।। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।।
।। ১৮তম সংখ্যা ।।
📢 প্রকাশ:
- বাংলা: ২৭ই আশ্বিন ১৪৩০
- ইংরেজী: ১৫ই অক্টোবর ২০২৩
- বার: রবিবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
🔆 আজ আবহাওয়া: ৩৪°C (পশ্চিমবঙ্গ)
- পরিষ্কার আকাশ
- বৃষ্টিপাত: ০%
- আর্দ্রতা: ৮৬%
- বাতাস: ৫কিমি/ঘন্টা
📌 আজ ঘটনা:
- ১৫৮২-সালে ইতালি ও স্পেন গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার বা খ্রিষ্ট্রীয় সাল প্রবর্তিত। এর ফলে ৫ অক্টোবর ১৫ অক্টোবর হয়ে যায়।
- ১৬৭৬ - ব্রিটেনের রাজার কাছ থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে টাকা ও পয়সা মুদ্রণের অনুমতি লাভ করে।
- ১৮১৫ - সেন্ট হেলেনা দ্বীপে সম্রাট নেপোলিয়ন-এর নির্বাসন জীবন শুরু।
- ১৮৯৪ - ফরাসি গোলান্দাজ বাহিনীর ইহুদি ক্যাপ্টেন আলফ্রেড দারিফুসের বিচার রাজধানী প্যারিসে শুরু হয়। গোয়েন্দাবৃত্তির অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবনের কারাদন্ড দেওয়া হয় এবং ফ্রান্স গিনির অন্তর্ভুক্ত ডেভিসল আইল্যান্ডে তাকে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হয়।
- ১৯১৭-সালে জার্মানদের পক্ষে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে ডাচ নৃত্যাশিল্পী মাটা হ্যারিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- ১৯৪৫-সালে ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে লাভালের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়।
- ১৯৪৬ - জার্মানির ন্যুরেমবার্গে যুদ্ধবন্দিদের প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।
- ১৯৪৬ - ফিল্ড মার্শাল হারম্যান গোয়েরিং আত্মহত্যা করেন। দ্বিতীয় যুদ্ধপরাধের দায়ে তার প্রাণদন্ড কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি আত্মহত্যা করেন।
- ১৯৬৪-সালে চীনের প্রথম পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা হয়।
- ১৯৬৪-সালে রক্ষণশীলদের পরাজিত করে ১৩ বছর পর ব্রিটেনে লেবার পার্টির ক্ষমতায় আসে।
- ১৯৬৪-সালে নিকিতা ক্রুশ্চেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে অপসারিত।
- ১৯৬৯-সালে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদুর রশিদ আলী শেরমারকি আততায়ীর গুলিতে নিহত।
- ১৯৮৫ - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৩৯ জন ছাত্র, কর্মচারী ও অতিথি নিহত হয়েছিলো। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রতি বছর এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস পালন করা হয়।
- ১৯৮৫ - সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী মিখাইল গর্বাচেভ অর্থনৈতিক সংস্কারণীতি ‘পেরেস্ত্রইকা (পুনর্গঠন)’ ঘোষণা করেন।
- ১৯৮৬ - লে. জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৯৩ - নেলসন ম্যান্ডেলা এবং ডি ক্লার্ক উভয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
- ১৯৯৫-সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর প্রথম রাশিয়া ও কিউবার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর।
- ১৯৯৯-সালে অভ্যুত্থানের দু’দিন পর পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা জারি এবং জেনারেল মোশাররফের নিজেকে দেশের প্রধান নির্বাহী ঘোষণা।
- ২০০৮ - সুইডেনের স্টকহোমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মোর্চা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ ফর হ্যান্ডওয়াশিং সর্বপ্রথম হাত ধোয়া দিবসটি পালন করে।
- ২০২০ - বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গঠনে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ১৫ টি দেশের চুক্তি হয়।
✒️ লিখেছেন:
কবিতার নাম: খাঁচায় বন্দি থাকার যন্ত্রণা
কবির নাম: শিবনাথ মন্ডল।
তোমরা আমায় বন্দী করে
রেখো সোনার খাঁচায়,
আমার মনে দুঃখ গুলো
কেমন করে বোঝায়।
তোমরা কেন বোঝো নাকো,
আমার মনের কথা
সঙ্গ ছেড়ে বন্দী হলে
কেমন লাগে ব্যথা।
পিতা-মাতার দুঃখ গুলো
কেমন করে ঘোচায়
আমার জীবনের আশা গুলো
রাখতে দিলেনা বজায়।
কি'দোষ করেছি আমি
হয়ে পাখির ছানা,
খাঁচার মধ্যে বদ্ধ করে
রেখেছো আমার ডানা।
বাবা-মা কাঁদছে কত
দাওনা আমায় ছেড়ে
আর কখনো কারো নিওনা
স্বাধীনতা কেঁড়ে।।
কবিতার নাম: যদু দাদু।
কবির নাম: বিমল চন্দ্র পাল।
আঙ্গারসনের যদু দাদু
সত্তর পার ক'রে
একা থাকে নিজের বাড়ি
কেউ নেই স্্সারে।
এক গ্লাস পানক খেয়ে
পানই পায়ে দাদু
রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে
সবাই ডাকে হাদু।
সকালে আহার তার
এক বাটি কুঞ্জল,
জীবন ভোর খায় তাও
হয়নি তো অম্বল।
অগ্নিমান্দ্য রোগ তার
কোনো দিন হয়না,
সূরসরিতে অবগাহন
শীতেও বাদ যায়না ।
কমলা গাভী তার গৃহে
আছে এক পালা,
পাঁচ সের দুধ দেয়
খায় সে একেলা।
ঘরের চালে ফলেছে কত
বড় বড় কুষ্মাণ্ড,
বয়েস সত্তর হলেও
হাত পা দোর্দণ্ড।
ধান্যচামস জলে ভিজিয়ে
তাতে দিয়ে চিনি,
কলা দিয়ে মেখে খান
টপাটপ তিনি।
খবরের কাগজ পড়ে
উপনেত্র পরেনা,
তামসীতে হেঁটে চলে
কোনো আলো লাগেনা।
ঘরের দরজায় তসলা আঁটা
নেই তার অভ্যাসে,
একা থাকে বাড়িতে
নেই কোনো বদ দোষে।
দোষে গুণে মানুষ সে
সবাই ভালোবাসে,
লোকের সাথে কথা বলে
শুধুই হেসে হেসে।
শুভ জন্মদিন
![]() |
| এ. পি. জে. আবদুল কালাম |
১৯৯৮ সালে পোখরান-২ পরমাণু বোমা পরীক্ষায় তিনি প্রধান সাঙ্গঠনিক, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন। এটি ছিলো ১৯৭৪ সালে স্মাইলিং বুদ্ধ নামে পরিচিত প্রথম পরমাণু বোমা পরীক্ষার পর দ্বিতীয় পরমাণু বোমা পরীক্ষা।
২০০২ সালে কালাম তৎকালীন শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি ও বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর এই পদে আসীন থাকার পর তিনি শিক্ষাবিদ, লেখক ও জনসেবকের সাধারণ জীবন বেছে নেন। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছিলেন কালাম।
কবিতার নাম: স্বপ্ন।
কবির নাম: পূর্ণা গাঙ্গুলী।
স্বপ্ন দেখছে কি পৃথিবী ?
নতুন নতুন তাজা তাজা স্বপ্ন !
আলোর স্বপ্ন.. অন্ধকারের স্বপ্ন,
এগিয়ে যেতে যেতে পিছন ফেরার স্বপ্ন,
চলতে চলতে থমকে যাবার স্বপ্ন !
আবেগের, ভালোবাসার স্বপ্ন !
যে স্বপ্নগুলো দেখেনি আলোর মুখ..
সেই স্বপ্ন!
আলোর দিকে এগোতে গিয়েও ..
পড়ে গিয়ে হারিয়ে যাবার স্বপ্ন !
অন্ধকারে হারিয়ে যেতে যেতে..
হঠাৎ ঘুড়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন !
স্বপ্ন সেতো কেবলই স্বপ্নই হয় ।।
ভারত বনাম পাকিস্তান বিশ্বকাপ 2023
রোহিতের মাথায় কি ঢুকে গিয়েছে ফাইনাল? বাবরদের উড়িয়ে অধিনায়কের ভাবনায় আরও
আটটি ম্যাচ
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে একপেশে জয় এসেছে। আমদাবাদে ১৯২ রান ৩ উইকেট
হারিয়েই জয়ের রান তুলে নিয়েছে ভারত। পাকিস্তানকে হারিয়েও উত্তেজিত নন
রোহিত।
|
| রোহিত শর্মা। |
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে একপেশে জয় এসেছে। আমদাবাদে ১৯২ রান ৩ উইকেট
হারিয়েই জয়ের রান তুলে নিয়েছে ভারত। রোহিত শর্মার ব্যাটে এবং বোলারদের দাপটে বহু
প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ জিততে কোনও সমস্যাই হয়নি। বিশ্বকাপের আগে থেকে এই ম্যাচ নিয়ে
তুমুল চর্চা হচ্ছিল। সেই ম্যাচ জিততে পেরেও উত্তেজিত নন রোহিত। তাঁর কাছে পাখির
চোখ এখনও আটটি ম্যাচ। অর্থাৎ সেমিফাইনাল এবং ফাইনালও রয়েছে তাঁর হিসাবের মধ্যে।
গ্রুপে প্রত্যেকটি দলকেই ন’টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল মিলিয়ে
মোট ১১টি ম্যাচ খেলতে হবে। অর্থাৎ ভারত ফাইনালে উঠলে আরও আটটি ম্যাচ বাকি। সেই
প্রসঙ্গেই রোহিত বলেছেন, “এখন মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। আমরা অতিরিক্ত উত্তেজিত হতে
চাই না। আবার খুব যে মনমরা হয়ে থাকব তেমনটাও নয়। বিশ্বকাপ একটা লম্বা
প্রতিযোগিতা। লিগে ৯টা ম্যাচ রয়েছে। তার উপর সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল রয়েছে। দলের
ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।”
নিজে ব্যাট হাতে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক রান করলেও বোলারদেরই যাবতীয় কৃতিত্ব
দিয়েছেন রোহিত। বলেছেন, “ওরাই ম্যাচটা জেতাল আমাদের। এই পিচে ১৯০ রানে ওদের আটকে
রাখা সহজ কাজ নয়। এই পিচ মোটেই ১৯০ রানের নয়। একসময় আমরা ভাবছিলাম হয়তো ২৮০ বা
২৯০ তাড়া করতে হবে। কিন্তু আমাদের দলে যার হাতেই বল দেওয়া হয় সেই কাজের কাজ করে
দেয়। ছ’জন এমন ক্রিকেটার রয়েছে যারা কাজটা করতে পারে। হয়তো সবার দিন সমান যায় না।
যার দিন ভাল যাচ্ছে তাকেই আসল কাজ করতে হয়। অধিনায়ক হিসাবে আমার কাজও
গুরুত্বপূর্ণ। কে কোন দিন ভাল বল করছে সেটার খেয়াল রাখতে হয় আমায়।”
পাকিস্তান থেকে সমর্থকেরা ভিসা পেলেও এখনও ভারতে আসতে পারেননি। ফলে শনিবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পড়শি দেশের সমর্থকেরা ছিলেনই না। এই সূত্র ধরেই ভারতীয় বোর্ড এবং আইসিসি-কে বিঁধলেন পাকিস্তানের টিম ডিরেক্টর মিকি আর্থার। তাঁর মতে, এই ম্যাচে যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল তাতে মনে হয়েছে বিশ্বকাপ নয়, কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের ম্যাচ হচ্ছে। সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের কোচ গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্নও।
কবিতার নাম: মহালয়া।
কবির নাম: শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
পিতৃপক্ষের অন্তিম যেথা
মাতৃপক্ষের শুরু সেথা,
মহালয়ার পুণ্য সে কাল
বেজে ওঠে আনন্দের ঢাল।
পায়ের ধ্বনি আমরা শুনি
মায়ের আসার সময় গুনি,
আসবে উমা বাপের ঘরে
একটা বছর আবার পরে।
প্রতীক্ষাতে চোখ সে থাকে
মন সে বলে দেখবো তাকে।
মোদের চিত্ত পাগল হয়ে
সময় যে যায় শুধু বয়ে,
আগমনির সুরে তখন
ভেসে চলে মনটা যখন।
বীরেন বাবুর চণ্ডী মন্ত্রে
শুনি সবাই বেতার যন্ত্রে।
আকাশ বাতাস ওঠে মেতে
খুশির স্রোতে খেলে ক্ষেতে ।
মা এসেছেন মোদের কাছে
আদর বেদনা যেথায় আছে।
ব্যস্ত যে হই তাকে ঘিরে
আছেন দেবী পিতার নীড়ে।
শাস্ত্র বলে অসুর বধে
যুদ্ধ করে শক্তি পদে,
অসুর সংহার দেবী তিনি
সিংহ বাহক নারী যিনি।
ব্রহ্মদেবের বর সে পেয়ে
আসেন তিনি স্বর্গে ধেয়ে।
রাজ্যহারা দেবতা সব
করেন তারা মিলে সেই স্তব।
দেবীর জন্ম হয় যে তখন
দেবী দুর্গা বলি এখন।
ত্রিশূল দিলেন দেবাদিদেব
সুদর্শন দিলেন বিষ্ণুদেব
ব্রহ্মা দিলেন পদ্ম ফুলে
তীর ধনুকে সূর্য বনে,
গণপতি দিলেন তলোয়ার
বজ্র দিলেন দেবতারাজ,
দিলেন বর্শা অগ্নি দেবতা
সর্প দিলেন শেশনাগ তাঁকে,
কুঠার গদা খর্গ সাজে
দিলেন হুংকার অসুর রাজে।
তুচ্ছ ভেবে নারী জাতি
রণে উঠে তিনি মাতি।
পরাজয়ে হলেন ক্ষান্ত
দেখি দুর্গা রণক্লান্ত।
মহালয়ার পুণ্য লগ্নে
আবির আকাশ দেখি সামনে।
ঢাকের তালে পুজোর আচার
পথ সে দেখায় মোদের বাঁচার।
কবিতার নাম: স্বপ্নের বাড়ি।
কবির নাম: মিহির সেন।
নদীর ধারে বাঁশের বেড়া
ছোট্ট আমার ঘর,
ভালোবাসার স্মৃতি মাখা
নয়তো কেউ পর।
দোয়েল এসে শোনায় গান
সূয্যি দেয় উঁকি,
বাতাস এসে সোহাগ করে
শীতল পরশ মাখি।
মাঝি শোনায় ভাটিয়ালি
ফুলেরা দেয় সঙ্গ,
কাঠবেড়ালি নৃত্য করে
দেখায় কত রঙ্গ।
মাছায় ঝোলে লাউ কুমড়ো
পালং নটে পাশে,
গান গেয়ে চাষ করে চাষি
মনের অভিলাষে।
রাতের বেলা চাঁদকে দেখি
ভাঙা চালের ফাঁকে,
রাতচরা সব পাখির দল
আমার খবর রাখে।
নাইবা হোক অট্টালিকা
আমার ছোট্ট বাসা,
নিজের হাতে গড়া সে যে
ভালোবাসায় মেশা।
আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ 2023
‘মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপ নয়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় চলছে’, আমদাবাদের পরিবেশে ক্ষুব্ধ
পাকিস্তান
পাকিস্তান থেকে সমর্থকেরা ভিসা পেলেও এখনও ভারতে আসতে পারেননি। ফলে শনিবার
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পড়শি দেশের সমর্থকেরা ছিলেনই না। শনিবারের আমদাবাদের
পরিবেশ নিয়ে ক্ষুব্ধ পাক শিবির।
|
| আমদাবাদে নীল সমুদ্র। |
পাকিস্তান থেকে সমর্থকেরা ভিসা পেলেও এখনও ভারতে আসতে পারেননি। ফলে শনিবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে পড়শি দেশের সমর্থকেরা ছিলেনই না। এই সূত্র ধরেই ভারতীয় বোর্ড এবং আইসিসি-কে বিঁধলেন পাকিস্তানের টিম ডিরেক্টর মিকি আর্থার। তাঁর মতে, এই ম্যাচে যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল তাতে মনে হয়েছে বিশ্বকাপ নয়, কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের ম্যাচ হচ্ছে। সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের কোচ গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্নও।
এক লাখ ৩২ হাজার স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণাতেই ছিলেন ভারতীয় সমর্থকেরা। এমনকি
স্টেডিয়াম জুড়ে বার বার ভারতের নামে জয়ধ্বনি উঠেছে। স্টেডিয়ামের ঘোষকেরাও
ভারতের নাম ধরে চিৎকার করেছেন। কিন্তু বিশ্ব পর্যায়েও প্রতিযোগিতা হলেও
পাকিস্তানের সমর্থনে একটি কথা বলা হয়নি বলে দাবি সে দেশের।
আর্থার বলেছেন, “আমি পাকিস্তানের নামে কিছু শুনেছি এটা বললে মিথ্যা বলা হবে।
দেখে মনেই হয়নি আইসিসি-র প্রতিযোগিতা হচ্ছে। মনে হচ্ছিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়
হচ্ছে। বিসিসিআই বোধহয় এই প্রতিযোগিতার আয়োজক। কখনও মাইক্রোফোনে ‘দিল দিল
পাকিস্তান’ শুনিনি।”
দর্শক সমর্থনকে অজুহাত হিসাবে খাড়া করতে না চাইলেন আর্থারের মতে, সেটা ম্যাচে
প্রভাব ফেলেই। তিনি বলেছেন, “দর্শক সমর্থনের প্রভাব রয়েছেই। অজুহাত দিচ্ছি না।
কী ভাবে ভারতীয় বোলারদের মোকাবিলা করব সেটাই আমাদের মাথায় ছিল।”
কবিতার নাম: মাগো মা দুগ্গা।
কবির নাম: উদয় নারায়ণ বাগ।
এমনটি কেন মা গো মা দুগ্গা
বলো না নিজের মুখে?
মানুষে মানুষে ভেদাভেদ তরে
কই মা গো ধরা সুখে।
ধনীর রতন করে গো যতন
পরছে নতুন জামা,
অপর প্রান্তে দীন-দুখিদের
হৃদয় মাঝার ঝামা।
নয়নের কোণে অশ্রু গড়ায়
অভাব সহ্য করে,
তবুও মা গো মা তোমারে রেখেছে
মনের ভেতরে ধরে।
তোমার পূজাতে ধনীর আলয়ে
আলো ঝলমল শোভা,
দীনজনে আজ দাও গো আশিস
মাতা তুমি মনোলোভা।
দেখো দেখো চেয়ে তাদের কুটিরে
বন্যা কেমন বহে,
আর কত কাল রইবে মা ওরা
দুঃখকষ্ট সহে।
আশিসের ধারা বর্ষাও মা গো
ওদের জীর্ণ ঘরে,
ধনে মানে ওরা পূর্ণ হয়ে মা
উঠুক না প্রাণে ভরে।
ভেদাভেদ তরে রবে না তো কোনো
ম্লান প্রাচীরের বাধা,
তোমার পরশে মিটুক ওদের
দুখের গোলকধাঁধা।
এক সুতোতেই ধনী ও গরিব
গাঁথবে সুখের মালা,
ফলে ফুলে হবে পূর্ণ ধরণি
রইবে না কোনো জ্বালা।
কবিতার নাম: বৈকালিক ফেরি৷
কবির নাম: রবিন রায় ।
মনে কি পরে প্রীয়তমা!
সে বৈকাল ছিল সূর্য সৌমা।
বেড়াতে গিয়েছিলাম সবুজ খেতে,
তুমি আমি আবেগ নিয়ে মনেতে ;
সর্ষে ক্ষেতে বায়ু দিয়ে গিয়েছিল -
আনন্দ দোল,
হলুদ ফুলে ফুলে পাল্টেছিল -
মাঠের ভোল।
মৌমাছির গুঞ্জনে মধু আহরণ,
মন কায় গুঞ্জে আজো সে গান;
তুমিও তো বিমোহিতা ছিলে-
সেই
রঙে,
রঙিন আঁচলখানি মেলেছিলে-
উড়ন্ত ঢঙে।
চলভাষে তোলা সে সব স্মৃতি চিত্র,
মনে করিয়ে দেয় না ক্ষন বিচিত্র?
আজ কি কখনো গ্যালারী খুলে-
দেখো
ছবি?
নাকি মানের রাগে মুছে দিলে-
স্বহস্তে সবই?
কায়িক স্পর্শের দূরত্ব থাকুক না হয়,
মানসিক অনুভূতির কিছুতেই নয়;
সেদিন হয় তো সোহাগ ছিল-
নেত্রে প্রেম,
আজ যদিও বিরাগ ভরিলো-
মিথ্যে বনেম।
উল্টে দেখো স্মৃতির পুরানো পাতা,
কোন অনুভূতি জাগায় মনের খাতা ;
কোথাও কি নেই অজান্তেও -
জাগ্রত
মনে,
হারিয়ে গেছে কি সর্বস্ব সেও-
এই
জীবনে!
আদুল পায়ে তরুণ তৃণ মাড়ানো,
আদরের স্পর্শে গাছকে নাড়ানো;
আমিকে জড়িয়ে ধরে দিছিলে-
যে সব কথা,
সেদিন তৃণেরা বুঝি পেয়েছিল -
অযথা ব্যাথা।
শ্রীলঙ্কায় চীনা জাহাজ
চেন্নাই থেকে ৫০০ কিমি দূরে, আবার ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে শ্রীলঙ্কার বন্দরে
চিনা চর জাহাজ?
গোয়েন্দাদের অনুমান, ভারতের পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উপর নজরদারি
করতেই বার বার শ্রীলঙ্কা নৌসেনার পোতাশ্রয়ে আসছে চিনা যুদ্ধজাহাজগুলি।
এখনও পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমসিঙ্ঘের সরকারে আনুষ্ঠানিক
অনুমতি দেয়নি। কিন্তু নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়ে চিনা গুপ্তচর জাহাজ ‘শি ইয়ান
৬’ ইতিমধ্যেই যাত্রা করেছে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রের দিকে। সূত্রের খবর,
চেন্নাই উপকূল থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় রয়েছে জাহাজটি।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে শ্রীলঙ্কার ‘ন্যাশনাল অ্যাকোয়াটিক রিসোর্স রিসার্চ
অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’র সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়ার কথা ‘শি ইয়ান
৬’-এর। নভেম্বরের গোড়া পর্যন্ত তা চলার কথা। কিন্তু ‘শ্রীলঙ্কার জলসীমায় চিনা
গুপ্তচর জাহাজের উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদী
সরকার। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ বিষয়ে বিক্রমসিঙ্ঘের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিছু
দিন আগে নিজেই সে কথা জানিয়ে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, ‘‘ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত
প্রশ্ন এ ক্ষেত্রে জড়িত। আর তা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
কবিতার নাম: একটু পরেই রোদ হাসবে।
কবির নাম: বিবেক পাল।
পাহাড়ের চূড়া ঢাকা কুয়াশায়
দূর দিগন্তে মোষ রঙা মেঘেদের মিছিল ,
অবসন্ন প্রহর প্রতীক্ষায় উন্মুখ , তুমি আসবে বলে ।
গুমোট বাতাস , স্হির নদী জল
নিস্তরঙ্গ জীবনে ; স্বপ্নের আকুলতা ,
একফালি রোদ !
মেঘলা আকাশ তলে ফসলের ক্ষেত ভিজে
পরিশ্রমী মানুষের নোনা ঘামে ,
দুঃখ জমাট বাঁধে পশ্চিম আকাশে !
মেঘলা দিন রং-বেরঙের মোড়কে ফেরি
হয় ; ধর্ম আর প্রাদেশিকতা ,
এই পোড়া দেশে ! !
কালবেলা শেষে সকালের আলো উঠবে হেসে
এই বিশ্বাস নিয়ে থমকে দাঁড়ায় ইতিহাস ,
সময়ের বাঁকে--------
প্রবন্ধ: চা-শ্রমিক দিবস এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা।
লেখক: আহমদ হুসাইন লস্কর।
২০ মে তারিখটা চা শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে । ১৯২১ সালের এই
দিনে প্রতিবাদী শত শত চা শ্রমিককে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে ব্রিটিশ সরকার
ও বাগান মালিকদের স্বার্থ রক্ষাকারী গোর্খা বাহিনী। মালিক শ্রেনীর অত্যাচার
নিপীড়ন আর অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে হাজার হাজার চা শ্রমিক কর্তৃক সংগঠিত
ঐতিহাসিক “মুল্লুকে চল” আন্দোলন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের পথ
বেছে নেয় গোর্খা বাহিনী। হাজার শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত ইতিহাসের এই দিনটিকে ‘চা
শ্রমিক দিবস’ হিসাবে পালন করা হয়।
আজকের দিনের নয়নাভিরাম পরিপাটি যে চা বাগান দেখে আমরা মুগ্ধ হই, একটা সময় তা
ছিল জনমানবহীন দুর্গম জঙ্গল। এই উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভাগ্যন্নোয়নের
লক্ষ্যে আসা অসহায় দরিদ্র কৃষক এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের শত বছরের নিরন্তর
সংগ্রামের ফল আজকের এই নয়নাভিরাম চা বাগান। ভারতবর্ষে চা শিল্প বিকাশের একটা
দীর্ঘ অতীত আছে। যতদূর জানা যায়, একটা সময় চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের
প্রচলন ছিল না। ইংরেজরা ১৮৩৮ সালে ভারতবর্ষে চা চাষের সূচনা করে। পরবর্তীতে
১৮৫৪ সালে মালনীছড়া চা বাগানের মাধ্যমেই এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের চাষ শুরু
হয়।। তারপর থেকেই আসাম অঞ্চলে ( সিলেট তখন আসামের অংশ ) চা-শিল্পের ব্যাপক
বিস্তার লাভ করতে থাকে।
চা-শিল্প মূলত একটি শ্রমঘন শিল্প। চা শিল্পের বিস্তারের প্রধান অন্তরায় হয়ে
দাঁড়ায় শ্রমিক সংকট। ১৮৫৩ সালে আসামে প্রতি বর্গমাইলে লোকসংখ্যা ছিলো ৩০ জন,
সিলেটে ছিলো ২০০ জন। তাছাড়া আসামের মাটি ছিলো সোনা ফলা। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা
চা বাগানে কাজ করাকে অসম্মানজনক মনে করতো। এর জন্যে ব্রিটিশরা চা শ্রমিকের জন্য
আসামের বাইরে হাত বাড়ায়। প্রসঙ্গত, ইংরেজরা অতি কৌশলের মাধ্যমে কম দামে শ্রম
কিনে যাতে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায় সেই লক্ষ্যে আজীবন কাজের শর্তে চুক্তিবদ্ধ
করে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে (গাছ হিলেগা,রুপিয়া মিলেগা, গাছ নাড়লে টাকা
মিলবে)।
মুলত ভারতবর্ষের বিহার, মাদ্রাজ,উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে
কানু,তেলেগু, লোহার,রবিদাস,গোয়ালাসহ প্রায় ১১৬ টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে শ্রমিক
হিসেবে সংগ্রহ করে। শ্রমিক সংগ্রহকারীরা এই সমস্ত দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার
মানুষকে এক সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্নের ফুলঝুরি দেখিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে জাহাজে তোলে।
তারপরই শুরু হয় এক করুন কাহিনী। যে জাহাজে ২০০ জনের ধারণ ক্ষমতা সেখানে তোলা হয়
১০০০ জনকে। দীর্ঘপথ কাটে ক্ষুধা আর যন্ত্রণায়। জাহাজ যখন ঘাটে ভিড়ে তখন লাশ এবং
জীবন্ত মানুষের সংখ্যা থাকে প্রায় সমান সমান। এরপর তাদেরকে নিয়ে আসা হয় আসামে,
তাদের জন্য নির্ধারিত এলাকায়।কিন্তু চা-শ্রমিকরা এ অঞ্চলে এসে দেখে গাছ নাড়লে
টাকা পাওয়া তো দূরের কথা হিংস্র জীব-জন্তুর প্রতিকূল পাহাড়-জঙ্গলময় পরিবেশে
নিজের জীবন বাঁচানোই দুঃসাধ্য ব্যাপার। অনাহারে-অর্ধাহারে,অসুখে-বিসুখে এক
বীভৎস জীবনের সম্মুখীন হয়েছে তাঁরা। সে সময় আড়কাঠি ও গিরমিট প্রথার কারণে চা
ম্যানেজার এই অসহায় মানুষগুলোর উপর একচ্ছত্র নির্যাতন করার অধিকার পায়। কোন
শ্রমিক ইচ্ছে করলেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে পারতো না। বাগান থেকে পালিয়ে গেলে
তাদের ধরে আনা হতো। দেয়া হতো অমানবিক শাস্তি যা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো না।
চাবুক বুটের লাথি ছিল এই নিরীহ মানুষগুলোর নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এভাবে
মালিকদের হাতে শ্রমিকের মৃত্যুকেও সাধারণ ঘটনা হিসবে দেখা হতো। মালিকদের কথাই
সেখানে রাষ্ট্রীয় আদেশ হিসেবে গণ্য হতো। শ্রমিকদের ইচ্ছা আনিচ্ছা বলতো কোন কিছু
কল্পনাই করা যেতনা। বাগানের ভিতরে ছাতা মাথায় হাটাও অপরাধ হিসেব গণ্য হতো।
পুরুষ শ্রমিকদের বেতন চার আনা,মহিলাদের বেতন তিন আনা এবং শিশুদের বেতন দুই আনা।
তখন চা বাগানে শিশু শ্রম বৈধ ছিল (যা বর্তমানেও বিভিন্ন বাগানে আছে) কি নির্মম
পরিহাস!
এখন যেখানে সবুজ সুন্দর চা বাগান দেখছেন সেখানে তখন ছিলো বিস্তীর্ণ জঙ্গল। এই
জঙ্গলে ছিলো হিংস্র পশুপাখি আর পোকা-মাকড়। শ্রমিকদের প্রাথমিক কাজ ছিলো এই
ভয়ংকর জঙ্গল পরিষ্কার করে চা বাগানের উপযোগী করা। অপর দিকে চা বাগানের
ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলো ইংরেজরা।* আসামের এই জঙ্গলে তখন দাগী অপরাধী, বখাটে
এবং উচ্ছৃঙ্খল ইংরেজদের পাঠানো হতো। একদিকে ভয়ংকর জঙ্গল, হিংস্র জন্তু-জানোয়ার,
অর্ধহার, অনাহার, রোগ শোক অন্যদিকে ইংরেজদের অমানবিক আচরণ। দ্রুতই এইসব অসহায়
মানুষদের রঙ্গিন স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে থাকে। মরতে থাকে তারা গণহারে। সরকারি এক
হিসেবে দেখা যায়, প্রথম তিন বছরে যে ৮৪,৯১৫ জন শ্রমিক আমদানি করা হয়েছিল তার
মধ্যে ৩১,৮৭৬ জন এভাবেই মারা যায়। ইংরেজদের বিরুদ্ধে যখন সারাদেশে স্বদেশি
আন্দোলন চলছিলো তখন এর ঢেউ চা বাগানগুলোতেও পড়ে। চা-শ্রমিকরাও ধীরে ধীরে তাদের
অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হতে থাকে, অত্যাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে
থাকে। তাদের নেতা পন্ডিত দেওশরন এবং গঙ্গা দীতির নেতৃত্বে ২০ মে ১৯২১ সাল
‘মুল্লুকে ফিরে চল’ স্লোগানে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক বিক্ষোভ
শুরু করেন।সিলেটের বিভিন্ন চা বাগান থেকে পঙ্গপালের মতো বের হয়ে প্রায় ত্রিশ
হাজার শ্রমিক সিলেট রেলস্টেশনে এসে জড়ো হয়। উদ্যোগ নেন নিজ নিজ অঞ্চলে ফিরে
যাওয়ার। কিন্তু ফিরে যাওয়া অত সহজ ছিল না। চা-শিল্পের মালিকদের সঙ্গে হাত
মিলিয়ে রেল দপ্তর শ্রমিকদের টিকিট দেওয়া বন্ধ করে দেয়, যাতে শ্রমিকেরা ফিরে
যেতে না পারেন। বাধ্য হয়ে তাঁরা চাঁদপুরের মেঘনা ঘাটমুখী পায়ে হাঁটা শুরু
করেন।তখন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ওপর বৃটিশ সরকারের তরফে চলে গুলিবর্ষণ। মারা যান
শত শত শ্রমিক। তাদের লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় মেঘনা সহ বিভিন্ন নদীতে। কিছু সংখ্যক
শ্রমিক পালিয়ে যান। বাকিদের ধরে নিয়ে পুনরায় চা-বাগানের কাজে বাধ্য করা হয়। কত
মানুষ ঐদিন নিহত হয়েছিল তার পরিসংখ্যান আজও জানা যায়নি।
তারপর থেকেই ঐদিনকে চা শ্রমিকরা “চা-শ্রমিক দিবস” বা “মুল্লুক চল দিবস”
হিসেবে পালন করে আসছে।
আজ চা-শিল্পে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দিক থেকে দ্বিতীয়, মোট জিডিপির ১%
আসে এই শিল্প থেকে, বিভিন্ন চা বাগানে লক্ষ- লক্ষ চা-শ্রমিক কর্মরত। সবুজ মনোরম
চা-বাগানগুলো লক্ষ লক্ষ পর্যটক আকর্ষণ করে। এই সমস্ত কিছুর পেছনে জড়িয়ে আছে
রক্ত, ঘাম, ইজ্জত লুণ্ঠন আর অত্যাচারের কাহিনী। আয়েশ করে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে
যখন আমরা সতেজ হই এই করুন কাহিনী তখন আমাদের প্রায় অজানা থেকে যায়।এখনো
কল্পনাতীত বিভিন্ন চা বাগানে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন চা শ্রমিকেরা।
মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য
এখনো লড়ছেন এ মানুষগুলো।
২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ কে রাষ্টীয়ভাবে স্বীকৃতি ঘোষণা করা, দৈনিক মজুরির টাকা
বাড়ানো সহ বিভিন্ন দাবিতে চা শ্রমিকদের ন্যায়সংগত সংগ্রাম ক্রমশ চলছে।
১৯২১ সালের ২০ মের শহীদ চা শ্রমিকদের স্মৃতির উদ্দেশে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
করছি। চা শ্রমিকদের সাম্প্রতিক কালের লড়াইয়ের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ও সংহতি
ঘোষণা করছি।
ছড়া: টুনটুনি।
কবির নাম: অধীর কুমার রায়।
বাড়ির পিছে বেগুন গাছে
টুনটুনির এক বাসা।
ছোট্ট পাখি যেমন ভালো
বাসা আরও খাসা।
বললো বুবাই শুনরে সবাই
ধরতে সবার মানা।
কালকে ছিল ডিমের পোনা
আজকে হলো ছানা।
টুনটুনিদি, সুখেই ছিল
বাদ সাধলো বিড়াল।
খবর পেয়ে হুক্কা ডাকে
বিলের ধারের শেয়াল।
আসুক বিড়াল আসুক শেয়াল
বিচার হবে পথে।
টুনি আমার 'দর্জি পাখি'
আমরা আছি সাথে।
রাস্তার বেহাল দশা
সারানো হয়নি বহু রাস্তা, পুজোর মুখে চিন্তা বাড়াচ্ছে খানাখন্দের বিপদ
সপ্তাহ দুয়েক আগে কলকাতা পুলিশের তরফে পুরসভাকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই
চিঠিতে পুলিশ জানিয়েছিল, টানা বৃষ্টির ফলে শহরের তিনশোরও বেশি রাস্তার বেহাল
অবস্থা। দ্রুত সেগুলির মেরামতি প্রয়োজন।
পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও বেহাল অবস্থা শহরের বহু রাস্তার। যার
জেরে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনই সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরাও।
পুজোর মুখে একাধিক জায়গায় মণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তা ভেঙেচুরে যাওয়ায় চিন্তা বেড়েছে
উদ্যোক্তাদেরও। পুরসভার যদিও দাবি, ইতিমধ্যেই অধিকাংশ রাস্তা মেরামতির কাজ শেষ।
বাকি কাজও দ্রুত শেষ হবে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে কলকাতা পুলিশের তরফে পুরসভাকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই
চিঠিতে পুলিশ জানিয়েছিল, টানা বৃষ্টির ফলে শহরের তিনশোরও বেশি রাস্তার বেহাল
অবস্থা। দ্রুত সেগুলির মেরামতি প্রয়োজন। এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল, পুজোয়
শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা মসৃণ রাখতে এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থেই
রাস্তাগুলি তাড়াতাড়ি সারিয়ে ফেলা দরকার। সেই চিঠিতে থানা এবং ডিভিশন ধরে ধরে
বেহাল রাস্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরে প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে
গেলেও বহু রাস্তায় এখনও নতুন করে পিচের প্রলেপ পড়েনি। ফলে বেহাল রাস্তার কারণে
শহরে গাড়ির গতি যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনই ভোগান্তির মুখে পড়ছেন আমজনতার একটি বড়
অংশ। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে বলেও অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিট, রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিট, পিকনিক গার্ডেন
রোড, কুষ্টিয়া রোড, সি এন রায় রোড, অজয়নগর মেন রোড, পূর্বাঞ্চল রোড-সহ শহরের
একাধিক রাস্তার অবস্থা বেহাল। পুলিশের চিঠিতে নাম থাকলেও এই সব রাস্তা এখনও
সারানো হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। তাতে
চাকা পড়লেই লাফিয়ে উঠছে গাড়ি। উল্টে পড়ার উপক্রম হচ্ছে অটোরিকশা এবং স্কুটারের।
শুধু পুরসভা নয়, পূর্ত দফতরের অধীনে থাকা একাধিক রাস্তারও একই হাল। দিনকয়েক
আগের টানা বৃষ্টিতে সেই সব রাস্তা আরও বেশি করে ভেঙেচুরে গিয়েছে। বৃহস্পতিবারই
উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে শহরের একাধিক পুজোর। বিদেশি অতিথিরাও মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছেন।
পুজোর মুখে শহরের একাধিক রাস্তার এই বেহাল অবস্থা দেখে খুবই বিরক্ত
উদ্যোক্তাদের একাংশ। উত্তরের একটি পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা বললেন, ‘‘রাতে
এমনিতেই হাজার হাজার দর্শনার্থী মণ্ডপে আসেন। কিন্তু মণ্ডপে আসার রাস্তায়
জায়গায় জায়গায় গর্ত। পুজো দেখতে বেরিয়ে মানুষ ঠাকুর দেখবে, না কি রাস্তার গর্ত
খুঁজবে?’’
পুরসভার যদিও দাবি, রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু রাস্তার
প্রয়োজনীয় মেরামতি শেষ। কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (রাস্তা) অভিজিৎ
মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘‘বৃষ্টির জন্য রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়েছে। পুজো শুরুর আগেই সব কাজ শেষ করে দেওয়া হবে।’’
কবিতার নাম: শরতের দিন গুলি।
কবির নাম: আফরিনা সুলতানা ঈশিতা।
এইতো আকাশ বেজায় নীল
এই দেখো আবার কালো,
শরতের নীলাকাশ
দেখতে লাগে ভালো।
শরতের আকাশে
সাদা মেঘের ভেলা,
কোন কারিগরের সৃষ্টি এমন
আহা,কি চমৎকার খেলা!
শরৎরানী কোথায় পেল এত হাসি?
চারিদিকে আনন্দ তার রাশি রাশি।
শরৎ দিনে আকাশ পানে
সাদা কালো মেঘ,
উঠোন জুড়ে কাশ ফুটেছে
কি সুন্দর! দেখ।
শরতের দিন গুলো
ভারী রঙিন হয়,
নীলাকাশ আর কাশফুল দেখে
দুচোখ যে জুড়োয়।
কবিতার নাম: ফড়িং।
কবির নাম: তপন মাইতি।
ফুরুত ফারুত ওড়ে ফড়িং
ফরফর করে ওড়ে
জলের ওপর লেজটি ডোবায়
বারবার এটা করে।
কত রঙের ফড়িং আছে
ভীষণ ভালো লাগে
কচি ঘাসের ডগায় দেখি
বৃষ্টি রোদ্দুর ফাগে।
বর্ষার মুখে আকাশ দেখি
গোধূলি যেই ভাসে
ফিঙে এবং হরেক পাখি
শিকার ধরতে আসে।
ফড়িং তোপে মাছ যে ধরে
পাড়ার ফড়িং ভায়া
জল ফড়িং কল্পনা জাগায়
শিশু মনের মায়া।
উড়তে উড়তে ঘুরে আসে
বিদেশ বিভুঁই দেশে
জল ফড়িং নীল পরি আসে
ফিরছে ফড়িং শেষে।
ফড়িংবাবু হাওয়ায় ওড়ে
জল ফড়িং চেহারা
বড় হোটেলে খাবার দেয়
ঘাস ফড়িং বেয়ারা।
ফড়িং ভীষণ ভাল লাগে
উড়তে উড়তে বলে
দুঃখের কথা বলব কাকে
ক্ষুদ্র দেহ হলে?
কবিতার নাম: শুক্রবার।
কবির নাম: ইমরান খান রাজ।
পরশুদিন শুক্রবার !
মনে হচ্ছে প্রায় শত পক্ষ শেষ করে,
অবশেষে ফিরে এলো শুক্রবার।
কারো কাছে হয়তো দিনটি নিছকই শুক্রবার,
আবার কারোর কাছে কিছুটা স্বস্তির দিন-ক্ষণ,
কিন্তু আমার কাছে যেনো এক অমাবস্যার চাঁদ !
কি আছে এই শুক্রবারে? কেন এমন আগ্রহ ?
উত্তর হয়তো কেউ জানবে না কোনদিন।
কারণটা খুব সোজা, কাউকে কখনো বলা হবে না।
কিছু তথ্য গোপন থাকাই শ্রেয়,
কিছু অপেক্ষা অধরা থাকাই উত্তম।
ইসরায়েল ফিলিস্তিন সংঘাত
হামাস হামলা করতে পারে, বাইডেনকে সতর্ক করেছিল আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা! বলছে
বিদেশি সংবাদমাধ্যম
সিএনএন দাবি করেছে, সেপ্টেম্বরের শেষে আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা রিপোর্ট দিয়ে
হামাসের হামলা নিয়ে সতর্ক করেছিল। জানিয়েছিল সীমান্তের ওপার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র
ছুড়তে পারে তারা।
ইজ়রায়েল এবং প্যালেস্তাইন শীঘ্রই সংঘাতে জড়াতে পারে। জো বাইডেন প্রশাসনকে
সতর্ক করেছিল আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা। গত শনিবার, ৬ অক্টোবর ইজ়রায়েলে হামলা
করে হামাস। সেই হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে এই সতর্কতা জারি করেছিল তারা। এমনটাই
বলছে একটি রিপোর্ট।
সিএনএন দাবি করেছে, সেপ্টেম্বরের শেষে, অক্টোবরের শুরুতে আমেরিকার গুপ্তচর
সংস্থা রিপোর্ট দিয়ে হামাসের হামলা নিয়ে সতর্ক করেছিল। জানিয়েছিল সীমান্তের
ওপার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে তারা। হামলার ঠিক এক দিন আগে তারা ইজ়রায়েল
থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করে আবারও জানিয়েছিল, হামাসের কার্যকলাপে কিছু
অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। তা থেকে স্পষ্ট, তারা হামলা চালাতে পারে।
৬ অক্টোবর গাজ়া থেকে ইজ়রায়েল লক্ষ্য করে হাজারে হাজারে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে
শুরু করে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। জল, আকাশ, স্থল পথে চলে হামলা। সীমান্ত পেরিয়ে
ইজ়রায়েলে ঢুকে পণবন্দি করে নাগরিকদের। হামলায় ইজ়রায়েলের ১,৩০০ জন নাগরিক মারা
গিয়েছেন। আহত আরও কয়েক হাজার। ইজ়রায়েলের দাবি, তাদের ১২০ জন নাগরিককে পণবন্দি
করা হয়েছে। পণবন্দিদের নিগ্রহের একাধিক ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও
আনন্দবাজার অনলাইন তার সত্যতা যাচাই করেনি।
সিএনএন যদিও জানিয়েছে, হামাসের হামলা যে এতটা ভয়ঙ্কর হবে, তা আন্দাজ করতে
পারেনি আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা। তাদেরই একটি সূত্র জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমকে।
তবে গুপ্তচর সংস্থা এ সব নিয়ে ইজ়রায়েলকে সতর্ক করেছিল কি না, জানা যায়নি।
এমনিতে ইজ়রায়েল, গাজ়া নিয়ে নিয়মিত গোপন তথ্য সংগ্রহ করে শীর্ষনেতাদের জানায়
আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা। গত কয়েক বছর ধরেই এই কাজ করে আসছে তারা। আমেরিকা সেই
তথ্য পাঠায় ইজ়রায়েলকেও। তবে এই তথ্যগুলিকে কতটা গুরুত্ব দেয় আমেরিকা বা
ইজ়রায়েল, এখন সেই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। আরবও গাজ়া এবং হামাসের বিষয়ে নিয়মিত
তথ্য দিয়ে সাহায্য করে আমেরিকাকে। আরবের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, গত কয়েক
বছর ধরে বার বার তাঁরা আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে সতর্ক করেছেন। জানিয়েছেন,
‘প্যালেস্তাইনের ক্রোধ’ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ক্রোধ হিংসার জন্ম দিতে পারে। যদিও
তাঁদের সতর্কতায় দুই দেশ কান দেয়নি বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।
এ বার গাজ়া থেকে হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্যস্থির করেছে ইজ়রায়েলের
প্রতিরক্ষাবাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলছে অভিযান। সঙ্গে লাগাতার চলছে বিমান
হানা। পরিসংখ্যান বলছে, ইজ়রায়েলের হামলায় গাজ়ায় ১,৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছে ৬০০ শিশু।
কবিতার নাম: কোকিল পাখি।
কবির নাম: মোহাঃ নাসিমুদ্দিন হক।
কোকিল পাখির গায়ের বরণ
কালোর ওপরে নীল উজ্জ্বল;
বাঁকানো ঠোঁটের সবুজ রং,
লম্বা লেজ, চোখটা লাল।
গাছের ঝোপঝাড়ে কোকিল
ডাকে উঁচু-সুরেলা কণ্ঠে ;
এদেরকে গ্রামবাংলায়
বেশী দেখা যায় বসন্তে।
কুহু, কুহু সুরেলা ডাকে
বসন্তকে মাতিয়ে রাখে ;
বসন্তকে ভাবায় যায় না,
বাদ দিয়ে কোকিলকে।
বসন্তের সকালে কোকিল
বসে উঁচু গাছের ডালে ;
মধুর কণ্ঠে, মিষ্টি সুরে
সকলকে মুগ্ধ করে চলে।
কোকিল পাখির থাকে না
কোনো নিজস্ব বাসা ;
অন্যের বাসায় ডিম পাড়তে
লুকিয়ে করে যাওয়া আসা।
কোকিল পাখি কাকের
বাসায় লুকিয়ে ডিম পাড়ে ;
কোকিলের ডিমে তা দিয়ে
কাক বাচ্চা ফুটিয়ে ছাড়ে।
বিশ্ব ছাত্র দিবস
বিশ্ব ছাত্র দিবস প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর তারিখে পালিত হয় এক অনন্য সাধারণ
ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনার্থে। সেই ব্যক্তিত্বটি হলেন ভারতের মহান মহাকাশ
বিজ্ঞানী ও একাদশ রাষ্ট্রপতি (২০০২ - ২০০৭) এ. পি. জে. আবদুল কালাম ( ১৯৩১ -
২০১৫) ।
বিজ্ঞানের গবেষণায় নিরলস পরিশ্রমে ভারতকে বিশ্ব-মাঝে এক উচ্চতার আসনে পৌঁছে
দিয়েছেন তিনি। জীবদ্দশায় তার ৮৪ বছরের দীর্ঘ ও সফল কর্মজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা
ও দর্শন থেকে তিনি অনুভব করেছেন তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ ছাত্র ছাত্রীরাই আসল
শক্তি। কেবল তারাই গড়তে পারে আগামী দিনের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত শত প্রতিকূলতার
মাঝে। তাই তার আহ্বান-
"তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার আহ্বান হলো ভিন্নভাবে চিন্তা করার সাহস থাকতে হবে। আবিষ্কারের নেশা থাকতে হবে। যেপথে কেউ যায় নি, সে পথে চলতে হবে। অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহস থাকতে হবে। সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং তারপর সফল হতে হবে। এগুলোই হলো সবচেয়ে মহৎ গুণ। এভাবেই তাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদের কাছে এটাই আমার বার্তা"।
এরূপ এগিয়ে চলার জন্য অসংখ্য মহামূল্যবান বাণীতে এক ব্যতিক্রমী শিক্ষকের ভূমিকা
পালন করেছেন শত কাজের মাঝে। শিক্ষক হিসাবে ছাত্রদের সর্বদাই অনুপ্রেরণা
জুগিয়েছেন। স্বভাবতই তিনি তার জীবদ্দশায় দেশের ছাত্রসমাজ - সমগ্র ভারতীয়দের
মননে ও হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। একাধিক ভূমিকায় দেখা গিয়েছে তাঁকে। কখনও
তিনি বিজ্ঞানী, কখনও শিক্ষক আবার তিনিই ভারতের রাষ্ট্রপতিপদে আসীন হয়েছিলেন বিনা
প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তিনি জন্মেছিলেন তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমের এক দরিদ্র পরিবারে
১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর। কর্মদক্ষতায় তিনি পরিচিত হয়েছেন "মিসাইল ম্যান"
নামে। কিন্তু আবদুল কালাম নিজেকে শিক্ষক ভাবতেই বেশি পছন্দ করতেন। জাতিসংঘও ২০১০
খ্রিস্টাব্দে ড. এ. পি. জে. আবদুল কালামের ৭৯ তম জন্মদিনে তাঁকে সম্মান জানাতে
এবং তারই আদর্শে ছাত্রদের কঠোর পরিশ্রম ও সংকল্পে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে ১৫
অক্টোবর তারিখটিকে বিশ্ব ছাত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ১৫
অক্টোবরই প্রথম বিশ্ব ছাত্র দিবস পালিত হয়। সেই থেকে প্রতি বৎসর বিশ্ব জুড়ে
দিনটি পালিত হয়ে আসছে বিভিন্ন প্রতিপাদ্য বিষয় তথা ভাবনা নিয়ে।
এ বিষয়ে উল্লেখ্য এই যে, প্রতি বৎসর ১৭ নভেম্বর তারিখটিও উদ্যাপন করা হয়
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দিবস বা International Students Day হিসাবে জাতিসংঘের
২০০০ খ্রিস্টাব্দের ঘোষণা অনুযায়ী। সেটির উদ্দেশ্য হল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে
ছাত্রদের প্রতিবাদী চেতনার স্বীকৃতি হিসাবে। কেননা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়
১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে নাজিরা চেকোশ্লাভাকিয়ায় আগ্রাসন চালিয়ে পুরো
দেশ দখল করে নেয়। এতে স্বাধীন চেকোশ্লাভাকিয়া প্রজাতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ
আন্দোলন শুরু হয় দেশের সর্বত্র । উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের একত্র
করা হয়। এদের একজন নেতা বাড়ি ফেরার পথে জার্মান সেনাদের হাতে নিহত হলে তাদের
আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। তাদের প্রতিহত করতে বন্ধ করা হয় সমস্ত
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বারোশো শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে সংশোধনাগারের পাঠানো
হয় এবং বিনা বিচারে ন’জন ছাত্র ও শিক্ষককে ফাঁসি দেওয়া হয়। এই নির্মমতায়
বিশ্ববাসী উদ্বেলিত হয়।
বিশ্বের ছাত্রদের কাছে দিবস দুটি বহু সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের শিক্ষার্থীদের
পালনীয় উৎসব হলেও তাৎপর্য পৃথক। ১৫ অক্টোবরের উদ্দেশ্য ছাত্রসমাজের
অনুপ্রেরণাদাত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন আর ১৭ই নভেম্বরের উদ্দেশ্য হল বিশ্বের
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী চেতনার স্বীকৃতির পক্ষে থাকার জন্য।
কবিতার নাম: বিজয়োল্লাস।
কবির নাম: বাসুদেব সরকার।
সবার মনে বিজয়োল্লাস
আনন্দে সব মাতে,
শপথ নিচ্ছি দেশপ্রেমেরই
হাত রেখেছি হাতে।
সুখের ছোঁয়ায় দেশটি তুলবো
সোনার বাংলায় গড়ে,
দেশের সুনাম বৃদ্ধিকল্পে
যাবো সবাই লড়ে।
আয়রে কিশোর, আয়রে তরুণ
থাকিস্ না আর ঘরে,
সবাই মিলে কর্ম করবো
আমরা দেশের তরে।
দেশের প্রতি ভালোবাসা
জ্বালবো প্রেমের বাতি,
বিশ্বের বুকে বাঙালিরাই
হলাম বীরের জাতি।
ছড়া: পক্ষীরাজ।
কবির নাম: দর্পনা গঙ্গোপাধ্যায়।
পক্ষীরাজের পাখা মেলে
মেঘের ধুলো উড়িয়ে চোখে
ভিন দেশে যায় আমায় নিয়ে
আলো লাগে চোখে মুখে।
সেদেশ ছিল সোনার গড়া,
হীরের আঁচল দিয়ে মোড়া,
রাজপুত্র জানে লড়া,
সোনার কয়েন ঘড়া ঘড়া।
সোনার জলে সোনার হাঁস
সাঁতার কাটে বারো মাস।
ভাবছি যখন করবই লুট
ঘুমটি তখন দিলেই ছুট
পক্ষীরাজের দোষ কি বলো
বিবেক হঠাৎ জাগিয়ে দিল।
শুভ জন্মদিন:
- খ্রিস্টপূর্ব ৭০ - পুবলিয়ুস ভেরগিলিয়ুস মারো, প্রাচীন রোমান কবি।
- ১৫৪২ ( কারো মতে ) - মোগল সম্রাট জালালুদ্দিন আকবর।
- ১৬০৮ - এভামগেলিস্টা টরিচেলি, ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ।
- ১৮১৪ - মিখাইল লারমন্টভ, রাশিয়ান লেখক, কবি ও চিত্রশিল্পী।
- ১৮৪৪ - ফ্রিড্রিখ্ ভিল্হেল্ম নিটশে, জার্মান সুরকার, কবি ও দার্শনিক।
- ১৮৭৮ - ফ্রান্সের পল রেয়নাউড, ফরাসি আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ১১৮ তম প্রধানমন্ত্রী।
- ১৮৯২ - সাহিত্য সমালোচক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। (মৃ.২৮/০২/১৯৭০)
- ১৮৯৪ - মোশে শারেট, ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি লেফটেন্যান্ট ও রাজনীতিবিদ ও ২য় প্রধানমন্ত্রী।
- ১৯০৮ - জন কেনেথ গলব্রেইথ, মার্কিন অর্থনীতিবিদ।
- ১৯২০ - মারিও পুজো, মার্কিন কথা সাহিত্যিক।
- ১৯২৩ - ইতালীয় লেখক ইতালো কালভিনো।
- ১৯২৬ - ফরাসি সমালোচক ও প্রাবন্ধিক মিশেল ফুকো।
- ১৯৩১ - ড. এ পি জে আব্দুল কালাম, ভারতীয় বিজ্ঞানী ও একাদশ রাষ্ট্রপতি ।(মৃ.২৭/০৭/২০১৫)
- ১৯৪০ - পিটার সি. ডোহার্টি, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ান সার্জন।
- ১৯৪৪ - ডেভিড ট্রিম্বলে, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এর ৩য় প্রথম মন্ত্রী।
- ১৯৪৮ - সিদ্ধার্থ ঘোষ, বাঙালি কল্পবিজ্ঞান লেখক।(মৃ.৩১/১০/২০০২
- ১৯৫৭ - মীরা নায়ার, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজক।
- ১৯৬৬ - জর্জ কাম্পোস, মেক্সিক্যান ফুটবলার ও ম্যানেজার।
- ১৯৭১ - অ্যান্ডি কোল, ইংরেজ ফুটবলার।
- ১৯৭৭ - দাভিদ ত্রেজেগে, ফরাসি ফুটবলার।
- ১৯৮৩ - স্টেফ্য টাং, হংকং গায়ক ও অভিনেত্রী।
- ১৯৮৬ - লি ডোঙ্গায়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার গায়ক, গীতিকার ও অভিনেতা।
- ১৯৮৮ - মেসুত ওজিল, বিশ্বকাপ জয়ী জার্মান ফুটবলার।
শ্রদ্ধ জানাই:
- ১৫৬৪ - আন্দ্রে ভেসালিআস, বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত গ্রিক শারীরস্থানবিৎ, চিকিৎসক ও লেখক।
- ১৯১৭ - মাতা হারি, ডাচ নৃত্য শিল্পী, প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে জার্মানীর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
- ১৯১৮ - শিরডি সাই বাবা, ভারতীয় ধর্মগুরু, যোগী ও ফকির।(জ.১৮৩৫)
- ১৯৩৮ - আবুল হুসেন, ব্রিটিশ ভারতীয় লেখক, চিন্তাবিদ, সমাজসংস্কারক এবং বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রবক্তা।
- ১৯৪৫ - ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে লাভালের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
- ১৯৬২ - অতুলচন্দ্র ঘোষ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী, লোকসেবক সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ও পুরুলিয়া জেলার বঙ্গভূক্তি আন্দোলনের মূখ্যস্থপতি। (জ.০২/০৩/১৮৮১)
- ১৯৭৫ - দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী, ভারতীয় বাঙালি ভাস্কর, চিত্রশিল্পী এবং ললিতকলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি।(জ.১৫/০৬/১৮৯৯)
- ১৯৮৭ - টমাস সাঙ্কারা,বুর্কিনার ক্যাপ্টেন, রাজনীতিবিদ ও ৫ম প্রেসিডেন্ট।
- ২০০০ - কনরাড এমিল ব্লচ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পোলিশ বংশোদ্ভূত আমেরিকান প্রাণরসায়নী।
- ২০১২ - নরোদম সিহানুক, কম্বোডিয়ার রাজনীতিবিদ ও ১ম প্রধানমন্ত্রী।
- ২০১৩ - টমি আন্ডেরসন, সুইডিশ অভিনেতা।
- ২০১৮ - পল অ্যালেন, মার্কিন ব্যবসায়ী এবং মাইক্রোসফট -এর সহপ্রতিষ্ঠাতা।
🔹️ ই- সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন - Click Now
🔸️ লেখা ও শিল্পকলা পাঠান - Click Now
🔹️ হোয়াটসঅ্যাপ পরিবারের যুক্ত হন - Click Now
🔸️ ফেসবুক পরিবারের যুক্ত হন- Click Now






