পরিচয় শিশু সাহিত্য | দশম সংখ্যা | প্রকাশ ৭ই অক্টোবর ২০২৩

পরিচয় শিশু সাহিত্য

দশম সংখ্যা

পরিচয় শিশু সাহিত্য | দশম সংখ্যা | প্রকাশ ৭ই অক্টোবর ২০২৩


প্রকাশ:
  • বাংলা: ১৮ই আশ্বিন ১৪৩০
  • ইংরেজী: ০৭ই অক্টোবর ২০২৩ 
  • বার: শনিবার।
  • সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
আজ আবহাওয়া: ৩২°C   (পশ্চিমবঙ্গ)
  • মেঘাছ্ন্ন
  • বৃষ্টিপাত: ২০%
  • আর্দ্রতা: ৭৮%
  • বাতাস: ৮ কিমি/ঘন্টা
আজ ঘটনা:
  • ১৮২৬ - প্রথম মধ্যাকর্ষণ শক্তি সম্পন্ন আমেরিকান রেলপথ চালু হয়।
  • ১৮৭১ - শিকাগোতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫০ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং ৯৫ হাজার লোক গৃহহীন হয়।
  • ১৯০৬ - রেজাশাহ কর্তৃক পারস্যের জাতীয় সংসদ উদ্বোধন হয়।
  • ১৯৩২ - রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ১৯৫০ - কলকাতায়মাদার তেরেসার মিশনারিজ অফ চ্যারিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • ১৯৫৪ - হোচিমিনের নেতৃত্বে কমিউনিস্টদের হ্যানয় দখল করা হয়।
  • ১৯৫৮ - প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা কর্তৃক পাকিস্থানে সামরিক শাসন জারি করা হয়।
  • ১৯৭৬ - বাংলাদেশ ৭৭ জারি গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।
  • ১৯৮১ - হোসনি মোবারক মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
  • ১৯৮৯ - হাঙ্গেরীতে কমিউন্সিপার্টির বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
  • ১৯৮৯ - পূর্ব জার্মানিতে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয় ।
  • ১৯৯৫ - ইন্দোনেশিয়া সুমাত্রায় ভূমিকম্পে শতাধিক নিহত হয়।

লিখেছেন: 

কবিতার নাম: এলো ফিরে শ্রাবণ।

কবির নাম: শান্তি দাস।

বৃষ্টি কি অপরূপ সৃষ্টি তোমার শারদ প্রাতে এলো ফিরে শ্রাবণ,
কালে ও অকালে বৃষ্টিধারা তোমাকে বর্ষাতেই মানায়,
বর্ষাতে তোমাকেই চায় এই বৃষ্টিতে নতুন ফসল চাষ ,
আমন ধানের চাষ সব্জির সমাহার কৃষকদের আনন্দ মনে।

শরতের নীল আকাশে মেঘের আনাগোনা,
সবুজ ধানের ক্ষেতে বর্ষার পর চারিদিকে রৌদ্র ছড়ায়।
এই যে সাগরের নিম্নচাপে অকাল বর্ষণ চলছে দিনরাত,
কৃষকদের ক্ষতি ছাড়া কিছু নাই শ্রাবণের ধারা বইছে।

শরতের বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট জলে পূর্ণ,জনজীবন অসচ্ছল
 নীরব নিস্তব্ধতা কারো কারো ঘর ছেড়ে শিবিরে বাস,
অকাল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত শরতের আগমনীতে,
প্রকৃতির অপরূপ রূপে এই অকাল বর্ষণ।
বৃষ্টি তোমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে ?
প্রয়োজন অপ্রয়োজনে ও তোমার ধারা।

শরতের আকাশ সাদা মেঘগুলোর লুকোচুরি খেলায় ব্যস্ত,
একটু থামে আবার নেমে আসে মনে হয় এলো ফিরে শ্রাবণ ।
হঠাৎ তাকিয়ে আবার দেখা যায় ডেকে গেছে কালো মেঘে,
রোদের নেই দেখা শিউলি ঝরা দিনে কাশগুলো আছে নুয়ে।

কবিতার নাম: ভুতের বিয়ে।

কবির নাম: হেমন্ত ভট্টাচার্য।
 
আবার ছয়টি বছর পর। 
হঠাৎ শুনি রাত বারোটার
শঙ্ক উলুর ধণি হল ঘুমের
মধ্যে ঘুমটা আমার কেমন যেন ভেঙেই গেল। 

পেত্নী মায়ের সুন্দরী 
মেয়ে শাকচুন্নির বিয়ে। 
আজকে তার গায়ে, হলুদ
কালকে তার বিয়ে। 

চৈত্র মাসের অমাবস্যায়। 
শুভ দিনটি হলো ঠাই, 
ব্রক্ষ্মদত্যি ও দিল তাতে রায়। 

ব্রক্ষ্মদত্যি পুরুত হয়ে। 
শেওরা তলায় বাঁশ, 
পাতার সাথে শাকচুন্নির
পাচ্ছে ভারি লাজ। 

অমাবস্যার রাতে বিয়ে
করতে ছেলে। গলাই
হারের মালা ও হাতে
হারের বালা। 

আকাশ জুরে হাত পা ছুরে
ছুরছে কেমন বাজি। 
বিয়ে হল শাকচুন্নির, 
সাক্ষী ভুতের কাজি। 

খাওয়া দাওয়া কেমন 
চলো এবার সেটা দেখি
খুব টাটকা কেবল মাএ পাঁচ 
দিনের বাসি। বরযাত্রী খেয়ে
হলো খুব খুশি।।।

Mother land

Pritam Ghosh (Class VIII)

Our motherland, 
You are the best of all.
Without you in this life,
I could not see anything.
The day I first saw you
That day I realized your worth.
The first flower seen on your chest,
A part of the beginning of my life.
You taught me to know, 
That forest of your chest.
Which makes me more proud.
You are my birth mate, 
I am the last breath in. your chest,
Want to leave. 
Oh my native land, 
You are the best of all.

কবিতার নাম: পরিশ্রমী হও

কবির নাম: দেবব্রত মাজী।

   কর্ম করো জীবন গড়ো
     নিজেকে মেলে ধরো,
এগিয়ে চলো এগিয়ে থাকো
       সেটাই কর বড়ো।

  চলতে গেলে হোঁচট খাবে
      ভয় পেয়োনা তাতে,
   কষ্ট করলে তবেই পাবে
      খেতে রোজ ভাতে।

পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এর বার্তা
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এর বার্তা
আয়োজনে :পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন দপ্তর, খেজুরী শাখা 
সহযোগিতায় :জোনাকি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট

উপলক্ষ্যে হস্তশিল্প এবং ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা:

    গত ৫ই অক্টোবর ২০২৩ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই জাতীয় বন্যপ্রাণ সপ্তাহ উদযাপনের চতুর্থ দিন |সেই উপলক্ষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বন দপ্তরের (খেজুরী শাখা) আয়োজনে, জোনাকি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এর সহযোগিতায় হস্তশিল্প এবং ছবি আঁকা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় ভারতের প্রথম পোস্ট অফিস সংলগ্ন খেজুরী ফরেস্ট অফিসে | জোনাকির ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন |তাঁরা পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক হস্ত শিল্প এবং রঙ তুলির মাধ্যমে সেই বার্তা তুলে ধরেন |আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাজকুল ফরেস্ট রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার মাননীয় পূষণ দত্ত মহাশয়, খেজুরীর বিট আধিকারিক মাননীয় শুভদীপ চ্যাটার্জী মহাশয়, বন সহায়ক মাননীয় অমর কুমার শিট মহাশয়,মাননীয় সঞ্জীব বিশ্বাস মহাশয় সহ বন সহায়ক কর্মীরা |জোনাকি থেকে উপস্থিত ছিলেন মধুমিতা মন্ডল, নাইমা খাতুন, মনিরা খাতুন, হালিমা খাতুন, শুভশ্রী বর, মঞ্জুশ্রী বর, রেশমা খাতুন, শুভঙ্কর মাইতি, অয়ন আচার্য, অতনু আচার্য, সুব্রত মন্ডল, সাহিল খাঁন, ইয়াসমিনা খাতুন, সুলতানা খাতুন, জোনাকির কর্ণধার সেক আসমত |

পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এর বার্তা
জোনাকি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট- ছাত্রীরা

ভারতের প্রথম পোস্ট অফিস,
কলকাতা থেকে মোটামুটি ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে, পূর্ব মেদিনীপুরের একটি ছোট্ট গ্রাম খেজুরি। সুন্দর, বাড়িঘর, সবুজে ঘেরা বাংলার চিরন্তন গ্রামীণ ছবি। এবার গ্রামে একটু হাঁটতে বেরোলেন আপনি। এদিক সেদিক দেখার পর, হঠাৎই একটি জিনিস নজরে এল। বন জঙ্গলের মাঝে কিছু ভাঙাচোরা বাড়ি। বাড়ি তো নয়, ধ্বংসাবশেষ। হয়ত একসময় কারোর ঘর ছিল, এখন অযত্নে এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। যেন জিগস পাজলের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরোটা; সাজিয়ে নিলেই হল। কিন্তু খেজুরির এই ঘন বনের ভেতর, এমন কী ছিল? এর উত্তর পেতে হলে খানিক ইতিহাসের পাতা ওলটাতে হবে। যত দেখবেন, ততই ভাববেন আমরা এখনও আমাদের প্রাচীন স্থাপত্য, ইতিহাস নিয়ে এতটা উদাসীন?

একটু খোলসা করতে করতে আমাদের যাত্রা শুরু করা যাক। একটু পেছনে ফিরলেই দেখবেন, খেজুরির এই ভাঙা বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ভারতের ডাক ব্যবস্থার বিস্তারের। ‘রানার ছুটেছে’— আর খেজুরি দিয়েই এই দৌড় শুরু হয়েছিল। এই ভগ্ন স্থাপত্যটি আর কিছুই নয়, ভারতের প্রথম ডাকঘরের। খেজুরিতেই ইংরেজদের হাত ধরে সূচনা হয়েছিল দেশের ডাকব্যবস্থার, এই বাড়ি থেকেই। তখন আর কে জানত, একবিংশ শতাব্দীতে এসে তিনতলা ডাকঘরটির এমন অবস্থা হবে! 

কবিতার নাম: আঁকা আঁকি।

কবির নাম: বিমান প্রামানিক।

আয় গো ছুটে তাড়াতাড়ি
চকটি হাতে ধরি,
মনের মধ্যে যা আসে তাই,
আঁকাআঁকি করি।

এই দেখো ভাই বাঘ এঁকেছি,
গায়ে ডোরা দাগ,
তুই এঁকে দে সিংহমামা,
কেশরে যার রাগ।

কে পারবি বল আঁকতে জিরাফ
গলাটা যার সরু,
আয় দেখি তুই চকটি হাতে,
এঁকে দেখা গরু।

পারবি নাকি বল দেখি তো?
জলের মধ্যে বক,
আয় এগিয়ে ময়ুর এঁকে দে
এই নে তুই চক।

পদ্ম, গোলাপ আঁকতে পারিস
বল দেখি তোরা?
বুদ্ধি করে আঁকতো দেখি
জলে হাঁস একজোড়া।

হ্যাঁ, তুই পারবি নাকি বল
সত্যি করে বল,
রঙ পেন্সিল হাতে নিয়ে তুই
করিস কেন ছল?

কবিতার নাম: শিক্ষাগুরু।

কবির নাম: নিতাই শর্মা।

শিশুরা মাতৃ জঠরে থাকে আঁধারে,
দশমাস পরে বেরিয়ে আসে বাহিরে।
মায়ের আদর স্নেহের পরশ পেয়ে,
শিশুরা ধীরে ধীরে উঠে বড়ো হয়ে।

পিতার শাসন আর মায়ের আদরে,
শৈশব পেরিয়ে পৌঁছে যায় কৈশোরে।
শিশুর প্রথম শিক্ষক হন মা জননী,
মায়ের অপরূপ শক্তি দিয়েছে ধরনী।

একশত শিক্ষক করতে পারেননা যাহা,
মাতা জননী একা করে দেখিয়েছেন তাহা।
শৈশবে শিশু থাকে অবুঝ আর অবলা,
মায়ের কাছেই শেখে হাঁটা চলা কথা বলা।

মায়ের পরেই হয় শিক্ষকের অবদান,
শিক্ষকের ভূমিকা সমাজে মূল্যবান।
শিক্ষালয় সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ,
সকল শিশুরা সেথায় করে বিদ্যার্জন।

গুরু ছাড়া কোন শিক্ষাই হয় না সমাপন,
গুরুর অধীনে শিক্ষার্থীরা করে অধ্যয়ন।
প্রাচীন মধ্য আর আধুনিক সর্বকালে,
শিক্ষককে সমাজের মেরুদন্ড বলে।

শিক্ষক শিক্ষার্থী সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়,
শিক্ষকের মর্যাদা চির অপরিবর্তিত রয়।
আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবসের শুভক্ষণে,
সকল গুরুগনেরে প্রণমী ষাষ্টাঙ্গে শ্রীচরণে।

কবিতার নাম: এইতো তুমি পৌঁছে গেছো।

কবির নাম: উদয় নারায়ণ বাগ।

পলাশ রাঙা পথের ধারে 
যেথায় ধুলোর বাস, 
সেথায় আমার আবাসভূমি 
ফেলে সুখের শ্বাস। 

তুমি যদি খোঁজতে থাকো 
কৃষ্ণচূড়ার ডাল, 
আসবে ছুটে দিঘির কোলে 
যেথায় চলে হাল। 

ক্লান্ত হলে একটু বসে 
খেয়ে নিয়ো জল, 
কাঁঠালতলের নরম হাওয়া 
জাগিয়ে যাবে বল। 

খেজুর বনে শুনবে তুমি 
অলির কত গান, 
মা-মাসিরা পুকুর ঘাটে 
করছে নিজের চান। 

এইতো তুমি পৌঁছে গেছো 
মা-মাটির এই দেশ, 
আপন মনে বলবে মুখে 
বাহ্ বেশ বেশ বেশ।।

এশিয়ান গেমস
চক দে ইন্ডিয়া! হকির সোনা ভারতে, এশিয়ান গেমসে হরমনপ্রীতদের হাত ধরে দেশে এল ২২তম সোনা।
এশিয়ান গেমস
গত বার এশিয়ান গেমস হকির ফাইনালে উঠতে পারেনি ভারত। ব্রোঞ্জ পদকেই থেমে যেতে হয়েছিল। এ বার ফের সোনা এল। শনিবার ফাইনালে জাপানকে ৫-১ গোলে হারাল ভারত।

আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৩
অবশেষে স্বপ্নপূরণ। গত বার এশিয়ান গেমস হকির ফাইনালে উঠতে পারেনি ভারত। পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল। শুক্রবার আবার হকিতে ঘরে সোনা এল। ভারত ফাইনালে জাপানকে হারাল ৫-১ গোলে। জোড়া গোল করলেন হরমনপ্রীত সিংহ। একটি করে গোল মনপ্রীত সিংহ, অমিত রোহিদাস এবং অভিষেকের। ভারতের পদকতালিকায় যোগ হল আরও একটি সোনা। এ বারের এশিয়াডে এই নিয়ে ২২টি সোনা জিতল ভারত।

গ্রুপ পর্বে জাপানকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ভারত। প্রথম কোয়ার্টারেই এগিয়ে গিয়েছিল ৩-০ গোলে। কিন্তু শনিবারের ম্যাচ তার থেকে অনেক আলাদা। এই জাপান অনেক বেশি সংগঠিত হয়ে নেমেছিল। ফলে ভারতের খেলোয়াড়েরা গোলের মুখ খুলতে পারছিল না। কিন্তু যত সময় গেল, তত জাপানের দুর্ভেদ্য রক্ষণ অনায়াসে ভেঙে ফেলল ভারত। একটি-দু’টি নয়, গুনে গুনে পাঁচটি গোল দিল তারা।

জাপানের আক্রমণ শুরু হচ্ছিল গোলকিপার থেকে। নিজেদের মধ্যে পাস খেলতে খেলতে দ্রুত গতিতে আক্রমণে উঠছিল তারা। সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন ভারতের খেলোয়াড়েরা। বেশ কয়েক বার তাঁরা জাপানের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। প্রথমার্ধের একদম শেষ দিকে একটি পেনাল্টি কর্নায় পায় ভারত। কিন্তু জাপানের গোলকিপার সেটি বাঁচিয়ে দেন।

কবিতার নাম: সোনা ব্যাঙের বিয়ে। ৩৬

কবির নাম: বিমল চন্দ্র পাল।

কুনোব্যাঙের সাথে আজ 
সোনা ব্যাঙের বিয়ে,
সোনা দাদা বর সেজেছে 
টোপর মাথায় দিয়ে।
‌ 
পুকুর পাড়ে বিয়ের আসর
বৈরী ভাব ভুলে,
সাপ সেজেছে বর- কর্তা
নাচে প্রাণ খুলে।

গোসাপ দাদু পুরোহিত 
কাদার উপর বসা,
ব্যাঙেদের নহবত 
শুনতে বড়ো খাসা।
'
অং বং চং মন্ত্র পড়া
চলছে সকাল থেকে,
পানকৌড়ি ভোজ-ঘরে 
আনছে ডেকে ডেকে।

মন্ডপ নেই, ছাউনী নেই, 
বৃষ্টি পড়ে ঝরে,
মহানন্দে ব্যাঙাচিরা, 
শুধুই ঘোরে ফেরে।

রুই কাতলা মৃগেল
আরো কত মাছ,
নিমন্ত্রিত তারা সবাই,
ঝুলছে রসাল গাছ।

মাছরাঙা সেথায় বসে 
শত্রুতা ভুলেছে,
বড়ো বড়ো নয়ন মেলে
ব্যাঙের বে দিতেছে।            

গুগলী গেঁড়ি সবাই 
ছেলে পুলে নিয়ে,
মহানন্দে সবাই মিলে
দিল তার বিয়ে। 

বিয়ের শেষে ভোজন পর্ব
সবার মনে হাসি,
সন্ধ্যা বেলা ঘরে ফেরে, 
সবাই বড়ো খুশি।

কবিতার নাম: কথাকলি।

কবির নাম: প্রদীপ গুহ।

সূর্য ডোবার আগে
পাহাড় কে ডেকে বলে, চলি ভাই -
 কাল আবার ফিরে আমি আসবো।
পাহাড় ও হেসে বলে এসো ভাই -- 
 আমি ও ঘুমিয়ে পড়ি, তুমি এলে, 
আবার আমি ঘুম ভেঙে সকালেতে উঠবো।
দুজনের কথা শুনে উঁকি মেরে
 চাঁদমামা মিটিমিটি হেসে কয়,
 বলো দেখি,কাকে নিয়ে 
আমি তবে সারারাত জাগবো?

গল্পের নাম: নদীর পাঁকের গন্ধ।

লেখক: প্রদীপ কুমার দে। 

অজ পাড়াগাঁয়ে নৌকা বেয়ে নামতেই পা ডুবে গেল কাদা মাটিতে, পাওয়ার জুতো পরা পা গেঁথে গেল এঁদো মাটিতে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হাঁকপাঁক করছি কি করে উঠে পাড়ে যাবো, এমন সময়ে খিলখিল করে হাসির শব্দে নিস্তব্ধতার নদী পাড় বিদীর্ণ করে দিল। মাঝি তাড়াতা‌ড়ি আমাকে উদ্বার করতে জলে নেমে আমায় তুলতে এগিয়ে এলো। হাসির রেশ বেড়েই গেল। লজ্জার মধ্যেই মাথা তুলে দেখি একটা পুচকে মেয়ে একটা আটপৌরে শাড়ি পরে লটর পটর খাচ্ছে আর হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।

এরই মধ্যে মাঝি চেঁচিয়ে উঠলো - কি হচ্ছে রে জুঁই , বাড়ি যা না।

বুঝলাম ওর নাম জুঁই। ও একেবারে হেসে একেবারে লুটোপুটি। আমার এত রাগ হলো যে দিই একেবারে ঠাঁটিয়ে...।

যাকগে মাসির বাড়ি খবর চলে গেছিল। ওরা এসে আমাকে বাড়ি নিয়ে গেল।

আমি মাসিকে সব বললাম। মাসি জুঁইদের বাড়িতে গিয়ে কিছু একটা বলে এল। আমার রাগ কমে গেল। সব ভুলে গেলাম।

পরের দিন পাশের বাগানে গিয়ে গাছপালা দেখছি। তেমন কোন গাছই চিনি না তাই ক্যাবলার মত চেয়ে রয়েছি। মাসির ছেলেটা একেবারে পাকা, অতি চালাকের মত আমাকে ভেঙালো,
 -- বড়দা, এইজন্যই তোমাদের শহরের লোকেরা গ্রামের লোকেদের গেঁয়ো বলে ?

কথাটা শেষ হলো না মাথার মধ্যে ঠকাস করে কিছু শক্ত একটা এস পড়লো। মাথা নামিয়ে দেখি একটা শক্ত পিয়ারা। হো হো করে হাসির শব্দে মাথা তুলেই দেখি ওই জুঁই পুচকেটা জিভ বার করে আর দুই হাতের আঙুল কানে লাগিয়ে ভেঙাচ্ছে।

লজ্জার কথা না বলে, মাসিকে চেপে গেলাম। মাসির ছেলে জুয়েল একটা অতি চালাক, মাসির সঙ্গে কি সব কথা বলছিল আর হাসছিল। 

বুঝলাম গ্রামের ছেলেরা অনেক চালাক হয়ে গেছে। মানে মানে কেটে এলাম। মাসি আসার সময় জুঁই কে ধরে আনলো। আমি তো ওকে দেখে অবাক। আবার মাসির ব্যবহার দেখে আমার খারাপ লাগলো। 
মাসি জুঁইকে বললে --
-- জুঁই মা - নে -নে - পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম কর -- তোর ভাসুর হয় যে- রে ...

আমিতো চমকে গেলাম - ওমা! এসব কি শুনছি?
আমি ভাসুর মানে? জুঁই আর জুয়েলের বিয়ে হবে?
জুয়েলের বয়স কত? আর রোজগারি বা কি?

মাসি হেসে আব্দার করলো, সামনের শ্রাবনেই বিয়ে -- তৈরি থাকিস -- তোকে আসতেই হবে কিন্তু!

পুচকে জুঁই পায়ে হাত দিয়ে দিল। আমি লজ্জাবতী লতার মত নেতিয়ে যাওয়ার মতোই অবস্থায় যখন , ঠিক তখনই অবাক করে, জুঁই ওর হাতটা মাথায় কোনক্রমে একবার ঠেকিয়েই, আঙুলগুলো নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শোঁখার জন্য চেষ্টা করলো এবং নাকটা সিঁটকিয়ে মাসির দিকে চেয়ে জানালো --
-- ইস! মাগো একেবারে নদীর পাঁকের গন্ধ!

কবিতার নাম: রেলগাড়ি।

কবির নাম: মিহির সেন।

কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি
লোহার পাটির 'পরে,
গাছপালা সব পিছনে ফেলে
ছোটে জোরে জোরে।

চোখের পলক পড়তে পড়তে
যায় উধাও হয়ে,
পেট ভর্তি যাত্রী নিয়ে
শুধুই যায় বয়ে।

কেউ যায় আত্মীয় বাড়ি
কেউ যায় কাজে,
হকাররা সব ব‍্যবসা করে
যাত্রীদের মাঝে।

প্রতি স্টেশনে দাড়ায় ট্রেন
হর্ণ বাজিয়ে ছাড়ে,
কেউ কেউ দৌড়ে ওঠে
কেউ ধরতে না পারে।

লৌহ দানব হুশ হুশিয়ে
ছুটছে দিবারাত্রী,
কেউ আসছে কেউ যাচ্ছে
হাজার হাজার যাত্রী।

লাগাতার বৃষ্টিতে কলকাতায় মণ্ডপের কাজ থমকে, পুজোকর্তারা ব্যস্ত মাঠের জল নামাতে।

লাগাতার বৃষ্টিতে কলকাতায় মণ্ডপের কাজ থমকে, পুজোকর্তারা ব্যস্ত মাঠের জল নামাতে
থমকে: বৃষ্টিতে বন্ধ কাজ। ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে মণ্ডপের একাংশ। শুক্রবার, ত্রিধারা সম্মিলনীতে। 

আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৩
কেউ মণ্ডপ তৈরি করাবেন কি, লোক লাগিয়ে পার্কের মাঠের কাদা-জল পরিষ্কার করাতেই ব্যস্ত। কেউ গোটা মণ্ডপ ঢেকে ফেললেও কাজ উতরোতে পারছেন না, কিছুই শুকোচ্ছে না বলে! অনেকে মণ্ডপসজ্জার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, আলোর কাজ এখনও শুরুই করতে পারেননি, জলের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়। বেশির ভাগ জায়গাতেই মণ্ডপের বাইরের অংশের কাজ শুরুই করা যায়নি। স্টুডিয়োয় বসে কাজ করে নিয়ে এসে মণ্ডপে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন যাঁরা, মাথায় হাত তাঁদেরও! সকলেই জানতে চান, বৃষ্টি ধরবে কবে!

টানা বৃষ্টিতে কলকাতার অধিকাংশ পুজোর উদ্যোক্তাদের এমনই অবস্থা বলে খবর। মঙ্গলবার রাত থেকে চলতে থাকা বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সব চেয়ে বেশি চিন্তায় পড়েছেন কলকাতার সেই সমস্ত পুজোর উদ্যোক্তারা, যেগুলিতে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের যাওয়ার কথা। কারণ, ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১১ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে শহরের ২৬টি পুজো দেখার কথা ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের। এর জন্য যে সমস্ত পুজোকে বাছা হয়েছে, তাদের ১০ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। যে সংস্থার সাহায্যে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদের পুজো ঘুরে দেখার কথা, তারা ১১ তারিখ থেকে সংশ্লিষ্ট ওই সমস্ত পুজো মণ্ডপে নিজেরা তদারকি করবে। কিন্তু যে হারে বৃষ্টি চলছে, তাতে অন্য পুজোগুলি তো বটেই, তালিকায় থাকা বহু মণ্ডপও কূলকিনারা পাচ্ছে না।

ওই তালিকায় থাকা এমনই একটি পুজো ত্রিধারা সম্মিলনী। সেখানকার পুজোকর্তা দেবাশিস কুমার বললেন, ‘‘কী যে হবে, ভেবে পাচ্ছি না। চিন্তায় ঘুম হচ্ছে না। একে আমাদের পুজো হয় রাস্তায়, তার মধ্যে বৃষ্টি কমার নাম নেই! বিশ্বের দরবারে এ বার বৃষ্টির জন্য না মাথা নিচু হয়ে যায়!’’ ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সাধারণ সম্পাদক তথা হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজোকর্তা শাশ্বত বসু বললেন, ‘‘কিছুতেই কিছু করে উঠতে পারছি না। সকালে যে কাজ হচ্ছে, সন্ধ্যা আর রাতের বৃষ্টিতে তা ধুয়ে যাচ্ছে। আলোর পরীক্ষাই করিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। করোনাসুরকে বধ করে ঘুরে দাঁড়ানো গেলেও বৃষ্টির সঙ্গে পেরে ওঠা যাচ্ছে না।’’
 

কবিতার নাম: কাজের মাসি।

কবির নাম: তপন মাইতি

তিনটি ঘরে কাজটি সেরে 
এই বাড়িতে আসে 
আপিস যাওয়ার তাড়াহুড়োয় 
ঝোলে মাছ যে ভাসে। 

কড়াই থেকে ভীষণ গরম 
টিফিন বক্সে ঢেলে 
ফ্যানের হাওয়ায় জুড়ায় খাবার 
খবর কাগজ ফেলে। 

আপিস টাইমের ট্রেনটি ফেললে 
বিষম জ্বালা আসে 
বসের ভয়ে দরজার সামনে 
ঘড়ি দেখে হাসে। 

কাজের মাসি থাকলে আস্থা 
কাজটা হয়ে যাবে 
সময় বিশেষ শরীর খারাপ 
সময় গেলে পাবে?

যতই বলুক কাজের মাসি
সময় সময় রান্না 
কাজটা করলে সংসার চলে 
কামাই করতে চান না। 

কবিতার নাম: কাঠবিড়ালি।

কবির নাম: শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

কাঠবিড়ালি! কাঠবিড়ালি! দেখি দেখি তোমায় রোজ
আজ সারাদিন কোথায় ছিলে পাই নি তোমার খোঁজ।
বাড়ির পাশে আম গাছেতে খেলে বেড়াও সেই
আজ ভেবেছি কোথায় গেলে দেখতে পাই নি যেই।

ছোট্ট হলেও আনন্দেতে কাটাও তোমরা দিন
আমি জানি, এইখানেতে থাকো তোমরা তিন।
হুড়োহুড়ি চ্যাচামেচি কর সারাক্ষণ
আমি দেখি চুপটি করে থাকি আপন মন।

চেহারাটা ছোট্ট হলেও ল্যাজটা বড় বেশ
শরৎকালের কাশের মতো আছে তাহার রেশ।
ফল খেতে খুব ভালোবাসো জানি আমি তাই 
খেলে বেড়াও সারাটা দিন নেই কোন খাই খাই।

ধরতে তোমায় পারবে না কেউ চেষ্টা করে সেই
কানটা তোমার খুব যে খাঁড়া দেখি আমি যেই।
শব্দ পেলেই পালিয়ে যাও ফেলে রেখে সব
ফিরে আসো কবে তুমি জানেন শুধু রব।

আপেল কমলা পেয়ারা আর কি কি দেবো ফল
ধরে তোমায় আদর করবো নেই তো তেমন কল।
বাদাম ছোলা মটর দানা পাবে খেতে রোজ
মাছ ভাতেতে হবে না গো তেমন মহা ভোজ।

আমার সাথে খেলতে চাইলে আসবে আমার ঘর
তুমি আমার প্রাণের সখা নয় গো তুমি পর।
তাইতো আমি খেলা দেখি জানলা দিয়ে তাই
হাত বাড়ালে বন্ধু হয়ে সকল সময় পাই।

শুভ জন্মদিন দিন 
চণ্ডীদাস মাল
সংগীতশিল্পী:চণ্ডীদাস মাল।
 বাংলা পুরাতনী, আগমনী গান, টপ্পা, শ্যামাসঙ্গীত ও ঠুমরির সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন।

Love and blessings 

Sanjoy Banerjee 

Love and blessings 
To all my dear friends. 

Little Children 
You are the lovely and cute. 
Love and Love 
Many Good wishes. 

Love and blessings to all --
my dear little friends. 
You are the flower 
You are the God.

Lovely little friends 
Love and blessings to all my dear little friends. 

গল্পের নাম: বৃদ্ধাশ্রম।

লেখক: তাপস কুমার বর।

      ভাঙা চেয়ারটা দরজার এক কোনে উলঙ্গ খামখেয়ালীর মতো নীরব হয়ে গেছে। যে চেয়ারটায় এক সময় বিমল বাবু কত গল্প, কবিতা ও উপন‍্যাস লিখতো বসে। আজ সেই মানুষটা বয়সের ভিড়ে নিজের আত্মীয়দের কাছে "একটা অবাঞ্চিত জড় বস্তু"! আজ কোথায় বিমল বাবু? কেউ খোঁজ করে না। একদিন যে মানুষটা নিজের সর্বস্ব দিয়ে নিজের পরিবারকে রক্ষা করে গেছে, আজ সেই মানুষটার ঠাঁই হয়নি তার নিজের পরিবারে!

অমল: কে বলছেন?
স্কুল শিক্ষক: আমি প্রিয়তোষ। আপনার বাবা যে স্কুলে চাকরি করতেন, সেই স্কুল থেকে বলছি। আমাগীকাল স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান, তাই বিমল বাবুর সঙ্গে কথা বলে উনাকে আমাদের স্কুলে আমন্ত্রণ করতে চাই।
অমল: বিরক্ত হয়ে ফোনটা কেটে দিল।
__ আজকের সেই বিমল বাবু কোথায়? পয়ত্রিশটা বছর প্রাথমিক শিক্ষকতার কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনবছর আগে বিমল বাবুর স্ত্রী মোহিনী দেবী মারা গেছেন। বিমল বাবু স্ত্রীকে খুব ভালোবাসতেন। আজ সেই মানুষটা নেই। এখন তার ছেলে-মেয়েরা বৃদ্ধ বাবাকে "বোঝা ভাবে",.......
    "জীবনের দৌড়ে লাগাম লেগে গেছে,
       পেনশনের টাকাতে কোন রকম দিন চলে"।
-- বিমল বাবুর একমাত্র ছেলে অমল বেকার একটা বাউন্ডুলে ছেলে। সারাদিন নেশা ভাঙে ডুবে থাকে। বৌমাটাও বিমল বাবুকে সহ‍্য করতে পারেনা। আজ এই সমাজের বুকে মাঝে মাঝে পেছনে শুনতে হয়,.......
    "বাবা শিক্ষক, ছেলে নেশা ভাঙ করে"!
- এই যন্ত্রণা অনেক কষ্টের, অনেকবার বিমল বাবু অমলকে বোঝাতে চেয়েছে,....

বিমল বাবু: বৌমা অমল কোথায়?
বৌমা: কি জানি, বাবা আপনি গিয়ে খোঁজ করে নিন না!
বিমল বাবু: বৌমা তুমি অমলকে একটু বুঝিয়ে বলবে। এইভাবে নেশা ভাঙ করলে একদিন ওকে চরম বিপদে পড়তে হবে। এদিকে সমাজের কু-কথা,গাল-মন্দ শুনতে হয় সমাজের লোকেদের থেকে।
বৌমা: বাবা আপনার যদি না ভালো লাগে এখান থেকে চলে যান না। "নিজের খাওয়া জোগারের মোরদ নেই, আবার সম্মান নিয়ে চলেন"!
- অমল বাবু সেদিন মনে মনে ডুকরে ডুকরে কেঁদেছে। সে দুঃখ কাউকে বলা যায় না!
সেদিন রাতে বিমল বাবুর সঙ্গে অমলের অনেক ঝামেলা হলো,.....

অমল: বাবা তুমি তোমার বৌমাকে কি বলেছো?
বিমল বাবু: বাবা, নেশা ভাঙ করা ছেড়ে দে। ব‍্যবসা কর, তোদের ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে খোকা।
অমল: নিজের খাবার জোগারের মোরদ নেই, বড়ো কথা বলছেন। এখানে থাকতে গেলে আমাদের কথা মেনে চলতে হবে।
বিমল বাবু: খোকা, তোদের জন‍্য এতোকিছু করলাম তাও তোরা আমাকে এইভাবে অপমান করছিস!
অমল: বেশ করেছি। তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও!
- সেদিন বিমল বাবু চোখের অশ্রু লুকিয়ে নীরবে বোবা পাখির মতো। বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল,......
  "মোহিনী দেখে যাও, তোমার ছেলে-মেয়েরা আমায় কত সুখী রেখেছে। তুমি থাকলে আমি দেখাতাম এ যুগের ছেলেদের বৃদ্ধ বাবাদের প্রতি তাদের ভবিষ্যৎ না কি বোঝা হয়ে যায়"?
- বিমল বাবু কাঁদতে কাঁদতে মেয়ে ললিতাদের বাড়িতে ওঠে। সেখানে বিমল বাবু সব কথা বলে,.......

বিমল বাবু: মা কেমন আছিস?
ললিতা: কোন রকমে চলে যাচ্ছে বাবা।
বিমল বাবু: কেন রে মা? জামাই কোম্পানির মেনেজার। এবারে তো প্রোমোশন হলো। কোম্পানি থেকে একটা কার ও গিফট করেছে শুনলাম।
ললিতা: চুপ!

- বিমল বাবু একদিন মেয়েদের বাড়িতে থেকে তিনি মনে মনে অনুভব করলেন। বৃদ্ধ বাবার জন‍্য তাদের মধ্যে একটু ঝামেলা শুরু হয়েছে। পরদিন সকালে বিমল বাবু তল্পিটা গুছিয়ে মেয়ে ও জামাইকে ডেকে বললো,.... 
    " এ বার আসি মা। তোরা ভালো থাকিস"!
- আজ সেই বিমল বাবুর একটা অনাথাশ্রমে ঠাঁই জুটেছে,.....
   "অনেক অনাথ শিশু। সকলকে নিয়ে বিমল বাবুর জীবনটা এখন খুব আনন্দে কাটে"!
জীবনের দৌড়ে হেরে গেছে। কত অনাথ শিশু, তাদের শিক্ষাদেন বিমল বাবু। রাতের আড্ডায় সকলকে শোনায় "মা ও বাবাকে কি করে শ্রদ্ধা করতে হয়"। বতর্মান সমাজ ব‍্যবস্থা যে দিকে গড়াচ্ছে একদিন এই পৃথিবীর বুক থেকে "মায়া-মমতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে, সেদিন থাকবে শুধু হিংসা"! 
       এতোগুলো বছর কাটিয়ে দিল বিমল বাবু। একবার ও ছেলে-মেয়েরা খবর নেয়নি। বাবা বেঁচে আছে,না মরে গেছে। একদিন বাজার থেকে বিমলবাবু ফিরছিল। কিছুটা দূরে একটা ছোট্ট ফুটফুটে শিশু "দাদু দাদু বলে চিৎকার করে ছুটে আসছে" পেছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পেলো ছেলে অমল ও বৌমাকে। আজ সেই ছোট্ট নাতিটাই বার বার বাবাকে জিজ্ঞাসা করছে,......
  ""বাবা দাদু আমাদের সঙ্গে থাকে না কেন?"
- সেদিন ছেলে আমল ও বৌমা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিমল বাবুর কাছে তারা ক্ষমা চায়,.....
  "ক্ষমা করে দিও বাবা, তোমার প্রতি যে অন‍্যায় করেছি আজ নিজেকে ছেলে হিসাবে পরিচয় দিতে লজ্জা
 লাগছে"! 
- বিমল বাবুর দুটো চোখে অশ্রু বয়ে এলো। বিমল বাবুকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলো তার ছেলে বৌমা কিন্তু বিমল বাবু বললো,.....
  "তোরা ভুল বুঝতে পেরেছিস এটাই অনেক রে খোকা। আমি তোদের সঙ্গে যেতে পারবো না। এই অনাথাশ্রমে অনেক ছোট্ট ছোট্ট শিশুকে শিক্ষা দিতে হবে খোকা। না হলে ওদের ভবিষ্যৎ অন্ধকূপের মতো হয়ে যাবে"! ছোট্ট নাতিটা দাদুকে বললো,....
  "দাদু তুমি কাঁদছো, হাত দিয়ে চোখের আশ্রুটা মুছিয়ে দিল"! বিমল বাবু হেসে উঠলো,... "আমার ছোট্ট নাতিটা, আমাদের সেই ছোট্ট অমল দেখে যাও মোহিনী"!

কবিতার নাম: জীবনের এই বেলা।

কবির নাম: বিবেক পাল।

চুলগুলো সব সাদা হয়ে গেছে
সময়ের কশাঘাত চামড়ার খাঁজে ভাজে ,
দৃষ্টিতে চালশে ; হৃদয়ে তরুণ যুবা ‌
তবুও ক্লান্তি আসে নিঃশব্দে !

ফিরে গেছে মৃত্যু দোড়গোড়া
থেকে বহুবার----- 
ঋতু শরতে অপু হয়ে বার বার
স্মৃতিভারে আনন্দ অপার !

"হাওয়া বয় শনশন
তারারা কাঁপে । "
বেলা-গোধূলিতে সূর্য রঙের-
আলপনা আঁকে পশ্চিম আকাশে !

শুভ জন্মদিন দিন
হেলাল হাফিজ
বাংলাদেশের আধুনিক কবি: হেলাল হাফিজ।
জন্ম: ৭ অক্টোবর, ১৯৪৮

কবিতার নাম--" শখ "

কবির নাম-- দীপক রঞ্জন কর

অজ গাঁয়ের ভবতোষ 
নিজের খেয়ে
নিজের পড়ে,
তাড়ায় বনের মোষ।

পাড়া গাঁয়ের পরিতোষ
কুকুর ছেড়ে
শিয়াল ধরে,
বেশ মানিয়েছে পোষ।

পল্লী গাঁয়ের রাণা বোস
রোদে ঘুরে
ফড়িং ধরে,
থাকে বেজায় খোশ।

নন্দীগ্রামের নন্দ ঘোষ
সকল কাজে 
সকাল সাঁঝে,
তবুও তাঁরই দোষ।

কবিতার নাম: শিরোনাম খুকু।

কবির নাম: পূর্ণা গাঙ্গুলী।

ছোট্ট খুকু মান করেছে,
ভাত খাবে না তাই।
যতই বোঝাও,দাও উপদেশ,
শুনবে না সে কোনো কথাটাই।

পুজোয় চাই তার পাঁচটা জামা,
জুতো একজোড়া নতুন হওয়া চাই,
তবেই সে আবার হাসবে গাইবে,
শুনবে সবার কথাটাই।।

গল্পের নাম: দীঘি-প্রাসাদের মহারাজা।

লেখক: অঞ্জলি দে নন্দী, মম।

চাঁদের ভূমি। সেখানে অতি প্রাচীনকালে এক মহারাজা বাস করতেন। ভূমির ওপরে এক বিরাট পাথরের উচ্চ প্রাচীর দেওয়া একটি বিশাল দীঘি ছিল। সেই দীঘির জলে অনেক রজত বর্ণের পদ্ম ফুল ফুটত। চাঁদের আলোয় ওগুলির পাপড়ি থেকে অপূর্ব সুন্দর সুর নির্গত হয়ে সারা চন্দ্র ভূমিকে ভরে তুলত। দিনের বেলায় ওই পাপড়িগুলো থেকে মন ভরানো সুবাস নির্গত হয়ে সারা চাঁদের আবহাওয়া ভরে দিত। দিনে সুর শোনা যেত না। আর রাত্রে সুবাস পাওয়া যেত না। আর এই দীঘির জল থেকে সদা সর্বদাই নানান রঙের তরঙ্গ উঠতে থাকত। রং-বেরঙের মৎস্য ওই ঢেউয়ের তালে তালে তালে নৃত্য করত। রাজ হংস ও হংসীনির দল ওই কল্লোলের ওপরে নানা ছন্দে ছন্দে ছন্দে ডেকে ডেকে ডেকে সন্তরণ করত। ঝিনুকের দল মুক্ত সৃষ্টির জন্য প্রতিনিয়ত এই সলিলের তলদেশে সাধনায় মগ্ন থাকত। 

আসলে এই প্রাচীর ঘেরা দীঘিটি ওই মহারাজার প্রাসাদের ছাদ ছিল। এই দীঘির তথা ছাদের নিচের পাথরের তৈরি রাজ প্রাসাদে ওই মহারাজা তাঁর তপস্যায় মগ্ন থাকতেন। সাধনা বলে তাঁর বয়সকে তিনি একই জায়গায় স্থির করে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। উনি চির যুবক ছিলেন। চাঁদের ও ওনার বয়স একই। ওনার নাম ছিল রজতশশী। উনি প্রতি পূর্ণিমার নিশীথে নিজের ধ্যান ভঙ্গ করে প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে চাঁদের ভূমিতে আসতেন। অন্য দিন ও রাতে তিনি ওই চাঁদের মৃত্তিকার তলে, ওই প্রাসাদে উপাসনায় নিমগ্ন থাকতেন। ওই এক রজনীতে উনি মাটির ওপরে এসে চাঁদের আলো নিজের দেহ দিয়ে শোষণ করে নিতেন। আর ত দিয়ে ওঁর অন্য সকল দিনরাত চলে যেত। তাঁর আর অন্য কোনও কিছুই দরকার হত না বেঁচে থাকার জন্য। রাত্রে ১২ ঘন্টা তিনি ওই চন্দ্রালোক নিজ অঙ্গে গ্রহণ করে নিয়ে সঞ্চয় করে রাখতেন। অন্য সময় তা ই ব্যয় করে দেহ রক্ষা হত। 

এই প্রাসাদের তোরঙ্গ দ্বার থেকে একটি সুড়ঙ্গ পথ মাটির নিচে দিয়ে গিয়ে বহু দূরে এক অরণ্যে গিয়ে মাটির ওপরে যুক্ত ছিল। এটি ওই দীঘি থেকে অনেক দূরে ছিল। ওই জঙ্গলে মহারাজার পোষা ব্যাঘ্র বাস করত। তারা ওনাকে মান্য করত। বাধ্য ছিল। কিন্তু অন্য কেউ ওই বনে এলে তাদের ভক্ষণ করে ফেলত। তাই ওই অরণ্যে কেউ কখনই আসতো না। এই পথেই উনি জ্যোৎস্না যামিনীতে যাতায়াত করতেন। তবে দীঘির জলকে দর্শন করতে বহু মানুষ আসতো। প্রাচীরের ওপর থেকে দেখার ব্যবস্থা ছিল। ওই প্রাচীরের ওপরের এক দিক থেকে অন্য দিক পর্যন্ত রোপ ওয়ের মত করা ছিল। তাতে করে সবাই ওই দীঘি দর্শন করত। এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটত। যখন ওরা ওই রোপ ওয়েতে চড়ে দীঘির ওপর দিয়ে এক দিক থেকে অপর দিকে যেত এবং আবার সেই পথেই ফের ফিরে আসত, তখন দীঘির জল থেকে ওই পদ্ম পাপড়িগুলো থেকে সুবাস এসে ওদের নাসিকায় প্রবেশ করত ও ওরা সবাই তখন ওই সুবাসে শ্বাস নিতে নিতে নিতে নিজেদের বয়স এক বছর করে কম করে ফেলতে পারত। সে আবার আগের বছরে যেমন ছিল ঠিক তেমনই হয়ে যেত। আর এই দীঘি দর্শন প্রতি বৎসর একবার করে একজন মানুষ করতে পারত। এই নিয়ম ছিল।

এক পূর্ণিমা রাত্রে মহারাজার সঙ্গে চন্দ্র ভূমির ওপরে সাক্ষাৎ হল একজন নারীর সঙ্গে। সে এসে ওনার শ্রী চরণে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন। আর বললেন, " মহারাজা আমি পৃথিবী থেকে এসেছি। আপনি আমার সঙ্গে ধরিত্রীতে চলুন! আপনার কাছে এই আমার প্রার্থনা। ওখানে গিয়ে আপনি আমাদের বয়স থামিয়ে রাখার শিক্ষা দেবেন। দয়া করে আপনি ধরণীর মানুষের জন্য এই উপকারটি করুন! আমাকে স্বয়ং শ্রী চন্দ্র দেব স্বপ্নে আপনার কথা জানান ও উনিই আমাকে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেন। " 

তখন মহারাজা, ওই রমণী সাথে জগৎ ভূমির ওপরে এলেন, শ্রী চন্দ্র দেবই যাতায়াত ব্যবস্থা করিয়ে দিলেন। আলোর কিরণ দিয়ে এক পথ বানিয়ে দিলেন। এই রশ্মির পথে চাঁদ ও ধরার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হল। এই পথেই তো ওই রমণী চাঁদের সহায়তায়, চাঁদের মাটিতে এসেছিলেন। আর এখন দুজনে মিলে ওই পথেই গেল। এই পথটি শ্রী চন্দ্র দেব ব্যবহার করা হয়ে গেলেই আবার নষ্ট করে দেন। যখন ওই রমণী এসেছিলেন তখন সে আসার পরই শ্রী চন্দ্র দেব ওই পথ নষ্ট করে দিয়েছিল। এখন আবার ওদের দুজনের জন্য নতুন করে শ্রী চন্দ্র দেব ওই পথ বানিয়ে দিলেন। পৌঁছনোর পরই আবার সে পথ নষ্ট করে দেওয়া হল। এবার ওই রজতশশী মহারাজা বিশ্বের মানুষদের মধ্যে এসে অতি দীর্ঘ আয়ু পাওয়ার প্রশিক্ষণ দিলেন। পৃথিবীবাসী মনুষ্য তারপর থেকে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকল.....

প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ হতে হতে হতে অনেক বছর কেটে গেল। মহারাজা এবার নিজের প্রাসাদে ফিরে আসতে চাইলেন। তিনি শ্রী চন্দ্র দেবকে তাঁর ইচ্ছার কথা জানালেন। এরপর পূর্ণিমার রাতে আবার সেই পথ তৈরি হল। রজতশশী তাঁর প্রাসাদে ফিরে এলেন। আবার সেই পূর্বের জীবন যাপন শুরু করলেন.........

কবিতার নাম: চাঁদের বুড়ি।

কবির নাম: বিবেকানন্দ মাইতি।

এক যে আছে চাঁদের বুড়ি
বয়স তার হাজার কুড়ি
চরকা কাটে চাঁদের দেশে
কুঁড়ে ঘরে একলা বসে ।
কেউবা বলে মাসি- পিসি
যেন গেছে গয়া- কাশি 
কেউবা বলে দিদু -দাদি 
একটু তুমি আসতে যদি ।
থাকো তুমি কোন্ সুদূরে
খবর পাই বা কেমন করে ?
 পাকা চুল পরনে শাড়ি
কিভাবে থাকো একা বাড়ি ?
ভয় করে না তোমার কি ?
বিদেশে থাকতে একাকী ?
নাতি-নাতনী ,ঘর -সংসার
ভরা লোকজন ঘর- দুয়ার ।
বাড়িতে এখন চাঁদের হাট
ফাঁকা শুধু পুকুর - ঘাট  
মাছ ধরতে দুপুরবেলা
ছিপ হাতে রুই -কাতলা ।
ভাল্লাগেনা তোমাকে ছাড়া
শুনবো তোমার মুখে ছড়া
তেপান্তরের মাঠের কথা
রূপকথার যত গল্প গাথা।
তা না করে তুমি কোথায়?
ব্যস্ত শুধু চরকা কাটায় ।

কবিতার নাম: ব্যবধান।

কবিতার নাম: অধীর কুমার রায়।


রুমা দিদি বুদ্ধিমতী
সবাই চেনে দেশে।
ছেলে পড়ান হেসে হেসে
মেয়ে পড়ান কেশে।

মেয়ে যাবে শ্বশুর বাড়ি
সঙ্গে নিয়ে টাকা।
আরো নেবে গয়নাগাটি
সিন্ধুক করে ফাঁকা।

ছেলে হলো সোনার আংটি
বাঁকা হলেও খাঁটি।
মেয়ের পিছে অর্থ ঢালা
পুরো পুরি মাটি।

ছেলে আনবে সোনার পাখি
সঙ্গে পাকা বাসা।
বছর বছর জামাইষষ্ঠী
সোনা দানা আশা।

রুমা দিদি বুদ্ধিমতী
বাজায় রনডংকা।
বৌমা এসে শিক্ষা দেবে
পাকা ধানী লঙ্কা।

শুভ জন্মদিন দিন: হাসান ফকরী,(জন্ম: ৭ অক্টোবর, ১৯৫২) 
বাংলাদেশী কবি, গীতিকার, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।


🔹️ ই- সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন - Click Now
🔸️ লেখা ও শিল্পকলা পাঠান - Click Now
🔹️ হোয়াটসঅ্যাপ পরিবারের যুক্ত হন - Click Now
🔸️ ফেসবুক পরিবারের যুক্ত হন- Click Now

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)