেন্ট অ্যাফেয়ার।
ই-সার্টিফিকেট দেখুন ফেসবুক পেজে লিংক সবার শেষ।

✒️ লিখেছেন:

মার

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়

আধুনিক যুগে সবাই সবাইকে এত মারতে ব্যস্ত হাতে,--- ভাতে ,---
বলার কথা নয়। একদিন পাঁচু ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে ,--- 
দেখে অবাক বিস্ময়ে চেয়ে থাকে ! পাঁচু একজন খেতাবি ব্যারিস্টার। তাঁর বাবা একজন গরুর গাড়ির কোচোয়ান ছিলেন। তিনি গরুকে জোর জোর পেটাতেন, গরু যন্ত্রণায় ছটফট করে ছুটে পালাতে চাইত, গরুর গাড়ি তত দ্রুত ছুটত।

 এভাবেই তিনি মাইলের পর মাইল ভারী জিনিসপত্র আনা নেওয়া করে টাকা রোজগার করতেন। ঘরে ফিরে গরুদের খাবার দিতেন, আদর করতেন, ফাঁকা মাঠে ছেড়ে আসতেন, সন্ধ্যেবেলা সময় মতো ঘরে তুলতেন ,স্নান করাাতেন ,পরিচ্ছন্ন জায়গায় থাকতে দিতেন ,----কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় মানুষটা এমন আচরণ করতেন। 

আমি ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে চাইতাম না। পড়া মুখস্ত হতো না। উনি সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরে পড়া ধরতেন না পারলে প্রচুর মার পিঠে পড়তো। খাওয়া বন্ধ, অবশেষে পড়া দিয়ে তবেই মুক্তি। এভাবেই উনি আমার লেখাপড়ার নেগেটিভিটি কাটিয়ে পজিটিভিটি এনে মানুষ তৈরি করে গেছেন।

 আমি ভয়ের চোটে ওই গরুটার মতন পালাতে চেয়ে ব্যারিস্টার হয়েছি এবং গ্রামের বাড়ি ছেড়ে শহরে বিশাল একখানা বাড়ি হাঁকিয়ে ঝি চাকর ছেলে বউ নিয়ে বসবাস করি। 

আজ হঠাৎ আমার নাতি যখন কিছুতেই লেখাপড়া করতে রাজি নয় ওর মা মানে বৌমা চিৎকারে বাড়ির মাথায় করে তুলছে তখন হালটা ধরতে আমি অগ্রসর হলাম। অপরপক্ষে মারার পর সেই মার সহ্য করার ক্ষমতা তার আছে কিনা , সে অন্য পথ অবলম্বন করবে কিনা ,---তা নিয়ে আমার স্ত্রী বেশ চিন্তিত কিন্তু আমি নাছোড়।

 আদরের নাতি গোপালকে সকালে নিজেই পড়াতে বসলাম আর শাস্তি দিয়ে একই কথা বলতে বললাম ,-----কেঁদে কেঁদে বলে যেতেই লাগলো তারপর ঘুম আসছে দেখে ,---এক ঘা কষিয়ে দিলাম! তারপর খাতা পেন্সিল দিয়ে বললাম লিখে যাও ,
থামবে না ---থামলেই আবার ----
প্রথমবারেই গোপাল না দেখে লিখে ফেলল। যা দেখে বৌমা অবাক হয়ে গেল! 

হায়রে পোড়া কপাল !এসব মিথ্যে স্বপ্ন! বাস্তবে এমনটা কিছুই হলো না, যৎপরনাস্তি সকালে উঠেই টিফিন খেয়ে কাঁধে ব্যাগ তুলে স্কুলের দিকে হাঁটা দেবে গোপাল, এমন সময় বললাম ব্যাগটাই ভারি। লেখাপড়া টা বড় হালকা হয়ে গেছে। গোপাল উত্তরে বলল তুমি আমার বয়সে কত কি পারতে ? হাউ টু ডেল ইউ ! স্পিক অ্যাবাউট মি ! বউমা নিরুত্তর ,ছেলেও নিরুত্তর, গিন্নি বললে আজকালকার ছেলে, কেন ওদের সঙ্গে মুখ লাগাতে যাও,--- 
আমি গুটিয়ে কাঁচুমাচু হয়ে লজ্জিত অপমানিত হয়ে নীরব হলাম। তারপর ঘরে চলে গেলাম! এইটাই কি শিক্ষা !
এটাই কি সংস্কৃতি---।।

পঞ্চপ্রদীপ

অনুপ কুমার জানা

জ্বলছে ধুধু পাঁচ মুখেতেই 
   দোলনও সাথে সাথে , 
নাচছে ব্রাহ্মণ , নাচছে ভক্ত
   মুখরিত ঝাঁজ ঘন্টাতে ! 

তুলোয় ভরা মুখগুলো সব
     তেলে জ্বিহা টলমল , 
  লাল-হলুদের মিশ্রণ যেন 
       জ্বলছে অনর্গল ।

কভুও কর্পুর পঞ্চ মুখেই 
     জ্বলনও দাউ দাউ , 
হেলছে দুলছে ছন্দ সুরে 
    তুলছে খুশির ঢেউ ! 

ঝাঁ চকচকে পিতল-কাঁসায় 
   আবির্ভাব এ'মহাশয়ের , 
পূর্ণ ভক্তিতে থাকে সর্বদাই 
    নইলে অশুচি হৃদয়ের !  

পঞ্চমুখি প্রদীপের উষ্ণ শিখার 
    শিষটির কতোই মহিমা ,
শ্রদ্ধা ভক্তিতে দু'হাত বাড়াই 
       দৈব শক্তির উপমা !  

মন খুঁজে পেতে চায়

মীনাক্ষী চক্রবর্তী সোম

বাস এসে থামল যেখানে সেটাকে শহুরে ভাষায় স্ট‍্যান্ড বলা যাবে না। কাঁধের ব‍্যাগ সামলে অমরেশ সান‍্যাল নেমে এলেন। ছোটবেলায় ছেড়ে যাওয়া সেই সিদ্ধিপুর গ্রাম। সামনে দুটো ই-রিক্সা দাঁড়িয়ে। চালকের সাথে কথা বলে ই-রিক্সায় উঠে বসলেন তিনি। গ্রামের সব মূল রাস্তাই এখন পাকা করা। সেইজন‍্যই বোধহয় ধকল গায়ে লাগেনি। অমরেশ সান‍্যালের চোখে সবকিছু অপরিচিত লাগছে। যে গ্রাম থেকে তিনি শহরে চলে গেছিলেন বাবার সাথে । বসে বসে তার মানসপটে ভেসে ওঠে ছোটবেলায় দেখা গ্রামটি।       
          সারাদিনে দুটো রেলগাড়ি আসাযাওয়া করে। সরকারি বাসও দুটো আসাযাওয়া করে।কিন্তু সময় সারণি না মেনেই ওরা চলে। সিদ্ধিপুর গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। চারিদিকে সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ ধানখেত। পূবে পশ্চিমে পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে অতন্দ্রপ্রহরীর মত। তার বুক চিরে সমান্তরালভাবে চলে গেছে খরস্রোতা নদী, রেল লাইন আর সড়ক পথ। দু/তিনটে স্কুলের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়। অন‍্যটি ব্রিটিশের সময় স্থাপিত মধ‍্য ইংরেজি বিদ‍্যালয়। আর হাইস্কুলটি সরকারি স্বীকৃত। স্কুল চৌকিদারের কর্তব‍্যের মধ্যে ছিল সকাল ন'টায় ওয়ার্নিং বেল বাজানো। বিশাল এক পিতলের ঘন্টায় ধাতব লাঠি দিয়ে ঢং ঢং করে এমন বাজান দিত যে গ্রামের সকলের কাছে সেই ঘন্টাধ্বনি পৌঁছে বিচিত্র কর্মচাঞ্চল‍্যের সূচনা করত। স্কুলের পড়ুয়ারা লাইন করে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত শুরু করলে দাঁড়িয়ে পড়ত অনেক পথচারীরা। সেই সঙ্গীত পাহাড়ের গায়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যেত। 
       বিকেল হলে সিদ্ধিপুর গ্রাম মায়াবী মায়ার আবেশ ছড়াত। দূরে কোন বঁধূর কন্ঠ হাঁস-মুরগীকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে ডেকে উঠত "আয় চু চু কিত কিত আয়"। বাড়ির মেয়েরা কলসি কাঁখে করে দল বেঁধে জল ভরতে যেত। তারপর সন্ধ্যায় তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালতো বাড়ির মা-বোনেরা। মন্দিরগুলো থেকে সন্ধ্যারতির সাথে শঙ্খ, ঘন্টা আর উলুধ্বনির সম্মিলিত শব্দের মায়াজালে সৃষ্টি হত এক অনন‍্য আধ‍্যাত্মিক পরিবেশ। বিভিন্ন ধরনের পাখিদের ডাক শোনা যেত। সেই ডাক শোনে বোঝা যেত পাখিগুলোর প্রজাতি।
         গ্রামে খোলামেলা মাঠের অভাব ছিল না তখন । গরু, ছাগল ইত্যাদি চড়ে বেড়াত মাঠগুলোতে। গোধূলির অস্তরাগে রাখাল ছেলেরা গরু চড়িয়ে ফিরে যেত। স্বর্গীয় অনুভূতি ভরা সেসব দৃশ্য। বিকেল হতে না হতেই মাঠগুলো ভরে যেত বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েদের কলকাকলিতে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সবাই নানান ধরনের খেলা খেলত। কখনো গাছের ডালে দড়ির দুটো প্রান্ত শক্ত করে বেঁধে দোলনা বানিয়ে ছোটরা দুলত পালা করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে কোনও এক অভিভাবক হাঁক দিলেই সুড়সুড় করে সবাই বাড়ি ফিরে যেত।   
           ছুটিছাটার দিনগুলো ছিল অন‍্য মেজাজের। সেসব দিনে নদীতে সাঁতার শেখার প্রয়াস ভোলার নয়। লোকের বাড়ির আম কুল পেয়ারা পেড়ে খেয়ে নিয়ে আবার কোচড় ভর্তি করে নিয়ে আসাও যেত। সাইকেল চালানোর হাতেখড়ি হত একঘন্টার জন‍্য সাইকেল ভাড়া নিয়ে। ভাঙাচোরা কাচা-পাকা পথ কোথাও নুড়ি বিছানো কোথাও কাদামাটিতে ভরা। সেই এবড়োখেবরো রাস্তায় পালা করে চলত সাইকেল চালানোর মহড়া। অ‍্যাডভেঞ্চারপ্রেমী বন্ধুরা পশুদের চলাফেরা করা রাস্তায় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে শুকনো লতাপাতা সরিয়ে এগোনোর চেষ্টা করত, খসখস শব্দে ভয় ভয় শিহরণ হত। গ্রামের শ্মশাণের দিকে ছোটরা সচরাচর কেউই যেতে চাইত না। সে জায়গা নিয়ে রয়েছে পরা -অপরা অনুভূতির ব‍্যাপার। গ্রামে ভূতুড়ে আলোচনার অবকাশ ছিল। আত্মা প্রেতাত্মা অশরীরী অস্তিত্ব নিয়ে গা ছমছম আলোচনা বিজলী বাতিহীন গ্রামটিতে প্রায়শই শোনা যেত। শোনার জন‍্য অফুরন্ত সময়ও ছিল লোকের কাছে।
        গ্রামের দুর্গাপূজা ছিল বাৎসরিক উৎসব। শহর থেকে এসে ঠাকুর গড়ে দিত কারিগর। পেঁচানো খড়ে মাটি লাগানো থেকে রঙের প্রলেপ দেয়া পর্যন্ত সকলের ভীষণ উচ্ছাস দেখা যেত। শহর থেকে ঠাকুরের কাপড় চোপর, অস্ত্র-শস্ত্র ইত্যাদি কিনে এনে যেবছর মূর্তিকে সাজানো হল, সে বছরই গ্রামে বিজলীবাতি এসেছিল। লোডশেডিংয়ের প্রকোপ বেশি ছিল। আর পড়াশোনার সময় তেমনটা হলে ভীষণ মজা লাগত, পড়াশোনার চাপ উধাও। 
        বাৎসরিক পরীক্ষার পর যাত্রাপালা আসতো। গ্রামে গ্রামে মাইক দিয়ে ঘোষণা করা হত যাত্রাপালার তথা অভিনেতা /অভিনেত্রীর নাম। মাইকে জনপ্রিয় গান বাজান হত ঘোষণার মাঝে মাঝে । ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক পালাগুলোতে ভিড় উপচে পড়ত। ছোটবেলায় গ্রামগুলোতে মাইকের প্রভাব বেশি ছিল। বিয়ে বাড়িতে "শায়দ মেরি শাদী কী খ‍্যাল" আর ব‍্যান্ডপার্টির বাজানো কমন সুর ছিল "লাজে রাঙা হল কনে বউ গো"। ভেবেই আলতো হাসি ছড়াল অমরেশ সান‍্যালের ঠোঁটে। যেকোন অনুষ্ঠানে শহর থেকে মাইক ভাড়া করে আনা হত। 
        কালীপুজোর পরপর হিমেল হাওয়ায় ধান কাটা সারা হলে ধূ ধূ মাঠের মধ্যে চলত খেলার আখরা। শুকনো খড় কেটে জমিয়ে রাখা হত পৌষ সংক্রান্তিতে মেরামেরী ঘর তৈরির জন‍্য। সেই রাতে পিকনিক হত পাড়ার সবাই মিলে। বাড়ি থেকে সকলে চাল ডাল নিয়ে আসত। বাকিটা পুষিয়ে নেওয়া হত বড়দের সম্মিলিত সাহায্যে। যে কোন অনুষ্ঠানে পাড়ার লোকেরা এগিয়ে এসে নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিতেন, পয়সার বিনিময় ছিল অপমানের সমান। বাড়িতে ফলানো শাক-সব্জী পাড়া প্রতিবেশির বাড়ি পৌঁছে দেওয়া ছিল আন্তরিকতার প্রকাশ। সবার বাড়ির সামনাটা শোভন হত ফুলগাছ দিয়ে। ফুল দূর্বা বেলপাতা আমপাতা যজ্ঞসামগ্রী পাড়ার লোক জোগান দিত পূণ‍্যকর্ম ভেবে। সবচেয়ে প্রিয় কথাটি হল সবাই সবাইকে চিনতো, জানতো। সকলেই ছিল সকলের সুখদুঃখের সমব‍্যথী। 
        ই-রিক্সা চালক ছেলেটির কথায় অমরেশ সান্ন‍্যালের খেয়াল হল এবার তাকে নামতে হবে। অনেকগুলো উজ্জ্বল দোকান রয়েছে রাস্তার দুপাশে। সিদ্ধিপুর গ্রামে বাজার বলতে কতগুলো সারিবদ্ধ দোকানঘর ছিল। সবধরনের সামগ্রী সাজানো থাকত। কিছু কিনতে হলে সেই বাজারেই যেত সবাই। পৈতৃক ভিটের ছবিটা ভেসে উঠল চোখের সামনে। সুদৃশ্য পাকা বাড়িগুলোর মাঝে তার মন খুঁজে পেতে চাইছিল ফেলে যাওয়া খোলামাঠের পাশে পুকুর পেরিয়ে আম জাম কাঁঠাল গাছের সারির ভেতর দিয়ে বাড়ি যাবার পথটি ।।

নিষ্পাপ মুখ

পম্পা ঘোষ 

ছেলে মেয়ে তোরা ওরে
এখন থেকেই বোঝা, 
নিবারণের পথটি দেখি
 মোটেও নয় সোজা। 

 তোরা এখন ছোট্ট সোনা 
বুঝিস না ভাল মন্দ,
মাথায় নিয়ে বোঝা 
 হারাই জীবনের ছন্দ।

লেখাপড়া জীবন গড়া
 শিশুদের অধিকার ,
সমাজ কল্যাণে
 সচেতনতা দরকার

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স:

  • জাতীয় নিরাপত্তা দিবস পালন করা হয় ৪ঠা মার্।
  • Indian Pharma standards-কে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম স্প্যানিশ ভাষি দেশ হলো নিকারাগুয়।
  • Pro Kabaddi League Season 10 জিতলো Puneri Paltan টিম।
  • "Alliance for Global Good-Gende Equity and Equality" লঞ্চ করলো ভারত।
  • Water Informatics Centre প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিল ওড়িশা।
  • 2027 World Athletics Championships হোস্ট করবে বেজি।
  • গর্ভপাতকে সাংবিধানিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দিতে চলেছে ফ্রান্স।
  • বিনোদনমূলক গাঁজার ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে চলেছে থাইল্যান্ড।
  • গুজরাটের ঢোলেরাতে ভারতের প্রথম Semiconductor Fab তৈরি করবে টাটা গ্রুপ।
  • সরকারি চাকরির জন্য দুই সন্তানের নিয়ম সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে রাজস্থান।

✒️ লিখেছেন:

অসম্পূর্ণ ইচ্ছা

আয়ুশ শর্মা

আমি প্রতিদিনের মত আজও বাবুল কুটির সামনে অপেক্ষা করছিলাম।কিন্তু আজ সময়টা আছে ঠিক আছে সন্ধ্যা সাড়ে ছটা,আজ কোন বন্ধুরই পাত্তা নেই,তবে আর কি হতাশ মনের সামনে বাবুল কটি নামক বাড়িটির মোজাইক করা শিরিতে গিয়ে বসলাম,এই আশায় যে তারা হয়তো একখোনি চলে আসবে।সময় কখনো কারো জন্য অপেক্ষা করে না সে নিজের মতো চলতে থাক ।আজ যেন সেও আমাকে ব্যঙ্গ করে চলেছে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে‌।পরিবেশটা খুবই নির্জন।পাশের রাস্তায় সেরকম গাড়ি-ঘোড়া চলছে না আজকে।হঠাৎ একটা কাশির শব্দ পেলাম পেছন থেকে ................।মনে হলো কে যেন আমার পেছনে এসে হাজির হয়েছে,পিছন পানে চেয়ে দেখি এক অশরীরী জীর্ণ দেহের বৃদ্ধ।সে আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।আমার বাক্যগুলো আজ রুদ্ধ হয়ে গেছে আমিও তার পানে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।আমারও সেই বৃদ্ধের এই দৃষ্টিনন্দন খেলায় প্রথমে বিধি ভেঙে সেবাড়ির ভেতরে ঢোকার প্রস্তাব দিল।

      আমিও ভাবলাম অনেকক্ষণইতো হয়ে গেছে বন্ধুরা মনে হয় না আজকে আর আসবে ,তাই ঠিক আছে আমি তার এই প্রস্তাব তাকে গ্রহণ করে ভেতরে চলে গেলাম।
এক অদ্ভুত অনুভূতি হল তার ঘরের ভেতরে গিয়ে।এ যেন এখনকার বাংলা নয়,সেই প্রাচীন গ্রাম বাংলার অপরুপ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে।চারিদিকে অন্ধকার তার মাঝে পূর্ণিমার এক হালকা আলো এসে পড়েছে তার বাড়ির ভেতরের উঠানে,উঠোনের ওপরে দালানে এক কোণে জ্বলছে হ্যারিকেন।
সেই উঠোনের ভেতরে দুইখানা আরামকেদারায় রয়েছে যার একটাতে সেই বৃদ্ধ টি বসল এবং পরক্ষণে আমাকে একটি আরামকেদারা এগিয়ে দিল।নিঃসন্দেহে বসে পরলাম। সেই বৃদ্ধ টি আমার কাছে আমার নাম ও পরিচয় জানতে চাই,প্রথম একটু সংকোচ করলো পরে বলে দিলাম। তারপর হঠাৎ বৃদ্ধটি কি যেন নিজে নিজেই বিড় বিড় করতে থাকোল।এই সুযোগে আমিও আমার মনে আগত সব জটিল চিন্তাভাবনাকে সরল করে ভাবার প্রয়াস করতে লাগলাম।
         আজকের দিনটা বড় অদ্ভুত,কারণ যে বন্ধুরা সবসময় আমার আগে এখানে এসে বসে থাকে তারা আজকে কেউই আসেনি ।প্রতিদিন আমরা যখন বাড়ির বাইরে বসে আড্ডা দিই তখন তো বুঝতে পারিনি যে বাড়ির ভেতরে এক বৃদ্ধা মানুষ আছে।তখন তো মনে হতেই না বাড়ি ফাঁকা বা কেউ থাকেনা। 
           আমার এতক্ষণের ভাবনায় বিঘ্ন ঘটিয়ে বললেন, তোমার বন্ধুরা আজকে আসেনি, আজকে এত রাত পর্যন্ত এখানে রয়েছো‌।আমার আসলে আজকে কাজ থেকে আসতে দেরি হয়ে গেছে তাই এখানে রাতে পৌঁছেছি।
তিনি আমার কথা পুরোটা শোনার পর আমার কথাগুলোর মধ্যে শুধু কাজ শব্দটি কে কেন জানি না বারবার আওড়াতে থাকলে,কাজ কাজ.....! এরই মধ্যে সেই বৃদ্ধের দুই চোখের কোণে জল এসে হাজির।হারিকেনটা দূরে থাকায় তা অস্পষ্ট দেখল মনে হল যে হ্যাঁ ঠিক জল এসে হাজির হয়েছে তার ওই দুই চোখে।
তার গলায় বেদনার প্রকাশ নিয়ে তিনি বললেন,আমার বড় ছেলে কলকাতায় থাকে সেখানেই মস্ত বড় অফিসার হয়েছে শুনেছি।
শুধু কাজের ছুতো দিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে একবারও দেখতে আসে না সে। আমার স্ত্রী ছোট ছেলেকে জন্ম দিতে গিয়ে এ লোক থেকে পরলোকে গমন করেছিলেন পরিবার বলতে আমি আমার দুই ছেলে ।
বড় ছেলের মাধ্যমিক পাশের পর তাকে তার বড় পিসির বাড়িতে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছি লাম। তার পড়াশোনার খরচ প্রত্যেকবার আমি এখান থেকে পাঠিয়ে দিলো তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ তো একবারই।
জবের থেকে সে চাকরি পেয়েছে প্রায় বলতে গেলে আমাকে ভুলে গিয়েছে।
বর্তমানে আমার শরীরটা প্রচন্ড অসুস্থ তাই তাকে হাজারবার চিঠি লিখল সে কাজের দোহাই দিয়ে প্রত্যেকবার আমাকে এড়িয়ে যায়।
এরই মধ্যে ঘটে যাওয়ার একটি দুর্ঘটনা,আমার ছোট ছেলে নুরুল,পাশের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন,বড়ই ভাল ছিল আমার ছেলেটা।বলতে গেলে আমার শেষ বয়সে আশাভরসা সাহারা হয়ে দাঁড়িয়েছিল আমার ছোট ছেলে।কিন্তু ভাগ্যের একই বিরম্বনা,দুই বছর আগে গাড়ি এক্সিডেন্টে সেও আমাকে একা করে এই লোক ছেড়ে পরলোকগমন করেছে।তার অনুপস্থিতিতে আমি বড্ড একা হয়ে গেছি।তাই এখনই এতো বড় বাড়িতে মৃতের স্তূপের মত পড়ে থাকে আমি একা একা।
প্রত্যেকদিন তোমরা যখন এখানে আড্ডা দিতে আসো তখন আমি ভালো থাকি। তারপর তোমরা চলে গেলে আমায় একাকীত্ব ঘিরে ধরে। আজকে তোমাদের গলার আওয়াজ না শুনে তাই বাইরে বেরিয়ে আসলাম আর দেখি তুমি একা বসে রয়েছে তাই তোমাকে ভেতরে ডেকে নিলাম ,কারন আমার ছোট ছেলে বলতো মনের কথা বলার মত মানুষ থাকা খুব প্রয়োজন এই জগতে না হলে কোন একদিন সেটা অচল হয়ে।তাই তোমার সঙ্গে আজকে এখানে বসে ।তাই বাবা তোমাদের এই নতুন প্রজন্মের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন কিসের বাবা এত কাজ তোমাদের যা পরিবারকে তোমাদের থেকে আলাদা করে দেয়।যার জন্য নিজের পরিবারকে অবহেলা করতে হয় তোমাদের,এই বলে তুমি কান্নায় ভেঙে পড়ল,আমি নানাভাবে তাকে সান্তনা দিতে থাকলাম,যে বড় ছেলে হয়তো একদিন ঠিক ফিরে আসবে।সে বলল আমার ইচ্ছা ছিল আমার বড় ছেলে আমার সঙ্গে থাকবে এবং সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে আমার। কিন্তু কই তা তো হল না,এই বলে সেই বৃদ্ধটি হঠাৎ একটি অট্টহাসিতে ভেঙে পড়লো‌,এবং আমার হাত দুটো চেপে ধরল।এরপর বলতে শুরু করল,
     আমার দায়িত্ব নেবে না বাবা ,নেবেনা আমার দায়িত্ব তুমি ছাড়া আমাকে বুঝবে কে?তুমিতো আমার বড় ছেলে

এই কথার সঙ্গে তাঁর এক বিরাট ভয়ঙ্কর রূপ দেখতে পেলাম। যা দেখে আমার হাত-পা ঠকঠক করে কাপছে ,আমি কোনমতে হাত পা ছাড়িয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলাম কিন্তু পারলাম না চোখ বন্ধ করে থাকলাম,এবং চেচাতে শুরু করলাম।হঠাৎ জলের ছয়টায় আমার চোখ দুটো খুলে যায়। 

দেখি জলের গ্লাস হাতে নিয়ে রবিন দার ইয়ে আছে,এবং আমায় ডাকছে।সেই মুহূর্তে আমি উঠে বসে পড়ি এবং ভাবতে শুরু করি এটা স্বপ্ন ছিল না সত্যিই আমার সঙ্গে ঘটেছে এ ঘটনা টা। রবিনকে পুরো বিষয়টা খুলে বলি
এবং রবিন এর প্রতি উত্তরে বলে ,কেন তুই বাবুল কুটিরের ঐ বুড়োটার বিষয়ে জানিস না।  
ও বলল ছোট ছেলের অকাল মৃত্যু ও বড় ছেলের বিশ্বাসঘাতকতা তাকে অপারক করে দিয়েছিল এবং শেষ বয়সে এসে সে পাগলের মত লোককে ডেকে নিয়ে একটি গল্প বলার নাম করে তাদের ওপর আঘাত হানত।

একদিন হঠাৎ রাত্রেবেলা খবর পাওয়া যায় সেই বুড়ো হাত কেটে পড়ে রয়েছে বাড়িতে। তবে তার অন্ত ক্রিয়াকর্ম তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়রায় করে,তার বড় ছেলে তখন এসেছিল না,পড়ে এসেছিল একবার সম্পত্তির দলিল নেওয়ার জন্য।

এই বলে বললো থাক বাদ দে এসব কথা ।চল আজকে আড্ডা দেবো বাবুল কুঠির ওখানে।আমি বললাম তোরা যা আমি পরে আসছি ,এই বলে আমি কাটিয়েদিলাম। কারণ আজকে আর যাই হোক ওখানে আমি আজ যাব না।     
বাস্তব ঘটনা ও স্বপ্নটা সঙ্গে মিল সূত্র যতক্ষণ না পাচ্ছি ততক্ষন আজকে আমার শান্তি হবে না।

ছোটবেলার গ্রাম

গোবিন্দ মোদক

পড়ছে মনে ছোট্টবেলার সেই সে গ্রামের কথা, 
মনটা জুড়ে শতেক স্মৃতি জাগছে নীরব ব্যথা! 
পড়ছে মনে 'টুঙ্গী' গ্রামটি ইছাই নদীর তীরে, 
শান্তির নীড় সবুজ সে গ্রাম গাছ-গাছালির ভিড়ে! 
পড়ছে মনে সেই গ্রামেতে পাখ-পাখালির ডাকে, 
সূর্য উঠে দিতো উঁকি গাছের শাখে-শাখে! 
পড়ছে মনে ঘুম ভাঙতো ভোরের আজান শুনে,  
জাগতো সকাল বাঁশির সুরে স্বপ্নের জাল বুনে! 
পড়ছে মনে রাম-রহিমের পাঠশালাতে যাওয়া, 
ফেরার পথে আম কুড়িয়ে দু'জন মিলে খাওয়া! 
পড়ছে মনে সকাল বিকাল নদীর জলে স্নান, 
বাজিয়ে বাঁশি গাইতো রাখাল মনকাড়া সেই গান!
পড়ছে মনে চু-কিৎ-কিৎ আর ডাংগুলি খেলা, 
ঝোপে-ঝাড়ে লুকোচুরিতে ঘনিয়ে আসা বেলা! 
পড়ছে মনে বৃষ্টি হলে কাগজের নৌকা গড়ে, 
ভাসিয়ে দিলে ভেসে যেত বৃষ্টি-জলের তোড়ে! 
পড়ছে মনে আষাঢ় মাসে পীর-দরগায় মেলা, 
রথের মেলায় পুতুল কিনে ফেরা সন্ধ্যাবেলা!
পড়ছে মনে সন্ধ্যা হলে বাজতো কাঁসর-ঘন্টা, 
ফকির-দাদুর একতারাতে উদাস হতো মনটা!
পড়ছে মনে রাতের বেলায় কুপির আলোয় পড়া, 
মায়ের মুখে মিষ্টি-মধুর কতো রকম ছড়া! 
পড়ছে মনে দাদুর কাছে রূপকথা সব শোনা, 
গল্প শুনে আজব আজব স্বপ্নের জাল বোনা! 
পড়ছে মনে গ্রামের পরব ঈদ আর মহরম, 
বছর-জুড়ে পুজো-পার্বণ নানান রকম! 
পড়ছে মনে সুখে-দুখে থাকতাম সেই গাঁয়ে,
তাঁতী-কৃষক কামার-কুমোর জেলে ভায়ে-ভায়ে!
হচ্ছে মনে সে গ্রাম যেন ডাকছে আমায় সুরে, 
উপায় তো নেই যাওয়ার কোনো আছি অনেক দূরে!

হারানো শৈশব

দীপক রঞ্জন কর

বাল্য সাথীর সাথে সেই দৌড়ঝাঁপ 
আজও হৃদয়ে দেয় সুড়সুড়ি,
আম বাগানে আম পারার গল্পের
মধুর শৈশব গেছে চুরি।
মার্বেল লাটিম খেলা আর ডাংগুলি
লাটাই হাতে আকাশে ঘুড়ি, 
আজও মনে পড়ে বৃষ্টিজমা জলে 
ভাসানো সেই কাগজের তরী।
সহপাঠীর সাথে কানামাছি খেলার
গ্রামের দুরন্ত ছেলেবেলা,
ফিরবেনা তরী আর শৈশবের মতই
আজ যে বড়ই একেলা।
শৈশবের সেই সুন্দর দিনগুলি 
ফিরে একবার পেতাম
মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে 
আকাশে উড়ে যেতাম।

আমাদের গ্রাম

সঞ্জয় বৈরাগ্য

সবুজ দিয়ে ঘেরা ও ভাই 
আমাদের প্রিয় গ্রাম,
রামধনু রঙে সাজানো সে যে
আনন্দ নগর নাম।
আঁকা বাঁকা ঐ পথের ধারে
আমাদের ছোট্ট গ্রাম,
পদ্মা নদীর তীরে সে যে
আনন্দেরই এক ধাম।

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স:

Indiramma Housing Scheme লঞ্চ করলো তেলেঙ্গানা:
   মুখ্যমন্ত্রী এ. রেভান্থ রেড্ডি 11 মার্চ, কংগ্রেসের দেওয়া পঞ্চম গ্যারান্টি, দরিদ্র এবং দুর্বল শ্রেণীর জন্য ইন্দিরাম্মা আবাসন প্রকল্পের সূচনা করবেন৷ শ্রী রেড্ডি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দিরের শহর ভদ্রাচলম, হাউজিং এবং রাজস্বে প্রকল্পটি চালু করবেন৷ বুধবার একথা জানিয়েছেন মন্ত্রী পঙ্গুলেতি শ্রীনিবাস রেড্ডি।

● মহারাষ্ট্র ভূষণ পুরস্কার ২০২৪ পেলেন ড. প্রদীপ মহাজন।

● BPCL কোম্পানির "স্পিড" পেট্রোলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হলেন নিরাজ চোপড়া।

সম্প্রতি ৯১ বছর বয়সে মারা গেলেন প্রখ্যাত অরুণ কুমার শর্মা।
 পদ্মশ্রী ডঃ অরুণ কুমার শর্মা, যিনি 90 বছর বয়সে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে তাঁর বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন৷ প্রত্নতত্ত্বের বিশ্ব তার অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোকাহত, পদ্মশ্রী ড.

Haj Suvidha" নামে মোবাইল অ্যাপ লঞ্চ করলেন স্মৃতি ইরানি।
     কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী স্মৃতি জুবিন ইরানি 3 শে মার্চ হজ সুবিধা অ্যাপ চালু করেছেন যা প্রয়োজনীয় তথ্য এবং প্রশিক্ষণ মডিউল, ফ্লাইটের বিশদ বিবরণ এবং বার্ষিক তীর্থযাত্রায় যাত্রাকারীদের আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিতে সরাসরি অ্যাক্সেস সরবরাহ করবে।

✒️ লিখেছেন:

আমার গ্রাম 

উদয় নারায়ণ বাগ 

আমার দেশে আমার গাঁ'টি
একটি সবুজ ছবি, 
দিবস ভরা স্নেহের ছোঁয়া 
বিলায় পুবের রবি। 

আম কাঁঠালের বাগান আছে 
মিষ্টি তারই ছায়া, 
ডাকবে কাছে কলমিলতা 
মনে নিয়ে মায়া।

ধুলোর মাঝে খেলে শিশু 
বাসন মাজে মা'য়ে,
তৃণের মাঠে চরে ধেনু 
ধীরে ধীরে পা'য়ে। 

মেঠো রাস্তা এঁকেবেঁকে 
চলে পুকুর পাড়ে, 
সোনার ধানে ভরা জমি 
তারই দুইটি ধারে।

লাঙল কাঁধে চলে চাষি 
ভেজা শ্রাবণ দিনে,
ফসল বেচে আনে ঘরে 
খুশির ধারা কিনে।

জল থইথই দিঘির কানা
পদ্ম শালুক হাসে,
হিমেল হাওয়া দেয় যে দোলা 
শরৎ-রানির কাশে।

গাছের ডালে মাছরাঙাটা
চেনে মাছের খেলা,
সারস পাখি ঘুরলে বাসায় 
যায় যে চলে বেলা,

কলসি কাঁখে জল আনতে 
চলে গাঁয়ের বধু,
শীতের প্রাতে সরষে ফুলে 
খায় অলিরা মধু।

গ্রীষ্ম কালের ক্লান্ত দুপুর 
ভ্রান্তি আনে মনে,
যুদ্ধে মাতে কালবোশেখি 
সৃষ্টির মহারণে। 

পলাশ বনে রঙিন আগুন
বসন্তেরই কালে,
রঙের আবির জ্বলতে থাকে 
কৃষ্ণচূড়ার ডালে।

দিনের শেষে ওই গোধূলি 
একটি ফুলের ডালা,
সাঁঝের বেলা সব ঠাকুমা
জপতে থাকে মালা।

ডানা ঝপটায় লক্ষ্মী-প্যাঁচা 
পূর্ণিমারি রাতে,
ঝিল্লিরা সব ঝি-ঝি রবে 
সবাই মিলে মাতে।

হুক্কাহুয়া শিয়াল মামা
ডাকে পিয়াল বনে, 
যুবা সাঁওতাল নৃত্যে মজে
সাঁওতালিনির সনে।

গাঁ'টি আমার পাল তোলা নাও 
চলে খুশির দোলে,
শান্তি পাবে তুমি এলে 
আমার গাঁয়ের কোলে।

আমার গ্রাম আমার বাড়ি

 মিহির সেন

নদীর ধারে বাঁশের বেড়া
ছোট্ট আমার ঘর,
ভালোবাসার স্মৃতি মাখা
নয়তো কেউ পর।

দোয়েল এসে শোনায় গান
সূয‍্যি দেয় উঁকি,
বাতাস এসে সোহাগ করে
শীতল পরশ মাখি।

মাঝি শোনায় ভাটিয়ালি
ফুলেরা দেয় সঙ্গ,
কাঠবেড়ালি নৃত‍্য করে
দেখায় কত রঙ্গ।

মাছায় ঝোলে লাউ কুমড়ো
পালং নটে পাশে,
গান গেয়ে চাষ করে চাষি
মনের অভিলাষে।

রাতের বেলা চাঁদকে দেখি
ভাঙা চালের ফাঁকে,
রাতচরা সব পাখির দল
আমার খবর রাখে।

নাইবা হোক অট্টালিকা
আমার ছোট্ট বাসা,
নিজের হাতে গড়া সে যে
ভালোবাসায় মেশা।

ছেলেবেলার প্রিয় সাথী

আব্দুল রাহাজ

সৌরভের ছেলেবেলাটা কেটেছে প্রত্যন্ত গ্রামের সবুজে ভরা পরিবেশের মাঝে। সেই দিনগুলির কথা সৌরভের মনে পড়লে আজও ছুটে যেতে ইচ্ছে করে সেই গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ব্যবসার কাজে শহরে থাকায় সময় হয়ে ওঠেনা বছর এিশের সৌরভ মজুমদারের। সেদিন রবিবার ছুটির দিন। ব্যবসার কাজ থেকে সেদিন এক বেলা ছুটি নিয়ে নিজের শহরের বাড়িতে ব্যালকনিতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে এক মনে। তারপর সৌরভের চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই ছেলেবেলার দিনগুলি। যেখানে ছিল একরাশ স্বাধীনতা অনাবিল আনন্দে ভেসে বেড়াতো গ্রামের ছেলেমেয়েদের সাথে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে। ঠিক সেই সময় মনে পড়ে সৌরভের সেই খেলার সাথীর কথা । তারপর সৌরভ মনে মনে বলে ওঠে ময়ূরী তুই কোথায় তুই কোথায়। সৌরভের ছেলেবেলার একমাত্র খেলার সাথী ছিল ময়ূরী। সৌরভদের গ্রামের হারু কাকার মেয়ে ময়ূরী। ওদের দুজনের বাড়ি একেবারে পাশাপাশি। গ্রামের পাঠশালা পর্যন্ত দুজনে একসাথে পড়াশোনা করেছে। অবসর সময়ে রনিদের আম বাগানে খেলা করেছে কখনো বিকাল বেলায় তেলিপাড়ার মাঠে গিয়ে আম পেড়েছে। আরো কত শত স্মৃতি আছে ময়ূরীর সাথে সৌরভের। তারপর সৌরভ এক মনে বলতে থাকে হে প্রভু যদি কোনদিন দেখা পেতাম তাহলে এখন নিজের করে নিতাম কিন্তু সেটা হয়তো আর হবে না। আমি তো ব্যস্ত মানুষ আর কোথায় যায় এই ব্যস্ত শহর ছেড়ে। কিন্তু এই স্মৃতিগুলি আমার মনের গহীন ও গভীরে গেঁথে থাকবে আজীবন।

কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স:

দ্বিতীয়বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হলেন শেহবাজ শরীফ।
4 মার্চ 2024 শেহবাজ শরীফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন, 2022 সাল থেকে দ্বিতীয়বারের মতো দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন, বিস্ময়কর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্যে।

Recently West Bengal muslin saree got GI Tag
 ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার সবেমাত্র বাংলাদেশের বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ির জন্য ভৌগলিক ইঙ্গিত (GI) অধিকার পেয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এই ঘোষণা আসে।

নিওলিথিক যুগের শিশুর কবর আবিষ্কৃত হলো তামিলনাডুতে
মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা চেন্নাইয়ের কাছে চেটিমিডু পাথুরে একটি নিওলিথিক সাইট আবিষ্কার করেছেন। সাইটটি একটি শিশুর কবরের দেহাবশেষ এবং বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক নিদর্শন, যার মধ্যে বিরল পোড়ানো ধূসর পাত্র এবং চোল-যুগের মুদ্রা পাওয়া যায়। সাইটটি 2500 BCE থেকে 3000 BCE পর্যন্ত হতে পারে।

Chapchar Kut Festival পালিত হলো মিজোরামে
সাম্প্রতিক সময়ে, উৎসবটি প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম শুক্রবার পালিত হয়। এক বছরের শুরুতে ঝুম অপারেশন - জঙ্গল পরিষ্কার (পোড়ানোর অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করা) এর সবচেয়ে কঠিন কাজ শেষ করার পরে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে চাপচার কুট উদযাপন করা হচ্ছে।

4th Khelo India University Games-এ ওভারঅল চ্যাম্পিয়ন হলো চন্ডিগড় ইউনিভার্সিটি
চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয় 4র্থ খেলো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমস 2023-এর সামগ্রিক চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে, অষ্টলক্ষ্মী তাদের বক্সারদের সাথে পাঁচটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য এবং চারটি ব্রোঞ্জ পদক যোগ করেছে যাতে তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগীদের কেউই শীর্ষস্থানে দাবী করার বাইরের সুযোগ পায়নি।

✒️ লিখেছেন:

আমার গ্রাম 

কাজল মৈত্র

ছয়ঝতুতে আমার গ্রাম স্নিগ্ধতায় ঘেরা
আম বকুলের গন্ধেতে মৌমাছি দিশেহারা
বর্ষাকালে আনন্দেতে ডাকত ভেকের দল
আমার উঠানে মিশত চূর্ণীনদীর জল
কাশফুলেতে দোলা দিয়ে শারদীয়া আসে
হেমন্তের নক্ষত্রে আকাশ যেন হাসে
শীতকালে মাঠের রোদে খেলতাম লুকোচুরি
দোলের দিনে উড়ত রঙের ফুলঝুড়ি ।

 Concept of Community
Writing/Speech: Supriya Gangopadhyay

তোমায় ভালোবাসি কবিতা‌‌

আলমগীর

কবিতা তোমার রাজ্য থেকে
কিছু দিন আমি সরে গিয়েছিলাম;
তবে সম্পূর্ণ সরে গিয়েছিলাম
কথাটা একেবারেই বললে ভুল!
 আমার চিত্ত তোমার রাজ্যেই
 থেকে গিয়েছিল-
আলো অন্ধকারে সর্বদাই
বিরাজ করতো তোমার কাছেই ‌।
অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছি 
কবিতা তোমায়-
তা তুমি বোধ হয় জানো না ।
তোমায় ছাড়া আমি কতটা কষ্টে ছিলাম
কতটা দুঃখে ছিলাম;
সেটা শুধু আমি জানি
তা কেউ জানে না !
একবারও তো
       তুমি ,
খোঁজ নিয়ে দেখলে না 
    কবিতা ;
কেমন আছি? কত কষ্টে আছি, কত বেদনায় আছি? 
তোমার কাছে আবার
ফিরে যেতে চাই কবিতা
অবহেলা করিয়ো না !


আমর গ্রাম, হৃদয়পুর তার নাম

রবিন রায় 

আমার সেই ছোটোবেলার নজরে,
দেখছি আমি ফের স্মরণ করে ;
ঠিক কেমন ছিলো আমার গ্রাম, 
বর্ণনা করছি রূপের আনন্দ ধাম। 
গ্রামটি ছিলো সবুজঘন প্রাঞ্চল,
সোনালী রৌদ্রে কনক হেন উজ্জ্বল ;
বিহগেরা গাইতো গানে কলতান, 
জাগতো সাড়া ঘরে ঘরে জনপ্রাণ।
মা কাকিরা ব্যস্ত সবে বাসি কাজে 
উঠোন নিকনো, গোবর ছড়ার মাঝে ;
সাতসকালে রান্নাবান্না দুএক পদের সাথ,
বাপ কাকারা মাঠে যাবেন খেয়ে দুটো ভাত।
নদীর এপারেতে মোদের বসবাস, 
আর ওই পারেতে ছিলো চাষবাস ;
মাঝখানের এই বহতা নদী যেন-
আমাদের দেহ মধ্যের হৃদি হেন।
নদীই মোদের তৃষ্ণা মেটায় -
নদীই সেঁচের জল যে জোগায় ;
পাড়টি ধরে মাটির পথ শহর ধরে, 
সারি সারি গাছগাছালি ছায়া ভরে।
পাঠশালাটি তারই পাশে অবস্থিত, 
পাঁচিল ঘেরা মাঠ, কাননে সুসজ্জিত ;
উচ্চ শিক্ষা লাভে যাই অদূর শহরে, 
দল বেঁধে যাই সবাই নৌকায় চড়ে। 
আর একটু গেলেই পরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র, 
তার পাশেই বসেন ডিগ্রিধারী উপেন্দ্র ;
সহৃদয়ে আছেন বলেই মেটে অভাব, 
নইলে পরে পড়তো ভীষণ বিপ্রভাব। 
খোলা মাঠে খেলে,
ঝাপ দিয়ে জোয়ার জলে;
বড় হয়েছি মুক্ত বাতাসে উড়ে, 
মনখোলা মানসিকতায় ভরে।
যেমনি পেয়েছি দিনের আলো,
তেমনি দেখেছি আঁধার কালো ;
তাই খাপ খায় না কোনোভাবে 
শহুরে ওই নকলে ভরা স্বভাবে।
এখনো দেহে আমাদের খাঁটি মাটি,
মনটা সহজ, সরল, স্বচ্ছ পরিপাটি ;
না, থাক দীর্ঘ হবে বলতে গেলে সব,
এখানেই সাঙ্গ করি তাই বর্ণনাবিভব।
আমার চোখে সেরা আমারই গ্রাম ;
আমার আবেগের হৃদয়পুর তার নাম।। 

মনে পড়ে

বদ্রীনাথ পাল

ছোট্ট বেলায় ভালোবাসা পেয়েছি যে গ্ৰামে-
সবার কাছেই পরিচয় তার বাবিরডিহি নামে।
থাকতো ভরা গোপাল পুকুর শাপলা শতদলে-
বন্ধু যতো কাটতো সাঁতার স্বচ্ছ তারই জলে।

মল্লিকদের আমবাগানে কালবোশেখির ঝড়ে,
সবাই মিলে আম কুড়োতাম ছোটাছুটি করে।
চু কিত্ কিত্ বুড়ি ছোঁয়ার খেলা হতো মাঠে,
ধুলো পায়ে বাড়ি ফেরা সূয্যি যখন পাটে।

সন্ধ্যে বেলায় শাঁখ ঘন্টা ভোরের আজান সুরে-
ভরিয়ে দিতো আকাশ বাতাস সরা গ্ৰামটি জুড়ে।
চড়ুইভাতি গাজনের নাচ হতো মজা করে-
ছোট্ট বেলার গ্ৰামটি আমার আজও মনে পড়ে।

ছোটবেলায় গ্রামটা ছিলো

রানা জামান 

ছোট বেলার গাঁ-টা ছিলো
কেবল মাটির রাস্তা,
ভোরে জেগে পান্তা দিয়ে
করে নিতাম নাস্তা।

খালের উপর একটি বাঁশের 
সাঁকো ছিলো রাস্তায়
স্বাচ্ছন্দ্যে পার হতে পারবো
ছিলো না তা আস্থায়। 

গরুর হালে চষতো জমিন
বসতাম মই-এর উপর,
জাম্বুরার খোল দিয়ে তখন
পরতাম মাথায় টোপর।

বন্ধুর সাথে কিংবা একা 
স্কুলে যেতাম হেঁটে, 
অনেক হর্ষে মাছও ধরতাম
বিলের কাঁদা ঘেঁটে।

ভরা বর্ষায় ভেলায় চড়ে
চলে যেতাম দূরে,
মনের সুখে গানও গাইতাম
ফাঁটা বাঁশের সুরে।

এখন গ্রামে বিজলি আছে
সকল রাস্তা পাকা,
চারিদিকে যন্ত্রের চিৎকার 
ডাকে না কাক কা কা!



কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স:

৫ কোটি আয়ুষ্মান কার্ড ইস্যু করা প্রথম রাজ্য হলো উত্তর প্রদেশ।
আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার অধীনে পাঁচ কোটি আয়ুষ্মান কার্ড ইস্যু করার জন্য উত্তরপ্রদেশ দেশের প্রথম রাজ্য হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। উত্তর প্রদেশ সরকারের জারি করা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, রাজ্য 50,017,920টি আয়ুষ্মান কার্ড জারি করেছে এবং 74,382,304 জন ব্যক্তিকে উপকৃত করেছে।

যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ‘MYUVA Scheme' লঞ্চ করলো উত্তর প্রদেশ*
এই প্রকল্পের অধীনে, রাজ্য সরকার প্রতি বছর 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের জন্য সুদ-মুক্ত ঋণ প্রদান করে এক লক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্য রাখে। এই উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য সরকার 2024-25 আর্থিক বছরের বাজেটে 1,000 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

বিহারের নতুন চিফ সেক্রেটারি পদে নিযুক্ত হলেন ব্রজেশ মেহরোত্রা
বিহারের নতুন মুখ্যসচিব নিযুক্ত হলেন ব্রজেশ মেহরোত্রা
 ব্রজেশ মেহরোত্রাকে বিহারের নতুন মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, আমির সুবহানীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন যিনি একটি রাজ্য-স্তরের কমিশনের চেয়ারপার্সন হওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় অবসরের জন্য আবেদন করেছেন। নীতীশ কুমার সুবহানীর অনুরোধ মঞ্জুর করলেন

BSF-এর প্রথম মহিলা স্নাইপার হলেন সুমন কুমারী
ইন্দোর, হিমাচল প্রদেশের সাব ইন্সপেক্টর সুমন কুমারী ইন্দোর-ভিত্তিক সেন্ট্রাল স্কুল অফ আর্মামেন্ট অ্যান্ড ওয়ারফেয়ার স্কিলস (CSWT) তে 8 সপ্তাহের কোর্স শেষ করার পরে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রথম মহিলা স্নাইপার হয়েছেন, গত সোমবার একজন কর্মকর্তা বলেছেন।

✒️ লিখেছেন:

ছোটোবেলার গ্রাম

জীবন সরখেল

পুকুর পোড়ো মন্দির ঘেরা 
মেঠো আর লাল রাস্তায়
সবুজ স্নেহে আজও কী আর 
গ্রাম জীবন বয়ে যায়!
মুরগির ঘুম ভাঙ্গানিয়া সুর
মাটির শীতল ঘরে
জানা অজানা পাখির ডাক
পৌঁছায় দেওয়াল ফুঁড়ে?
গরু,মোষ ও ছাগল হাঁসের 
সাথে কুকুর,বিড়াল
ভালোবাসায় কী এক পাতে খায়
ভেঙ্গে যত দেওয়াল!
বটগাছের সেই ঝুরি ধরে
দোল খায় যত ছেলে?
ঘুরি যেন নীলকুঠি ঘর
স্মৃতির পাখনা মেলে!
ছোটোবলার সেই গ্রাম স্মৃতি 
আজও সব অমলিন
ইট,কাঠ ও কংক্রিটের ভিড়েও
নিমেষে হই রঙীন।

গাঁথা হলো মধুগড়ের গাথা 

সুদীপ্ত দে 

ওই যে পথ বাঁক নিয়েছে সুদূর দিগন্তে
সর্ষে খেত ঘেরা ওই নদীর কূলে তে ।
নাম হারা ওই গ্রামখানি আজ অভিশাপে ভরা
বসতহীন দেউলি দালান বাজেনা শাখ যে -
নেই যে হেথায় রাখাল বালক,স্তব্ধ বাঁশির সুর,
ওড়ে না আর গোঠের ধুলো সাঁঝ বেলায় এখন।
দীনের দ্বারে উজাড় হলো শস্য ভরা গোলা
অনাহার আজ নিত্য সাথী মধুগড়ের হেথা।
পথের ধারে নিরঞ্জনা শুকিয়ে গেছে আজ
প্রাণের ধারা বইতো হেথায় অবসরের আলাপ।
হাজার ব্যাথা হাজার সুখে বাজতো বাঁশি হাজার সুরে
নিরঞ্জনা সাক্ষী হতো কতো গোপন অভিসার।
আজকে যখন তাকাই ফিরে দেখিনা আর সেই যোগীকে,
শিরে জটায় পরমপুরুষ মাগে না ভিক্ষা দ্বারে দ্বারে।
বদলে গেলো দিন কতো, বদলে গেলো সময়
বন্ধ হলো ঘাটের পাড়ে সংসারের আলাপ।
আর আসে না ফিঙের দল কার্তিকের হালকা শীতে
হাঁসের ন্যায় পরিযায়ী আসে না আর শীতের প্রাতে।
সর্ষে খেতের হলুদ ফুলে গুঞ্জরিত ভ্রমর ওরে
সেই গাথা আজ থাকনা গাঁথা নীলচে খাতার আড়ালে।
মন যে কাঁদে উদাস হয়ে পাইনা গন্ধ বকুল তোর
হারিয়ে গেলি আপন হতে নীরব চৈত্র সাঁঝে।
কতো স্মৃতি উদাস ফকির হরেক নামের বন পলাশী
হারিয়ে গেলো আপন হতে ছেলেবেলার গ্রামটি।

ছোটবেলার গ্রাম

জুয়েল রুহানী

আমাদের ছোট গাঁ 
নাম লতাবর,
থাকি সব একসাথে
নয় কেহ পর।

হলে কোনো উৎসব
মেতে রই সব,
গাঁয়ের আয়োজনে 
উঠে কলরব।

শৈশবে এ গাঁয়ে
ফেলে আসা স্মৃতি, 
দোলা দেয় প্রাণে মোর
মমতা যে অতি।

আবার যেতে চাই

তাপস দাস

আর কি কখনো পাবো ফিরে 
ক্লান্ত দুপুরে বটের ছায়া!
আর কি কখনো পাবো ফিরে  
গায়ের নদীর শীতল মায়া!
পুকুর ভরা মাছ আর গোলা ভরা ধান।
মেঠো পথে একতারা হাতে বাউলের গান।
বৃষ্টি ভিজে মাটি মেখে মাঠে ফুটবল খেলা।
আকাশে ঘুড়ি উড়ানো সেই গোধূলীর বেলা।
পেয়াজ কাঁচা মরিচের সাথে 
পান্তা ভাতের স্বাদ।
চাদর জড়িয়ে পড়তে যাওয়া
শীতের আবছা প্রভাত।
মায়ের বকুনি,বাবার আদর স্কুল ছুটির আনন্দ।
গ্রীষ্ম দিনে গাছে গাছে পাকা আম কাঁঠালের গন্ধ।
মনে পড়ে যায় বাল্য বন্ধুদের 
স্মৃতি গুলো আজ বারবার।
হে ঈশ্বর,যদি জন্মান্তর থাকে 
তবে জন্ম দিও আমায় আবার।
জন্ম দিও নাড়ির টানময় সেই ছোট্ট গায়ে।
যেখানে স্মৃতিরা অপেক্ষায় আজও আমার পথ চেয়ে।
সেই সব দিনে আবার যেতে চাই।
সেই আমার গায়ে আবার যেতে চাই।


কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স:

সম্প্রতি ওড়িশার রূপা তারকাশি GI Tag পেল
ওড়িশার কটকের বিখ্যাত রূপা তারাকাসি, বা সিলভার ফিলিগ্রি কাজ, ভৌগলিক ইঙ্গিত (GI) ট্যাগ পেয়েছে। ওডিশা রাজ্য সমবায় হস্তশিল্প কর্পোরেশন লিমিটেড (উৎকালিকা) ট্যাগের জন্য আবেদন করেছিল।

All India Research Scholars' Summit 2024 হোস্ট করলো IIT Madras
IIT মাদ্রাজ 4 থেকে 7 মার্চ পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া রিসার্চ স্কলারস সামিট (AIRSS) 2024 হোস্ট করছে। রিসার্চ অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল দ্বারা সংগঠিত, ইভেন্টটি সাম্প্রতিক গবেষণা অগ্রগতিগুলি প্রদর্শন এবং অন্বেষণ করতে ভারত জুড়ে বিভিন্ন শাখার মনকে একত্রিত করে। একাডেমিয়া এবং শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, শীর্ষ সম্মেলনটি আত্মনির্ভর ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সারিবদ্ধ হয়েছে, উদ্ভাবনের মাধ্যমে স্বনির্ভরতাকে উন্নীত করছে।

সম্প্রতি অবসর ঘোষণা করলেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় B Sai Praneeth

     সজ্জিত ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় বি সাই প্রণীথ খেলা থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। X (আগের টুইটারে) একটি হৃদয়গ্রাহী বার্তার মাধ্যমে, প্রণীত ব্যাডমিন্টনের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, একটি বর্ণাঢ্য যাত্রার সমাপ্তির সংকেত যা উল্লেখযোগ্য উচ্চতা এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলি দেখেছে।

UAE এবং বাংলাদেশে ৬৪,৪০০ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করবে ভারত
বাণিজ্য মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সরকার ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ এক্সপোর্টস লিমিটেড (এনসিইএল) এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাংলাদেশে 64,400 টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশে 50,000 টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি থাকলেও, 14,400 টন ইউএইতে চালানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

আগত IPL-এর জন্য Sunrisers Hyderabad টিমের ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হলেন নিউজিল্যান্ডের James Franklin
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন মৌসুমের জন্য সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার জেমস ফ্র্যাঙ্কলিনকে তাদের ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইন, যিনি গত দুই মৌসুমে SRH-এর বোলিং কোচ ছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে পরবর্তী সংস্করণ এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

International Big Cat Alliance-এর হেড কোয়ার্টার তৈরি করা হবে ভারতে
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক একটি আন্তর্জাতিক বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) স্থাপন ও সমন্বয় করার পরিকল্পনা করছে, আন্তর্জাতিক সৌর জোট, বিশ্বব্যাপী সৌর ইনস্টলেশনের প্রচারের জন্য ভারতের সদর দফতরের উদ্যোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা 29 ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবটি অনুমোদন করে

✒️ লিখেছেন:

ফিরে পেতেম এমন সময়

প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

কত সবুজ মিশেছে শান্ত শোভার মলিন হৃদয় চাতালে,
ধূলো উড়েছে মেঠো রোদের উন্মুক্ত পড়ন্ত বিকেলে |
আলপথে চড়ে গরু, এদিকে কুটিরে শিক্ষা সবে শুরু ---
বৃক্ষ ছায়ার আশ্রয় দানে জ্ঞান বিতরণ করেন গুরু |
পঞ্চমে কোকিলের সুর, সর্ষে ক্ষেতে রিনি ঝিনি নূপুর,
চাতকের কাতর ধ্বনি, ঘুঘুর ক্লান্ত স্বরে ঋতুনৃত্যে ভরপুর |
এ থানে মিলবে নাকো মুহুর্ত অন্তিমেও কোনোরকম ভেজাল,
মাটির কোমল ঘ্রাণে, দোতারার আহ্বানে, বাইবে তানে নদীর খেয়াল |
উৎসবের মাঝেও মাটির দাওয়ায় স্নেহে রাঙানো আন্তরিকতা---
উনুনের আঁচে আলতো ছাঁচে মিশে যায় শিশিরের একরাশ মুগ্ধতা |
লাঙলের টানে কৃষি ভাইয়ের শ্রম দানে উঠছে স্বর্ণ ফসল,
পল্লী প্রান্তরে স্নেহ মোড়া আদরণীয় পাত্রে সরল মননে চিত্ত সকল |
হাতের কাজও সূক্ষ্ম লাগে, ভ্রমরার অলির বাঁশিতে প্রেম জাগে,
রৌদ্রমায়ায় নিষ্ঠাছায়ায় মাটির পাত্র নবীনত্বে পুরাতন আদর মাগে |
নেইকো কোনো বহুতল আবাসনের ঘুমন্ত আলসেমী রোদ্দুর,
আছে স্নিগ্ধ পবিত্রতার ভেজা মাটির ঘ্রাণে ক্লান্তি মুছনের রাত দুপুর |
মন ভোলায় সে আমায় পালার মাঝারে পালকি চলনে ঐ রাঙা মাটির পথ-----
ভাটিয়ালি সুরে ঐক্যতা ঘিরে বাউলের তানে মজবুত থাক বৈচিত্র্যের সাম্যরথ |
কাদামাখা গল্প, কাকতাড়ুয়া স্বল্প, তাঁতির বুনন, আজও ডাকে আমায় |
জেলেভাইয়ের কৌশল, মাঝির গান, স্মৃতিরন্ধ্রে শীতল অশ্রু নামায় ||


এখনও অন্ধকার

ভুবনেশ্বর মন্ডল

সকালে দুধ দেয় রোজ যে মেয়েটি
বললাম ,আজ শিবরাত্রি নির্জলা দুধ চাই
শিবের মাথায় ঢালবে তোর কাকিমা
বলল একটু গঙ্গা জল মিশিয়ে দিও কাকু
দুধে জল না দিলে গাইয়ের বাঁটে ঘা যে সারে না
দেখলাম একটা অন্ধকার কুয়াশায় ডুবে আছে দেশ
ঝাপসা চোখের দৃষ্টি বিজ্ঞান কখন নিরুদ্দেশ
দেখি কবজ তাবিজ মাদুলি জল পড়া তেল পড়া
হাঁচি টিকটিকি গ্রহরত্ন ফিক ফিক হাসছে সামনে
স্কুল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে বিদ্রুপের কালো মেঘ
হঠাৎ ভাসলো চোখে সেই তৈলাক্ত বাঁশের কথা
ওপরে ওঠা ক্রমশ কিন্তু আবার নেমে যাওয়া
এখনও আমরা সাপলুডো খেলি অনেকেই বারোমাস
অন্ধকারে হারিয়ে যান গ্যালিলিও কোপারনিকাস।

জল থই থই মেঘ

বিবেক পাল

বেলা ফাগুনে----
পলাশের বনে জঠরের আগুন
অনাদরে আকাশে ভাসে ,বেপরোয়া
বাউন্ডুলে মেঘ-----

চৈত্রের শেষে গ্রীষ্মের উঠোনে
ঝরবে বলে-------

জল থই থই মেঘ
খুঁজি আপন মনে ,
সঙ্গোপনে-----

সকলের হৃদয়-বন ভিজবে বলে !

সুখে ভরে এই মন

প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস

ছোট্ট গ্রাম খানি, যেন সবুজের লীলাভূমি সরু সরু মেঠোপথ।
সেই সাজ সকালে, গ্রাম‍্য রাখাল ছেলে গরু, মহিষ নিয়ে পাড়ি দেয় সেই ছোট্ট সরু পথ।।
শীতের সকালে, গাছের তাজা খেজুর রসে ভরায় সকলে তাদের মন- প্রাণ।
বাড়ি ঘর গুলো, যদিও পুরুনো তবুও এই যেন এক নদী যা সুখ, শান্তিতে বহমান।।

নেই কোলাহল, তেমন যানবাহন আর কল যেন শান্তির পক্ষি উড়ে সর্বক্ষণ।
দূষণ মুক্ত প্রায়ই এলাকা, নেই শহুরে কোন ভঙ্গিমা জুড়ায় দেহ-মন।।
নেই ভীষণ আওয়াজ, নেই শহুরের বিশ্রী সাজ সদা শান্তির বাতাস বয়।
নেই তেমন দাঙ্গা, হাঙ্গামা, রাজনৈতিক কোন অস্থিরতা হৃদয়ে সদা সাহস বেঁচে রয়।।

সবুজ ধানখেত আর সবজির বাগান, ঈশ্বরের এক অপূর্ব দান দেখে স্থির হয় দুই নয়ন।
নদী, নালা, খাল, বিলের অপার সৌন্দর্য, হৃদয়ে আনে পূর্ণ নতুনত্ব "সুখে ভরে এই মন"।।

ছোট বেলার গ্রাম 

তপন মাইতি

ঠাকুরাণী নদীর পাশে 
ছোট বেলার গ্রাম 
শরৎ এলে ভাসে কাশে 
বহু দূরে ট্রাম। 

আঁকা বাঁকা রাস্তার ধারে 
বেঁধে বেঁধে রয় 
কষ্টের কথা চাপতে পারে 
বন্যায় দুঃখ হয়। 

পড়ার সাথে খেলা কাজে 
পরেশ মাষ্টার ভয় 
প্রথম হাতে খড়ি সাজে 
বর্ণপরিচয়।

মায়ের মত শ্যামলা গাঁয়ে 
ফসল আসে ঘর 
কিছু বললে লাগে গায়ে 
'তুই আসলে পর...'

সবাই আমরা খেলা করি 
মিলেমিশে এক 
কাদা দিয়ে মূর্তি গড়ি 
আশ্চর্য সব দ্যাখ...

গ্রীষ্মকালের ভরদুপুরে 
খালের জলে চাষ 
নোনা নদীর নীল নূপুরে 
বর্ষায় ভাসায় হায়!

ছয়টি ঋতু বারো মাসে 
জমিনগুলোয় সব 
ফসল ফলে সংসার হাসে 
নবান্ন উৎসব। 

পুনর্জন্ম যদিবা হয় 
এই মাটিতে হয় 
ভালবেসে করব বিজয় 
ছোট গ্রামের জয়। 

হারালো যে দিন

সামসুজ জামান 

গ্রামেতে ছিল অনেক পুকুর ছিল কত গাছপালা,
 মানুষগুলোর প্রাণে হাসি ছিল যতই থাকুক জ্বালা।
গাছ ভরা আম জাম লিচু আর পেয়ারা কিংবা তাল ,
সব গাছেতেই স্বপ্ন ঝরতো ভরে যেত যত ডাল।
 তালপুকুর থাক কিংবা না থাক, দিঘী ভরা ছিল জল ।
শাপলা শালুক পদ্ম তাতেই করতো যে টলমল।
তাল-ডুবা-ডুব খেলা কিংবা সাঁতারে কাটত প্রহর ।
বটের ঝুড়িতে দোল খেতে খেতে ছেলেরা ভুলতো ঘর।
শরৎ হেমন্তের আকাশে ভরতো রং-বেরঙের ঘুড়ি, 
ছেলে মেয়ে যেন রাজার পুত্র, লালপরী, নীলপরী।
সবার মুখেতে হাসি ভরা ছিল, দেখিনিকো মুখ ভার।
 সবাই ছিল যে সবার আপন, ছিল না অহংকার।
 ঘরেতে অভাব জোটে না আহার, যদি মেলে ডাল ভাত।
 রাজকীয় সেই খাবার খেয়েই কাজ করে দিনরাত।

মাঠে ঘাটে আজ ইটের পাঁজর, গাছপালা নিঃশেষ।
 জলাশয় মজে ইমারত গ'ড়ে সভ্য হচ্ছে দেশ।
খরা-বন্যায় একের দুঃখ দেখেও দেখেনা অন্যে।
 সহানুভূতির লেশ নিয়ে কেউ ভাবে না কারোরই জন্যে।
আজকে হঠাৎ আধুনিকতার ছবি মুছে দিলো গ্রাম।
 কোথা ছিল এসে এমন নরক ভেঙে দিল স্বর্গধাম।
 আজ প্রাণে তাই শুধু হাহাকার, ভরে আছে কোটি দুঃখ।
 কারো মুখে দেখ স্বর্গীয় হাসি?? সবার মেজাজ রুক্ষ!!

গ্রাম্য পরিবেশ

মনোজ কুমার রায়

         বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিবর্তনের ফলে জনজীবনের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়। গ্রাম বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ লোকই শহরের দিকে যেতে ইচ্ছুক। একবিংশ শতাব্দীর দৌড়গোড়ায় কেহ আর গ্রামে থাকতে ইচ্ছুক নয়। সবাই উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে গ্রাম বাংলার পৈতৃক ভিটা বাড়ী শহরে যেতে চায় শুধু মাত্র নিজেদের স্বপ্ন গড়ে নিতে কেনা চায়। তাই বলি বাস্তবতা বড্ড রূঢ়।শহর ও গ্রামের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।তা ছাড়া গ্রামের কেটে খাওয়া মানুষ গুলো নিজেকে বাঁচাতে শহর অভিমুখী হতে পরিস্থিতি বাধ্য করছে। সবাই চায় নিজেদের ছেলে মেয়েদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে নিজের উপার্জিত সব টাকাই খরচ করে ফেলে। কিন্তু শহরের পরিবেশ টা ভিন্ন স্বাদের। অনুপযুক্ত পরিবেশের প্রভাবে বিকশিত জীবন কখন ও কখনও ঢলে পড়ে।

        পাঠকদের কাছে এখন গ্রাম্য পরিবেশের ছোট্ট গল্প তুলে ধরি। একটি অবহেলিত গ্রামের কথা তুলে ধরছি।এই গ্রামটিতে অধিকাংশ নিম্ন আয়ের প্রায় কুড়ি পঁচিশ টি বসবাস করে। খুব সম্ভবত গ্রামটির নাম ছিল নকুল দানা। গ্রামের লোকের অর্ধাংশ খেত খামার নিয়ে ব্যাস্ত থাকে।
সেই গ্রামের এক সম্মানিত লোক ছিল যার নাম অনির্বাণ বসু। নিজের স্থায়ী বাসস্থানে থেকে পাড়ার ছেলেমেয়েদের বিনা পয়সায় পড়ান।
অনির্বাণ বসুর পাঁচজন কন্যা সন্তান ও একজন পুত্রকে নিয়ে দুঃখ কষ্টের মাধ্যমে জীবন যুদ্ধে ব্রতী হয়েছেন। গ্রামের একমাত্র পাঠশালায় ঐ পরিবারের সদস্যরা শিক্ষা দীক্ষা নেয়। কিন্তু বসু পরিবার উনার সব সন্তানদের সবসময় সু শিক্ষা দেন।ওরা যাতে গ্রাম্য পরিবেশে থেকে জীবন কে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।যেমন ইচ্ছে ওদের তেমন কাজ। গ্রামের পাঠশালায় শিক্ষা দীক্ষা শেষ করে এই পরিবারের পুত্র কন্যা শহরের স্কুলে ভর্তি হয়। তারপর প্রথমে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে এই পরিবারের সুনাম অর্জন করে। গ্রামের অন্যান্য ছেলে মেয়েরা এই পরিবারের কীর্তি কলাপ দেখে আকর্ষিত হয়। এদের মনে ও উৎসাহ জেগে উঠে যে ঐ পরিবার এত দুঃখ কষ্টের মধ্যে থেকে কিভাবে এত বড় সাফল্যতা আসে।এই পরিবার পুরো গ্রামের অনুপ্রেরণা। এভাবে কয়েক বছর যাওয়ার পর অনির্বাণ বসুর পরিবারের জৈষ্ঠ্য কন্যা অনিতা বসু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। গ্রামের সবাই অনির্বাণ বসুর পরিবারের কাছে এসে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানায়। সপ্তাহ খানেক পর জানা গেল যে অনিতা বসু ওর নিজের জেলায় উপায়ুক্ত হয়ে আসছে। খবর শুনার পর পুরো গ্রাম আনন্দে ভেসে।

             অনিতা দত্ত যে কিছু দিনের মধ্যেই নকুল দানা গ্রামে আসছে সেই ব্যাপারটা গ্রামের লোকদের বলে দেন। গ্রামের সবাই মিলে ঠিক করে যে অনিতা যে পাঠশালায় পড়েছে সেখানে যেন সংবর্ধনা দেওয়া হয়।যেমন কথা তেমন কাজ। গ্রামবাসীরা মিলে মঞ্চ তৈরি করে ফেলে। নির্ধারিত সময়ে অনিতা বসু কনভয় গাড়ী নিয়ে আসে। গ্রামের লোক আনন্দ উচ্ছাসে একে একে এসে মাল্যদান করে আর জিলা উপায়ুক্ত দত্ত কে একপলক দেখতে চায়। সবার আশা পূর্ণ হল। সবাইকে অনেক প্রতিশ্রুতির কথা বলে গাড়ী নিয়ে সেদিনের মত অনিতা দত্ত পিতার আশীর্বাদ নিয়ে নিজ গন্তব্যে চলে যায়।



পরিচয় শিশু সাহিত্যের ই-সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন*

ডাউনলোড

পরিচয় শিশু সাহিত্যের জন্য লেখা/ছবি নিয়মাবলী দেখুন*

নিয়মাবলী

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

4মন্তব্যসমূহ
  1. উদয় নারায়ণ বাগ১৪ মার্চ, ২০২৪ এ ১১:৪১ AM

    অসাধারণ সব লেখাগুলো। সবসময় পাশে রইলাম।

    উত্তরমুছুন
  2. ✍️অভিনন্দন নতুন সংখ্যাটির বিকাশের পথে।আনন্দিত কলম সাথীদের সঙ্গে শৈশব যাত্রার রোমাঞ্চে।পরিচয় শিশু সাহিত্যের সর্বাঙ্গীন শুভ কামনা করি।
    ধন্যবাদ।
    🙏

    উত্তরমুছুন
  3. খুব সুন্দর। অসংখ্য অভিনন্দন।

    উত্তরমুছুন
  4. "পরিচয় শিশু সাহিত্য" ওয়েবসাইট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত "ছোটবেলার গ্রাম" বিষয়ের কবিতা ও গল্পগুলি পড়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। এই সাহিত্যিক প্রকাশনা ছেলেমেয়েদের জীবনের মধ্যে জড়িত কিছু স্মৃতি ও বিচারধারা নিয়ে আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। কবিতা ও গল্পের মাধ্যমে আমরা নতুন জগতের সফর করতে পারেছি, কল্পিত গ্রামের প্রাচীন পুরাণ নিয়ে প্রেমের গল্প পরিচালনা করতে। তাদের মাধ্যমে আমরা ছোটদের চোখে নতুন আলো দেখতে পাচ্ছি এবং তাদের মনে নতুন ধারা উঠতে সাহায্য করতে পারছি। এই ওয়েবসাইট ম্যাগাজিন যদি আরও এমন উত্তরণ সাহিত্যিক প্রকাশনা প্রদান করে, তাহলে আমরা একটি সমৃদ্ধ সাহিত্যিক পরিবেশের অংশ হিসেবে আরো উন্নতি করতে পারব। ধন্যবাদ ওয়েবসাইট ম্যাগাজিনের দলের জন্য এই সমৃদ্ধ অভিনন্দনের মধ্যে একটি।

    -- সৌরভ মুখার্জী (পাঠক)

    উত্তরমুছুন
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন