☆ পরিচয় শিশু সাহিত্য ☆
১৬তম সংখ্যা
প্রকাশ:
- বাংলা: ২৫শে আশ্বিন ১৪৩০
- ইংরেজী: ১৩ই অক্টোবর ২০২৩
- বার: শুক্রবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
আজ আবহাওয়া: ৩৪°C (পশ্চিমবঙ্গ)
- বেশিরভাগ হাসিখুশি
- বৃষ্টিপাত: ০%
- আর্দ্রতা: ৬০%
- বাতাস: ১০কিমি/ঘন্টা
আজ ঘটনা:
- খ্রিষ্টপূর্ব ৫৩৯ - ইরানে হাখামানেশিয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সাইরাস ইরাকের ঐতিহাসিক বাবেল শহর দখল করে।
- ৬৩৫ - খালিদ বিন ওয়ালিদ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক জয় করেন।
- ১৫৫৬ - মোগল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালের সূচনা হয়।
- ১৭৭০ - তামার পয়সার বদলে ‘আনি’র প্রচলন শুরু হয়।
- ১৭৯২ - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
- ১৮১২ - কুইন্সটন হাইডমের যুদ্ধ শুরু হয়।
- ১৮১৫ - সিসিলির রাজা জোযামিন মোরাটের মুত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
- ১৮৮৪ - ওয়াশিংটন সম্মেলনে গ্রিনউইচ সার্বজনীন মেরুমধ্যরেখা হিসেবে গৃহীত হয়।
- ১৯২৩ - আঙ্কারাকে তুরস্কের নতুন রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৩৭ - চীনের জাতীয় বিপ্লবী বাহিনীর নতুন চতুর্থ আর্মী প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৩ - ইতালি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৯৪৪ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে যুগোশ্লাভিয়ার বিখ্যাত নেতা মার্শাল টিটো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনা বাহিনীর সহায়তায় জার্মানীর দখলে থাকা যুগোশ্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড মুক্ত করতে সক্ষম হন।
- ১৯৪৬ - মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও লর্ড ওয়াডেল এর ফলপ্রসূ আলোচনার পর নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটি কর্তৃক অন্তবর্তীকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থমন্ত্রীর পদে যোগদানের প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
- ১৯৬২ - যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে পানামা খাল অঞ্চল নতুন পানামা খালের সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার জন্যে একটি উদযাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
- ১৯৬৬ - শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় দফা আন্দোলন চলাকালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান অস্ত্র প্রয়োগের ভয় দেখালে তিনি এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
- ১৯৮৯ - আধুনিক বিশ্বের বৃহত্তম ব্রোঞ্জ বৌদ্ধ মূর্তি – ২৬.৪ মিটার উঁচু থিয়েনথান বৌদ্ধমূর্তির নির্মাণকাজ হংকংয়ের তায়ুএ পাহাড়ে সমাপ্ত হয় ।
- ১৯৯০ - ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও তাত্ত্বিক লে দাক থো মৃত্যুবরণ করেন।
- ১৯৯১ - বাংলার প্রাচীন প্রেক্ষাগৃহ স্টার থিয়েটার আকস্মিক অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয়।
- ১৯৯৪ - মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সারাদেশে কমপক্ষে কয়েক হাজার লোক যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যক্তিগত আইসক্রিম কোম্পানির উৎপাদিত আইসক্রিম খাওয়ার ফলে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে , কিন্তু কেউ মারা যায় নি ।
- ১৯৯৭ - পাঁচ দিনের সফরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জেমস টি উলফেনসন ঢাকা আগমন করেন।
- ১৯৯৯ - ভারতে হিন্দুত্ববাদী দলের নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।
- ২০০১ - ভারতীয় সংসদ ভবনে আতঙ্কবাদী হামলা - সব আতঙ্কবাদী সমেত মোট ১৫ জনের মৃত্যু
- ২০০২ - বাঙালি মহীয়সী নারী এবং সংগ্রামী কৃষক নেত্রী ইলা মিত্র মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০০৪ - ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি কার্ডিয়াক সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়।
- ২০০৬ - শান্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের নোবেল পুরস্কার লাভ।
- ২০২০ - বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ" জারি করা হয়।[১]
- ২০২১ - বাংলাদেশে দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন কুমিল্লা শহরের নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপ থেকে কোরআন পাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্মান্ধ গোষ্ঠি কর্তৃক পূজা মণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার ঘটনার সূত্রপাত হয়।
●
লিখেছেন:
কবিতার নাম: শতরূপা কান্না।
কবির নাম: বিমল চন্দ্র পাল।
নীরবে তে কাঁদে কেউ
কারো ছিচ কাঁদুনী,
বুক চেপে কাঁদে কেউ
কারো কাঁদায় বাঁধুনী।
স্বামী হারা কান্নাটা,
লোকে জেনে যায়,
বউ হারা কান্নাতে
রব নেই তায়।
বানভাসি প্রিয়জন
সেকি ভাই কাঁদুনী,
নিজেকে বাঁচাতে তবে
এত কেন বিনুনী?
শিশু হারা কান্নাটা
নয় লোক দেখানো,
মনে মনে কান্নাটা
যায় নাতো বোঝানো।
ভেউ ভেউ কাঁদে কেউ
কেউ কাঁদে হিচকি,
কারো কান্নার রূপ
যেন রাঁধা ছেচকি।
বায়নার কান্নাটা
বল দেখি কিবা রূপ,
মিটে গেলে আবদার
হাসি মুখে খুশী খুব।
শিশুর কান্না দ্যাখো
সে এক রূপসী,
মায়ের আদর পেলে
মুখে তার হাসি।
স্বামী মারে বউকে
সেতো ভারী কষ্ট,
কান্নার ভিনরূপ
সংসার নষ্ট।
নারীদের কান্নাটা
সেতো উদাত্ত,
পুরুষের কান্নাতে
মোচড়ায় চিত্ত।
কারো কাঁদুনীতে দেখো
ভাসে কপোল তার,
অসতের কান্নায়
অশ্রু হয়না বার।
কান্নার রূপ ভাই
বলে শেষ হয়না,
শতরূপী কান্না
গোনা তাই যায় না।
সংবাদ:
প্রেসিডেন্ট বদলায়, তবু ইজ়রায়েল বিপদে পড়লেই কেন বার বার ঢাল হয়ে দাঁড়ায়
আমেরিকা?
ইজ়রায়েলের প্রতি আমেরিকার নিরঙ্কুশ সমর্থন নতুন কোনও ঘটনা নয়। ইজ়রায়েল
রাষ্ট্রের গোড়ার দিন থেকেই আমেরিকা ‘ত্রাতা’ হিসাবে ধরা দিয়েছে ইজ়রায়েলবাসীর
কাছে।
ছড়া: শোকের খবর।
কবির নাম: শ্রীদ্বৈপায়ন।
জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখি
গাছগুলো সব থম
মাথার উপর ছাতার মতো
দাড়িয়ে যেন যম।
চাঁদের হাটে তারারা সব
এদিক ওদিক চায়
কালের তরী কোন দিকে যায়
দাঁড়িয়ে যেনো ঠায় ।
মেঘ করেছে অগ্নি কোণে
আসবে এবার ঝড়,
কৃষ্ণ মেঘে মাতাল আকাশ
বাজ পড়ে কড় মড় ।
আকাশ আঁকা তারায় তারায়
হঠাৎ হলো কেমন
রাত দুপুরে চাঁদ যে লুকায়
কাঠ বেড়ালি যেমন।
আষাঢ় শেষে নীল আকাশে
হঠাৎ শোকের রেশ
কালি ঢালা খালের জলে
এমন কেমন বেশ ।
পড়লো মনে রবি খুদি
এই তো সেদিন গেলো
কালকে যে গো স্বরাজ দিবস
ঝড়ে খবর এলো।
কবিতার নাম: আমরা শিশু।
কবির নাম: আফরিনা সুলতানা ঈশিতা।
আমরা শিশু, আমরা নবীন
আমরা নতুন বীজ,
আমরা সবুজ,আমরা সতেজ
আমরাই সজীব।
নতুন প্রাণে জেগে ওঠা
মাথা তুলে চাই,
এগিয়ে যাবো নতুন আশায়
আগামীর কর্ণধার ভাই।
যত্ন কর আপন হয়ে
করোনাকো তুচ্ছ,
ডানা মেলে উড়ে যাব
যেন ময়ূরের রঙিন পুচ্ছ।
সংবাদ: কলকাতা,
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৩
মহালয়ায় চারটি চক্ররেল বাতিল, ঘুরপথে যাবে বেশ কিছু, বিস্তারিত জানাল রেল
মহালয়া উপলক্ষে চক্ররেলের সূচিতে পরিবর্তন করেছে রেল। গঙ্গার ধার দিয়ে ওই দিন
কোনও ট্রেন চলবে না। তর্পনের ভিড় এড়াতে কিছু ট্রেন বাতিল করেছে রেল।
মহালয়া উপলক্ষে চক্ররেলের সূচিতে পরিবর্তন। ওই দিন গঙ্গার ধার দিয়ে ট্রেন চলাচল
করবে না। গঙ্গার ঘাটে তর্পনের ভিড় থাকবে। সেই কারণে বেশ কিছু ট্রেনের গতিপথ
সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, মহালয়া উপলক্ষে আগামী ১৪ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে সন্ধ্যা
৬টা পর্যন্ত চক্ররেলের সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। ছয় জোড়া ট্রেন কলকাতা স্টেশন
থেকে ছাড়বে এবং ওই স্টেশনেই থামবে। তিন জোড়া ট্রেন শিয়ালদহ উত্তর লাইন দিয়ে
ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেনগুলির গতিপথ সংক্ষিপ্ত করে
দেওয়া হবে।
কবিতার নাম: শরৎ যখন আসে।
কবির নাম: তপন মাইতি।
হীমেল ভোরে ঊর্মি কাশে
অরুণ আলোয় হাসে
দুঠেলা মেঘ আকাশ ভাসে
শরৎ যখন আসে।
শীষটি দোলে প্রথম ধানে
শিশির রেখা ঘাসে
সবুজ চোখে ভাসে বানে
শরৎ যখন আসে।
রাত্রি যাপন খেলার তাসে
বৃত্তি কেন দাসে
শরৎ থাকবে সবার পাশে
শরৎ যখন আসে।
তুখড় শ্রমে পোশাক ফাঁসে
থিম প্যাণ্ডেলের বাঁশে
তাল নারকেলের মিষ্টি শাঁসে
শরৎ যখন আসে।
ভাদ্র-আশ্বিন এইদুই মাসে
উৎসব মুখর বাসে
পদ্ম শালুক হৃদয় ভাসে
শরৎ যখন আসে।
কবিতার নাম: ইচ্ছেডানা।
কবির নাম: দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়।
নিদাঘ গরমের দুপুরে
ক্লান্ত পাখি ডানা মুড়ে
একটু জলের আশায় ---
ইচ্ছে ডানায় ভর করি
ঝাঁ ঝাঁ রোদ পেরিয়ে
ছুটে চলি তেপান্তরে---
ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমীকে জানাতে
রাজকন্যার বড় বিপদ !
রাজপুত্তুরকে খবর দিও---
ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমি স্বচ্ছ
সরোবরে ডুব দিতে বলে।
নিজেরাও ডুব দেয়।
তারপর ডানা ঝাপটায় !
আমার ক্লান্তি কেটে যায়।
কিন্তু ডানা ঝাপটাতে পারি না
ডানা বড় ভার
চোখে ঘুম নামে।
সংবাদ
(রানাঘাট)
পায়ে ছেঁড়া চটি। পরনে পুরনো হাফ হাতা জামা আর হাফপ্যান্ট। লোহার সরু বেরি ভারী
ওজনের কারণে চেপে বসায় নরম হাতের একদিক কিছুটা ফুলে গিয়েছে। কারণ, লোহার শিকের
রিংয়ে ঝুলছে ঝুরিভাজার প্যাকেট। শিশুকন্ঠ হেঁকে চলেছে— 'ঝুরিভাজা নেবে...
ঝুরিভাজা'। চারপাশের যান্ত্রিক কোলাহলে সেই হাঁক কখনও কখনও হারিয়ে গেলেও অবিচল
শিশুকন্ঠ। তবে সে স্কুলে যায়। কিন্তু স্কুল ছুটির পর তৃতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়ার
এটাই রোজনামচা। সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা-হুল্লোড় করার বয়সে কচি কাঁধে উঠেছে
সংসারের বোঝা।
সকাল পৌনে দশটা বাজলেই নীল প্যান্ট, সাদা জামায় স্কুলের পথ ধরে রাকেশ। বছর
দশেকের রাকেশ সিকদার। দেড়টায় ছুটির ঘণ্টা বাজলেই গেটপাড়া মাঠপাড়া শিশু
শিক্ষাকেন্দ্র থেকে এক দৌড়ে বাড়ি। মা ভাত মেখে তুলে দেন ছেলের মুখে। বেশিরভাগ
দিনই জোটে আলু আর ডালসিদ্ধ। পাঁচ বছরের আরাধ্যা ও দু’বছরের প্রিয়াঙ্কা, দুই
বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে 'কাজে' বেরিয়ে পড়ে রাকেশ। চূর্ণী নদীর ঝুলন্ত সেতু
পেরিয়ে পালচৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে দাঁড়ায় সে। কারণ ছুটির পর ওই হাই
স্কুলের পড়ুয়ারাই রাকেশের খদ্দের। ক্রমে স্কুলের সামনে ভিড় হালকা হলে ফেরিফান
রোড ধরে রানাঘাট শহরের দিকে হাঁটা দেয় রাকেশ। পথে হাঁকতে থাকে 'ঝুরিভাজা নেও না
গো'। কেউ কেউ কেনেন। কেউ কেনার বদলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু হাসিমুখে
তা ফিরিয়ে দেয় 'পরিণত' শিশুমন। এভাবেই রানাঘাটের গলিপথ ঘুরে ঘুরে ঝুরিভাজা বিক্রি
করে চলে রাকেশ।
বাবা মহানন্দ কেরলে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। শেষ কবে বাবা বাড়ি এসেছিল মনে
নেই ছেলের। একরত্তি দুই বোনকে সামলাতেই দিন যায় মায়ের। বাবা টাকা পাঠালেও তাতে
চারটে পেট চলে না। তাই ঝুরিভাজা নিয়ে পথে নেমেছে এক রত্তি ছেলেটা। কথার ফাঁকে
রাকেশ জানায়, ৮০ প্যাকেট ঝুরিভাজা বিক্রি করতেই হবে—এটা ভেবেই বাড়ি থেকে বের হয়
সে। যে দিন তা হয়, হাসিমুখে বাড়িতে ফিরেই মায়ের হাতে তুলে দেয় রোজগারের সবটা।
আর ছেলের মুখ কালো দেখলে মা বোঝেন 'বিক্রি ভাল হয়নি'। পুজো আসছে। রানাঘাট
ছোটবাজার মোড়ে দাঁড়িয়ে 'ছাত্র-হকার'-এর নতুন পোশাক হয়েছে কি না প্রশ্ন করতেই
ফ্যাকাসে মুখে উত্তর আসে, "বোনদের নতুন জামা কিনতে পারিনি। তারপর তো আমার!" ৮০
প্যাকেট বিক্রি করলে চারশো টাকা হয়। লাভ থাকে একশো টাকা। লাভ-ভতির হিসাব দিতে
গিয়ে রাকেশ বলে, চেষ্টা করি সন্ধের মধ্যে বাড়ি ফিরতে। কোনও কোনও দিন রাত হয়ে
যায়। পড়াশোনা করতে আমার ভাল লাগে।’’
ছেলে ঘরে ফিরলে আঁচল দিয়ে মুখ মুছিয়ে দেন মা। বোনেরা ঘুমিয়ে পড়লে স্কুলের ব্যাগ
থেকে বই বের করে পড়া শুরু হয় দশ বছরের ‘দশভুজা'র। বইয়ের পাতায় জ্বল জ্বল করতে
থাকে রবি-কবিতা—‘আমরা চাষ করি আনন্দে। মাঠে মাঠে বেলা কাটে / সকাল হতে সন্ধে’।
পড়তে পড়তে ঘুমে ঢলে পড়তে চায় ক্লান্ত ছোট্ট শরীরটা।
ছড়া: ভাঙ্গা হৃদয়।
কবির নাম: অতুল সেন।
তুমি আমার হৃদয়ের আয়না
ভেঙে গেলে এক নিমেষে,
তোমায় যায়না চেনা
বলে শুধু তুমি কে?
বলতে চায় এই ভাঙ্গা হৃদয়
আমি তোমার কাল্পনিক স্বপ্ন ..
স্বপ্নের সাথে সাথে এখন
চুরমার হয়ে গেলাম আজ,
বারে বারে ডাকে ভাঙ্গা হৃদয়
পৌঁছায় না তোমার কানে!
আমি যে তোমার ভাঙ্গা- হৃদয়
থাকি হৃদয়ের এক কোণে।
চা শ্রমিকদের সাম্প্রতিক অবস্থান
আহমদ হুসাইন লস্কর।
আজকের দিনের নয়নাভিরাম পরিপাটি যে চা বাগান দেখে আমরা মুগ্ধ হই, একটা সময় তা
ছিল জনমানবহীন দুর্গম জঙ্গল। এই উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভাগ্যন্নোয়নের
লক্ষ্যে আসা অসহায় দরিদ্র কৃষক এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের শত বছরের নিরন্তর
সংগ্রামের ফল আজকের এই নয়নাভিরাম চা বাগান। ভারতবর্ষে চা শিল্প বিকাশের একটা
দীর্ঘ অতীত আছে। যতদূর জানা যায়, একটা সময় চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের
প্রচলন ছিল না। ইংরেজরা ১৮৩৮ সালে ভারতবর্ষে চা চাষের সূচনা করে। পরবর্তীতে
১৮৫৪ সালে মালনীছড়া চা বাগানের মাধ্যমেই এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের চাষ শুরু
হয়।। তারপর থেকেই আসাম অঞ্চলে ( সিলেট তখন আসামের অংশ ) চা-শিল্পের ব্যাপক
বিস্তার লাভ করতে থাকে।
চা-শিল্প মূলত একটি শ্রমঘন শিল্প। চা শিল্পের বিস্তারের প্রধান অন্তরায় হয়ে
দাঁড়ায় শ্রমিক সংকট। ১৮৫৩ সালে আসামে প্রতি বর্গমাইলে লোকসংখ্যা ছিলো ৩০ জন,
সিলেটে ছিলো ২০০ জন। তাছাড়া আসামের মাটি ছিলো সোনা ফলা। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা
চা বাগানে কাজ করাকে অসম্মানজনক মনে করতো। এর জন্যে ব্রিটিশরা চা শ্রমিকের জন্য
আসামের বাইরে হাত বাড়ায়। প্রসঙ্গত, ইংরেজরা অতি কৌশলের মাধ্যমে কম দামে শ্রম
কিনে যাতে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায় সেই লক্ষ্যে আজীবন কাজের শর্তে চুক্তিবদ্ধ
করে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে (গাছ হিলেগা,রুপিয়া মিলেগা, গাছ নাড়লে টাকা
মিলবে)।
মুলত ভারতবর্ষের বিহার, মাদ্রাজ,উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে
কানু,তেলেগু, লোহার,রবিদাস,গোয়ালাসহ প্রায় ১১৬ টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে শ্রমিক
হিসেবে সংগ্রহ করে। শ্রমিক সংগ্রহকারীরা এই সমস্ত দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার
মানুষকে এক সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্নের ফুলঝুরি দেখিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে দীর্ঘ পথ
পপরিক্রমার পর তাদেরকে নিয়ে আসা হয় আসামে, তাদের জন্য নির্ধারিত এলাকায়।কিন্তু
চা-শ্রমিকরা এ অঞ্চলে এসে দেখে গাছ নাড়লে টাকা পাওয়া তো দূরের কথা হিংস্র
জীব-জন্তুর প্রতিকূল পাহাড়-জঙ্গলময় পরিবেশে নিজের জীবন বাঁচানোই দুঃসাধ্য
ব্যাপার। অনাহারে-অর্ধাহারে,অসুখে-বিসুখে এক বীভৎস জীবনের সম্মুখীন হয়েছে
তাঁরা। সে সময় আড়কাঠি ও গিরমিট প্রথার কারণে চা ম্যানেজার এই অসহায় মানুষগুলোর
উপর একচ্ছত্র নির্যাতন করার অধিকার পায়। কোন শ্রমিক ইচ্ছে করলেই চাকরি থেকে
ইস্তফা দিতে পারতো না। বাগান থেকে পালিয়ে গেলে তাদের ধরে আনা হতো। দেয়া হতো
অমানবিক শাস্তি যা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো না। চাবুক বুটের লাথি ছিল এই নিরীহ
মানুষগুলোর নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এভাবে মালিকদের হাতে শ্রমিকের মৃত্যুকেও
সাধারণ ঘটনা হিসবে দেখা হতো। মালিকদের কথাই সেখানে রাষ্ট্রীয় আদেশ হিসেবে গণ্য
হতো। শ্রমিকদের ইচ্ছা আনিচ্ছা বলতো কোন কিছু কল্পনাই করা যেতনা। বাগানের ভিতরে
ছাতা মাথায় হাটাও অপরাধ হিসেব গণ্য হতো। পুরুষ শ্রমিকদের বেতন চার
আনা,মহিলাদের বেতন তিন আনা এবং শিশুদের বেতন দুই আনা। তখন চা বাগানে শিশু শ্রম
বৈধ ছিল। কি নির্মম পরিহাস!
এখন যেখানে সবুজ সুন্দর চা বাগান দেখছেন সেখানে তখন ছিলো বিস্তীর্ণ জঙ্গল। এই
জঙ্গলে ছিলো হিংস্র পশুপাখি আর পোকা-মাকড়। শ্রমিকদের প্রাথমিক কাজ ছিলো এই
ভয়ংকর জঙ্গল পরিষ্কার করে চা বাগানের উপযোগী করা। অপর দিকে চা বাগানের
ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলো ইংরেজরা। আসামের এই জঙ্গলে তখন দাগী অপরাধী, বখাটে
এবং উচ্ছৃঙ্খল ইংরেজদের পাঠানো হতো। একদিকে ভয়ংকর জঙ্গল, হিংস্র জন্তু-জানোয়ার,
অর্ধহার, অনাহার, রোগ শোক অন্যদিকে ইংরেজদের অমানবিক আচরণ। দ্রুতই এইসব অসহায়
মানুষদের রঙ্গিন স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে থাকে।
কালের আবর্তনে বদলায় অনেক কিছু,কিন্তু বদলায়নি চা-শ্রমিকদের জীবনমান। চা-গাছের
সাথে বন্দী তাদের জীবিকা,তাদের ভাগ্য। কিন্তু ভাগ্যের দেবী মুখ তুলে তাকান না
কখনোই। কৃতদাস প্রথা বিলুপ্ত হলেও,যেন বিলুপ্ত হয়নি এখনো কোথাও কোথাও। এই
গোষ্ঠীটি এখনো অদৃশ্য কোনো শোষনের কালো হাতের কাছে দাসত্ব গ্রহণ করেই কাটাচ্ছে
এক একটি ভয়ংকর দিন,এক একটি বিভীষিকাময় রাত। পাহাড়ি জঞ্জাল কেটে পরিষ্কার
করা,বাগানের চা পাতা তোলা,রাস্তা কাঁটা,বাড়ি-ঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে
ফ্যাক্টরীর ভেতরে নানান কাজে সংশ্লিষ্ট থাকেন অসংখ্য চা-শ্রমিক।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস রোধে সাম্প্রতিক কালের এই লকডাউনে মধ্যে প্রথম
দিক থেকে আমাদের বরাক উপত্যকার বিভিন্ন বাগানে অত্যন্ত -ঝুঁকি নিয়েও শ্রমিকদের
কাজ করতে দেখা গেছে।
কিন্তু, তাদের দৈনিক পারিশ্রমিকের পরিমাণটা অত্যন্ত স্বল্প হাতে গুনা। প্রতিদিন
আটঘন্টার বেশি সময় কাজ করেও তাঁরা পান এই স্বল্প পরিমান টাকা। এই নিয়েই
পরিবার-পরিজনদের নিয়ে টিকে থাকার সংগ্রামে এখনো লড়াই করে যাচ্ছেন আমাদের চা
শিল্পের কারিগররা। কষ্টের কথা এক নাগাড়ে শুনতে আমাদের ভাল লাগেনা। এর মাঝে
সামান্য বিরতি না হলে যেন তা সহ্যশক্তির সীমা অতিক্রম করে ফেলে।
উপমহাদেশ থেকে বৃটিশরা বাক্স-প্যাটরা গুছিয়ে চলে গেলেন ঠিকই,কিন্তু রেখে গেলেন
এমন এক জিনিস,যা বাঙ্গালী জাতির মধ্যে আরো শিঁকড় ছড়িয়ে গেঁথে বসেছে। চায়ের
অভ্যাসটা বৃটিশদের কাছ থেকেইতো শেখা। সর্বপ্রথম ১৮৪০ সালে এ দেশে বাণিজ্যিকভাবে
চা চাষ শুরু হওয়ার পর,এক পর্যায়ে এ খাতটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য অন্যতম
প্রধান শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু ক্রমেই উৎপাদনের তুলনায় এর অভ্যন্তরীন
চাহিদা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়। এছাড়াও আরো ব্যাপকভাবে প্রসার ও গুরুত্ব পেয়েছে
এই চা শিল্প। অথচ গুরুত্ব পায়নি চা-শিল্পের পেছনের যোদ্ধাদের জীবনযাত্রার করুণ
চিত্র।
ঘুরে ফিরে আবারো সেই একই কথা। রোদে পুড়ে গা’য়ের চামড়া তামাটে বর্ণের হয়ে
যাওয়া সেই চা-শ্রমিকদের তামাটে কষ্টের কথা। মানুষ হিসেবে আমাদের কিছু মৌলিক
চাহিদা থাকে। কিন্তু চা-শ্রমিকদের অবশ্য প্রাপ্য সেই মৌলিক চাহিদাগুলো থেকেও
যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ভাগ্যদেবী। ভাঙ্গা জরাজীর্ণ ঘরে,বসবাস অনুপযোগী ও
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে মাথা গুঁজতে হয় তাদের। নেই ছেলে-মেয়েদের
শিক্ষা নিশ্চিত করে মানুষ করবার স্বপ্ন দেখার সুযোগ,নেই চিকিৎসা সেবা। যেকোনো
রোগের ঔষধের প্রেস্ক্রিপশন যেখানে প্যারাসিটেমল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়,সেখানে
তাদের বেঁচে থাকাটাই একটি বড় আশীর্বাদ হয়তো! নেই সুপেয় পানির সুব্যাবস্থা। এ তো
কেবল মৌলিক চাহিদাগুলোর কথা,বাকি রয়ে গেলো আরো অনেক গল্প। নিজেদের গড়ে তোলা চা
এর সাথে দুধ-চিনি মিশিয়ে খাওয়ার ভাগ্যটুকুও হয়নি তাদের অনেকের। সকালবেলা লবণ
দিয়ে এক মগ চা আর দু’মুঠো চাল ভাজা খেয়ে প্রস্তুতি নিতে হয় সারাদিনের সংগ্রামের
জন্য। আর বাগানে যখন কাজ করেন,রোদ-বৃষ্টি সব মাথায় নিয়ে ঠায় দু’পায়ে দাঁড়িয়ে
কাটিয়ে দেন পুরো দিনটা। সাঁপ,বিচ্ছা,জোঁক তাদের জীবনের জন্য এক স্বাভাবিক
ব্যাপার। আর যারা কীটনাশক ছিটানোর দায়িত্ব পালন করেন,তাদের প্রয়োজনীয়
মুখোশ,গ্লাভস,চশমা কিছুই সাথে থাকেনা। অনেকে বিষাক্ত কীটনাশক ছিটানোর সময় অন্ধ
হয়ে যান। এমনি আরো অনেক দুঃখ-দুর্দশার কথা বাকিই থাক নাহয়। অনুনয়,বিনয় আর
আকুতিতেও যখন কাজ হয়না,তখন তাঁরা সংগ্রাম করেন। বিদ্রোহ করেন হঠাৎ হঠাৎ,কিন্তু
বেলা শেষে প্রাপ্তির ঝোলাটা ফাঁকাই পড়ে থাকে। হতাশা আর ভাগ্যের নিয়তিতে জীবন
সঁপে দিয়ে আবারো ফিরে যান তাদের পুরোনো স্বাভাবিক জীবনে।
প্রতিদিনের একইরকম অমানবিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে মুখ বুজে কাজ করে যান
তাঁরা,কিন্তু পারিশ্রমিক সহ তাদের মৌলিক চাহিদার প্রায় সবকটি দরজাই যেখানে বন্ধ
,সেখানে কতটুকুই বা প্রাপ্তি তাদের! হয়তো প্রাপ্তির স্বাদ বলতে কী বুঝায়,তা
তাঁরা জানেন না। অথবা কেউ কেউ জেনেও না জানার ভান করে আঁকড়ে ধরে পড়ে আছেন এই
পেশায়,একমাত্র পূর্বপুরুষদের সম্মান রক্ষার্থে। অথবা কেউ কেউ বাধ্য
হচ্ছেন,স্বাভাবিকভাবেই জীবিকার পথ হিসেবে এই পেশা বেছে নিতে। যেই ঘরটিতে তাঁরা
বসবাস করেন,সেই ঘরটিও কখনো তাদের নিজের হয় না। কারণ ঘরটি ধরে রাখতে
চাইলে,পরিবারের অন্তত একজনকে চা-শ্রমিক হতেই হবে!
চা-বাগান ঘুরে দেখতে তো আমরা অনেক মানুষই এখানে পৌঁছি,কিন্তু ক’জন দেখতে
যান সেই মানবেতর জীবন-যাপনের শীকার হওয়া তামাটে বর্ণের অসহায় মানুষগুলোকে?
শিক্ষার আলোর প্রদীপ তাদের ঘরে জ্বলেনা কখনো,তাদের ঘরের শিশুদের কোমল হৃদয়ের
লালিত স্বপ্ন হয়তো,বাবা-মা’য়ের মতো একদিন সেও চা-শ্রমিক হয়ে বাগানে কাজ করবে!
সেই অসহায় বাবা-মা’য়েদের করুণ মুখ কেউ কি কখনো দেখতে যায় ? পরিবেশ আর দেশের
এতোটুকু অংশও কি তাঁরা নন ? সত্যিই তো,আমরা কেউ কি কখনো মন থেকে ভাবি,কেমন আছেন
এই প্রান্তিক জনেরা ?
কবিতার নাম: সম্মান।
কবির নাম: শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্মান মোদের সবার আছে এই পৃথিবীর পরে
কাজের বিচার করে যারা, তারাই দেয় না শুধু।
টাকার অহমিকায় তারা নিজেকে ভাবে উঁচু
সাধারণ মানুষকে করে সবার চোখে নিচু।
শিক্ষার ডিগ্রী থাকলে যেমন শিক্ষিত হয় না
টাকার পাহাড় থাকলে তেমন মহান হওয়া যায় না।
সম্মান যেমন আমি পাবো পরকে দেবো তেমন
তবেই লোকে মানের সথে বলবে কথা এসে।
নয়ত আমার কথায় যদি সেই অস্তিত্ব না থাকে
কেউ কি আমায় মাথায় করে রাখবে তাহার মনে।
গুণের জন্য মানুষ করে মানুষকে সম্মান
তাহাই যদি না থাকে মুখে, পাবে অসম্মান।
মানুষ বলে আমরা সবাই নিজে করি দাবি
মানুষত্বের এক টুকরো নেই সে তাহা বাঁচি।
গরিব দেখলে গা জ্বলে যায় হাজার হলেও ভালো
মনের মাঝে গ্লানি মোদের নোংরা কুৎসিত কালো।
পরের থেকে নিতে পারি আমি হাজার সুখ
দিতে মোদের কুন্ঠা লাগে একটু হাসি মুখ।
সম্মান যারা দেয় সমাজে তাদের স্বরূপ পৃথক
ধনী গরিব উচ্চ নিচের তিনি মানুষ স্বার্থক।
কবিতার নাম: সবুরে মেওয়া ফলে।
কবির নাম: উদয় নারায়ণ বাগ।
সবুর করো ওহে মানব
ফলবে মেওয়া ডালে,
জয়ের হাওয়া লাগবে যখন
তোমার তরির পালে।
এগিয়ে যাবে ছন্দে তরি
বন্ধুরতা ফেলে,
সুখের আশিস আসবে ওড়ে
আপন ডানা মেলে।
পথের মাঝে হাজার বাধা
তবু চলতে হবে,
হিংস্র-দানব ঝড়ঝাপটা
সঙ্গে কত রবে।
তোমায় যেতেই হবে দূরে
তোমার লক্ষ্য পথে,
শ্রমের মূল্য দেখবে সেথা
পুষ্প মোড়া রথে।
মরীচিকার ভ্রান্ত আশা
বধবে তোমায় কত,
টানবে কাছে আপন করে
কুটিল কীটের মতো।
ভয় পেলে কী হবে মানব
তোমায় হবে যেতে ?
রৌদ্রে পুড়ে শীতে কেঁপে
সুখের পরশ পেতে।
ক্লান্ত তুমি হবে না তো
ধৈর্য ধরে চলো,
করবই জয় এই কথাটি
হৃদয় দিয়ে বলো।
দুখের আঁধার মুছে গিয়ে
আসবে সুদিন ঘরে,
খুশির ধারার পূর্ণ হয়ে
জীবন যাবে ভরে।
কবিতার নাম: 'আগমনী'।
কবির নাম: দীপক রঞ্জন কর।
শরৎ এসেছে আনন্দ লগনে
নদীর দু'ধারে কাশের বনে।
কাননে শিউলি ফুলের মেলা
গগনে মেঘের পেঁজা তুলা।
হিমের পরশ হৃদয়ে জাগে
শিশির বিন্দু ঘাসের আগে।
প্রকৃতি ঝিলমিল রোদ সোনার
বাঙালি মনে আনন্দ অপার ।
ঢাকের উপর পড়লো কাঠি
মায়ের আগমনে পরিপাটি।
বছর ঘুরে মায়ের বোধন
উল্লাসে সবার পুলকিত মন।।
Festive Fun
Sanjoy Banerjee
Little boy and Little girl.
Everyone rejoice in the joy of puja.
Everyone will be careful.
The best Pooja of Bengali--
Shardia Durga Puja.
New Clothes, new Shoes.
Sweet Smile Everyone.
Rejoice will be all.
Keeping the body healthy.
সংবাদ
(হিঙ্গলগঞ্জ)
|
| অব্যবস্থা: স্যাঁতসেঁতে মেঝে ও নোনা ধরা দেওয়ালের ঘরেই চলছে পঠনপাঠন। |
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৩
স্কুলের প্রতিটি দেওয়াল, ঘরের ছাদ জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে জল জমে
যায়। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের গোবিন্দকাটি পঞ্চায়েতের উত্তর কাঁঠালবেড়িয়া এফপি
স্কুলে ছুটির ঘণ্টা পড়ার আগেই বাধ্য হয়ে ছুটি দিতে হয়।
১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে এখন পড়ুয়ার সংখ্যা ৫২ জন। প্রাক প্রাথমিক থেকে
চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৫টি শ্রেণি রয়েছে। এক জন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও
এক জন সহকারী শিক্ষক আছেন। স্কুলে ঘর তিনটি। এরই মধ্যে একটি শ্রেণিকক্ষের
অবস্থা জরাজীর্ণ। ফলে সেখানে পঠন-পাঠন করানো যায় না। ওই ঘরে আপাতত পড়ুয়ারা
বসে মিড ডে মিল খায়। আর একটি ঘরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বসেন। সেখানে
অফিসের কাগজপত্র ও বই থাকে। অন্য বড় হল ঘরে সব শ্রেণির পড়ুয়াদের এক সঙ্গে
বসানো হয়।
কিন্তু এই ঘরটি নেহাতই বেহাল। দেওয়াল ও পিলারে বড় বড় ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি
হলেই ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে মেঝেতে। বেশি বৃষ্টি হলে পড়ুয়াদের বসতে দেওয়ার জায়গা
থাকে না। অগত্যা টিফিন পিরিয়ডে স্কুল ছুটি দিতে বাধ্য হন শিক্ষকেরা।
স্কুলের ঘরগুলিতে দরজা-জানালার পাল্লা নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুব্রত
আচার্য জানান, হল ঘরে একটি গ্রিল বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নড়বড়ে
স্কুল ভবনে গ্রিল বসাতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঙড় খসে পড়তে শুরু করে।
স্কুলের তিনটি ঘরের দেওয়ালেই নোনা ধরে গিয়েছে। বহু আসবাব নষ্ট হচ্ছে।
জরাজীর্ণ এই স্কুলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের ভর্তি করতে চাইছেন না। অসুবিধা
সত্ত্বেও দূরের স্কুলে ভর্তি করছেন ছেলেমেয়েদের। অভিভাবক ভোলানাথ পাল, রোজিনা
বিবি, শঙ্কর সর্দারেরা জানান, বৃষ্টি হলে বাচ্চাদের পাঠাতে ইচ্ছে করে না।
ক্লাসঘরে জল জমে যায়। স্কুলের ভিতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। যে কোনও দিন দুর্ঘটনা
ঘটতে পারে চাঙড় খসে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়।
স্কুলে মাত্র দু’জন শিক্ষক থাকায় এক জন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির পড়ুয়াকে এক
সঙ্গে পড়াতে হয়। কখনও এক জন না এলে অন্য জনকে একাই ৫টি ক্লাস করাতে হয়। সুব্রত
বলেন, “ভবনটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে গিয়েছে। যে কোনও দিন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বার বার জানিয়েছি। এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি।
অভিভাবকেরা সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, স্কুলে আর শিশুদের পাঠাবেন না। আমি দায়িত্ব
নিয়ে স্কুলে তাদের ফেরানোর ব্যবস্থা করেছি। তবে স্কুলের অবস্থা নিয়ে
দুশ্চিন্তায় আছি।”
স্কুল পরিদর্শক জানিয়েছিলেন, এই ভবন ছেড়ে আপাতত আশেপাশের কোনও ক্লাব বা কারও
বাড়িতে পড়ুয়াদের নিয়ে পঠনপাঠন চালাতে। কিন্তু তেমন কোনও সুযোগ নেই বলে জানালেন
স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুল পরিদর্শক সামসুদ্দিন লস্করকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।
মেসেজেরও উত্তর আসেনি। হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও শাশ্বতপ্রকাশ লাহিড়ী বলেন, “জেলায়
এই স্কুলের বিষয়ে জানাবো। আমাদের তরফেও যাতে এই স্কুলে নতুন একটি শ্রেণিকক্ষ
করে দেওয়া যায়, তা দেখা হবে।”
কবিতার নাম:মিষ্টির হাঁচি।
কবির নাম: শিবনাথ মন্ডল ।
ট্রেনের মধ্যে ভিড়ের মাঝে
উঠল একটি ফেরিওয়ালা
কাঁধে ঝোলানো জলের কৌট
হাতে মিষ্টির থালা।
বাঁ হাতের তালুতে বসানো মিষ্টির থালা
ঢেলা লেগে গেল পরে
ট্রেন যাত্রী একটা ফোগলা বুড়ো
ঘুমাচ্ছিল হাঁ করে।
একটা মিষ্টি ছিটকে পড়ল বুড়োর মুখে
বুড়ো বলল কে' রে পাজি
কথা শেষ হতে না হতেই
বুড়োর মুখে উঠল হাঁচি ।
মুখ থেকে মিষ্টি ছিঁটকে পরল
এক চশমা পরা ভদ্রলোকের নাকে
আচমকা খেলতে গিয়ে পড়ল
এক মাস্টার মশায়ের টাকে।
মিষ্টি গেল গড়াগড়ি
লাগলো লোকের হুরহুরি
রস ভর্তি জামা কাপড়
করছে সবাই ঝাড়া ঝুরি।।
কবিতার নাম: আগমনী।
কবির নাম: শান্তি দাস।
আগমনী সুরখানি ভেসে আসে
মহাসিন্ধুর ঐ ওপার থেকে,
প্রতীক্ষার অবসান পিছে ফেলে
এবার মা আসছেন অশ্বারথে।
মায়ের আগমন এই ধরাধামে
আনন্দে সবাই মন ভূলো,
নীল আকাশে সাদা মেঘগুলো
এদিক ওদিক যেন পেঁজা তুলো ।
শরতের শিউলি ফুল গুলো
সবুজ পাতার ফাঁকে লুকায়,
ভোরের বেলায় সূর্যের আলো
পড়তেই ফুলগুলো ঝরায় ।
মায়ের আগমনী বার্তা চারিদিকে
নদীর ধারে দোলা দেয় কাশে,
শিউলি কুড়িয়ে আনবো সাঝিতে
শারদ প্রাতে গন্ধ ছড়ায় বাতাসে।
নদীর ধারে কাশবন দোলা দেয়
পুজো আসছে মায়ের আগমনী,
ঢাকের আওয়াজ আসবে ভেসে
তাইতো সবাই কান পেতে শুনি।
কবিতার নাম: ক্লান্তিহীন বৃষ্টিতে।
কবির নাম:বিবেক পাল।
ক্লান্তিহীন বৃষ্টিতে ভিজে বন-বনানী
বনবীথি তলে ভেজা দূর্বাঘাসে লুটিয়ে বনফুল ,
প্রবল জলস্রোতে জেগে উঠে দিগন্তে শুয়ে থাকা নদী ।
ফুটো চাল থেকে জল গড়িয়ে
পড়ে ঘর-জুড়ে ,
যন্ত্রণাক্লিষ্ট শতছিন্ন জীবন তথৈবচ !
জলমগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল---
ফসলের ক্ষেত ভাসিয়ে জল গড়ায় ,
খাল বিল নদীতে ।
কুয়াশা ভরা আকাশেতে
মেঘেদের শক্তিশালী মিছিল ,
বাতাসে পূর্বাভাস ভারী বৃষ্টির !
রুষিত প্রকৃতির রোষানল এ'যেন ,
দুর্বাশার কঠিন কঠোর অভিশাপ ,
ভারী বর্ষণে জল থৈ থৈ চারিধার ।
প্রেয়সীর একরাশ কালো চুলের মতো
মেঘ ছিঁড়ে উঁকি দেয় শুকতারা যখন ,
তখন বৃষ্টি থামে সাময়িক-------
বাদলের ধারাপাতে
নীড় হারা পাখিদের চঞ্চল ডানা ,
উদাসী চোখ খোঁজে আশ্রয় !
গৃহহীন নিরন্ন মানুষেরাও
এসে দাঁড়িয়েছে-
খোলা আকাশের নীচে ।
জোনাকি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হবে খুব তাড়াতাড়ি। তাই আপনারা যদি আপনাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান, তাহলে অবশ্যই যোগাযোগ +৯১ ৮৩৭১৮ ৭৪৬৯০ করতে পারেন।-জোনাকি পরিবার।
কবিতার নাম: শীত আসছে।
কবির নাম: মিহির সেন।
শীত আসছে আয়েশ করে
গুটি গুটি পায়ে,
ছেলে বুড়ো রঙিন হবে
শীতের পোষাক গায়ে।
শখের শীতের নানান পোষাক
কাশ্মীরি শাল মুড়ে,
পৌষ পার্বণ যাত্রা মেলা
আসবে সবাই ঘুরে।
নলেন রসের ছড়াছড়ি
মিষ্টি উত্তর হাওয়া,
নলেন গুড় আর পিঠেপুলি
শীতের উপরি পাওয়া।
কাক পক্ষী জবুতবু
লুকায় ডালের ফাঁকে,
নদীনালা শান্ত হয়ে
নিথর হয়ে থাকে।
সূর্য ওঠে দেরী করে
সন্ধ্যে ঘনায় ত্বরা,
দরজা জানলা বন্ধ করে
মানুষ ঢাকে আগাগোড়া।
হরেক খাবার নেইকো বাধা
বেড়ানো মজা করে,
নামবে পারদ বাড়বে শীত
সবাই ছুটবে সুদূরে।
ছড়া: শিশিরসিক্ত সকাল।
কবির নাম: দেবব্রত মাজী।
শিশির সিক্ত
ঘাসের আগায়
প্রকৃতির শোভায়
সূর্যের মৃদু আলোয়
ঝরে পড়েছে যেন মুক্ত।
শিউলি ফুল বোটায়
লাগছে মধুময়
সকাল বেলায়
কমলা রিক্ত।
কবিতার নাম: একটি প্রজাতি।
কবিতার নাম: তাপস কুমার দাস।
একটা প্রজাতির ঘুরে ঘুরে ফুলে এসে বসে,
গাছে গাছে কত রঙিন ফুল গুলো হাসে।
কাশফুল জানান দেয় শরৎ এসেছে,
নীল আকাশ ঐ দূরে দিগন্তে মিশেছে।
আমি একা বসে আছি ঘাসের উপরে,
একটা প্রজাতির বারবার আমার কাছেই ঘুরে।
কখনো বা গায়ে- পিঠে-হাতে এসে বসে,
আমার দিকে চেয়ে সে মুক্ত মনে হাসে ।
আচ্ছা আমি কি তবে ঘাসে ফোটা ফুল !
না কি সবটাই আমার মনের ভুল!
মাঝে মাঝে যেন হারিয়ে ফেলছি আমার যত স্মৃতি।
কখন যেন বন্ধু হলো আমার একটি প্রজাপতি।
খেলা সংবাদ ( ক্রিকেট ও ফুটবল)
ICC ODI World Cup 2023
দু’টি করে ম্যাচ খেলল সব দল, বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকায় কত নম্বরে ভারত? শীর্ষে
ও শেষে কোন দল?
বিশ্বকাপের ১০টি দলই দু’টি করে ম্যাচ খেলে ফেলল। চারটি দলের রয়েছে ৪ পয়েন্ট।
সবার নীচে আফগানিস্তান।
বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউ জ়িল্যান্ডকে দ্বিতীয়
স্থানে পাঠিয়ে দিল তারা। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের
পরেই এই পরিবর্তন। অস্ট্রেলিয়াকে ১৩৪ রানে হারাল প্রোটিয়াবাহিনী। ভারত নেমে গেল
তৃতীয় স্থানে। বিশ্বকাপের ১০টি দলই দু’টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। চারটি দলের
রয়েছে চার পয়েন্ট। সবার নীচে আফগানিস্তান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হেরে অস্ট্রেলিয়া এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পয়েন্টের
খাতা খুলতে পারেনি। ২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট শূন্য। তারা রয়েছে নবম স্থানে।
বৃহস্পতিবারের পর প্রথম চারে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জ়িল্যান্ড, ভারত এবং
পাকিস্তান। এই চার দলের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট করে। নেট রানরেটের বিচারে সবার আগে
দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশ ২ পয়েন্ট। এখনও পর্যন্ত পয়েন্ট পায়নি
শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া এবং আফগানিস্তান।
Cristiano Ronaldo
অবসরের পরিকল্পনা রোনাল্ডোর, আর কত দিন ফুটবল মাঠে দেখা যাবে ক্রিশ্চিয়ানোকে,
জানালেন নিজেই
পর্তুগালকে ইউরো কাপ দিলেও বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি রোনাল্ডো। এই একটা জায়গায়
তিনি পিছিয়ে রয়েছেন মেসির থেকে। তবু অবসর নিয়ে পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন তিনি।
ফুটবলকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা করে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কবে অবসর
নেবেন, তা ক্লাব আল নাসের এবং পর্তুগালের কর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন ৩৮ বছরের
ফুটবলার। তা হলে লিয়োনেল মেসির সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ কি আর দেখা যাবে না?
বয়স বাড়লেও ফুটবল দক্ষতা কমেনি রোনাল্ডোর। এখনও পাল্লা দিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে
খেলছেন তিনি। দেশকে ইউরো কাপ দিলেও বিশ্বকাপ অধরাই থেকে গিয়েছে তাঁর। তাই এখনই
ফুটবলকে বিদায় জানাতে চান না। ২০২৬ সালে আর এক বার চেষ্টা করতে চান বিশ্বের
অন্যতম সেরা ফুটবলার। তাই পেশাদার ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমের দাবি, আল নাসের এবং পর্তুগালের কর্তাদের নিজের ইচ্ছার
কথা জানিয়েছেন রোনাল্ডো। সৌদি আরবের ক্লাব কর্তাদের তিনি নাকি বলেছেন, ২০২৭ সাল
পর্যন্ত চুক্তি করতে আগ্রহী তিনি। আগামী বিশ্বকাপেও পর্তুগালের হয়ে খেলতে চান
রোনাল্ডো।
এর আগে এক বার ২০২৪ সাল পর্যন্ত পেশাদার ফুটবল খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন
রোনাল্ডো। সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন। আরও তিন বছর খেলতে চান তিনি। এখনও
পর্যন্ত দেশের হয়ে ২০১টি ম্যাচ খেলে ১২৩টি গোল করেছেন সিআর ৭।
কবিতার নাম: অপরূপ রূপের বাহার।
কবির নাম: রবিন রায়।
মরি হায়! আমি দেখি নাই আগে অন্য কাহার,
সে প্রাণোচ্ছ্বল এমন অপরূপ রূপের বাহার;
এতো মিষ্টি সে হাসির চমক,
উন্মুক্ত ঝিনুকের
মুক্ত ঝলক!
আজি নয়ন যেন পাইলো রে স্বার্থকতা,
ও বদনে রহিছে ভরি অলীক আন্তরিকতা ;
প্রথম দর্শনে আত্মীয়তায় বাঁধিলো নন্দিনী,
অদর্শনে তাহার, চক্ষু মোর হয় অনুসন্ধানী।
এতো মিষ্টি সে চাহনির চমক,
ঠিক একচিলতে রৌদ্র
ঝলক!
মোর মনপ্রাণ গিয়াছে তাহার সনে আনমনে,
না পাইলে তাহারে, জীবনে বাঁচিবো কেমনে?
মায়ার নারী লয়েছে কারী মোর সর্বস্ব স্বত্তা,
আপন হারা হইলাম কখন যে নাই গো ইয়াত্তা।
এতো মিষ্টি সে আবেশের চমক,
নাড়া দিলো যেন তড়িৎ
ঝলক!
প্রাণ চাহে ভালোবাসিতে তাহে হৃদয় উজারে,
উৎসুক হৃৎপিন্ড ধরিতে নারি এই বক্ষপিঞ্জরে ;
উদ্দাম শোণিত ধায়, তাহার উষ্ণ শ্বাসে তাপি,
স্থির বিশ্বাসী পাইলে সজনীরে কন্ঠমাল্যে জপি।
এতো মিষ্টি সে মুগ্ধতার চমক,
নতুন উষার স্নিগ্ধতার
ঝলক!
গিরি শুভ্র হিমানীর যেরূপ স্পর্শ শীতলতা,
সদ্য প্রস্ফুটিত কুসুমের বর্ণিল কোমলতা;
উতল বক্ষি মোহিনীর মধু মদে ঠাসা,
আমার প্রেমিক মনময়ে ঝিম ধরা নেশা।
এতো মিষ্টি সে রূপশ্রীর চমক,
আত্মায় ভর সৃষ্টির
ঝলক!
মরি হায়! আমি দেখি নাই আগে অন্য কাহার,
সে প্রাণোচ্ছ্বল এমন অপরূপ রূপের বাহার...!
ছড়া: ভূত ধরা।
কবিতার নাম: শংকর ব্রহ্ম।
সেদিন পেলাম ভূতের দেখা
রাত্রিবেলা একা একা পথের মোড়ে,
গাছের ডালে পা ঝুলিয়ে
খাচ্ছিলো সে জ্যান্ত মানুষ খাবলে খুলে,
হঠাৎ আমায় দেখতে পেয়ে
মুচকি হেসে ডাকলো কাছে,
ভাবলো আমি ভয় পেয়েছি
এক লাফে সে নামলো নীচে
আমি তাকে জাপটে ধরে বশীকরণ মন্ত্র পড়ে
শিশির ভিতর নিলাম ভরে।
পরে তাকে আমি বন্দী করে
নিয়ে এলাম নিজের ঘরে।
দেখবে যদি চলে এসো আমার ঘরে
একটি মাত্র ফোন করে।
🔹️ ই- সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন - Click Now
🔸️ লেখা ও শিল্পকলা পাঠান -
Click Now
🔹️ হোয়াটসঅ্যাপ পরিবারের যুক্ত হন -
Click Now
🔸️ ফেসবুক পরিবারের যুক্ত হন-
Click Now




