।। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।।
।। ২৩তম সংখ্যা ।।
📢 প্রকাশ:
- বাংলা: ৩ই কার্তিক ১৪৩০
- ইংরেজী: ২১শে অক্টোবর ২০২৩
- বার: শনিবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
🔆 আজ আবহাওয়া: ৩২/২৩°C (পশ্চিমবঙ্গ)
✒️ লিখেছেন:
কবিতার নাম: পুজো এলো।
কবির নাম: বদ্রীনাথ পাল।
উড়কি ধানের মুড়কি খাবো
শালি ধানের খৈ
পুজো এলো পুজো এলো
করবো রে হৈ চৈ !
হাওয়ার দোলায় দুলছে মাঠে
সাদা কাশের ফুল,
মেঘ বলাকার সারি দেখে
হচ্ছে সবই ভুল।
ঢেউয়ের তালে নাচ জুড়েছে
শাপলা শতদল,
ঘাসের আগায় শিশির কণা
করছে ঝলোমল।
মন্দিরেতে ঢাক বেজেছে
ঢ্যাম্ কুড়াকুড়্ কুড়্
আলোয় আলোয় ভরিয়ে দিলো
আলোর সমুদ্দুর !
ছড়া: হতচ্ছাড়ার প্রশ্ন।
কবির নাম: শংকর ব্রহ্ম।
দুর্গা ঠাকুর দুর্গা ঠাকুর তুমি আমার কে?
সবাই তোমায় মা বলে আমি ভাবতে পারিনে
মা যার অন্নপূর্ণা সন্তানের,এমন কেন দশা
অন্নাভাবে,কোটরে চোখ গাল দুটি তার বসা?
তুমি যদি,সত্যিকারের মা হতে চাও কারও
সবার মুখে দু মুঠো ভাত,নিজেই তুলে ধরো।
প্যান্ডেলের জাঁক জমক ছেড়ে বেরিয়ে এসো
হতচ্ছাড়া বালিকাটির শুধু পাশে এসে বসো
আঁস্তাকুড়ে ফেলা খাবার কুড়িয়ে খাবার স্বাদ
হার মানবে তার কাছে জাঁক জমকের প্রসাদ।
কবিতার নাম: প্রকৃতির রূপ।
কবির নাম: মিহির সেন।
প্রকৃতির এই বিশ্ব সৃষ্টি
চির রহস্যময়,
কোথাও শুষ্ক তপ্ত ভূমি
কোথাও জলাশয়।
আকাশ থেকে বৃষ্টি কোথাও
বিরামহীন ঝরে,
মরু মাঝে উষ্ণ স্থান
বৃষ্টি নাহি পড়ে।
পাহাড় ঘেরা পাথর ভূমি
নদীর উৎস স্থল,
বৃক্ষ শূণ্য বরফ ঘেরা
ঝর্ণা ঝরে অনর্গল।
লবন গোলা জলের রাশি
সমুদ্র অপার,
হাজার রত্ন বুকের মাঝে
তুলনা নেই তার।
নীল আকাশে চন্দ্র হাসে
সূর্য দেয় আলো,
নিয়ম করে সন্ধ্যা রাতে
আঁধার ঘনালো।
কবিতার নাম: পথের দুগ্গা।
কবির নাম: শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
পথের দুগ্গা পথের মাঝেই পৃথিবীর আলো দেখে,
পথের দুগ্গা পথের লোকেদের কাছে ঘুরে ঘুরে অ আ ক খ শেখে,
পথের দুগ্গার গায়ে থাকে না উপযুক্ত জামা কাপড়
পথের দুগ্গার জীবনে থাকে না চাহিদার ধরপাকড়।
পথের দুগ্গা দরিদ্র হলেও তারও মধ্যে তেজ আছে
পথের দুগ্গা অন্যায় দেখলে তেড়ে যায় অত্যাচারীর কাছে।
পথের দুগ্গা হাসতে জানে আর সকলের সাথে সাথে
পথের দুগ্গা লোকের বাড়িতে কাজ করে হাতে হাতে।
পথের দুগ্গা ভালোবাসতে জানে মনের মতো মানুষ পেলে
পথের দুগ্গা বড় দিদির মতো সব্বাইকে নিয়ে পথে খেলে।
পথের দুগ্গা মা হারা ভাইটাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করে
পথের দুগ্গা ছুটে যায় সেই পল্লীতে দুমুঠো অন্নের তরে।
আমরা এই পথের দূর্গাদের কে দেখলে অবজ্ঞা করি
তারা এসে পাশে দাঁড়ালে মনের মধ্যে অশুভ চিন্তা ধরি।
তারাও যে মানুষ, তাদের মধ্যেও মনুষত্ব আছে
তারাও সকল বিষয়ে দাবি করে সমাজের কাছে।
পথের দুগ্গা পথের মেয়ে হলেও ইচ্ছে করে ঘর গড়তে,
পথের দুগ্গা ভালোবাসে রাজপ্রাসাদের স্বপ্ন দেখতে ।
পথের দুগ্গা লক্ষ্মী সেজে মাথায় সিঁদুর দিতেও চায়
শিক্ষিতদের সাথে পথ চলতে মনে নেই কোন দায়।
দুর্গা বলেই সে পৃথিবীর সকল ভার নিতে পারে নিজের কাঁধে
একদিকে সমাজের অসুরদের সঙ্গে সে যুদ্ধ করে,
তেমনি নিজের হাতে রাঁধে।
সমাজের প্রতিটা নারী জাতি সেই শিব পত্নীর অংশ
নাশ করে চলেন যেখানে পায় দূরচারী মামা কংশ।
কবিতার নাম: শাসন।
কবির নাম: জিসান আহমেদ।
শাসকের শাসন করে
টাকার পিঠে চড়ে ।
ন্যায় অন্যায় কিছুই তারা
দেখে না বিচার করে ।।
যে জন দেবে বেশি টাকা
আইন তাহার হাতে ।
সুনিশ্চিত জিতবে সে জন
কে হারাবে তাকে ।।
দোষীরা দোষ করে
কেউ ধরে না তারে ।
তার বদলে নির্দোর্ষীরা
জেলে পচে মরে ।
সত্যের চোখে জল ঝরিয়ে
এই সমাজ শাসন করে ।
থেকো না অন্ধ বোবা হয়ে
পাপীরা কত দিন শাসন করবে ।।
কবিতার নাম: টুনটুনি।
কবির নাম: দর্পনা গঙ্গোপাধ্যায়।
ছোট্ট টুনটুনি গান গায়
বাসার আশেপাশেই থাকে,
দুটো ছানার পরিচর্যায়
রাতে অন্ধকার হলে চুপ
মানুষ অন্ধকারে কি খোঁজে ?
প্যাঁচা ঠিক লক্ষ্য রাখে তাকে
বাদুড় ঝোলে ঝিল্লিরা ডাকে
ভোরের আবছা আলো পড়ে
মাছরাঙ্গা মাছ ধরে জলে
শব্দ শুনে সব মাছ ডোবে
টুনটুনি ব্যস্ত খাদ্য খোঁজে,
ছোট্ট ছানা বড় করে তোলে।
কবে যেন কচি ডানা মেলে
বড় আকাশের কোল ঘেঁষে
উঁচু গাছে দূরে দূরে গ্রামে,
জন্ম বাসা ছেড়ে যায় ভুলে।।
কবিতার নাম: ধরা বুঝি শিউরে ওঠে।
কবির নাম: বিবেক পাল।
নিকানো উঠোনের মতো মায়াময় ভোরের নির্মল
আকাশে সৌন্দর্য্যৈর ডালি , খুশীতে প্রাণ দোলে ,
পাখিদের কলতানে জেগে উঠে ধরণী দ্বিধাহীন সৌন্দর্য্যে !
দিন বাড়ার সাথে সাথেই সূর্য কিরণে ঝরে আগুন
দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের ক্ষেত ফেটে চৌচির ,
পরিশ্রান্ত মানুষ শীতলতা খোঁজে তরুতলে !
পরিকল্পনাহীন উন্নয়নে ধ্বংস বন বনানী
জীব বৈচিত্র্যে হানে আঘাত ; স্বার্থান্বেষী মূর্খের দল ,
বায়ু দূষণে আক্রান্ত পৃথিবীর ফুসফুস , বৃক্ক জবরদখল !
প্রকৃতির রুদ্ররোষে শশ্মান-ভূমিতে হবে পরিণতি
ভালোবাসার এই পৃথ্বী ; পূর্বাভাস দিচ্ছে তাপদাহ
জলোচ্ছ্বাস , ঘূর্ণিঝড় , অনাবৃষ্টি--------
ভেঙ্গে পড়ে বাস্ততন্ত্রের (Ecosystem) শৃঙ্খল
অগভীর জলতল ; অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলে
বাতাসে দীর্ঘশ্বাস , অদূরে দাঁড়িয়ে বর্ষারাণী ! !
বেদনার অশ্রু রাশি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়
ঐ নীল নীলিমায় মেঘেদের কাশবনে !
" ঘাসে ঘাসে খবর ছোটে ,ধরা বুঝি শিউরে ওঠে--
কবিতার নাম: কালবেলা।
কবির নাম : রবিন রায়।
পিত্ত গলেছে আজ চিত্ত-বিকারে,
ধরেছে তাই বিত্ত ভুক্ষারে ;
ভণিতায় ধারণ ভালোবাসার মুখোশ,
প্রেম আসলে স্বার্থের আপোষ।
এ এক রঙের মেলা,
এ এক ঢঙের খেলা।
মূল্যে মেলে যেথা বাজারি দেহ মন,
কে শুনবে আর মনের কথা ;
অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যায় যখন,
কি দরকার দূরহ প্রেম সাধা ?
এ এক রঙের মেলা,
এ এক ঢঙের খেলা।
মূল্যের পরিমাণে বিক্রিত সন্তর্পণে,
লোক দেখানো ভালোবাসার ;
উন্মত্ত অজাচারী লীলার বিলানে,
আবেগ সম্ভার নিরান্তঃসার।
এ এক রঙের মেলা,
এ এক ঢঙের খেলা।
কবিতার নাম: তুমি আসবে ফিরে।
কবির নাম: আলমগীর।
শূন্য পথে এখনো দাঁড়িয়ে আমি
তোমার অপেক্ষাকে ঘিরে
তুমি বলেছিলে আসবে ফিরে
নির্জনতার ভিড়ে ।
গভীর রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে
স্মৃতিগুলো মনের ক্যানভাসে
বারবার ফুটে উঠে।
হালকা মৃদু বাতাসে
ভোরের দোয়েল পাখি বার্তা আনে,
তুমি আসবে গহীন বন থেকে
আজ না হোক ,কোন এক সময়ে।
কবিতার নাম: এলে কল্যাণী রূপে।
কবির নাম: সামসুজ জামান।
আলো ঝলমলে শরৎ আকাশে ঝরে ঝিলমিল বৃষ্টি,
ভাবতে অবাক বিধাতার সেকি অনাবিল এই সৃষ্টি!
পেঁজা তুলো হয়ে একখানা মেঘ কোথা থেকে ভেসে এল।
সুনিপুণভাবে তোমার সুরভী হৃদয়তে ঢেলে দিল।
বৃষ্টি তো নয় মেঘ থেকে যেন ঝরছে সোনার বিন্দু।
বিন্দুর মাঝে ছড়িয়ে রয়েছে বিশাল অসীম সিন্ধু।
বড় বড় গোটা বৃষ্টির ফোঁটা যেন সোনা হয়ে ঝরে।
সেই বৃষ্টিতে কল্যাণী হেসে মন তৃপ্তিতে ভরে।
রোদে আর আলোয় সদ্যস্নাত তোমারই রূপ দেখি।
নিসর্গের মাঝে হৃদয়ে কে ভরে তোমার ছবি যে একি!
অনির্বচনীয় সেই ক্ষণটুকু কী স্বর্গীয় অনুভূতি।
সেই রূপ দেখে বোঝানোই দায় মনে কী দারুন জ্যোতি!
উজ্জ্বল এই সকালে কেন যে মনের মিনারে এলে?
বুক ভরা সুধা ঢেলে দিয়ে তবু ভাসালে চোখের জলে!
রূপ দাও তুমি, যশ দাও তুমি, দশ হাতে ঢেলে দাও।
বিশ্বে যত অকল্যাণ রাশি সব তুমি কেড়ে নাও।
আমরা শুধু যে কেঁদেছি ওমা কতদিন কেউ হাসিনি।
সব দুর্গতি দূর করো মাগো তুমি যে দুর্গতিনাশিনী।
পৃথিবী ভরুক নতুন আলোয়, নতুন হাসিতে, গানে।
ব্যথা মলিনতা মুছে দাও তুমি আশা ভরে দাও প্রাণে।
কবির নাম: পুজোর মেনু।
কবিতার নাম: অধীর কুমার রায়।
এবার পূজায় বৃষ্টি হলে
কেঁদে ফেলবে দিয়া।
সবুজ রঙের শাড়ি পড়ে
সে যে সাজবে টিয়া।
ডানা মেলে উড়ে যাবে
দুর্গা পূজার ডালে।
ফুচকা খাবে, সেলফি তুলবে
ভুল হবে না চালে।
কত কি যে ভাবে সে যে
দুর্গাপূজা নিয়ে।
খোলা চুল উড়িয়ে দেবে
কাশের বনে গিয়ে।
কবিতার নাম: শারদ মন।
কবির নাম: তপন মাইতি।
পুজো পুজো গন্ধ আসে
শিউলী ফুল ঝরে ভোরে
পেঁজা তুলোর মেঘ যে ভাসে
ডাকে মোরগ ভোরে জোরে।
শিশির দুর্বার আলতো ছোঁয়া
সুজ্জির প্রথম আলো আসে
বাড়াও কেন দূষণ ধোঁয়া?
পৃথিবীকে ভালোবাসে।
মায়া জ্যোৎস্না একটু সুখে
বিভোর শরৎ শারদীয়া
থাকবে কেন চরম দুঃখে?
উতরে যাবে জীবন খিয়া ।
পুজোর সৌন্দর্য নৈসর্গিক
মনের মধ্যে উথাল পাতাল
হৃদয় গাড়ি বাজছে পিক পিক
ভ্রমর যেন ফুলেই মাতাল।
পুজো মানে স্বপ্ন আঁকা
ছুটির দরুন অনেক ঘুরবে
পরাণ মাঝির মাথায় ঝাঁকা
আনন্দে সে হাত পা ছুঁড়বে।
কবিতার নাম: বিপন্ন বসুন্ধরা।
কবির নাম: নিতাই শর্মা।
মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কাজের ফলে,
বসুন্ধরা পড়েছে দূষণের কবলে।
লোভাতুর মানুষ বন ধ্বংস করে,
নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার তরে।
গাছপালা বৃষ্টি আনয়ণ করে,
ধরাধামে জীবন রক্ষার তরে।
অবারিত গাছ কর্তনের ফলে,
পরিবেশের ভারসাম্য বিফলে।
অবাধে বন ধ্বংসের কারণে,
পরিবেশে বিপর্যয় ডেকে আনে।
গাছপালা অক্সিজেন প্রদান করে,
কার্বন ডাইঅক্সাইড নেয় নিজের তরে।
প্রচুর পরিমাণে গাছ কাটার ফল,
বিপর্যস্ত হচ্ছে আজ ধরনীতল।
বসুন্ধরা পড়েছে আজ ফাঁপড়ে,
খরা কিংবা বন্যার কবলে পড়ে।
জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে ধরায়,
বনাঞ্চল বন্ধাত্ব শুষ্ক মরুপ্রায়।
বর্ষায় বৃষ্টিহীন থাকে নানা স্থান,
শরতের শুভ্র দিন করে বারিস্নান।
সময় এসেছে সচেতন হবার,
চেতনা জাগ্রত হোক সবাকার।
উৎসব অনুষ্ঠান শুভ জন্মদিন,
বৃক্ষরোপণ করা উচিত প্রতিদিন।
কবিতার নাম: শারদ দুর্গা।
কবির নাম: বিমল চন্দ্র পাল।
এপারে তুষার -শুভ্র কাশবন
আরপাড়ে ঘন সবুজের বাহার
মাঝে তাল তরু গুটি কত স্বপ্ন দেখে
দূরে আকাশকে চুমু খাবার।
ঘননীল অম্বর মাঝে
পেঁজা তুলোর দুঃখী বিচরণ
বরষার শেষে কোথায় যে যাবে তারা
ছুটে চলে যায় শুধু অকারণ।
মাজুর মল্লিকার মা
আধ নিকোনো মেটে বারান্দায় বসে,
কোলের শিশুটি তার
কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে।
ঘরের সামনে দিয়ে মেঠোপথ
নতুন ঝকমকে পোশাক পরা বিশুরা
ও পাড়ার পুজো মন্ডপে
ছুটে চলে এ পাড়ার শিশুরা।
মল্লিকার মা 'র নয়নে নামে আসার ধারা
অশ্রু টপকে পড়ে মল্লিকার গায়
ঘুম ভেঙে মল্লিকা মাকে দেখে --
ছোট দুটি হাত দিয়ে মায়ের অশ্রু মোছায় ।
কাঁদিস না মা কাঁদিস না
দরকার নেই মোর নতুন কাপড়ে
একদিন বড়ো হবোই হবো
বাঁচিয়ে রাখিস শুধু তোর আদরে।
কবিতার নাম: লাঠির প্রভাব।
কবির নাম: মোহাঃ নাসিমুদ্দিন হক।
লাঠি দেখে নি বা চেনে না,
এমন মানুষ নেই বলা চলে;
আহামরি কিছু না হলেও ভয়ে
জগৎ কাঁপে তার তেজে বলে।
বাঁচতে ও অন্যান্য কাজে লাঠি
ছিল একসময় জীবন সঙ্গী ;
বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এখন
জানা চাই শুধু কৌশলী ভঙ্গি।
পূর্বে লাঠি ছিল আমাদের
জীবন ও ঐতিহ্যের অংশ ;
অনেক কমে গেলেও হয় নি
এর ব্যবহার আজও ধ্বংস।
গুরুজনদের হাতে লাঠি দেখে
শিষ্যদের বুক করে দুরুদুরু;
তাইতো তারা খুব মন দিয়ে
দ্রুত লেখাপড়া করে শুরু।
ডাকাতরা একসময় ব্যস্ত ছিল
তোমার তেজের জ্বালায়;
ডাকাতির সময় তোমার শব্দে
কোথায় যে তারা দৌড়ে পালায় !!
ডানপিটে ছেলে গুরুজনদের
থেকে পেয়ে লাঠির শাসন ;
তাদের অনেকে বিশ্ব মাঝারে
পেয়েছে সম্মানজনক আসন।
আদর উৎসাহ পেয়েই কিছু
অবাধ্য সন্তান হতো যে ভালো;
ভয় দেখিয়ে আর লাঠি মেরে
জেদ বাড়িয়ে উল্টো ফল হলো।
কবিতার নাম: যেতে চাই।
কবিতা নাম: সামিমা রুম্মান।
নীল আকাশের বুকে
ভেসে চলা মেঘের মতো
চলে যেতে চাই স্বাধীন হয়ে,
দূর থেকে দূরে
দিগন্ত পেরিয়ে
কোনো এক অজানা দেশে।
কচি দুর্বা ঘাসের
মাথা ছুঁয়ে
যেভাবে বয়ে যায় বাতাস,
সেভাবেই
ছুটে যেতে চাই
মাঠের পর বিশাল মাঠ।
বয়ে যেতে চাই
নদীর মতো
কলকল ধ্বনি তুলে,
উড়ে যেতে চাই
পাখির মতো
সারা আকাশ ঘুরে।
কিন্ত, হল না যাওয়া
কেন?
কারণ, এসবই মনের ইচ্ছা;
তাহলে হবে।
কীভাবে?
শুধু আনতে হবে একটু জোর
তখনই হবে সব ইচ্ছা পূরণ।


