কবিতার নাম: তালাক।
কবির নাম: আফরিনা সুলতানা ঈশিতা।
পুরুষ তুমি কথায় কথায়
বউকে দেউ তালাক,
আসলে তুমি কাপুরুষ
নিজেকে ভাবো অনেক চালাক।
নারী তোমার অর্ধাঙ্গিনী
কেন যাও ভুলে,
বাঁকা পাজরের হাড়ে গরা
বুকে রাখো তুলে।
করতে যদি যাওগো সোজা
যাবে সে ভেঙে,
বাঁকার মতন রেখে দিলে
থাকবে সে বেঁকে।
শাসনে নয়, ভালোবাসায়
বউকে রাখো আগলে,
পরিবারের কথায় বউ তালাক
যাও সে কথা ভুলে।
তালাক কোনো সমাধান নয়
তবুও বউয়ের পিঠে আঘাত,
পুরুষ তুমি মনে রেখো
বিনা দোষে বউ তালাকে
হবে জাহান্নামি নির্ঘাত।
ছড়া: স্বেচ্ছাচার।
কবির নাম: শংকর ব্রহ্ম।
শালিক চড়াই আর দেখি না
কোথায় গেল তারা?
আজ শিশুরা জানে না মোটে
কেমন তালের বড়া।
আজ শিশুরা কমিকস্ পড়ে
পড়ে না তারা ছড়া।
দাড়িবান্ধা আর গোল্লাছুট আজ
কোথায় হারালো তারা?
এই জমানায় পাল্টে গেছে
অনেক কিছুই দেখি,
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে মেয়েরা
সিগ্রেট ফোঁকে এ কী !
জীবন দেখি পাল্টে যাচ্ছে
গতি তার দুর্বার,
এর নাম কি স্বাধীনতা
নাকি স্বেচ্ছাচার?
কবিতার নাম: চড়ক মেলা।
কবির নাম: বিমল চন্দ্র পাল।
চৈত্র মাসে চড়ক মেলায়
লোক জমে কত শত,
ধুলো মাখা জিলিপি খাওয়া
চেঁচামেচি সংযত।
নিজ শিশুর হাতটি ধরে
মা ঘোরে ফেরে
মেলাতে,
ভেঁপু বাঁশরী বাজায় শিশু
ধরা তার বাম
হাতে।
মাঝে মাঝে শরতের বানে
ভেসে যায় বাড়ি
ঘর,
দূর গ্রামে ঠাঁই হয় তবে
কেউ নয়
কারো পর।
হাজার কষ্ট তবু ভাই
এ আমার প্রিয়
গ্রাম,
এখানেই বাঁচি সুখে সবে
করে জোর
সংগ্রাম।
হলুদ ফুলে মন মাতায়
ধানের
শীষের খেলা,
কোথায় গেলেই পাবো তারে
ভাসিয়ে
মনের ভেলা।
শতেক দূঃখ কত ব্যাথা
আছে মোর
এই গ্রামে,
সকল কিছু সয়েও তবু
আছি
আনন্দ ধামে।
কবিতার নাম: রূপের ঝলক।
কবির নাম: শুভব্রত ব্যানার্জি।
রূপের ঝলক দেখায় মোরে নিলো কেড়ে হিয়া
হৃদয় জুড়ে আছে তিনি আমার মনের প্রিয়া।
নিশিদিন যে দেখি আমি রাতে স্বপ্নের মাঝে
তাহার ছবি পরলে মনে ব্যাঘাত ঘটে কাজে।
ফুল বাগিচায় দেখি তারে নানা রঙের সাজে
চিত্ত আমার পাগোল করে হৃদয় জুড়ে রাজে।
প্রজাপতির বেশে মেয়ে ফুলে ফুলে ওড়ে
ভালোবাসার হৃদয় দিয়ে আমার হৃদয় ভরে।
কাছে যেদিন এলেন তিনি বার্তা নিয়ে তাহার
সেদিন আমার জীবনেতে এলো খুশির বাহার।
কথা সেদিন হয় নি যে শেষ ফিরে গিয়ে ঘরে
রেখেছিলাম সেদিন তাকে হৃদয় মাঝে ধরে।
চাঁদের মাঝে দেখেছিলাম তাহার সুন্দর ছবি
সেদিন আমি প্রেমে ডুবে হয়েছিলাম কবি।
খাতার পাতায় লিখেছিলাম রূপের কথা সবে
দেবো আমি সেদিন তারে যেদিন আমার হবে।
বসন্ততে পেয়েছি তার মিষ্টি রসের ছোঁয়া
ভালোবাসার আগুনেতে বেড়িয়েছে ধোঁয়া।
ফাগুন মাসের ফাগের রঙে রাঙিয়েছে শাড়ি
মোর জীবনে তিনি হলেন অপরূপা নারী।।
কবিতার নাম: মা আসছে।
কবির নাম: মিহির সেন।
ঢ্যাং কুড় কুড় বাদ্যি বাজে
দুগ্গা মা আসে,
ক'টা দিন কেটে যায়
মহা উল্লাসে।
নতুন নতুন জামা কাপড়
নানা রঙে নানা,
হাজার আলোয় মিষ্টি লাগে
মায়ের মুখখানা।
মা করে অসুর নিধন
ত্রিশুল হাতে করে,
অসুর পড়ে বেকায়দায়
মোষের পিঠে চড়ে।
লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গণেশ
সবাই একসাথে,
পুজোর ক'দিন হৈ হুল্লোড়
আনন্দে সব মাতে।
কবিতার নাম: শারদ-খুশি।
কবির নাম: গোবিন্দ মোদক।
শরৎকালের শারদ আলো উঠলো ফুটে ভোরে,
হিমন-শিশির ঘাসের বুকে পড়লো ঝরে ঝরে।
বাতাসটাকে ডাক দিল ঐ নদীর ধারের কাশ,
শিউলি ফুলে জানান দিলো এলো শারদ মাস।
সেই আবেশে খালে-বিলে শাপলা-শালুক ফোটে,
দিঘীর পদ্মে মধু খেতে মউ-মাছিরা জোটে।
চিকন্ নদী আশ্বিনেতে ভীষণ ভরো-ভরো,
স্থলপদ্ম উঠল ফুটে – আবেশ থরো-থরো।
মাথার উপর নীল আকাশের সামিয়ানা জুড়ে,
পেঁজা মেঘের নৌকা চড়ে বছর এলো ঘুরে।
সূর্য ছড়ায় প্রথম কিরণ সোনা রঙে মাখা,
সেই আবেশে পাখিরা গায় হাওয়ায় মেলে পাখা।
এমন সময় ব্যস্ততা খুব কুমোরটুলি জুড়ে,
বছর পরে “শারদ-খুশি” এসেছে যে ফিরে।
যত্ন করে বাদল ঢুলি সাজায় যে তার ঢাক,
মা দুগ্গা উঠলো পাটে – তাকুড় নাকুড় তাক!
কবিতার নাম: আকাশের সামিয়ানা।
কবির নাম: মোহাঃ নাসিমুদ্দিন হক।
বহুদিন থেকে রয়েছি আমি
তার ডাকার অপেক্ষায়;
আজও তার মুখপানে চেয়ে
রয়েছি বহু আকাঙ্ক্ষায়।
সারাদিন থাকি উদাস মনে,
কোনো কাজে লাগে না মন;
সুখ না হয় না পায়, দুঃখ এই
হৃদয়ে অনেক যন্ত্রণা এখন।
বহু দূরে রয়েছে সে একা
কী অবস্থা এখন তার ?
তারে দেখতে না পেয়ে
মনটা আমার ভীষণ ভার।
কেন যে করে চলেছে সে
এতটা নিষ্ঠুর অবহেলা ?!
মানসিক পীড়ায় রাতে ঘুম না
এসে থাকে শুধু চোখ দুটি মেলা।
এতো বোঝানোর পর বুঝেও
যদি সে না বোঝার করে ভান !!
পথ ভোলা পথে নেমে পড়লে
হবে কি দিয়েও সব মন প্রাণ !?
রয়েছি যে এখন শুধুই
প্রভুর রহমতের আশায়;
মুসিবতের সময় দেখছি না
যে আর অন্য কোনো উপায় !!
কবিতার নাম: দুর্গা মাসি।
কবির নাম: বিবেকানন্দ মাইতি।
দু -একদিন পরে স্কুলে পড়বে পুজোর ছুটি
পড়াশোনায় একেবারে মন বসছে না
দুর্গা মাসি , তুমি এবার বাড়িতে আসবে
সঙ্গে আনবে কার্তিক ও গণেশ দাদাকে
নিয়ে এসো লক্ষ্মী ও সরস্বতী দিদিকে ৷
পারোতো, তুমি সিংহটাকে রেখে আসবে
আমার ওকে ভীষণ ভয় করে
সব আনন্দ ও একাই মাটি করে দেবে ৷
ভেবেছি এবার কাছে- পিঠে ঘুরাঘুরি করব
আমার তেমন কিছুই দেখা হয়নি
শরতের নদী তীরে ফোটা সাদা কাশফুল
চৌধুরীদের লাল দিঘিতে বড় বড় পদ্মফুল ৷
কার্তিকদার ময়ূরটার পিঠে চড়ে আমি ঘুরব
একান্ত নিজের মতো করে এদিক- ওদিক
যেখানে কেউ আমাকে কখনো নিয়ে যায় নি ৷
তোমরাতো প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ব্যস্ত থাকবে
ভক্তরা লুটিয়ে পড়বে তোমাদের পদতলে
তারপর দুষ্টু মহিষাসুরকে তুমি বধ করবে
রক্তপাত , হানাহানি আমার ভালো লাগেনা |
তুমি বরং মানুষের মন থেকে হিংসা মুছে দাও
তোমাকেও আর অসুর নিধন করতে হবে না।
পৃথিবীতে সবাই সুখে- শান্তিতে বসবাস করবে
এর থেকে আর কি বা বেশি চাই ?
টাকা -পয়সা নয় , পৃথিবীতে এখন শান্তি চাই ৷
Navaratri
Sanjoy Banerjee
Navaratri ,Navaratri
Hindu Festival
Goddess Durga
Supreme Goddess.
The Annual Hindu Festival.
Navaratri--
Nine nights, Ten days.
It's Called--"Navaratri ".
The Autumn Festival
Sharada Navaratri.
Sanatani Hindus Festival
The Famous Festival
All ladies are enjoying this beautiful Festival.
কবিতার নাম: শারদ আগমনী।
কবির নাম: তাপস মাইতি।
কেউ কি পুজোর গন্ধ মেখে
আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে
নদীর তীরের দিকে তবে কোন্ পাখি
শরতের পুজোর গান
উড়িয়ে নিয়ে চলেছে নির্বিঘ্নে
যারা প্রতিমা- প্রতিমা করে
চেঁচিয়ে উঠছে,
সেখানে পটূয়া দাদা কি
তুলি হাতে ঝুঁকে পড়ে আছে
শীঘ্রই মন্ডপ উত্তরে দেবে বলে
মেঘেরা পেঁজা ছড়ায় নীলাকাশে,
কাশবন উন্মাদ হয়ে উঠছে
আগমনী বাতাসের স্পর্শ পেয়ে
ঢাকির তালে তালে শুধুই কি
মেয়েরা নাচবে
আর পুরুষেরা কাঁধে বইবে শারদ প্রতিমা
কবিতার নাম: বেদনার কথাগুলো।
কবির নাম: উদয় নারায়ণ বাগ।
বেদনার কথাগুলো উড়িয়ে যখন ধুলো
বৃষ্টি হয়ে পড়ে গাল পরে,
স্বপ্নিল যতেক ছবি দুপুরের রাঙা রবি
ডুবে যায় তপ্ত মরু-চরে।
সহসা আসিবে সাঁঝ বিনা মেঘে ধেয়ে বাজ
দধীচির চোখ হয় লাল,
ভাগাড়েতে শেষ সুর মনাকাশে দুর-দুর
জীবন-বীণা হারায় তাল।
খাঁখাঁ করে ধরা-তল বৃন্তহারা পুষ্প-দল
শুষ্ক বায়ে উড়ে চলে দূর,
দেহ চায় পরিত্রাণ ধুলিতে লোটায় প্রাণ
স্নেহ-মায়া ভেঙে চুর-চুর।
কিবা দিন কিবা রাত শমনের করাঘাত
এসে পড়ে কপালের পরে,
ভয়াল দুর্গম আভা তপ্ত আগুনের লাভা
জীবনের গাঙ যায় ভরে।
হাঁটু-জলে তরি ডুবে আলো না তো উঠে পুবে
রজনী হয় না পথে শেষ,
তেড়ে আসে দুঃখ-ঢেউ গালে হাত দিয়ে কেউ
বেদনায় পাগলের বেশ।
কবিতার নাম: স্মৃতির সরণী।
কবির নাম: বিবেক পাল।
হাত ধরে "---- হাঁটছি পথে কড়া দুপুর জোৎস্না রাতে"
শান্ত সজল বিকেল-বেলা সবুজ ঘাসে
মেঘের ডাকে, হৃদয় জুড়ে বৃষ্টি নামে------
হন্যে হয়ে খুঁজছি তাকে--
শক্ত মুঠোয় আঙ্গুল ধরা সেই হাত ,
রাত দুপুরে ভরসা বুকে নিশ্চিত বাস ।
দিনশেষে বিষন্ন মন ক্লান্ত চরণ
মেঘের রাজ্য অচিনপুরে ; আছো কেমন ?
স্মৃতির আঙ্গিনা ঠিকানা আমার ।
আজ হাঁটছি আমি---
"----কড়া দুপুর জোৎস্না রাতে "
পিতা হয়ে পিতার স্মৃতি নিয়ে ।
কবিতার নাম: অসুর।
কবির নাম: কমল ঘোষ।
মা দুর্গা মানুষটাকে
দিল ত্রিশূল দিয়ে মেরে,
না জিতলে কি হত মা?
না হয় যেত হেরে!
মা জননী বুকে টেনে নিয়ে
বললে - ওরে বেটা,
ছোট্ট কিনা বুঝবি না তুই,
ব্যাপার তো নয় সেটা!
দেখতে ঠিক মানুষের মত,
আসলে ওটা অসুর ।
ওর চেয়ে স্বভাব ভালো
হিংস্র যত পশুর।
সব কিছু ও গায়ের জোরে
চাই যে নিতে কেড়ে,
চুপ করে তাই সয় নিকো মা,
দেয় নি ওকে ছেড়ে।
মানুষই পারে দেবতা হতে,
হতে পারে সে অসুর,
এই ক্ষমতা নেই কিন্তু
বনের কোন পশুর!
খোকা শুনে কয় - ঐ মানুষটা
দুষ্টু বুঝি ভারি!
তাই বলছো অসুর ওকে,
ভীষণ সাজা তারই!
তাই বুঝি মা বল আমায় -
জীবনখানি গড়,
জগতের তুমি সহায় হও,
তবেই হবে বড়।
কবিতার নাম: ঢেউ।
কবির নাম: তপন মাইতি।
হৃদয়ের ঢেউ সাগরের ঢেউ
এক্কেক সময় সমান
নেশা ভাঙ খোর জোচ্চর বাটপাড়
একটু করে কমান।
কমতে হবে মিথ্যে কথা
কমতে হবে দূষণ
কমতে হবে দুঃখের নাটক
বাড়ুক একটু ভূষণ।
হেমন্তের ঢেউ বসন্তের ঢেউ
যখন একই হবে
নদ নদীর ঢেউ জীবনের ঢেউ
দেখা হবে কবে?
মধুর আমার মায়ের হাসি।
সামসুজ জামান।
আন্তর্জাতিক মাতৃত্ব দিবসে পত্রিকায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক প্রথম
শ্রেণীর পত্রিকায় প্রকাশিত "মাতৃ দিবসের প্রাক্কালে গুয়াহাটির বেলতলার একটি
বৃদ্ধাবাসের আবাসিকেরা"- শীর্ষক ছবি দেখে মন ভেঙে গেল। মায়েদের হাতে গোলাপ ফুল
আর তাঁদের মুখের পবিত্র হাসিতে চোখে নিয়ে এলো অশ্রুর বন্যা! আমাদেরকে পৃথিবীর
আলো দেখানোর জন্য যাঁদের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবেনা, তাঁরা বৃদ্ধাবাসের
অলিখিত কারাগারের আড়ালে চোখের জলে বুক ভাসান! এর থেকে নির্মম সত্য আর অসহ্য
বেদনা কী হতে পারে?
আমরা মুখে বলি "মধুর আমার মায়ের হাসি, চাঁদের মুখে ঝরে"! আমরা গলাবাজি করে বলি-
"সাগরের তল আছে পার আছে তার /অতল অপার মাতৃ স্নেহ পারাবার"! কিন্তু কাজের বেলায়
সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী চিত্র সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়। পৃথিবী মাতৃময়ী, সর্বত্রই
মাতৃস্বরূপ বিরাজমান সত্বেও মহাভারতের দ্রৌপদী কে লাঞ্ছিতা হতে হয়। পরবর্তী
অত্যাধুনিক যুগেও আমাদের ঘরের মা-বধু-ভগ্নির দল বিভিন্নভাবে শারীরিক, মানসিক দিক
থেকে নির্যাতিতা ও বিপর্যস্তা হন। উপায় থাকে না বলে ব্যাপারটাকে তাঁরা একমাত্র
ভবিতব্য বলে মানতে বাধ্য হন। বৃদ্ধাশ্রমের হতাশার কান্না জড়িত ভাষায় মনে মনে
তাঁরা আক্ষেপ করতে থাকলেও কিন্তু অন্তরে সন্তানের মঙ্গল কামনায় সর্বান্তকরন
তাঁদের অধীর হয়ে থাকে- একথাও সর্বজন বিদিত। জানিনা কবে জাগ্রত হবে আমাদের
অন্তরের শুভ বোধ? আর মনের পাপ ধুয়ে গিয়ে মাতৃশক্তির পূর্ণতায় পৃথিবী ভরে
উঠবে?? আমরা আশাবাদী আমাদের চেতনা পরিবর্তিত হয়ে এই মঙ্গল- কল্যাণ কে নিশ্চয়ই
একদিন গ্রহন করবেই -- এটুকুই অন্তরের আশা এবং সদর্থক বিশ্বাস।
কবিতার নাম: ফিরে যেতে চাই গো আমি।
কবির নাম: আলমগীর।
ফিরে যেতে চাই গো আমি
তোমার সবুজ স্নিগ্ধ মায়াবী মনে
জীবিত হয়ে নয় তোবা-
মৃত লাশের কফিন বন্দী হয়ে ।
ফুলোহরের অমৃত প্রভঞ্জন
দেয় না আমার বক্ষঃস্থলে ছোঁয়া;
হাজার বছর ধরে পাইনা আমি
রুপালি ধানের শিষ গুলির দেখা।
ছোটবেলার স্মৃতি গুলো
বারবার হৃদয়ে দেয় দোলা;
ছোট্ট পুকুর ঘাটে-
হংস নিয়ে আজও করিতে চাই খেলা।
ফিরে যেতে চাইবো আমি
তোমার অন্তরের মাঝারে
আজ না হোক;
কোন এক যুগে।
কবিতার নাম: দাদুর লাঠি।
কবির নাম: দীপক রঞ্জন কর।
দাদুভাই , ছুটে আয়
আমায় লাগছে বড়ই একা
তোর সাথে দিবা রাতে
হয় নে যে আর দেখা ।
হঠাৎ ছেড়ে কেমন করে
কোথায় গেলে চলে ?
খেলার সাথী জীবন বাতি
আমায় একা ফেলে।
দাদুর পিঠে ঘোড়ায় চড়া
খেলবি নে বুঝি আর ?
নাগর দোলায় রথের মেলায়
যাবি নে নদীর পার ?
ভোরে হাঁটা হয় নে যে আর
বিকেলে বন্ধ খেলা
সবকিছুই পাল্টে গেলো
এই জীবন সন্ধ্যাবেলা ।
বনভোজনে নাচে গানে
শিমুল-পুকুরের ঘাটে
আয়রে ভাই ,আবার যাই
ঘুড়ি ওড়াবার মাঠে ।
মাকে বলে আয়না চলে
তোর হাতটি ধরে হাঁটি
দাদুভাই,
তুইযে আমার নয়নের আলো
শেষ বয়সের লাঠি ।
কবিতার নাম: প্রার্থনাটা রাখো।
কবির নাম: রবিন রায়।
ঈশ্বর নামে যদি কেউ থেকে থাকো,
কৃপা করে আমার প্রার্থনাটা রাখো।
সবিনয় আবেদনে জানাই তোমারে -
আমার আক্ষেপিত আত্মার অনুনয়,
বড় যাতনা ক্লিষ্ট হয়েই হে শ্রেষ্ঠতম!
আজ আমি চাইছি তোমারই সহায়।
তোমার প্রেমময় দৃষ্টিতে -
মঞ্জুর করো, বরখাস্ত করো নাকো;
ঈশ্বর নামে যদি কেউ থেকে থাকো....!
নিয়তির অবহেলায় জীবন পরিহাস,
আমি চির বঞ্চিত , অবাঞ্ছিত প্রাণ ;
পাইনি পার্থিব সুখ বৈভব আজীবন,
সদা দুঃখের মাঝে এ জীবন যাপন।
তুমি নাকি স্বামী অন্তর্যামী,
মুদিত ওই নয়নে সর্ব বিশ্বকে দেখো...?
কৃপা করে আমার প্রর্থনাটা রাখো।
ভাগ্যের লিখনে পেয়েছি আমি যা,
তাতে আর বলার মতো কিছু নেই ;
ভালোর আশায় মেলা মন্দ সহেছি,
মন্দের তাড়নায় আত্মা শ্রান্ত সেই ।
নন্দ দৃষ্টি আকর্ষণে বলা -
আমার বিষয়টি একটু যত্নে মাখো...!
কৃপা করে আমার প্রর্থনাটা রাখো।
তৃষিত প্রান অতিষ্ঠ হয়েই আগত -
তোমার দ্বারে নিয়ে শেষ অনুযোগ,
প্রত্যাখানে যেনো করো না বিধুর,
বিখন্ডিত করো আছে যত দুর্ভোগ।
তোমার সাধের সৃষ্টি জানে-
বেদনায় দহে কেনোই নিরব মুখো...?
ঈশ্বর নামে যদি কেউ থেকে থাকো..।
না, চাইছি না, কোনো অর্থ ঐশ্বর্য্য,
আমার অন্তিম আকাঙ্খা সামান্য ;
যদি অভয় দাও, তবে সম্মুখে রাখি,
দানের সভায় ইচ্ছে পেশে হই ধন্য।
নিয়তির নীতির সীমায় বেঁধে -
সতর্ক বাণীতে কেন চাতুরী ঠোকো..!
কৃপা করে আমার প্রর্থনাটা রাখো..।
মহামান্য! এবার করি উপস্থাপিত,
দরখাস্তের আকারে সে মূল হেতু ?
তুমি দয়াময়, যেনো বিমুখ না হও-
আমার ঐকান্তিক কামনা যে মৃত্যু ।
আমি আর চাইবো না কিছু -
আমায় তোমার স্নেহ ধারায় ঢাকো....।
ঈশ্বর নামে যদি কেউ থেকে থাকো।
তোমার দানের দারিদ্র্যতায় হীন হয়ে-
আমি পাইনি যে প্রাণের সুখ সজনী,
আবেগে মুচড়ে, নিত্য নয়নে ভেসে,
আমার কাটলো এমন কতই রজনী।
অন্তিম একবারই দাও-
আমি আশীষ চাইনি তো আর লাক্ষো।
কৃপা করে আমার প্রর্থনাটা রাখো..।
তোমার প্রেমের জগতে এসে দেখি,
ভালোবাসা নেই সব মিথ্যের মায়া ;
স্বার্থ তো আমারও থাকার কথা -
অপূরণে তাই ছাড়তে চাইছি কায়া।
ত্যাগের প্রতিদান চাই না,
কৈফিয়ত চেয়ে যেন তুমি না বেঁকো।
ঈশ্বর নামে যদি কেউ থেকে থাকো...!!
গল্পের নাম: বেকারত্বের ডায়রি।
লেখক: কার্তিক চন্দ্র বল।
ছেলের ডায়রিটি পড়তে পড়তে রবিবাবুর চোখের কোণে বৃষ্টির কনা নেমে এলো । কেনো ? তাই
তো !
ছেলের স্টাডি রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে । একটি ডায়রি পড়ে থাকতে দেখে । হাতে নিয়ে
ধূলো ঝেড়ে পেজ গুলো খুলতে শুরু করে । দেখে যে লেখা গুলো আবচ্ছা । কে যেন জল
ছড়িয়েছে ।
তারপর পড়তে শুরু করলো -
আজকের সমাজ শিক্ষিত বেকারদের দিকে তাকিয়ে বলে -
দেখ এই যে এই ছেলেটা এতো পড়েও আজ ও বেকার ।
এখন কেউ বলে না কেমন আচ্ছি ! বলে কি করিস ! কি করবি-
এই প্রশ্নগুলো একজন বেকারকে হয়তো মৃত্যুর থেকেও কষ্ট দেয় ।
কিন্তু মুখে হাসি রেখে কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি ।
তুমি বলোনা মাঝে মাঝে -
তুই একটা চাকরি খোঁজ । চেষ্টার ত্রুটি রাখিনা বাবা ।
তোমার বেনুর আর মাসে হাত খরচ পাঁচশো টাকা লাগে না । দুইশো টাকাতে হয়ে যায় ।
রাতের অন্ধকারে কান্না করি যেন কেউ না বুঝতে পারে ।
ভগবানকে বলি - একটা পথ দেখাও !
আজ আমার স্বপ্নগুলোও কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে । আর স্বপ্ন দেখতেও ভয় লাগে ।
তোমাদের বলতে পারি না -
কেনো জানো - কোনো বাবা মা কি সন্তানের কষ্ট সহ্য করতে পারবে তাই।
মাঝে মাঝে মনে হয় এই পৃথিবী থেকে সব কিছু ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাই ...। শুধু
তোমাদের কথা মনে হলে আর মন চায় না ।
রবিবাবু বুঝতে আর দেরি হলো না যে ডায়রির লেখা গুলো কেন আবচ্ছা । ডায়রির মধ্যে
কিসের জল ..।
ডায়রিটা রেখে চোখের জল মুছতে মুছতে ছেলেকে ফোন করতে লাগলো ।
কবিতার নাম: শরৎ প্রাতে।
কবির নাম: সুস্মিতা ঘোষ।
ঝিরিঝিরি টাপুর টুপুর শিশির পরে
শরৎ প্রাতে ,
সোনালী বনের ধানের খেতে ।
হিমের পরশ লাগলো দেহে ,
থর থর বুকে
হিমের বায়ু চলে এদিক ওদিক বহে।
চারিদিকে অবছায়া সব ,
শিশির ভেজা শিশুর পাখির
কাঁপানো ধ্বনির রব ।
ফুলের কুড়ি লুটোপুটি খায়
মাটির আগালে ,
তোমার মিষ্টি সুরের
বাঁশির ধ্বনি আমার হৃদয় ছোঁয়ালে ।
টাপুর টুপুর শিশির ঝরে
গাছের পাতায় শরৎ প্রাতে
মিষ্টি রাতে ।
ছড়া: সময়।
কবির নাম: অতুল সেন।
একজন প্রশ্ন করেছিলো
কে তোমার কাছের?
আমি বললাম সময়
একজন প্রশ্ন করেছিলো
তুমি কাকে বিশ্বাস করো?
আমি বললাম সময়কে
একজন প্রশ্ন করেছিলো
তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো?
আমি বললাম সময়কে
একজন প্রশ্ন করেছিলো
তুমি নিজেকে বিশ্বাস করো?
আমি বললাম না
সে বললো কেনো?
সময় যদি ঠিক না থাকলে আমিও পরিবর্তন হই।

