☆ পরিচয় শিশু সাহিত্য ☆
📢 ১৭তম সংখ্যা
প্রকাশ:
- বাংলা: ২৬ই আশ্বিন ১৪৩০
- ইংরেজী: ১৪ই অক্টোবর ২০২৩
- বার: শনিবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
আজ আবহাওয়া: ৩৪°C (পশ্চিমবঙ্গ)
- পরিষ্কার আকাশ
- বৃষ্টিপাত: ০%
- আর্দ্রতা: ৭৫%
- বাতাস: ০কিমি/ঘন্টা
আজ ঘটনা:
- ১৮০৬ - ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে ইয়েনার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ১৮৮২ - পাকিস্তানের লাহোরে ভারতীয় উপমহাদেশের চতুর্থ পুরাতন সর্ব্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (পাকিস্তানে প্রথম) পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৬ - অ্যালেন আলেকজান্ডার মিলনী রচিত জনপ্রিয় শিশুতোষ বই উইননি-দি-পু প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৩ - নাজি জার্মানি কর্তৃক লীগ অব নেশনস ত্যাগ।
- ১৯৪৪ - জার্মানির নাৎসি বাহিনীর বিখ্যাত সেনাকমান্ডার এরউইন রোমেল হিটলারের আদেশে আত্মহত্যা করে। মার্শাল রোমেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উত্তর আফ্রিকায় জার্মান বাহিনীর কমান্ডার ছিল এবং ব্রিটিশ সেনাদেরকে মিশরের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছিল।
- ১৯৪৬ - লন্ডনে বিশ্বের ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা বিশ্বব্যাপী পণ্যসেবার মান বজায় রাখতে মান নির্ধারক সংস্থা গঠনের বিষয়ে একমত হন। সংস্থাটি পরের বছর কার্যক্রম শুরু করে এবং সে হিসাবে ১৪ অক্টোবর বিশ্ব মান দিবস পালিত হয়।
- ১৯৫৩ - জর্দান নদীর পশ্চিম উপকূলীয় কাবিহ গ্রামে সশস্ত্র ইহুদিবাদীরা নির্যাতনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই গ্রামে ইহুদিবাদীরা টানা দুই দিন আগ্রাসী হামলার মাধ্যমে নিরীহ ফিলিস্তিনীদের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালায় এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে।
- ১৯৫৫ - পূর্ববাংলার নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান রাখা হয়।
- ১৯৫৬ - বাবাসাহেব আম্বেদকর তার ৩,৮৫,০০০ অনুসারীসহ সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৬৪ - তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব নিকিতা ক্রুশচেভ বহিস্কৃত হন।
- ১৯৭১ - মার্কিন নভোযান মেরিনার-৯ প্রথম খুব কাছে থেকে নেওয়া মঙ্গলের ছবি পৃথিবীতে পাঠায়।
- ১৯৮৬ - আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়।
- ১৯৯৩ - হাইতির বিরুদ্ধে পুনর্বার যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
- ১৯৯৭ - বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মেসার্স স্মিথ কো-জেনারেল (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মধ্যে বেসরকারি খাতে বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত।
- ২০২০ - পৃথিবীকে অতিক্রম করে 2020 TB-9 ও 2020 ST-1 নামের দুটি গ্ৰহাণু।
লিখেছেন:
কবিতার নাম: ঢাকের তালে।
কবির নাম: শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঢাকের পরে পড়লে কাঠি
বুড়ো নাচায় তাহার লাঠি ।
পাঁচ বছরের ছোট্ট মদন
নেচে বেড়ায় পুরো সদন।
কচি কাঁচা বুড়ো সবে
আনন্দেতে নাচে ভবে ।
ধরা ধামে আসছে যে মা
অসুর সিংহ সঙ্গে উমা।
কার্তিক গণেশ লক্ষ্মী সঙ্গে
সরস্বতী আসবে বঙ্গে।
আসছে জয়া বাপের বাড়ি
আনবে সাথে আশার হাঁড়ি।
দুঃখ কষ্ট বলবো তাঁকে
সারা যদি দিলে ডাকে।
পঞ্চমীতে উঠবে বেজে
ঢাকীরা সব তারা তেজে।
বোধন হবে ষষ্ঠীর দিনে
উঠবে বেজে সুখের বীণে।
নাচবে সবাই তালে তালে
আনন্দেতে সুখের ডালে।
নাচবে পুরুৎ সন্ধ্যাকালে
নাচের ঘোরে নিজের চালে।
চামর দোলায় মায়ের তরে
ঢাকী বাজায় তালের ঝরে।
নবমীর রাত উঠবে মেতে
সবার মাঝে খুশির ক্ষেতে।
শেষ বেলাতে ঢাকীর সুরে
যাবে ভেসে অনেক দূরে।
কেটে যাবে পূজার সব দিন
বাজবে আবার দুখের সে বীণ।
বিদায় বেলায় উঠবে বেজে
বিসর্জনের আপন তেজে।
ছড়া: শরৎ রানী।
কবির নাম: বিমান প্রামানিক।
এলো শরৎ নীল আকাশে
সাদা মেঘের আনাগোনা,
শুভ্র কাশে মাঠ ভরেছে
মন যে বড়োই উতলা।
পদ্ম, শালুক ফুটেছে জলে,
দেখতে ভারী বেশ।
দিকে দিকে আগমনী গান
যেন খুশির আমেজ।
সংবাদ:
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৩
গাড়ির মাথায় গদি, বাক্স, বিছানা। দলে দলে গাজ়া শহর ছাড়ছেন নাগরিকরা। উদ্দেশ্য,
প্রাণরক্ষা। রাষ্ট্রপুঞ্জ এক বার্তায় বলেছিল, এই পরিস্থিতির ফল মারাত্মক হবে।
কিন্তু ইজ়রায়েলের সেনা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজ়া না ছাড়লে বিপদ!
তখন আর রেয়াত করবে না তারা।
প্যালেস্টাইনের এক সাংবাদিক একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ।
আনন্দবাজার অনলাইন সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, গাড়ির
মাথায় বাক্স, বিছানা চাপিয়ে গাজ়া ছাড়ছেন, যাকে এত দিন তাঁরা নিজের ঘর বলে
জানতেন। জানা গিয়েছে, গাজ়ার উত্তরে এই ঘটনা হয়েছে। কোথায় যাচ্ছেন তাঁরা, জানা
যায়নি।
গত শনিবার ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তার
‘সমুচিত’ জবাব দিতে বদ্ধপরিকর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকার। তারা জানিয়েছে, গাজ়ার
সাধারণ নাগরিককে মানবঢাল করছে হামাস। তাঁদের বাড়িতে লুকিয়ে থাকছে। এই হামাসকে
নিকেশ করার জন্য আগামী দিনে যা করা দরকার, সব করা হবে। ইজ়রায়েল সেনার হুঁশিয়ারি,
‘‘গাজ়ার নাগরিক, নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য দক্ষিণ খালি করে চলে যান।
হামাস জঙ্গিদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন, যারা আপনাদের মানবঢাল হিসাবে ব্যবহার
করছে।’’
কবিতার নাম: রকমারি চলা।
কবির নাম: বিমল চন্দ্র পাল।
চলা ফেরা করে সবে
গতিই জীবন,
কত রূপ চলা দেখো
কতনা ধরণ।
টগবগে ছোটে ঘোড়া
থপথপে হাতি,
শনশনে ছোটে বায়ু
কিবা তার গতি!
বাই বাই ছোটে বাইক
রেল চলে বো বো,
নদী চলে তরতর
প্লেন চলে ভো ভো।
ঘড়ি চলে টিকটিক
সুমধুর ধ্বনি,
নাড়ী চলে ধুকধুক
বাঁচে জান খানি।
প্যাক প্যাক হাঁস চলে
বারি ঝমঝম,
ধীরে চলে গবাদিরা
কিবা অভিরাম।
লাঠি হাতে চলে দাদু
ধীর তার গতি,
চলা ফেরা করে সেতো
মন্হর অতি।
জোনাকির ঝিকিমিকি
পথ দেখায় তারে,
হুশ ক'রে মোটরটা
চলে যায় দূরে।
হাত ধরে চলে নাতি
মাঝে ওঠে কোলে,
দিদার আঁচল ধরা
ধীর পায়ে চলে ।
ক্রিং ক্রিং সাইকেল
পথ দিয়ে চলে ,
ক্যাচ ক্যাচ গরু-গাড়ি
কত কথা বলে।
টুং টুং ট্রাম চলে
শহরের পথে,
মহা রবে চলে কেউ
উড়ন্ত রথে।
নানা রূপ চলা ফেরা
শেষ তো হয়না,
চলো তবে থেমে যাই
আর এগোয় না।
কবিতার নাম: বায়স সম্মেলন।
কবির নাম: দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়।
বায়সের সম্মেলন ছাদের মাথায়,
শহরের ডাস্টবিন সকলে হাতায় ,
শত শত জনগণ ক্ষুধার্ত থাকায়,
বায়সের খাবারের টান পড়ে যায়।
যেতে হয় দূরে দূরে ভাগাড়ের কাছে,
সেখানেতে শকুনের উপদ্রব আছে ,
তারই মাঝে কোকিলটা পেড়ে গেছে ডিম,
ডিম ফুটে বেরিয়েছে কোকিলের কিম।
কা কা শব্দে তারা চিৎকারে কয়,
আর যেন আমাদের ঠকতে না হয়,
সমাজের উপকারী ঝাড়ুদার পাখি ,
আমাদের প্রেমে ডুবে আছে মাখামাখি।
সকলের উচ্ছিষ্টকে করেছি আপন
সকলে উচ্ছিষ্ট তাই ভাবছে এখন।।
সংবাদ: (কলকাতা)
Pakistan War 1971
পাকিস্তানের অস্ত্র আসছে কলকাতায়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাজেয়াপ্ত রাইফেল রাখা হবে
রাজ্যের দফতরে
কলকাতার ঐতিহাসিক সম্ভারে নতুন সম্পদ যুক্ত হতে চলেছে। দীর্ঘ দিন সীমান্ত সুরক্ষা
বাহিনীর হেফাজতে থাকা পাকিস্তানি সেনার অস্ত্রশস্ত্র আসছে কলকাতায়। পুজো মিটলেই
হবে প্রদর্শনী।
|
| ১৯৭১। আত্মসমর্পণ পাকিস্তানের। |
১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কয়েকটি
অস্ত্র আসছে কলকাতায়। তা দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ। চলতি সপ্তাহেই অস্ত্রগুলি
মধ্যপ্রদেশের টেকানপুর থেকে কলকাতায় এসে যাবে। ইতিমধ্যেই তা রওনা দিয়ে দিয়েছে।
আপাতত সেগুলি কলকাতায় নব মহাকরণের এক তলার একটি ঘরে প্রদর্শিত হলেও পরে রাজ্য
সরকারের তৈরি নতুন সংগ্রহশালায় নিয়ে যাওয়ার কথা।
ঐতিহাসিক এই অস্ত্রশস্ত্র কলকাতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন পশ্চিমবঙ্গের মহাপরিপালক
ও ন্যাশপাল (অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেনারেল অ্যান্ড অফিশিয়াল ট্রাস্টি) বিপ্লব রায়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময়ে হার হয় পাকিস্তানের। সেই সময়ে
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছিল ভারতীয়
সেনাবাহিনী। সেই সব অস্ত্র রাখা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। কেন্দ্রীয়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হেফাজতে থাকা সেই সব অস্ত্র এত দিন পর্যন্ত বাংলায় কখনও
আসেনি। দীর্ঘ চেষ্টার পরে তা আসতে চলেছে।
এক বছর আগেই অস্ত্রগুলি আনতে চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন
করেছিলেন বিচারক তথা রাজ্যের সরকারি ট্রাস্টি বিপ্লব। গত ১১ সেপ্টেম্বর অনুমোদন
দেয় কেন্দ্র। বিপ্লব টেকানপুর গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে অস্ত্রগুলি নেন গত মঙ্গলবার।
এ বার তা কলকাতায় আসছে।
বিপ্লব জানিয়েছেন, মোট ছ’টি অস্ত্র আসবে কলকাতায়। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি
সেনার ব্যবহার করা রাইফেল রেমিংটন, রাইফেল মাস্কেট, লঞ্চার রাইফেল। বিপ্লব বলেন,
‘‘আমাদের দফতরের উদ্যোগে অনেক প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে।
তার মধ্যে প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিভিন্ন সময়ের
যুদ্ধসামগ্রীও। এ বার ১৯৭১ সালের যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র এসে যাওয়ায় আমাদের
সংগ্রহশালা আরও সমৃদ্ধ হল।’’
এখন ১ নম্বর কিরণশঙ্কর রায় রোডে নব মহাকরণের ১১ তলায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের
মহাপরিপালক ও ন্যাশপাল দফতর। ব্রিটিশ আমলে এই দফতরের সূচনা। কোনও সম্পত্তির
উত্তরাধিকারী না থাকলে তার দেখাশোনা করাই এই দফতরের কাজ। সেই সব সম্পদ বাবদ কোনও
আয় হলে তার অংশও পায় রাজ্য সরকার। নব মহাকরণের এক তলাতেও দফতরের কয়েকটি ঘর রয়েছে।
আপাতত পাকিস্তানি সেনার অস্ত্রগুলি সেই ঘরেই সাজিয়ে রাখা হবে। সেই সঙ্গে থাকবে
ব্রিটিশ আমলের অনেক অস্ত্রশস্ত্র।
|
| অস্ত্র হস্তান্তরের সময় রাজ্যের সরকারি ট্রাস্টি বিপ্লব রায়। |
বিপ্লব জানিয়েছেন, পুজোর পর থেকে সাধারণ মানুষ বা গবেষকেরা ওই সংগ্রহশালায় যেতে
পারবেন। আগামী দিনে কলকাতার অন্য কোথাও আলাদা করে সংগ্রশালা গড়ে তোলার
পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই তিনি রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুরসভার
সঙ্গে কথা বলেছেন। বিপ্লব বলেন, ‘‘আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছি, তাতে আগামী প্রজন্মের
গবেষণার কাজে অনেক সুবিধা হবে। বাংলার বাইরেও রাজ্যের যে সব সম্পত্তি উত্তরাধিকার
না থাকায় বেহাত হয়ে রয়েছে, তা সংগ্রহের কাজ চলছে।’’ বিপ্লব জানিয়েছেন, চলতি বছরেই
তিনি উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় গিয়ে প্রচুর প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধার করেন।
ক্রেতা সেজে গিয়ে চন্দ্রকেতুগড় সংলগ্ন হামিদপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ১৫
হাজারের মতো প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধার করেন। যার মূল্য নাকি ১০০ কোটি
টাকারও বেশি।
শুধু অন্য জায়গা থেকে উদ্ধার করাই নয়, বিপ্লবের নিজের দফতর থেকেও উদ্ধার হয়েছে
অনেক ঐতিহাসিক সামগ্রী। ওই দফতরের একটি ঘরেই দীর্ঘ দিন ধরে বন্দি ছিল অনেক বাক্স।
সেগুলি খুলতেই উদ্ধার হয় প্রচুর দুর্লভ ছবি। উদ্ধার হয় পুরনো কলকাতার ফোটোগ্রাফ
এবং তার গ্লাস প্লেট নেগেটিভ। দফতরের অধীনস্থ এই সব সামগ্রীর সঙ্গেই এ বার যুক্ত
হতে চলেছে পাকিস্তানি সেনার অস্ত্রও। আগামী দিনে এ সবের ‘ডিজিটাল সংগ্রহশালা’
তৈরির পরিকল্পনাও করেছেন বিপ্লব।
কবিতার নাম: ভোরের পাখি।
কবির নাম: তপন মাইতি।
ভোরের বেলা জাগায় পাখি
ছাতিম গাছের ডালে
ঘুম ভাঙিয়ে বলল ডাকি
আসি শরৎকালে।
শরৎকালে সবুজ ক্ষেতে
নিবিড় মাটির গানে
কাশবন দুলে ওঠে মেতে
শিশির ভেজা ঘ্রাণে।
বলবে কি?গান শুধায় মধু
পুজোর গানে হাসে
উঠে তড়াৎ পড়ে যদু
পরীক্ষার ওই মাসে!
প্রকৃতি মা সবার মাঝে
ভোরের পাখি তুমি
ভরিয়ে দাও জ্যোৎস্না সাঁঝে
ধন্য জীবন ভূমি।
কবিতার শিরোনাম : নীল সাদা মেঘ।
কবির নাম : প্রদীপ গুহ।
শরতের হৃদয় খোলা আকাশ
পেঁজা পেঁজা তুলোর মতো নীল সাদা মেঘ,
উড়ে যায় অনায়াসে সুদূরের পথে।
একদিন আকাশটা শুধায় মেঘ বালিকারে,
বলো তুমি,দাঁড়াবে মনের কোন দেশে?
মেঘ বলে শোন ভাই,
সে কথা বলার সাধ্য আমারও তো নাই
সবই ইচ্ছা তার ----
যে আমাকে উড়িয়ে নিয়ে চলে,
সে অতীব প্ৰিয় বন্ধু আমার
লোকে যাকে 'বাতাস' বলে ডাকে।
সংবাদ: (খেলা)
ICC World Cup 2023
অতীতের মতোই ম্যাচ ছিনিয়ে নিতে পারেন কোহলি, তাঁকে কী ভাবে থামাতে পারে বাবরের
পাকিস্তান?
ভারতের মাটিতে রোহিতদের বিরুদ্ধে প্রথম বার খেলবেন পাকিস্তানের সব ক্রিকেটারই।
মাঠের বাইরের চাপ সামলাতে হবে তাঁদের। তবু ভারতের এক জনকে সামলে দিতে পারলেই
অর্ধেক কাজ হয়ে যাবে তাঁদের।
FIFA World Cup Qualifier
আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নেমে গোল পেলেন না মেসি, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আটকে গেল
ব্রাজিল
আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করতে পারেননি লিয়োনেল মেসি। তাঁর মারা কর্নার গোল পোস্টে
লেগে বার হয়ে যায়। তাতে যদিও আর্জেন্টিনার জয় পেতে অসুবিধা হয়নি। কিন্তু
ব্রাজিল জিততে পারেনি।
কবিতার নাম: পড়া-পড়া।
কবির নাম: অনল হেমব্রম।
পড়া পড়া করবো খেলা
তাতেই নাকি পথের মেলা,
করবো নাকো হেলা-ফেলা
হেঁসসা-হেঁইয়ো মারবো ঠেলা।
পড়া নিয়ে গাঁথবো ছড়া
চাপলো মাথায় শীলের নড়া,
নাড়তে গিয়ে ছড়ার কড়া
আর হলো না বই এর পড়া।
উঠে পড়া বসে পড়া
আরো আছে শুয়ে পড়া,
বই এর সামনে নুয়ে পড়া
সুযোগ পেলে ঘুমিয়ে পড়া।
স্কুলের পড়া বাড়ীর পড়া
পিঠের উপর বই এর তাড়া,
মাথার উপর এ কি খাঁড়া
সোজা কৈ আর শিরের দাঁড়া।
মোবাইলে পড়তে পড়া
ফ্রী ফায়ারের প্রেমে পড়া,
জীবন পথে পিছলে পড়া
আর হলো না জীবন গড়া।
প্রেমে পড়া ট্রেমে পড়া
অনুভূতির বাঁধন ছাড়া
মায়ার ছাঁদে ফাঁদে পড়া
শূণ্যে ভরাই জীবন ঝড়া।
ছড়া: ব্যাঙা-বেঙি আলাপ।
কবির নাম: দেবব্রত মাজী।
শিশির ভেজা সকাল বেলায়
ঘাসের আগায় জল
পাখিরা সব খেলছে মজায়
চোখ
করছে ছলছল।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নেইকো
পাখি শালিক।
বাজে না আজ নুপুর
ব্যাঙা
বেঙির নালিশ।
এবার লাগাবে ঘুঙুর
পার্কের
হবে মালিক।
কবিতার নাম: শ্রমজীবী।
কবির নাম: উদয় নারায়ণ বাগ।
মাঠেঘাটে বেলা কাটে হয় সাঁঝবেলা,
একা চাষি খেলে চলে জীবনের খেলা।
জলে ভিজে রোদে পুড়ে অসহায় চাষা,
ঝোপঝাড় নদীনালা যেন নিজ বাসা।
হাড়ভাঙা খেটে চলে দিন প্রতিদিন,
দুঃখ তবু লেগে থাকে করে কত ঋণ।
ঘাম ঝরে ঝরঝর কাজে অবিচল,
ফসলের দাম নাই শ্রম হয় জল।
চাষিদের তরে খায় সারা দেশবাসী,
প্রাণ পায় রুখা ভূমি জাগে তাই হাসি।
মাঠে মাঠে চারা বোনে হাসি নিয়ে মুখে,
প্রকৃতির প্রতিকূলে কাঁটা বিঁধে বুকে।
পৃথিবীর শ্রমিকের একি দশা হয়,
খেটেখুটে সারা দিন ব্যথা নানা সয়।
খিদে পেটে কাল যায় কাঁদে মন দুখে,
শতো শতো ব্যথাগুলো চাপে তারা বুকে।
ভাঙা ঘরে জল পড়ে রাত কাটে জেগে,
সবকিছু ভুলে মুখে হাসি থাকে লেগে।
মনেপ্রাণে দেশ তরে করে সদা কাজ,
তাও তারা চায় না তো জগতের রাজ।
আমাদের সাথে
|
|
আজ বিকেলে আমাদের অনুষ্ঠান সবাইকে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাই | |
কবিতার নাম: ঘুম।
কবির নাম: সুশান্ত সেন।
অনেক কিছু ছাড়তে পারি ছাড়তে নারি আলস্য
অনেক দিনের সঙ্গী সে যে অনেক দিনের সু - বশ্য ।
সকাল বেলায় ঘুম ভাঙলে আবার ঘুমাই জড়িয়ে বালিশ
দুপুর কখন গড়িয়ে আসে । চঞ্চু হাঁকে তেল মালিশ।
খাবার সময় ঘুমের পিশি চোখটা বেজায় জড়িয়ে ধরে
রং বেরংয়ের স্বপ্ন দেখি ঘুমের মধ্যে আতন্তরে ,
দুপুর বেলা খাবার পরে একটু খানি ঘুম নি দিলে
পেটের ভেতর তবলা বাজে, চমকায় কি একটু পিলে !
বিকেল হলে চা টা খেয়েই ঢুলতে থাকা বদ অভ্যাস
ঘুমের মাসী তখন এসে ঘাড়ের ওপর ফেলছে শ্বাস, যো
সন্ধ্যে বেলা একটু হেঁটে থাকছি বসে অপেক্ষাতে
জমিয়ে ঘুম দিতেই হবে পড়ে পাওয়া একটা রাতে।
কবিতার নাম: সঙ্কটে বনানী।
কবির নাম: রামপ্রসাদ পাল।
গড়ে উঠেছে নগর-শহর
কত না কংক্রিট পথ?
কালের প্রবাহে কমছে বন
ক্রমে বাড়ছে আহার সঙ্কট,
মোরা বন্যপ্রাণ আজি বিপন্ন বেশ!
রবে নাকো মোদের নগর,দেশ।
খবর শুনে মন্ত্রী মশাই, বাঘ
চুলকে মাথা,বলে ওঠেন সর্বনাশ....
বড্ড জটিল বিষয় খানা,
আগামীতে খাবে কী ছানা-পনা?
আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন
অস্থির হয়ে ভাবতে থাকেন,
ভেবে পান না পথের দিশা
কেমনে উঠবে সুখের উষা?
এমন সময় ভৃত্য এসে
অন্ধকারের ভ্রুকুটি দেখে
জ্বালিয়ে দিলে আলোবাতি,
বললে...হুজুর,আদাব-সেলাম!
একখান সু-খবর আছে,
আপনার সহিত সাক্ষাতের তরে,
শেয়াল পন্ডিত বসেছেন বৈঠক ঘরে।
সংবাদ শুনেই মন্ত্রী মশাই
সময় অল্প ব্যায় না করে,
আপন শয়ন কক্ষ ছেড়ে
দ্রুত পা-য়ে ধায় সেদিক পানে।
যুক্তি কৌশল পরামর্শ শেষে
জঙ্গল জুড়ে ঢি..ঢি পিটিয়ে,
সভায় ডাকেন সকল রাজ্যবাসীরে।
বন্য রাজা গুহা ছেড়ে
সভায় আসেন কেশর নেড়ে।
সর্বগ্রাসী মানব লালসা হতে
বনানী বাসভূমির আবরণ রক্ষার্থে,
সকল প্রজার সম্মতি ক্রমে,
নির্ণয় নিলে রাজা,মন্ত্রী,পন্ডিত সর্ব জনে
সর্বস্ব দিয়ে অরণ্য আগলাইতে হবে।।
বিজ্ঞান
সুধী,
প্রণামান্তে জানাই
দৈনিক খবর আমাদের পত্রিকার পক্ষ থেকে একরাশ শুভেচ্ছা। আনন্দের
মূহুর্ত যে, আসামের হাইলাকান্দি জেলা থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা দৈনিক
সংবাদপত্র খবর আমাদের সতন্ত্র ধারার সংবাদ প্রতিবেদন, সাহিত্যে- সংস্কৃতির
বিভিন্ন আঙ্গিক সহ আপনাদের উৎকৃষ্টমানের ভাবনা দিয়ে আমরা পথচলা শুরু করেছি ।
সংবাদ-সাহিত্যের হাটে ভালো-মন্দ মিশিয়ে বাজার চলেছে তালমিলিয়ে, কিন্তু আমরা
তালমিলিয়ে ক্ষান্ত হতে চাই না। আপনি যদি 'খবর আমাদের '-এর হাত শক্ত করে ধরেন
তাহলে তিলে তিলে আমরা একটা উন্নত ভাবনা, একটা সুন্দর সকাল আগামীর কাছে পৌঁছে
দিতে পারব। তাই, আসুন খবর আমাদের পত্রিকার মধ্য দিয়ে আমরা একটা
সুন্দর সকাল-এর স্বপ্ন বুনন করি।
বিনীত...
সম্পাদকদ্বয়
দৈনিক খবর আমাদের
গুদামঘাট রোড, হাইলাকান্দি। আসাম
যোগাযোগ : 9435105347 / 95778 21411
ছড়া: হারিয়ে গেছে।
কবির নাম: বদ্রীনাথ পাল।
হারিয়ে গেছে পাখির কুজন তাদের কলতান-
তার বদলে তারস্বরে শুনছি কলের গান !
ক্যাঁচোর কোঁচর গরুর গাড়ি, শোভা দিতো ছই-
তার জায়গায় যন্ত্রদানব, অবাক চেয়ে রই !
ঘোষের পুকুর থাকতো ভরে শাপলা শতদল-
পুকুর বুঁজে সেইখানেতে হাটের কোলাহল !
কচিকাঁচার হট্টগোলে ভরতো খেলার মাঠ-
জঙ্গল আজ সেই মাঠেতে লোহা ইট আর কাঠ !
এমনি করেই হারিয়ে গেছে আমার সাধের গ্ৰাম-
বুকের মাঝে তবু লেখা 'বাবিরডি' যার নাম।
ছড়া: বোধ।
কবির নাম: বিবেক পাল।
কথোপকথন নেই বহুদিন
সহসা মুঠোফোনে ভেসে আসে
দুঃসংবাদ----
শরতের ভিজে বাতাসে যন্ত্রণার কাতর-স্বর
নদী জলে হিজলের ঝরা ফুলে
শিশির জড়িয়ে থাকে বেদনায় নাকি ভালোবেসে
সেই জানে ----
অসময়ে চলে গেলে তুমি
অদ্ভুত এক আবেশে চোখ বুজে আসে
" স্বপ্ন নয়--- শান্তি নয়--- ভালোবাসা নয় ,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয় !
আমি তারে পারিনা এড়াতে--- "
সংবাদ:
পুজোর আগে ভিড় জমছে পাহাড়ে, পর্যটকদের আনন্দ দিতে ‘জয় রাইড’ বেড়ে গেল
দার্জিলিঙে
ভয়াবহ দুর্যোগের পর সিকিম না গিয়ে এখন পর্যটকেদের অনেকেই দার্জিলিং যাচ্ছেন।
অবস্থা যা, তাতে পুজোর সময় দার্জিলিং শহরে পা রাখার জায়গা থাকবে না বলে মনে
করছেন হোটেলমালিকরা।
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৩
সামনে পুজো। তার পর শীত। ভরা মরসুম। তাই পর্যটকদের জন্য বাড়তি চারটি জয়রাইড
চালানোর সিদ্ধান্ত নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। শুক্রবার থেকেই সেই বাড়তি
টয় ট্রেনগুলো চলাচলও শুরু করে দিয়েছে। রেল সূত্রে খবর, আগামী ৫ জানুয়ারি অবধি
এই বাড়তি ‘জয় রাইড’ চলবে। এ ছাড়া পুজোর ভিড় সামাল দিতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত
রেলও চার জোড়া ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, পুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গ ও
দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে প্রচুর যাত্রী যাতায়াত করেন। সেই ভিড় সামাল দিতে এই
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ দুর্যোগের পর সিকিম না গিয়ে এখন পর্যটকেদের অনেকেই দার্জিলিং যাচ্ছেন।
অবস্থা যা, তাতে পুজোর সময় দার্জিলিং শহরে পা রাখার জায়গা থাকবে না বলে মনে
করছেন হোটেলমালিকরা। আর পর্যটক এলেই টয় ট্রেনের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই
দেরি না করে শুক্রবার থেকেই চারটি বাড়তি ‘জয় রাইড’ চালানো শুরু করে দিল
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। একটি ট্রেন দার্জিলিং থেকে ছাড়বে সকাল ৯টা
২০মিনিটে। আবার ঘুম স্টেশন থেকে ওই ট্রেনটির ছাড়ার সময় ১০টা ২৫মিনিট। দ্বিতীয়
‘জয় রাইড’ ছাড়বে ১১টা ২৫মিনিটে। সেটি ঘুম স্টেশন থেকে ফিরবে ১২টা ৩০মিনিটে।
অন্য টয় ট্রেনটি দার্জিলিং থেকে দুপুর ১টা ২৫মিনিটে ছাড়বে। ঘুম থেকে ফিরবে ২টো
৩৫মিনিটে। আর একটি জয়রাইড ছাড়বে দুপুর ৩টা ৩০মিনিটে। ঘুম পৌঁছে গিয়ে সেখান থেকে
৪টা ৩৫মিনিটে ছাড়বে।
Platform
Sanjoy Banerjee
Platform, Solitary Platform
I am the only man
Waiting for the arrival-
Express Train.
Waiting and waiting
Train was late in coming.
police man around
here and there.
Night, deep night
I am sleeping on the bench.
One road child and her mother was sleeping.
I was strolling along the Platform.
waiting for the arrival of the Amritsar Express Train.
কবিতার নাম: মহালয়া।
কবির নাম: নিতাই শর্মা।
আশ্বিনের শারদ প্রাতে শিউলির সুগন্ধ ছড়ায়,
মহালয়ার প্রভাতে শিশির বিন্দু ঘাসের ডগায়।
নীল আকাশে সাদা মেঘেরা ভেসে বেড়ায়,
মৃদুমন্দ প্রভাতী হাওয়ায় সবে রাস্তায় বেড়ায়।
আকাশবাণীর মহিষাসুরমর্দিনী পাঠ পরম্পরা,
বানী কুমার রচিত চন্ডিকাব্য আজো মনোহরা।
পঙ্কজ মল্লিকের সঙ্গীত পরিচালনার নেই তুলনা,
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সুমধুর গ্রন্থনা চির অনন্যা।
উনিশশো তিরিশে বানী কুমার করেন রচনা,
বসন্তেশ্বরী নামে তখন করেন উদ্ভাবনা।
বানী কুমার করেন এর সুন্দর উপস্থাপনা,
বসন্তের ষষ্টী তিথিতে প্রথম করেন পরিবেশনা।
উনিশশো একত্রিশে নাম দেন মহিষাসুরমর্দিনী,
আজো মহালয়া তিথিতে প্রচার করে আকাশবাণী।
হিন্দু বাঙালির নিকট মহালয়া হয় মহাপার্বণ,
দেবী আরাধনার পূর্বে মহালয়ায় করে পিতৃতর্পণ।
মহালয়ার ক্ষণে অক্ষয় পূর্ব পুরুষের আত্মারা ঘুরে,
অতৃপ্ত আত্মারা তৃপ্ত হয় তাদের তিল তর্পণ করে।
কথিত আছে মাতৃ আরাধনার পূর্বে তর্পণের পরে,
হিন্দু বাঙালিরা দেবীপক্ষে মাতৃ আরাধনা করে।
মহালয়ার পূণ্য তিথিতে দেবী কৈলাশ ত্যাগ করে,
পিতৃগৃহের উদ্দেশ্যে পদার্পণ করে ধরনীর তরে।
পিতৃপক্ষের শেষ হয় শারদ অমাবষ্যা তিথিতে,
আনন্দধারা প্রবাহিত হয় মাতৃপক্ষের শুরুতে।
কবিতার নাম: দীননাথ মাস্টার।
কবির নাম: দীপক রঞ্জন কর ।
হাতে চক ডাস্টার
দীননাথ মাস্টার,
প্রবেশ শ্রেণীকক্ষে
পাঠদান লক্ষ্যে।
থামিয়ে কোলাহল
মনোযোগে ছাত্রদল,
চোখদুটো পাকালে
ভয়ে কাবু সকলে।
পাঠ দিতেন নিষ্ঠায়
অকৃপণ চেষ্টায়,
কার কোথায় ঘাটতি
নজর দেন বাড়তি ।
অভিপ্রায় একটা-ই
ছাত্রের শুভ চাই,
শ্রম দেন আশা তা-ই
মেধাবী হওয়া চাই।
দীননাথ মহাশয়
স্নেহশীল দয়াময় ,
তাই তিনি সর্বত্র
শ্রদ্ধাভাজন পাত্র।
সংবাদ:
শিক্ষকের অভাবে সঙ্কট স্কুলে, ইতিহাস পড়ান কম্পিউটার স্যার
সন্দেশখালি ১ ব্লকের বাউনিয়া প্রভাস রায় হাইস্কুলে পড়ুয়া ৫৬৫ জন। শিক্ষক পদ আছে
১২টি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ৬ জন।
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৩ (বসিরহাট)
একাধিক ব্লকে বহু স্কুলে শিক্ষকের অভাব দেখা দিয়েছে। যার জেরে এক বিষয়ের
শিক্ষককে অন্য বিষয় পড়াতে হচ্ছে। এই অবস্থা বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন ব্লকের
একাধিক স্কুলে।
সন্দেশখালি ১ ব্লকের বাউনিয়া প্রভাস রায় হাইস্কুলে পড়ুয়া ৫৬৫ জন। শিক্ষক পদ আছে
১২টি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ৬ জন। ইতিহাস, জীবন
বিজ্ঞান, অঙ্ক, শারীরশিক্ষা, সংস্কৃত ইত্যাদি বিষয়ে কোনও শিক্ষক নেই। ফলে
ইতিহাস পড়াচ্ছেন স্কুলের কম্পিউটার প্রশিক্ষক। জীবনবিজ্ঞান, অঙ্ক শেখাচ্ছেন
কর্মশিক্ষা ও ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষকেরা। পড়াশোনার মান কমছে বলে মেনে নিয়েছেন
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিব্যেন্দু মাহাতো। তিনি বলেন, “শিক্ষক নেই,
তাই যেমন তেমন করে ক্লাস চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” অভিভাবক ইয়াকুব মোল্লা, ফিরোজ
সর্দারেরা বলেন, “পড়ুয়াদের ক্ষতি হচ্ছে। নতুন স্থায়ী শিক্ষক দ্রুত এলে ভাল হয়।”
এই ব্লকের ন্যাজাট নেতাজি বিদ্যামন্দির স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ১০৪৭ জন
পড়ুয়া আছে। শিক্ষক আছেন ২৩ জনের মধ্যে মাত্র ১২ জন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক না
থাকায় এই বিষয়টি একাদশ শ্রেণিতে নিতে পারে না পড়ুয়ারা। জীবনবিজ্ঞান, সংস্কৃত,
কর্মশিক্ষা, শারীরশিক্ষার কোনও শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষ্ণু
দত্ত বলেন, “২০২১ সালে এক সঙ্গে ৫ জন শিক্ষক চলে যান। সেই থেকে বহু পদ শূন্য।
পড়াশোনা মান কমছে। যতটা পারছি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি আংশিক সময়ের শিক্ষক বা
পার্শ্বশিক্ষকদের দিয়ে।”
কবিতার নাম: ভাঙন।
কবির নাম: অতুল সেন।
মনোবল বাড়াতে চাই মা
শক্তি দাও মা হৃদয়ে,
আসুক হাজারো সমস্যা
সমাধান যেনো হয়রে
ঝড়ের থেকে কম নয়
পারিপার্শ্বিক পরিবেশ,
ঝড়টা যদিও ক্ষণিকের
পরিবেশটা যে সারাজীবনের..
ভাঙবে জানি হৃদয় আমার
গড়ে দিও মা তুমি !
সবাই শুধু স্বার্থের জন্য
লোক চিনতে যে পারি না,
দিনের পর দিন
যাই আমি ক্ষয়ে ক্ষয়ে...
মনোবল বাড়াতে চাই মা
শক্তি দাও মা হৃদয়ে।
কবিতার নাম: রাগ করো না।
কবির নাম: বাসুদেব সরকার।
রাগ করো না ছোট্ট মনি
একটু তুমি হাসো,
দূরে দূরে থেকো না আর
আমার কাছে আসো।
তোমার সুন্দর মুখখানি তো
ভার করো না রাগে,
গোমড়া মুখে রাম গরুড়ের
ছানার মতো লাগে।
তোমার জন্য আনবো কী কী
দাও এক্ষুনি বলে,
আমার কি আর ভালো লাগে?
তুমি যে রাগ হলে।
এবার তুমি মনপ্রাণ খুলে
দাও না মুখে হাসি,
হাসির রেখা মুক্তো হয়ে
ঝরবে রাশি রাশি।
কবিতার নাম: শোকাবহ আগস্ট।
কবির নাম: মোহাঃ নাসিমুদ্দিন হক।
বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
যেমন তাড়িয়েছে অপশাসন ;
তেমনি পেয়েছিলাম স্বাধীনভাবে
বিচরণের এক অভিন্ন উচ্চ আসন।
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যায় বীরদের
হারানো শোকাবহের বিকার ;
কিন্তু বেশি স্বাধীনতা দিয়েছে
বৈষম্য আর জুলুমের শিকার !!
এতো রক্ত দিয়েও ন্যায্য প্রাপ্য
অর্জনে হয়েছি চরম ব্যর্থ;
তা হওয়ায় তো স্বাভাবিক,
আমরা যে দেখি শুধু নিজ স্বার্থ।
কিভাবে কার সম্পদ আর অর্থ
কৌশলে পারি নিতে কেড়ে !!
হারাম হালাল বাচবিচার না করে
এগিয়ে যেতে চাই সবার থেকে বেড়ে।
অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
করলেই লাঠি নিয়ে আসে তেড়ে ;
রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার উদ্দেশ্য কি
বিপথগামী হবে সততা ছেড়ে !!?
প্রকৃত স্বাধীনতা নিয়ে তাই ভাবার
অন্তিম পর্যায়ে গেছি পৌঁছে;
ভারতীয় পরিচয়ে নতুন স্বাধীনতার
স্বাদ পেতে মেতে ওঠার সময় এসেছে।
বিশ্ব মান দিবস
কবিতার নাম: মিত্র।
কবির নাম: অনিমেশ বিশ্বাস।
কোন গলিতে বসত তোমার
কোথায় তোমার চিত্র
অনেক খুঁজেও পাইনে খুঁজে
আমার সাধের মিত্র !
যেথায় তুমি ভর-দুপুরে
ভজন হাঁকো গুনগুনিয়ে
সেথায় আমি মাতাল হয়ে
যায় যে মরি তলতলিয়ে ।
দূর থেকে তো কত্ত শুনি
তোমার কথা তোমার বাণী
পুলক হাসির সঙ্গে আমার
যায় যে ঝরে অশ্রু পানি ।
বড্ড তখন লাগে ভালো
রসের ধারা উথলে পড়া
সুদূর থেকে যাহাই শুনি
যাহাই দেখি আদল ভরা ।
কবিতার নাম: আছে কি জানা উত্তর।
কবির নাম: আফরিনা সুলতানা ঈশিতা।
কে দেয় তোরে,রোজ গোসলে
বালতি ভর্তি পানি!
কে দেয় তোরে,রাত গভীরে
বানিয়ে ফুচকা আর টকপানি?
কে দেয় তোরে,গোসল আগে
লুংগি,গামছা গুছিয়ে,
কে তবে আজ দেয় তোকে
নিজ হাতে খাইয়ে?
পাবিনারে আমার মতো
গভীর ভালোবাসার মানুষ,
তুই ছিলো আমার জীবনে
নিত্য রঙিন ফানুস।
কে দেয় তোরে, রোদ দুপুরে
আমের ভর্তা মাখা,
গভীর রাতে লোড শেডিংয়ে
কে নাড়ে হাত পাখা?
মহালয়া এবং বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র
জেনে নিন কিছু অজানা তথ্য
এখনও তাঁকে মানুষ চেনে শুধুই মহালয়া দিয়ে! অথচ অসীম প্রতিভাধর মানুষটির অনায়াস যাতায়াত ছিল কত বিচিত্র ক্ষেত্রে! যাঁর শেষবেলা কেটেছে সতীর্থদের অনাদরে, অবহেলায়, অপমানে।''বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র''।
১৯৭৬সাল।আকাশবাণীর কর্তৃপক্ষ ঠিক করলেন চিরাচরিত মহিষাসুর মর্দিনী’ বীরেন্দ্রকৃষ্ণর বদলে উত্তমকুমারকে দিয়ে করাবেন।তাঁদের গোপন বৈঠকে বাদ পড়লেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।এই নতুন উদ্যোগ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বীরেনদা।পরিবর্তিত ‘মহিষাসুর মর্দিনী’র স্ক্রিপ্ট লিখেছিলেন ডঃগোবিন্দগোপাল মুখোপাধ্যায়।ভদ্রলোক ছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের বিভাগীয় প্রধান।নির্দিষ্ট দিনে রেডিয়োয় বাজল নতুন অনুষ্ঠান ‘দেবীং দুর্গতিহারিণীম্’।এবং চূড়ান্ত ফ্লপ।সমালোচনার ঝড় উঠল।বেতার অফিস ভাঙচুর হল। অফিসের সামনে লোকে গালিগালাজ করতে লাগল।অনেকের এমনও মনে হয়েছিল যে মহালয়ার পুণ্য প্রভাত কলুষিত হল! এ বার বুঝি অমঙ্গল কিছু ঘটবে! উত্তমকুমার কিন্তু এ দায়িত্ব নিতে চাননি।তিনি বীরেনদার কাছে গিয়ে তাঁর অস্বস্তি ও অযোগ্যতার কথাও বলে ছিলেন।বীরেনদা অবশ্য তাঁকে আশ্বস্ত করে উৎসাহই দিয়ে ছিলেন।সম্প্রচারের দিন খাটে বসে ছেলের সঙ্গে মন দিয়ে বীরেনদা শুনে ছিলেন উত্তমকুমারের মহালয়া।সবটা শোনার পরে বীরেনদা নাকি শুধু এটুকুই বলেছিলেন, “লোকে যদি নেয় নিক।”এ কথা শুনেছি বীরেনদার পুত্র প্রদ্যোৎকুমারের কাছে।বেতার কর্তৃপক্ষ একেবারে গোপনে বীরেনদাকে কিছু না জানিয়ে এই নতুন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করায় খুব কষ্ট পেয়েছিলেন।বলে ছিলেন,“ওরা একবার আমায় জানালোও না। আমি কি নতুন কিছুকে কোনও দিন বাধা দিয়েছি?”বহু মানুষের চাহিদায় সে বছরই ষষ্ঠীর দিন আবার বীরেন্দ্রকৃষ্ণর মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার করা হয়। আশ্চর্যের কথা হল, এই সম্প্রচার হবে শুনে অভিমান, ক্ষোভ সব ভুলে বীরেনদা কাজে নেমে পড়েছিলেন।প্রথম দিকে টেপরেকর্ডিং করা অনুষ্ঠানের চল হয়নি।আকাশবাণীতে সব অনুষ্ঠানই হত লাইভমহিষাসুরমর্দিনী ’তে যাঁরা অংশ নিতেন তাঁরা অনেকেই আগে মহড়ার জন্য চলে আসতেন বেতারে। মহড়ার অবসরে চলত চা-পান,রঙ্গরসিকতা। একবার হয়েছে কী, যথারীতি কেউ আড় হয়ে শুয়ে পড়েছেন,তো কেউ বা ঘুরছেন এদিক-সেদিক। বাণীকুমার বসে আছেন রেকর্ডিং-এ।ও দিনের আগে ভাষ্য অংশ পাঠ করা হত স্বাভাবিক কথ্যভঙ্গিতে।সুরে নয়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ তাঁর নিজস্ব ধারায় চণ্ডীপাঠ করছিলেন সুরেলা কণ্ঠে। হঠাৎই অলস রসিকতার ছলে বাংলা ভাষ্যটিও স্তোত্রের সুরের অনুকরণে বলতে শুরু করলেন। তাতে চারিদিকে বেশ একটা মৃদু হাসির ভাব জাগল।.কিন্তু বাণীকুমার দ্রুত রেকর্ডিং রুম থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, “আরে আরে থামলে কেন?বেশ তো হচ্ছিল! হোক! হোক না ওই ভাবেই।”বীরেন্দ্রকৃষ্ণ হেসে বললেন, “আরে না না একটু মজা করছিলাম!”কিন্তু বাণীকুমার গভীর আগ্রহ নিয়ে বললেন,“মোটেই না! দারুণ হচ্ছিল! ওইভাবেই আবার করো তো।” বীরেন্দ্রকৃষ্ণ আবার শুরু করলেন,“দেবী প্রসন্ন হলেন।”সেদিনই বাংলার ইতিহাসে সংযুক্ত হল এক নতুন মাত্রা। অন্য ধারায় মহালয়ার পাঠ। দুর্গাপুজোর কার্টেন রেজার! এক হলদে রঙের রোদ্দুরে মায়া যেন! শরৎ এসে হাজির হয় পুজোর আকাশে।অনেকের বাড়িতে এক সময় রেডিয়ো এসেছিল মহালয়ার আগমনী হিসেবেই, আর এই রেডিয়ো বলতে আমরা বুঝতাম তখন ওই মানুষটিকে। যাঁর নাম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।দেশে-বিদেশে মহিষাসুরমর্দিনী নিয়ে এত উচ্ছ্বাস, অথচ বীরেনদা কিন্তু সে সবে বিন্দুমাত্র সাড়া দিতেন না। বলতেন, “বেশ মজা আর কি, পুরাণ পড়ব না,চণ্ডীপাঠ করব না,শুধু বৈঠক খানায় বসে স্টিরিয়োতে মহিষাসুরমর্দিনী শুনে কর্তব্যকার্য শেষকাজীদা (নজরুল) হলে কী বলতেন জানো?বলতেন,দে গরুর গা ধুইয়ে,যত্তো সব!”স্টাফ আর্টিস্ট হয়েই অবসর নিয়েছিলেন বীরেনদা। পেনশন জোটেনি। আসলে আখের গোছানোর কথা কখনও তো ভাবেননি।অবসরের পরে,শেষ পর্যন্ত ‘মহাভারতের কথা’বলার জন্য ক’টা টাকা পেতেন।ক্রমশ স্মৃতিভ্রংশ হয়ে আসছিল।তাতে অস্বস্তিতে পড়ছিলেন তখনকার প্রোগ্রাম অফিসার।সেই অনুষ্ঠানও আর করানো গেল না! তখন অর্থাভাব মেটাতে পাড়ায় পাড়ায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে বেড়াতে লাগলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।সেখান থেকেও যে বেশি কিছু পেতেন, তা’ও নয়।সামান্য কিছু জুটত।বড় অভিমান ছিল তাঁর।মুখে কিছু বলতেন না,আমি বুঝতাম কেন এই অভিমান।আকাশবাণীর এমেরিটাস প্রোডিউসার-এর মতো সম্মাননার পদ জোটেনি তাঁর।বলতে গেলে কিছুই মেলেনি,না কোনও সরকারি খেতাব,না পদ্মশ্রী পদ্মভূষণ।মিলেছে তো কেবল গুচ্ছের চাদর আর উত্তরীয়!রেডিয়ো-র মস্ত দায় বয়ে বেড়িয়েছেন চাকরির শেষ দিন পর্যন্ত। অথচ এমন মানুষকেও কী ভাবে যে বারবার অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে! একবারের কথা বলি।অবসর নেওয়ার পর রেডিয়োয় কী একটা কাজে এসেছিলেন বীরেনদা।ঢুকতে গিয়ে বাধা পেলেন।সিংহ নামের একজন সিকিউরিটি গার্ড বীরেনদার কাছে ‘পাস’ চেয়ে বসল।সেদিন মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল ওঁর, থরথর করে কাঁপছিলেন,ফর্সা চেহারায় শিরা গুলো দপদপ কর ছিল।কেবলই চিৎকার করে বলছিলেন, “জন্ম দিয়েছি রেডিয়োকে আমি! জন্ম দিয়েছি! আমিই জন্ম দিয়েছি!আমার কাছে পাস চাইছ? পাস?” মনে হচ্ছিল এ শুধু চিৎকার করে ক্ষোভ উগরে দেওয়া নয়,এর গভীরে কি লুকিয়ে আছে কান্নাও? দৃশ্যটা আজও কিছুতেই মন থেকে তাড়াতে পারি না।আকাশবাণী-তে বীরেনদা একটা ঘোরানো চেয়ারে বসতেন।আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ আমায় সেই চেয়ারটাই ব্যবহার করতে বলেছিল।শুনে আঁতকে উঠেছিলাম। অসম্ভব! এ আমি কিছুতেই পারব না।কোনও ভাবেই রাজি হইনি।তখন অন্য চেয়ার এসে ছিল।আর কী আশ্চর্য দেখুন, কালে কালে কিংবদন্তি ওই মানুষটির স্মৃতি জড়ানো সেই চেয়ারটির ঠাঁই হল আকাশবাণী-র অন্ধকার স্টোর রুমে! অবসরের পরেও বীরেনদাকে দেখেছি আকাশবাণী তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কাজ নেইএ ঘর.ও ঘর করছেন। বড় মায়া ছিল যে বাড়িটির প্রতি! বীরেনদাকে ও ভাবে ঘুরতে দেখে আমার কেবলই মনে হত,এ কি সেই জলসাঘর-এর বিশ্বম্ভর রায়? ক্রমক্ষীয়মাণ জামিদারি জমানার শেষ প্রতিভূ! নিজের সাম্রাজ্যকে হাতড়ে বেড়াচ্ছেন ।হারানো দিনগুলো ফিরে পেতে চাইছেন।নিজেদের পরিবার নিয়ে খুব গর্ব ছিল বীরেনদার। জন্মেছিলেন ১৯০৫-এর ৪ অগস্ট।কলকাতার আহিরীটোলায়। বলতেন ,“আমরা ছিলুম সুন্দর চেহারার পরিবার।আমাদের চেহারা যেমন চমৎকার ছিল,রংও ছিল টকটকে ফর্সা।বাবা সুন্দর মুখ পছন্দ করতেন।আমার বন্ধুদের মধ্যে ভাল চেহারা যাদের, তাদের ডেকে নিয়ে কথা বলতেন।যাদের চেহারা অন্যরকম ,তাদের দিকে ফিরেও চাইতেন না। ”ঠাকুমা যোগমায়া দেবীর কাছেই বীরেনদার সংস্কৃত শিক্ষা।সেখান থেকেই বোধহয় ‘চণ্ডীপাঠ’-এ মন গিয়েছিল বীরেনদার।স্মৃতি এতই প্রখর ছিল যে আট বছর বয়সে চণ্ডীপাঠ করে সকলকে চমকে দিয়ে ছিলেন।ঠাকুমাই শেক্সপিয়ার আর গিরিশচন্দ্রর নাটক পড়ে পড়ে শোনাতেন ছোট্ট বীরেন্দ্রকৃষ্ণকে।১৯২৮সালে স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন।তারই ফাঁকে ফাঁকে চলেছিল কম্বুলিয়াটোলায় ‘চিত্রা সংসদ’ ও সাহিত্যি সাধক নলিনীরঞ্জন পণ্ডিত প্রতিষ্ঠিত ‘অর্ধেন্দু নাট্য পাঠাগারএ গানবাজনা ও অভিনয় চর্চা।১৯২৮-এ ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ের সদর দফতরে যোগ দিয়েছিলেন বীরেনদা,কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকত ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসের বেতার কেন্দ্রে।চাকরি তো করতেন ,কিন্তু যেই না দুপুর গড়াল,টিফিনের সময় বা বিকেলে ছুটির পরে,বাবু পৌঁছে যেতেন রেডিয়োর বন্ধু-আড্ডায়।সেখানে তখন জমাটি আসর। যার মধ্যমণি ছিলেন প্রেমাঙ্কুর আতর্থী। সেই আসরও মাত করতেন বীরেনদা নিজের কথা দিয়ে।খুব সুন্দর কথা বলতেন তো! এই আসর থেকে ধীরে ধীরে বেতার নাটকে সুযোগ পেয়ে গেলেন বীরেনদা।প্রথম বারেই তাঁর পরিচালনায় নাটকে অভিনয় করলেন বাণীকুমার,পঙ্কজ মল্লিক, পশুপতি চট্টোপাধ্যায়।১৯২৮-এর ২৬ অগস্ট বেতারে সম্প্রচার হল‘ চিকিৎসা সংকট’(রচনা পরশুরাম)।সেই সময় ঘটল এক যুগান্তকারী ঘটনা।স্টেশন ডিরেক্টর তখন নৃপেন মজুমদার। তাঁর ডাকেই ১৯২৮-এ বীরেনদা রেডিয়োয় সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন। তার পর থেকে কী না করেছেন রেডিয়োর জন্য।নলিনীকান্ত সরকারের কাছে পাওয়া একটি ঘটনা বলি।তিনি বলছেন ,“বর্ষাকাল। বৃষ্টির জন্য বাড়ি থেকে বেতারের কেউই বেরোতে পারেনি। সন্ধ্যা নাগাদ বৃষ্টির তোড় আরও বাড়ল।রেডিয়োটা চালালাম ।বীরেন্দ্র ভদ্রের কণ্ঠে ঘোষণা বললেন ,‘এ বার একটু পিয়ানো শুনুন’।বুঝতে পারলাম,প্রথম আর্টিস্ট আসেননি ।পিয়ানো বাজিয়ে অভাব পূরণ করলেন বীরেন্দ্র ভদ্র।দ্বিতীয় আর্টিস্টও অনুপস্থিত।বীরেন্দ্র ভদ্র ঘোষণা করলেন এ বার রবীন্দ্রসঙ্গীত।বাহুল্য এ বার গায়কও বীরেন্দ্র ভদ্র।”আর একটা ঘটনা মনে পড়ছে।নৃপেন মজুমদার মশাই জামাইষষ্ঠীর দিনে অভিনয় করার জন্য এক ভদ্রলোককে একটি প্রহসন লিখতে অনুরোধ করে ছিলেন।‘আজ দিচ্ছি কাল দিচ্ছি’ করে প্রায় দিন পনেরো পেরিয়ে গেল। নাটক আর লেখা হয় না।এ দিকে জামাইষষ্ঠী এসে পড়ল বলেশেষমেশ ঠিক আগের দিন, বীরেনদা প্রহসনটি লিখতে বসেন। মাত্র একদিনে একটি বই শুধু লিখে ফেলেননি তিনি,যেদিন সন্ধ্যায় নাটকটি অভিনীত হবে সেদিন চার-পাঁচটি গান লিখে,নিজে সুর দিয়ে কুশীলবদের শিখিয়েও দিয়ে ছিলেন।নাটকটির নাম ছিল ‘প্রহারেণ ধনঞ্জয়’।যার প্রশংসা আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে।১৯২৯ সাল। রেডিয়োর প্রথা ভেঙে একেবারে অন্য রাস্তায় হাঁটলেন বীরেনদা। মহিলাদের জন্য ‘মহিলা মজলিস’ আরম্ভ করেছিলেন ‘মেঘদূত’ ছদ্মনামে।পরে যদিও তিনি ‘শ্রীবিষ্ণুশর্মা’ ছদ্মনামে অনুষ্ঠান প্রচার করেন।বীরেনদা এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তৃতা দিতেন।শ্রোতাদের চিঠিপত্র পড়ে শোনাতেন।পিয়ানো বাজাতেন।মহিলাদের মতামত চাওয়া হলেও বলে দেওয়া হত, মহিলারা যেন ব্যক্তিগত কথা জানিয়ে পত্র না লেখেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে এই অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক ওঠে। মহিলাদের কী করা উচিত,বলা উচিত তা বিষ্ণুশর্মা কেন ঠিক করে দেবেন? বহু লোক সে সময় রেডিয়ো স্টেশনে এসে বিষ্ণুশর্মাকে দেখতে চাইতেন।কিন্তু বিষ্ণুশর্মারূপী বীরেন্দ্র ভদ্র আগ্রহী শ্রোতাদের কাছে অধরাই ছিলেন।রেডিয়ো ছাড়াতো তখন অন্য কোনও বিনোদন মানুষের ছিল না। আর রেডিয়োয় তখন থিয়েটারের ভূত চেপেছিল যেন।বীরেনদাও সেই পথে হেঁটেছিলেন।কিন্তু বীরেনদাকে এক্কেবারে নতুন করে সব কিছু করতে হয়েছিল।তাঁর সামনে তো কোনও কাঠামো ছিল না।কাজ করতে করতে বীরেনদাকে খুঁজে বার করতে হয়েছিল রেডিয়ো নাটকের নিজস্ব ভাষা। কেমন করে পাতা ওল্টাতে হবে,যাতে পাতা ওল্টানোর আওয়াজ না শোনা যায়। সংলাপ বলার সময় চোরা দম কেমন করে নিতে হয়।শুধু কণ্ঠস্বর দিয়ে রাগ,দুঃখ,ভালবাসা সমস্তই প্রকাশ করতে হয় কেমন করে।পরিস্থিতির প্রয়োজনে কেমন করে মাইক্রোফোন থেকে দূরে গিয়ে সংলাপ বলতে হয়, সব বীরেনদা আমাদের শিখিয়েছেন। শিক্ষা দেওয়াতে ওঁর কোনও ক্লান্তি ছিল না।কখনও ধমকাতেন,কখনও ভাল বাসতেন,কেউ ওঁর মুখের ওপর কথা বলার সাহস দেখাতে পারত না।১৯৩১-এর ৮ মে বেতারে অভিনীত হল ডিএল রায়ের ‘সাজাহান’ নাটক।সে এক মনে রাখার মতো ঘটনা! বীরেন্দ্রকৃষ্ণ (আওরঙজেব),অহীন্দ্র চৌধুরী (সাজাহান), দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (দারা),নিভাননী (জাহানারা) ,মিস বীণাপাণি (পিয়ারী)।সাধারণ রঙ্গালয়ে অভিনীত গিরিশচন্দ্র ঘোষ, দীনবন্ধু মিত্র,মাইকেল মধুসূদন,ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যা বিনোদ, অপরেশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ,শচীন সেনগুপ্ত প্রমুখ দিকপাল নাট্যকারদের বহুনাটকবীরেন্দ্রকৃষ্ণর প্রযোজনায় বেতারস্থ হয়েছে। অহীন্দ্র চৌধুরী, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেশ মিত্র,সরযূবালা দেবীকে দিয়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ অভিনয় করালেও ওঁর মুখেই শুনেছি শিশির কুমার ভাদুড়ী বেতারে নাটক করতে চাননি।উনি বলেছিলেন,শিশির ভাদুড়ী মাইক্রোফোনের সামনে এসে কেবলই এদিক-ওদিক হাত পা নেড়ে অভিনয় করতে চাইতেন।পরে নাকি বলেছিলেন, ধূর রেডিয়োয় আমি গিয়ে কী করব?সব কেমন বন্ধ, বন্ধ! আমার কিছুই করার নেই রেডিয়োতে তাঁর হাত দিয়ে তৈরি হয় ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (দ্বিজেন্দ্রলাল),‘প্রলয়’ (শচীন সেনগুপ্ত), ‘প্রফুল্ল’ (গিরিশচন্দ্র ঘোষ) -র মতো নাটক।সব কাজেই এত নিখুঁতসম্পাদনার কাজ করতেন,এখনও ভাবলে অবিশ্বাস্য লাগে।তেমনই এক অভিজ্ঞতার কথা বলি।তখন রেকর্ডিং প্রথা চালু হয়নি। বাঁধা সময়ের মধ্যে অভিনয় শেষ করতে হত।পুরোটাই লাইভ।কাগজ দেখে অভিনয় করে চলেছি।আর বেশ বুঝতে পারছি, আজ আর সময়ের তালে চলা হচ্ছে না। অথচ কী করব, নাটক তো থামানোর উপায় নেই।হঠাৎ দেখি,চুপি চুপি বীরেনদা এসে দাঁড়ালেন।একহাতে আমার মুখ চেপে ধরলেন, অন্য হাতে স্ক্রিপ্টের দু পাতা উল্টে আঙুল দিয়ে একটা জায়গা দেখিয়ে দিলেন।আমি সেইমত অভিনয় করলাম। অভিনয় শেষ হল।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কলাকুশলীদের নামও বলা হয়ে গেল! কী অদ্ভুত ক্ষমতা! নাটক চলাকালীন তিনি বুঝেছিলেন সম্পাদনা দরকার ।তাই এ কাজ করলেন।দু’পাতা বাদ দিলেন।কিন্তু যোগসূত্র ছিন্ন হল না।বীরেনদার অসম্ভব রকমেরএই সব ক্ষমতার জন্য বহু গুণিজন তাঁকে বেশ মান্যি করতেন।জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়ের কথা বলি।একবার তিনি অল্প টাকা দেওয়ার জন্য স্থির করেছিলেন রেডিয়ো তে আর অভিনয় করবেন না।তখন বীরেনদা ওঁকে ডেকে ধমকে বললেন “তুমি কি রেডিয়োতে টাকা রোজগার করতে এসেছ?” ওই এক কথাতেই কাজ হল।জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায় আর কোনও উচ্চবাচ্চ্য করেননি।রেডিয়োর প্রতি বীরেনদার অমন টান দেখে তিনি আবার রেডিয়োয় চলে আসেন।বীরেনদার কথায় এটুকু বোঝা যেত যে উনি ওঁর রেডিয়োর শ্রোতাদের কোনও ভাবেই মুহূর্তের জন্যও হাতছাড়া করতে চাইতেন না। স্টেজের আদলে টানটান ডায়লগের ওপর বরাবর জোর দিয়ে ছিলেন তিনি।উনি বলতেন,ছেলের দুধ গুলতে গুলতে, অফিসের জন্য রেডি হতে হতে, রান্নায় নুন দিতে দিতে লোকে রেডিয়ো শোনে ,ধীর গতির কোনও প্রযোজনা,থেমে থেমে পজ্ নিয়ে উপস্থাপনা রেডিয়োতে চলবে না।কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের নাটক নিয়ে যখন রেডিয়োতে কাজ করেছি, তখন সত্যজিৎ রায় কিন্তু আমায় শিখিয়ে ছিলেন,রেডিয়োতে অ্যাক্টিং-এ পজ্ কতটা জরুরি।বীরেনদা কিন্তু সেটা মানতেন না। বলতেন,অত পজ্ দিলে দর্শক চলে যাবে! ও ভাবে হয় না।১৯৩৭ সালে পেশাদার রঙ্গমঞ্চে পরিচালক হিসেবে বীরেনদা কাজ শুরু করলেন।তাঁর প্রথম পরিচালিত নাটক‘অভিষেক’ রঙমহলে।এরপর শরদিন্দুবন্দ্যোপাধ্যাযের দুটি নাটক ‘ডিটেকটিভ’ ও ‘বন্ধু’ পর পর পরিচালনা করেন রঙমহলে।বেতারে অভিনয় করলেও মঞ্চে বীরেনদাকে অভিনয় করতে দেখিনি।পরিচালক দেবনারায়ণ গুপ্ত নাকি বহু বার বীরেনদাকে অভিনয়ের জন্য অনুরোধ করেছেন।প্রতিবারই বীরেনদা এড়িয়ে গিয়েছেন।মজা করে বলতেন, আমি সকলকে রং মাখাব,কিন্তু নিজে মাখব না।৭ অগস্ট। ১৯৪১।রবীন্দ্রনাথ চলে গেলেন।রেডিয়োয় সে বার অদ্ভুত একটা কাণ্ড ঘটালেন বীরেনদা।পুরো শোকযাত্রা শ্রোতাদের ধারাবিবরণী দিয়ে শোনালেন তিনি।তারই কিছু অংশ এখানে না বলে পারছি না।বীরেনদা বলছেন,“ঠাকুরবাড়িতে বেশিক্ষণ শবদেহ রাখার রীতি নেই,বিশেষত মধ্যাহ্নে যিনি প্রয়াণ করেছেন বিকেলের মধ্যে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতেই হবে।সংবাদ সংগ্রহ করতে করতে আমরা ও নিমতলা শ্মশানে এসে হাজির।ও পারে দূরের ওই নীলাকাশে অস্তগামী সূর্য শেষ বিদায়ের ক্ষণে পশ্চিম দিগন্তে ছড়িয়ে দিল অগ্নিবর্ণ রক্তিম আভা,আর এপারে এই পৃথিবীর বুকে বহ্নিমান চিতার লেলিহান অগ্নিশিখায় পঞ্চভূতে বিলীন হল এক মহপ্রাণের পূত-পবিত্র শরীর। রবি গেল অস্তাচলে।”একই ভাবে উত্তম কুমারের মৃত্যুরও শোকযাত্রার ধারাবিবরণী দিয়েছিলেন তিনি। শ্রোতার চোখের জলের বাঁধ ভেঙে পড়েছিল সেই ধারাভাষ্যে।বীরেনদার এই ধারা বিবরণীর কথা যখন উঠলই, স্টেপলটন সাহেবের জমানার কথায় ফিরে যাই। তিনি তখন রেডিয়োর বড় কর্তা। বীরেন্দ্রকৃষ্ণর ক্ষমতার ওপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল।তো একবার তিনি বললেন, দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের ধারাবিবরণী দিতে হবে। তো কর্তার ইচ্ছেয় কর্ম। কিন্তু এই ধারাবিবরণী দিতে গিয়ে প্রথমে বেশ বিপদে পড়েছিলেন বীরেনদা।তাকেও কী ভাবে বুদ্ধি করে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে ছিলেন সে এক গল্প।শোনা যাক,বীরেনদার মুখেই।তিনি বলছেন, “সাজসরঞ্জাম যন্ত্রপাতি নিয়ে আমাকে গঙ্গার ঘাটে যেখানে বসিয়ে দেওয়া হল,সেখান দিয়ে একটা ঠাকুরও যায় না। মাইক ছেড়ে দৌড়ে গিয়ে ঠাকুর দেখে আসব।আবার ফিরে মাইকে এসে বলব এমন তো হয় না! শেষকালে ভাবলাম,লোকে তো শুনছে, দেখছে না কিছু। আরম্ভ করে দিলাম, ওই ঠাকুর আসছে...চমৎকার ডাকের সাজএমনি সব বলে বানিয়ে প্রতিমা বানিয়ে বিসর্জনের বর্ণনা করতে লাগলাম।”চটজলদি সিদ্ধান্ত নেওয়া,উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে ঝট করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অমন মানুষ আমি বীরেনদা ছাড়া আর কাউকে দেখেছি কি না সন্দেহ। ওঁকে কেবল বলে দিতে হত, কী বিষয় বলতে হবে।হয়তো বললাম আজ শরীর চর্চা নিয়ে বলতে হবে। মুহূর্তে মাইকের সামনে বলতে শুরু করে দিতেন।আকাশবাণী-র নিজস্ব একটা কাগজ ছিল।নাম ‘বেতারজগৎ’।‘বেতার জগৎ’ ছিল বীরেনদার প্রাণ।একবার সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হল সেই কাগজ। তাতেও বীরেনদাকে দমাতে পারেনি।জি পি ও-র সামনে ভরা শীতে আপাদমস্তক চাদর মুড়ি দিয়ে বীরেনদা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ‘বেতারজগৎ’ বিক্রি করতেন।বীরেনদার বহুগুণের মধ্যে একটা গুণ ছিল, সময়টাকে নিজের লেখায় সহজে বলে দিতে পারতেন।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষহওয়ার পরে নানারকম অসন্তোষ ,ধর্মঘট অচল করে দিচ্ছে কলকাতা।সেই অস্থির দুঃসময়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ‘বিরূপাক্ষ’ ছদ্মনামে সেই সময় কালকে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।ব্যঙ্গরসের দৃষ্টিতে।সেসময় ভোগ্যপণ্য অগ্নিমূল্য।বীরেনদা লিখেছিলেন “কর্তার মেজ বোনের মেয়ে ভুঁদিটার বিয়ে। তাঁর কলকাতার বাড়িতে মামার বিস্তর ঝঞ্ঝাট।লোকলৌকিকতা কমাবার কথা বললে কেউ আমল দেয় না। তাই বলে চারটে মাসিকে বলা হবে না? মেজপিসিমার ননদরা সব কাজে আমাদের বলে, তাদের না বললে চলে? বড়দির ছোট জা ভুঁদির তিন তিনটে সায়া সেলাই করে দিয়েছে, তাকে বলব না? ছোট ঠাকুমার ভাসুরজিকে না বললে বরণ ডালা তৈরি করবে কে? ন’মাসির দেওর-ঝিদের না বললে চলে? বড় মামার দুই শালিকে বাদ দিলে আর কী এমন খরচটা কমবে!.আর সত্যি কথা ভুঁদির তো পাঁচবার বিয়ে হচ্ছে না!”বিরূপাক্ষ আসলে ছাপোষা ন্যায়নীতিগ্রস্ত প্রবীণ বাঙালির কথা।এই সম্প্রদায়ের সংখ্যা নেহাত কম নয়।হাস্যরসের আড়ালে বিরূপাক্ষের কথায় তাঁরা তাঁদের নিজেদের মনের কথা খুঁজে পেয়েছিলেন।এত ভাল ব্যঙ্গরস লিখতেন,এত ধরনের বিষয়ে, অথচ নিজের লেখা সম্পর্কে মমতা বলে কিছুই বীরেনদার ছিল না। বীরেন্দ্রকৃষ্ণর অজস্র রচনা বেতারে পড়া হত বলেই কার্যত সে সব হাওয়া হয়ে গেছে। সে সব আগলে রাখার না ছিল বীরেনদার কোনও বাড়তি আগ্রহ,না ছিল অন্য কারও । পুরনো রেকর্ড করা টেপের ওপরেই নতুন অনুষ্ঠান রেকর্ড করা হয়েছে।ফলে বীরেনদার কত কাজ যে মুছে গেছে, কত লেখা যে হারিয়ে গিয়েছে, তার কোনও হিসেবই নেই। বীরেনদা জানতেন সব। আর ঠাট্টা করে বলতেন,“সংসারের যতটা মজা দেখেছি, তার চেয়ে সংসার আমাকে নিয়ে মজা করেছে বেশি।”এক উদাসী মনের অভিমানও কি ধরা থাকত এমন কথায়? সংসারকে তো উনি কম দিয়ে যাননি।সংসার তাকে দেখল কই!সংসারটা কি সত্যিই ছল? বীরেনদা হয়তো তাই বলতে চেয়েছিলেন।প্রতিটি মানুষের একটা নিজস্ব গন্ধ আছে।যেমন মায়ের গায়ের গন্ধ,। সেই গন্ধ কাছে এলে মনে হয়,এটা আমার পরম আশ্রয়ের জায়গা। আকাশবাণী স্টুডিয়োতে মাঝে মাঝে একটা গন্ধ পেতাম, সেই গন্ধটা এলেই বুঝতে পারতাম কাছাকাছি তিনি আছেন।সেই গন্ধটা আজও আমার পিছু ছাড়েনি।এই তো সেই গন্ধ হাওয়ায় তাঁকে দেখতে পাচ্ছি ধুতি-পাঞ্জাবি, চপ্পল পায়ে,গলায় জড়ানো উত্তরীয় ফর্সা গায়ের রং।তীক্ষ্ন নাসিকা।ব্যাক ব্রাশ চুল।কাঁচা-পাকা মেদবিহীন লম্বা চেহারার মানুষটা । তিনি ট্রাম থেকে নেমে আপনমনে হাঁটতে হাঁটতে ফুটপাথ দিয়ে সোজা আকাশবাণীর দিকে এগিয়ে চলেছেন।নাম নয়,চেহারা নয়, আস্ত একটা কণ্ঠ, দিগন্ত ছোঁওয়া আকাশ
রূপং দেহি, ধনং দেহি, যশো দেহি
শক্তির কাছে সুন্দরের প্রার্থনা!
৭ নম্বর রামধন মিত্র লেন
হাতিবাগান পাড়ার শ্যামপুকুর স্ট্রিট।টাউন স্কুলের পাশে সেই গলি ধরে একটু এগোলোই রামধন মিত্র লেন।সে-রাস্তায় আখাম্বা লম্বা হলদে রঙের সাত নম্বর বাড়িটি নিজেই আস্ত একটা ইতিহাস!পাথরের ফলকে লেখা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর নাম।আর মহিষাসুরমর্দিনী তথা বাংলা সংস্কৃতি তে তাঁর অবদানের কথা।তিনি আমৃত্যু ছিলেন এই বাড়ির বাসিন্দা।হলদে বাড়ির বিরাট ফটকের কাঠের দরজাপার হলেই উঠোন ঘেরা ঠাকুরদালান।শ্যাওলা ধরা বিষণ্ণ ঠাকুরদালানে কী চণ্ডীপাঠ করেছিলেন বাঙালির চিরকালের বীরেন ভদ্র? ডান হাতে ঠাকুরদালান রেখে বাঁ-হাতের কাঠের সিঁড়ির কয়েক ধাপ পেরিয়েই এক সবুজ দরজার তালা বন্ধ ঘর।কে আসেননি ওই ঘরে? বিংশ শতকের নাট্য জগতের নট-নটীর কতজনই তো এই ঘরে ঠাঁই নিয়েছেন। আজ আর কেউ সে ঘর খুলতে চান না! রাস্তার দিকের খড়খড়ির একটি খোলা জানলা অবশ্য চিনিয়ে দেয় ওই ঘরের আলো-আঁধারির রহস্য। চোখে পড়ে দেওয়ালের দিকের একটি সরু খাট।চেয়ার আর আলমারিআসবাব বলতে ওইটুকুই। কিন্তু বইগুলো সব গেল কোথায়? যত দিন মানসিক আর শারীরিক সামর্থ্য ছিল প্রাণে ধরে বইগুলো কাউকে তো দিতেন না বীরেন ভদ্র।বইই তো ছিল তাঁর আত্মার আত্মীয়।“অগুনতি বই! কে পড়বে? কোথায় রাখব?কারও সময় নেই। কিছু দিয়ে দিয়েছি আমরা, কিছু কোথায় চলে গেছে,”বললেন বীরেন্দ্র ভদ্রের কন্যা সুজাতা ভদ্র।সেই বাড়িটা।ছবি: সুব্রত কুমার মণ্ডলঘর পেরিয়ে কাঠের সিঁড়ি।সেই সিঁড়িতে কোথাও রবীন্দ্রনাথ,তো কোথাও লাল জবা গলায় কালীঠাকুরের ছবি। সিঁড়ি ধরে সোজা তিনতলার ডান হাতের ঘর।সিঁড়ির শব্দ যেন মনে করিয়ে দেয় ধুতি-পাঞ্জাবি গায়ে, চপ্পল পায়ের এক ছায়াকে! এই যেন আকাশবাণী থেকে নিজের ঘরে ফিরলেন তিনি।ঘরজোড়া বিশাল খাট।সুজাতা বলছেন,“বাবার বিয়ের খাট।”এই খাটে বসেই কি আবৃত্তি করেছেন ‘দেবতার গ্রাস’? ঘরে অনেকগুলো জানলা যা দিয়ে আকাশ ঢুকেছে ঘরের কোণে ছড়িয়ে আছে ভাদ্রের হলদে রঙের পুজো-রোদ্দুর ।ঘর থেকে দেখা যায় ছোট্ট ছাদ। ঠাকুমা যোগমায়া দেবী কোনও এক অলস দুপুরে তাঁর স্নেহের বুশিকে (ডাকনাম)শোনাচ্ছেন শেক্সপিয়ার,গিরিশ ঘোষের নাটক।“চশমা, কলম সবই তো নিয়ে গেছে মিডিয়ার লোক।আমাদের তো কিছুই নেই!” হতাশ সুজাতা ভদ্র।
হঠাৎ কে যেন বলে উঠল, “বছরের শুধু এই সময়েই মনে পড়ে? সারা বছর তো কেউ ফিরেও তাকায় না।যত্তো সব!”কণ্ঠ ভেসে আসে মুখ,দেখা যায় না।।
শুভ জন্মদিন:
- ১৬৪৪ - পেনসিলভানিয়ার প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম পেন।
- ১৭৭২ - বাউল কবি লালন শাহ।
- ১৮৪০ - বস্তুবাদী রুশ দার্শনিক ও সাহিত্য সমালোচক দমিত্রি পিসারিয়েভ।
- ১৮৮২ - আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা ডি ভ্যালেরা।
- ১৮৮৪ - লালা হর দয়াল, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সক্রিয় বিপ্লবী। (মৃ.১৯৩৯)
- ১৮৮৮ - ইংরেজ লেখক ক্যাথারিন ম্যাসফিল্ড।
- ১৮৯০ - বিংশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি কবি বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়। (মৃ.১৯৫৯)
- ১৮৯০- ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪তম রাষ্ট্রপতি।
- ১৮৯৩ - লিলিয়ান গিশ, মার্কিন অভিনেত্রী, পরিচালক ও লেখিকা। (মৃ. ১৯৯৩)
- ১৮৯৪ - মার্কিন কবি ই ই কামিংস ।
- ১৯২৭ - রজার মুর, ব্রিটিশ, জেমস বন্ড (চরিত্র) খ্যাত মডেল এবং অভিনেতা।
- ১৯৩০ - অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী।(মৃ.১৩/১২/১৯৯৩)
- ১৯৩০ - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ ভারতীয় বাঙালি লেখক। (মৃ.০৪/০৯/২০১২)
- ১৯৩১ - পণ্ডিত নিখিল রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় মাইহার ঘরানার ভারতীয় ধ্রুপদী সেতার বাদক।(মৃ.২৭/০১/১৯৮৬)
- ১৯৪১ - রমা চৌধুরী, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের একজন বীরাঙ্গনা। (মৃ. ২০১৮)
- ১৯৬২ - প্রচেত গুপ্ত, ভারতীয় বাঙালি লেখক ও সাংবাদিক।
- ১৯৮১ - গৌতম গম্ভীর, ভারতীয় ক্রিকেটার, আই সি সি বর্ষসেরা ক্রিকেটার শিরোপাধারী।
- ১৯৮৮ - গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অস্ট্রেলীয় অল-রাউন্ডার।
- ১৯৯১ - জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, বাংলাদেশী মডেল এবং অভিনেত্রী, মিস বাংলাদেশ শিরোপাধারী।
শ্রদ্ধ জানাই:
- ১৫১৪ - পণ্ডিত কবি এবং সম্রাট আকবরের সভাশিক্ষক ফয়েজি ।
- ১৯৪৩ - জিমি ম্যাথুজ, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।
- ১৯৫৬ - মহেন্দ্রনাথ দত্ত, বাঙালি লেখক ও স্বামী বিবেকানন্দর অনুজ। (জ.১৮৬৮)
- ১৯৮০ - শুট ব্যানার্জী, ওরফে শরদিন্দুনাথ ব্যনার্জী, ভারতীয় জাতীয় দলের ক্রিকেটার। (জ.১৯১১)
- ১৯৮৪ - রবীন্দ্রবিশারদ পুলিনবিহারী সেন ।(জ.১১/০৮/১৯০৮)
- ১৯৮৯ - বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট ও চিত্রশিল্পী শৈল চক্রবর্তী। (জ.০৯/০২/১৯০৯)
- ১৯৯৯ - জুলিয়াস নেরিরি, তাঞ্জানিয়ার ঔপনিবেশ-বিরোধী কর্মী ও রাজনীতিবিদ। (জ.১৩/০৪/১৯২২)
- ২০২২ - বিশ্ব বিখ্যাত চলচ্চিত্র সিরিজ হ্যারি পটারে হ্যাগ্রিড চরিত্রে অভিনয় করা কিংবদন্তি অভিনেতা রবি কোলট্রেন। (জ. ৩০/০৩/১৯৫০)
🔹️ ই- সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন - Click Now
🔸️ লেখা ও শিল্পকলা পাঠান -
Click Now
🔹️ হোয়াটসঅ্যাপ পরিবারের যুক্ত হন -
Click Now
🔸️ ফেসবুক পরিবারের যুক্ত হন-
Click Now







