।। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।।
।। ২৪তম সংখ্যা ।।
📢 প্রকাশ:
- বাংলা: ৮ই কার্তিক ১৪৩০
- ইংরেজী: ২৬শে অক্টোবর ২০২৩
- বার: বৃহস্পতিবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
🔆 আজ আবহাওয়া: ৩২/২৪°C (পশ্চিমবঙ্গ)
✒️ লিখেছেন:
কবিতার নাম: বর্ষাই--ভরসা।
কবির নাম: প্রবীর রায়চৌধুরীর।
কাল বৈশাখীর ঝড়ে, বর্ষার আগাম বার্তা জানায়
ক্ষণিকের শীতল হাওয়ার, মন প্রাণ জুড়িরে যায় ।
চৈত্রের তাপদাহে ,মাট ঘাট যার শুখিয়ে, চাষীরা থাকে আতঙ্কে
ভাবে মনে,এবার বুঝি, মহাজনের ঋণ,পারবে না
মেটাতে ।
চাতক পাখির মতো, তারা চেয়ে থাকে আকাশে
মাঝে মাঝে কালো মেঘ, ভেসে বেড়ায় বাতাসে ।
এই বুঝি নামবে বাদল, মাঠ ঘাট,পথ যাবে ভিজে
অপেক্ষায় দিন গুনে, আচমকা বৃষ্টি নামে ঝেপে ।
বর্ষার আগমনে, চাষীর মনে জাগে, বাঁচার আশা
আসবে নতুন জল, খাল বিল নদীতে, জেলেরা
পায় ভরসা।
পশ্চিমের আকাশে, ঘন কালো মেঘের দল, উড়ে
যায় বাতাসে
গলদঘর্ম শরীরে ,পথচারী লোকজন , চেয়ে থাকে
আকাশে ।
কখন নামবে বারি,শরীর মন শীতল হবে তাড়াতাড়ি
মেঘের গর্জন আর ঝলকানিতে,আশ্রয় খোঁজে তড়ি
ঘড়ি ।
এভাবেই ঝড় বৃষ্টির খেলায় , শুরু হয়ে যায় বর্ষা,
বেলা অবেলায়
মাঠ ঘাট,খাল বিল ,নদী নালা,ধীরে ধীরে সব পার
কুল ভরে যায় ।
অঝোর বর্ষণে,শহরের জনজীবন,অচলাবস্থা হয়ে
যায়
খানা খন্দ,ঢালু আর নীচু রাস্তায়, হাঁটু জল দাঁড়িয়ে
যায় ।
ব্যাহত যানবাহনে , পথ চলতি লোকজন, দুর্ভোগে
বাড়ী ফেরে
স্কুল পড়ুয়ারা ,ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে,জমা জলে ঘরে
ফেরে ।
অবিরাম বারি ধারার , মাঠ ঘাট নদী নালা , মিলে মিশে এক হয়
অমাবস্যার ভরা কোটালে, বাঁধ ভেঙে, গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয় ।
উদ্ধারে ছুটে যায়, সরকারি লোকজন আর সমাজ
সেবি সংগঠন
শুকনো খাবার ,পানীয় জল,পলিথিন আর ঔষধ পত্র করে বিতরণ ।
স্বল্প বর্ষা আর সময়ে না হওয়া বর্ষা,প্রাণীকুলের হয় নানান সমস্যা
মিশ্র ক্রিয়া থাকা সত্বে ও "বর্ষাই " আমাদের জীবন ও জীবিকার ভরসা ।
কবিতার নাম: মনের মাঝে গো তুমি।
কবির নাম: আলমগীর।
আমার মনের মাঝে গো তুমি
বেঁধেছো বহুদিন ধরে বাসা।
তোমার নাম জপলে
মিটে যায় প্রাণের সকল পিপাসা।
শান্ত এক নীড় গো তুমি
ক্লান্ত হৃদয়ের বিশ্রাম;
তোমার দেখা না পেলে
এ পরান করে আনচান ।
তোমার কন্ঠ যেন, কোকিলের ন্যায়
একটু আভাসে হৃদয় ভরিয়া যায় ।
আমার হৃদয়ের প্রথম অনুভূতি গো তুমি
শান্ত স্নিগ্ধ এক মায়া;
কাজল কালো নয়ন তোমার
না দেখিলে হৃদয় হয়ে যায় ,
ব্যাকুলে ভরা।
কবিতার নাম: খোকার হাওয়াই মিঠাই বায়না।
কবির নাম: মোহাঃ নাসিমুদ্দিন হক।
স্নান কিংবা কাপড় কেচে, মা
ফিরছে খোকার হাত ধরে ;
পাশে হাওয়াই মিঠাই দেখে
মা'র কাছে নেবার বায়না করে।
মা বলে এসব খেতে নেই, খেলে
ধরবে দাঁতে ভীষণ পোকা ;
তোমার তো ধরবে বেশি
তুমি যে আবার ছোট্ট খোকা।।
ধরেছে এমন বায়না, মিঠাই
ছাড়া ফিরবে না বাড়ি ;
খোকা তাই তার মা'র সঙ্গে
লাগিয়েছে ভীষণ আড়ি।।
ওই দিকে তো মিঠাইওয়ালা
ডুগডুগি বাজিয়ে চলেছে হেঁকে ;
খোকা ঐ আওয়াজ শুনে নিবেই
মিঠাই, তাই বেশি গেছে বেঁকে।।
ভীষণ জ্বালা, কোনো উপায়
না দেখে মা শেষে গেল আনতে ;
খুশিতে খোকা নাচতে থাকে,
মা'কে যেই দেখেছে মিঠাই কিনতে।
ছড়া: ধর্ষণ।
কবির নাম: অতুল সেন।
মেয়ে তুমি মাতৃরূপে
কেনো এলে পৃথিবীতে?
তুমিই তো জন্মে দিলে,
নর রূপে রাক্ষসদের
তোমারই প্রতিবিম্বকে
করে চলেছে ছরকার...
যাকে আমরা মা বলে ডাকি,
যার গর্বে আমাদের সৃষ্টি
সেই মায়ের দেহ লালসার শিকার
কিছু নররুপে অমেরুদণ্ডী রাক্ষসের...
তবু মা চুপ করে থাকে
সয়ে যায় ব্যাথা, বেদনা
সব কিছু চাক্ষুষ
তবু সবই অজানা।
|
| অঙ্কন: অতুল সেন |
কবিতার নাম: ডাস্টবিন।
কবির নাম: মোজাইত রহমান।
আমাকে দেখেছ হয়তো পড়ে থাকতে
ইস্কুলের এক কোণে বা রস্থার ধারে
বা কখনও আমাকে ফেলেছ ছুড়ে।
আমি সেই অবহেলিত ডাস্টবিন
যাকে তুমি পড়ে থাকতে দেখো প্রতিদিন।
লেখা থাকে আমার উপরে,
ব্যবহার করো আমাকে
তবুও নোংরা আবর্জনা
বাইরে ফেলে দূষণ করো পরিবেশটাকে।।
কবিতার নাম: দুগ্গা।
কবির নাম: দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়।
পূজো মানে নতুন কাপড়
পূজো মানে হাজার খাবার
পূজো মানে আলোর ঝলক
দুষ্টু মেয়ের নাকে নোলোক
পুজো মানে আনন্দ আলোক
পুজো মানে একটা পলক
পুজো মানে ভোগের প্রসাদ
পূজো মানে টাকার ফ্যাসাদ।
পুজো মানে টাকার ধুলোয়
দুর্গা মার আঁচল লুটোয়।
দশ হাত ভরা অস্ত্রশস্ত্র
তবু পথে মায়েরা বিবস্ত্র
অসুর বৃত্তি দমন করে
ঘরে মায়েরা নিরন্নমরে
মাটির দুর্গা পুষ্পে সজ্জিতা
প্রাণের দুর্গা মর্মে লজ্জিতা
কবিতার নাম: পাগলামী।
কবির নাম: সুশান্ত সেন।
সাত সকালে খেক শিয়ালে
বদ খেয়ালে নাচে
মৌমাছিরা ছন্নছাড়া
গন্ধ হারা হাঁচে।
দিন দুপুরে বাগান জুড়ে
করুন সুরে কারা
পাঁচ মেশালি বদ খেয়ালী
দিচ্ছে খালি নাড়া।
নেই কাজ রে খই ভাজ রে
কে আজ রে নাইবে
ঘর জ্বালানি ঘুম ভাঙানি
খন খনানি গাইবে।
যত খাইরে তত চাইরে
তাই পাই রে খাজনা
খেয়ে দিলখোস. কর ওঠবস
কোনো আফশোস আজ না।
ব্যা. ঙ লাফালে. সাপ ঝাপালে
নেই কপালে ঘুমটা
মা কোলে নিয়ে দিল দোল দিয়ে
হাসি মুখ নিয়ে চুমটা।
কবিতার নাম: সবুজ পরিবেশ।
কবির নাম: মিহির সেন।
পরিবেশ হোক সবুজ ঘেরা
সবুজ আরও সবুজ,
এত শাস্তি পেয়েও কেন
মানুষ আজ অবুঝ।
বৃক্ষছেদন নির্বিচারে
স্বার্থপর হয়ে,
অক্সিজেনের হাহাকার
তবু মৃত্যুকে নেয় সহে।
গাছ লাগাবো যত্নে মোরা
ভবিষ্যতের তরে,
এই গাছই মোদের করবে রক্ষা
রাখবে আদরে।
ফুল দেবে ফল দেবে
করবে শ্বাসবায়ু দান,
পরিবেশ হবে রোগমুক্ত
বাঁচবে কত প্রাণ।
কবিতার নাম: শাল-পিয়ালের মাঠ।
কবির নাম: উদয় নারায়ণ বাগ।
ফুলের বাগে অরুণরাগে কে ছড়াল রং?
চল্ না হরি ভাসিয়ে তরি সাজব মধুর সং।
নয়ন বোজে স্নেহের খোঁজে চল্ না চলে যাই,
মুক্ত শ্বাসে সবুজ ঘাসে হারানোর ভয় নাই।
বাঁধন টুটে চল্ রে ছুটে সুদূর পাড়া গাঁ,
সবুজ হাসি রাশিরাশি পথের ডাইনে বাঁ।
আঁচল ভরে সবার তরে তুলব হরেক ফুল,
কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া কিংবা কুড়াই কুল।
দূরে কাছে গাছে গাছে যেন ফুলের হাট,
সকাল সাঁঝে রঙিন সাজে শাল-পিয়ালের মাঠ।
আসা-যাওয়া দখিন হাওয়া বন-বনানীর পর,
প্রীতির পরশ ফুলের হরষ বন-দেবতার ঘর।
শিমুলতলির ফুলের কলির ওই যে রাঙা ঢেউ,
ফাগুন মাসে ডাকছে পাশে মিষ্টি মুখে কেউ।
গাঁয়ের বধূ স্বভাব মধু পায়ে পরা মল,
চল্ না হরি ভাসিয়ে তরি সেথায় আজই চল।
ছড়া: খেঁকি।
কবির নাম: শংকর ব্রহ্ম।
সাত সকালে বাড়ির ছেলে
দেখতে গেল ঠাকুর ,
হঠাৎ তাকে কামড়ে দিল
পাড়ার খেঁকি কুকুর।
কুকুরটকে দেখেছিলাম
রাতের অন্ধকারে,
দিনের আলোয় আবার যদি,
দেখতে পাই রে
তারে
ধরে এনে
ঘরে
এমন করে পূজা দেব তার
ভুলে যাবে ক্ষ্যাপামি সব
নিজেরই অন্তরে।
কবিতার নাম: পারে,ও- পারে।
কবির নাম: তাপস মাইতি।
পারে এসেছি অনেক কষ্ট করে
এখানে ভয়ে ভয়ে ঢেউ তুলে যায়
নদী আর তার স্রোতের গান
ঝড়ো হাওয়া
সন্তর্পণে চরে গাছেদের পাতায়,
বিলি কেটে দিয়ে যায় তার সুর
সারাটা দিন পারে
মেঘের গর্জন এবং বৃষ্টির নাচ
দেখে যাবো
বলেই নৌকা ভাসিয়ে চলেছি।
সন্ধের মুখেই
ও - পারে সব চলাচল এবং
যত কোলাহল, তুলে
দিয়ে যাবো নিজেকে নিঃস্ব করে ।
কবিতার নাম: ডাস্টবিন।
কবির নাম: মোজাইত রহমান।
আমাকে দেখেছো হয়তো পড়ে থাকতে
ইস্কুলের এক কোণে বা রাস্তার ধারে-
কখনও আমাকে ফেলেছ ছুড়ে-
আমি সেই অবহেলিত ডাস্টবিন ।
যাকে তুমি পড়ে থাকতে দেখো প্রতিদিন।
লেখা থাকে আমার উপরে,
ব্যবহার করো আমাকে -
তবুও নোংরা আবর্জনা
বাইরে ফেলে দূষণ করো পরিবেশটাকে।
তোমরা ও হও সচেতন -
না হলে হবে যে একদিন মরণ ।।
কবিতার নাম: রীতার পুজো।
কবির নাম: গোবিন্দ মোদক।
ডজন খানেক নতুন জামা, জুতো চার জোড়া,
রঙিন রিবন, হাতের বালা, পায়ের নতুন তোড়া;
অগুন্তি টিপ,নেইল-পালিশ, মাথায় বাঁধা ফিতা,
তবুও তো মন ভরে না – আরও যে চায় রীতা।
বছর পরে পুজোর বাজার – এইটুকুতে হয়!
ভেবেচিন্তে বিচার করে বলুন তো মহাশয়!!
অতএব সুনীল বাবু আরও কেনেন গয়না,
শুধু ভাবেন কেমন করে মিটবে রীতার বায়না।
দশটা নয় পাঁচটা নয় একমাত্র তার মেয়ে,
ধন্য ধন্য সুনীল বাবু তাকে কোলে পেয়ে।
মেয়ের আব্দারটা মেটান – সেটাই শখ তার,
আদর করে কিনে দিলেন পাঁচ-ভরির হার!!
আনন্দ আর ধরে না – রীতা হয় গর্বিতা,
সেই সঙ্গে গর্বে ফাটেন সুনীল বাবু, পিতা!
দামি গাড়ি চড়ে পুজোয় বেড়াতে যান দূরে,
তাদের জীবনে সুখটা নামে শারদীয়ার সুরে।
আলোয় গানে তাদের গড়া পৃথিবীটা খুশি,
অর্থ দিয়েই নেন যে কিনে আরাম রাশি রাশি!!
Poem: Don't know.
Written by: Rabin Ray.
I Don't know,
Why do you so?
You leave me alone,
I see and stay in silence ;
If you let me,
Why I'll make violence?
Go, go, go......... You go...
I Don't know,
Why do you so?
If you gets your desire-
To underestimate me:
I have no jealous there-
Obviously I pray to the.
Your all success will grow......
I Don't know,
Why do you so?
And never asking for -
How are you now?
I know better that-
You ever wise and how.
Even all memories will throw.....
I Don't know,
Why do you so?
কবিতার নাম: শিশুশ্রম।
কবির নাম; তপন মাইতি।
যে শিশুটি চা দোকানে
তাড়াহুড়োয় বিচুর্ণ কাপ
সপাটে চড় পড়ে কানে
কুঁকড়ে যাওয়া ফ্যাটফ্যাটে ছাপ।
স্কুলছুট শিশু টেক্কা দিয়ে
প্রাপ্তলোকের মত বোঝা
শিরদাঁড়াটি বেঁকে গিয়ে
ওদের বোঝা নয় যে সোজা।
যে শিশুটি অনাথ বলে
গাড়ির গ্যারেজে কাজ করে
হাতুড়ির ঘায় ব্যাথা হলে
সুন্দর মোডেল নিজেই গড়ে।
যে শিশুটির ফাঁকা পকেট
ইঁট ভাটায় ঘামে পরিশ্রম
কালো সুতো গলার লকেট
দমিয়ে রাখার উপক্রম।
যে শিশুটি হোটেল কাজে
মনের খোরাক বাধ্য করে
রাতের পরি হয়ত সাজে
নয় পরিবার ভুখায় মরে।
সমাজ ব্যাধি এসব একি
নির্মূল করা ভীষণ দরকার
সচেতন হও মানুষ দেখি
তৎপরতা মানবে সরকার।
গল্পের নাম: সাতনড়ী।
লেখক: শ্যামাপ্রসাদ সরকার।
কদিন বর্ষার পর আজ বেশ রোদ বেরিয়েছে বলে আমরা একটু বিকেল বিকেল যতীনের বাড়ির
রোয়াকে জড়ো হয়েছি। আমাদের মধ্যে মহিম চাকলাদারের লেখালিখির নেশা আছে সেটা আগেই
বলেছি। সম্প্রতি উলুবেড়িয়ায় একটা লিটল্ ম্যাগাজিনের মেলা সেরে ও বেচারা কাল সবে
ফিরেছে বলে আজ রোববারের জমায়েতটা বেশ ভরভরন্ত লাগছে। সমীর একটা সিগারেট ধরাতে
ধরাতে প্রফেসার সোমের অনেকদিন কোনও খবর নেই বলে উঠতেই টেলিপ্যাথির আশ্চর্য
নমুনা চোখের সামনে ফলতে দেখে আমরা নড়েচড়ে উঠলাম।
দেখতে পেলাম বড়রাস্তার পার করে একটা ছাতা বগলে প্রফেসার দিবানাথ সোম এদিকেই
আসছেন।
এই প্রফেসর সোম একদা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের এক্সকেভেশন ডিপার্টমেন্টের বড়বাবু
ছিলেন। কয়েকবছর হল রিটায়ার করে এ পাড়ায় বাড়ি করে উঠে এসেছেন।
ভদ্রলোক আবার সমবয়সী বুড়োদের থেকে আমাদের মতন গপ্পোবাজ ছোকরাদের সান্নিধ্য
পছন্দ করেন বলে এখানে এসে খানিকটা সময় কাটিয়ে যান। তাছাড়া আমরাও যে ওনার নানা
অভিজ্ঞতার গল্প শোনার জন্য মুখিয়ে থাকি, এটা বোধহয় উনিও বোঝেন।
.....
ললিত সাথে সাথেই কালুদার দোকান থেকে চিনি -দুধ ছাড়া কালো চা আর বোম্বাই চপের
অর্ডার দিয়ে এল। প্রবীণ ইতিহাসবিদটি আবার এই সামান্য আয়োজনে যে উল্লসিত হয়ে
ওঠেন, তা আমরা জানি।
তবে দেখলাম প্রফেসারের মুখ আজ কিঞ্চিৎ বিষণ্ণ লাগছে। নলিনমাধব বলে উঠল,
'কাকাবাবু!আজ আপনার মুখটা এত ভারী লাগছে কেন? আপনার শরীরগতিক সব ঠিক আছে তো? '
প্রফেসার চশমা সরিয়ে রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বললেন, ' আরে নাহ্ হে! সেসব
কিছু নয়! দুপুর থেকে খুব পুরনো কথা মনে পড়ছিল। তোমরা হোরেশিও'র প্রতি
শেক্সপীয়ার সাহেবের সুবিখ্যাত সেই কোটেশনটি নিশ্চয় শুনেছ তো! সেটাই যে চাক্ষুষ
করে এদ্দিনের সমস্ত ধ্যানধারণায় তালা ঝোলাতে হবে, তা কে তখন জানত!
......
আমরা নড়েচড়ে উঠলাম তা যেন বলাই বাহুল্য। সশব্দে চা'এর ভাঁড়ে চুমুক দিয়েই একটা
চপে হাল্কা কামড় বসালেন প্রফেসার। কাজেই ওনার মুড আসতে যে আর বিলম্ব নেই সেটা
বুঝতে পারার পর আমরা অধীর আগ্রহে সবুর করতে লাগলাম।
দিবানাথ সোম বলে চললেন, জয়নগরের কাছে রহমৎপুর বলে একটা মুসলমান অধ্যূষিত লোকালয়
আছে। যদিও একথা বলছি বটে, তবে এখানকার জমিদারেরা ছিলেন ব্রাহ্মণ বংশীয়
রায়চৌধুরী পদবীধারী। এদের বংশের পত্তনীদার বাবু মানিকলাল রায়চৌধুরী ছিলেন একজন
বিশিষ্ট জমিদার। তাঁর বংশের শাখায় আবার একজন ছিলেন ইয়ংবেঙ্গলের সভ্য ও
রসিককৃষ্ণ মল্লিকের জামাতা।
বর্তমান প্রজন্মে ওই পরিবারটির একটি শাখার অধস্তন চতুর্থ পুরুষ সন্দীপ
রায়চৌধুরী ছিল আমাদের আপিসের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত কাজের সেকশন ইন
চার্জ। সে এসে একদিন আমাকে এসে বলল, দিবাকরদা আমাদের দেশের বাড়িটা আর রাখা
যাচ্ছেনা।
একেই সেই এইটিন্থ সেঞ্চুরীর গথিক স্থাপত্য বেশ কয়েকজায়গায় ভেঙে পড়ছে, তাছাড়া
মেরামতির জন্য অন্তত পঁচিশ ছাব্বিশ লাখ হার্ডক্যাশ লাগবে...তাই সেটা যোগাড় করাও
আজকাল আর সম্ভব নয় ! তাছাড়া আমাদের পরিবারটাও ভাঙতে ভাঙতে এখন প্রায় সাড়ে
ছাব্বিশ দশায় এসে ঠেকেছে! কে আর আগবাড়িয়ে এসবের দায়িত্ব নেবে বলুন! তাই আগরওয়াল
বিল্ডার্স ওটাকে নিয়ে নিচ্ছে সামনের মাসের চোদ্দই।
ওরা বলেছে কন্ডেমনিয়াম গোছের একটা হাউসিং কমপ্লেক্স বানাবে মোট সতের বিঘা জমি
মিলিয়ে। তাছাড়া সুইমিং পুল টুল তো থাকছেই।
এমনি প্রেজেন্ট আটজন শরিকের সবার ভাগে লাখ তিনেক করেও আমদানী হচ্ছে। তাই ওটাকে
এবার বেচে দেওয়াই একদম স্থির হয়েছে। ইয়ে মানে বলছিলাম কি ! যে একেবারে বেহাত
হয়ে যাবার আগে শেষবারের মত যদি দুটো রাত ওখানে কাটিয়ে আসি! সামনে তো শনি-রবি
আপিস বন্ধ ! হে ! হে কি বলেন? আপনার আপত্তি নেই তো?
...
আমি খানিক ভেবে বললাম এধরণের বাড়িতে রাত কাটানোর একটা আলাদা আনন্দ আছে সেটা
ঠিক। বললুম, চল ! ঘুরেই আসি না হয়! ওর কাছে যা শুনলাম তা হল ইংরেজ আমলের গোড়ার
দিকে তৈরী হলেও সময়টা হচ্ছে এইটিন্থ সেঞ্চুরীর মাঝামাঝি।
তখনকার প্রচলিত ব্যবসা বলতে যেটা ছিল তা হল নিমকমহলের দেওয়ানী বা
জাহাজের স্টিভেডরশীপ আর তার সাথে নীল চাষ। এসব করে ওদের সেই পূর্বপুরুষ এই
সম্পত্তি তৈরী করে ভবিষ্যতের জন্য করে রেখে গেছিলেন বলে ইতিহাসের ছাত্র হয়ে আজ
এই সত্তর দশকের শেষে এসে এসব চোখ ভরে দেখবার সুযোগটা এসে গেল !
ঠিক হল শুক্কুরবার হাফ ডে সেরে ওখানে পৌঁছনোর কথা। ওখানে আড়াইদিন থেকে রবিবার
রাতে যে যার মত ফিরে আসব। আসলে এসব বাড়ির কারুকাজ আর ভেতরের অয়েল পেন্টিং বল বা
মূর্তি টূর্তি আমাকে আবার বেশ টানে!
....
যতীন বলল, ' ওখানে তো গেলেন সেটা বুঝেছি। কিন্তু এমন কি ঘটল? যেটা আপনি আজও
ভুলতে পারেননি? '
প্রফেসার একটা চুরুটে অগ্নিসংযোগ করে একরাশ ধোঁয়া উড়িয়ে আবার বলতে শুরু করলেন,
একটু সবুর কর হে! প্রায় চল্লিশ বছর আগেকার কথা। সবটা বলতে গেলে মনে মনে একটু
গুছিয়ে নিতে হবে বৈকী!
রায়চৌধুরীদের বিশাল প্রাসাদোপম বাড়িটার নাম বৈকুন্ঠ মঞ্জিল। সেকালের ছাপ সবটাতে
যাকে বলে একেবারে জীবন্ত। গেট পেরিয়ে লন, তার দুধারে এককালে পাম জাতীয় গাছের
সারি থাকলেও তখন যাকে বলে একদম ন্যাড়া আর অযত্নলালিত ইঁটের বাঁধানো রাস্তাটা
বলে দিচ্ছে এ বাড়ির সাথে লক্ষ্মীদেবীর সম্পর্ক এই প্রজন্মে এসে আর বিশেষ নেই।
রামনরেশ যাদব নামের একজন দেহাতী ম্যানেজার কাম খিদমতগার গোছের বৃদ্ধ লোক কিছু
লোকাল সাফাইকর্মীদের সাহায্যে পুবের মহলটাকে বাসযোগ্য করে রাখলেও বেশীর ভাগ
ইমারতটাকে দেখে আমার কিন্তু বেশ মনখারাপ লাগছিল।
সাকিন কলকাতা থেকে সামান্য দূরে এইরকম একটা মূল বসতে বাড়ি থাকাটাই তো একটা
আশ্চর্যের ঘটনা। ভাব দেখি! সেই সময় কাছেই জঙ্গলাকীর্ণ বিস্তীর্ণ বাদাঅঞ্চল,
তারওপর আবার মশা মাছি, ডাকাত, ওলাউঠো এসবের তোয়াক্কা ছাড়াই ওনারা এরকম একটা
স্বর্গপুরী বানিয়ে ওনারা বাস করতে লেগেছিলেন! এখন নাহয় রেললাইন, বাস রাস্তা
এমনকি মোটরে চেপেও যাতায়াত করা যায়, কিন্তু তখন! পাল্কী আর জুড়িগাড়ি চেপে এই
জলজঙ্গলের দেশে আসাটাও কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের তুলনায় কিছু কম নয়।
....
বিশাল গয়েশ্বরী বারকোশে প্রথম রাত্তিরে ঘিয়ের লুচি আর নারকোল দিয়ে ছোলার ডাল আর
সাথে মন্ডা সহযোগে রাতের খাওয়া সারা হল। রামনরেশ বলল যে আজ কাল দুপুরে এখানকার
দীঘির কালবোস মাছের ঝোল খাওয়াবে আর রোববারে কচি পাঁঠার মাংস দিয়ে তুলাইপাঞ্জি
চালের ভাত আর সাথে গাওয়া ঘী!
ওদের জমিদারী অন্তত পনের বছর আগে লোপ পেয়েছে এমনকি দু'মাস পরে খোদ বাড়িটাও আর
থাকবে না, তাই এটাই যেন সেই 'লাস্ট সাপার' এর গোছের সমতূল্য ব্যাপার।
আমার সহকর্মীটি খাদ্যরসিক হলেও পেটরোগা। সে এসব বিষয়ে উৎসাহ দেখালেও খানিক মন
মরা হয়েই ঘুরছিল। আমি ওদের সাত কূলের কেউ না হয়েও যখন গথিক স্থাপত্য, ভাঙা
ঝাড়বাতি আর ফ্রেস্কো এমনকি ধূলোমাখা ভিনাসের শ্বেতপাথরের মূর্তিগুলো দেখছিলাম,
সেই অনটন ও ভগ্নপ্রায় ইতিহাসটিতে বিচরণ করতে করতে বিগতদিনের কথা যেটুকু
সন্দীপের কাছে শুনেছি আর নিজেও যেটুকু জানি সেসব ভেবে কষ্ট লাগছিল।
বুঝতে পারছিলাম যে এখনকার দিনে হেরিটেজের প্রতি কোন দায় না থাকা একটা
ইতিহাসবিমুখ জাতিতে ক্রমে পরিণত হওয়ার পথেই আমরা সবাই চলতে শুরু করেছি।
.....
আমার বন্ধু কাম সহকর্মীটি দুপুরে কষায়িত মৎস সহযোগে রাজকীয় লাঞ্চ সেরে বেশ
অলসশয়ননিমগ্ন হয়ে নাক ডাকাতে লাগলে আমি উঠে বাইরে এলাম। পড়ন্ত দুপুরের
স্তব্ধতার ভিতরেও একটা মনখারাপী ডাক ভেসে আসে। কাজেই অজান্তে কখন যেন উত্তরের
মহলের বইঘরের সামনে পৌঁছে যেতেই কে যেন শোন! শোন! বলে ডাকতে লাগল।
দেখি বইঘরের সামনে একটা বছর দশেকের ফুটফুটে মেয়ে ইঁটের পাঁজা মাড়িয়ে আমার দিকে
আসছে। ওইখানে এইসম য় একটা বাচ্চা মেয়েকে দেখতে পাওয়াটা যে কত আশ্চর্যের তা আর
কি বলব! ভাবলাম আশেপাশের কারুর মেয়ে হবে সঙ্গীদের থেকে দলছুট হয়ে এখানে চলে
এসেছে ! আমি তার কাছে যেতেই মেয়েটা জিজ্ঞাসা করল যে কে আমি? হেসে তাকে আমার
পরিচয় দিতেই সে খিলখিল করে হেসে উঠে বলল 'কলকেতা! তুমি কলকেতাতে থাক! ' তারপর
আমাকে বলল তার গলার একটা সাতনড়ীর ধুকধুকি দেওয়া হার এখানে যে কোথায় পড়ে গেল!
তবে মায়ের কাছে বকুনি খাবার সম্ভাবনায় সে ওই হারখানাকে অনেকক্ষণ থেকে খুঁজছে,
কিন্তু পাচ্ছে না। আমি যদি ওইটা ওকে একটু খুঁজে পেতে সাহায্য করি তো বেশ হয়।
আমি খুকীটিকে আশ্বস্ত করে ধীরে ধীরে বইএর পাঁজা আর ভাঙা ইঁটের স্তুপ পেরিয়ে
একটু ভেতরে যেতেই আবার ওই বোঁটকা গন্ধটা নাকে এল। এদিকে চাইতেই দেখি কখন যেন
বেলা পড়ে এসে আস্তে আস্তে অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে লেগেছে। একটা তক্ষকের ডাকও যেন
শুনতে পেলাম। আমি স্বভাবতই হারটা খুঁজে পাইনি যেমন, খুকীটিকেও আর দেখতে পেলুম
না। ভাবলাম দেরী হয়ে যাচ্ছে বলে হয়ত সে বাড়ি পালিয়েছে, আর ওটাই তো স্বাভাবিক।
আমিও হতোদ্যম হয়ে আমাদের বাসস্থানটির দিকে পা বাড়াতেই একটা অদ্ভূত জিনিস দেখে
অবাক হয়ে গেলাম। সেই যে পেন্টিংটার কথা তখন বলেছিলাম যেটা ভাঙাচোরা অবস্থায়
বইঘরে দেখেছিলাম আর কী! এখন দেখছি সেটা যেন একেবারে নতুন ! এমনকি ছবির মেয়েটাও
আমার চেনা। এতো সেই খুকীটির ছবি! একটু আগে যে আমাকে নিজের সাতনড়ীর ধুকধুকি সমেত
হারটি খুঁজতে অনুরোধ করেছে বলেই তো মহলের এতটা ভিতর অবধি ঢুকে পড়েছিলাম। কিন্তু
কে এই মেয়েটা! আর ছবিটার সাথে তারই বা কিসের সম্পর্ক?
.....
ঘরে অবধি আসতে আসতে দেখি সন্দীপ ঘুম ভেঙে আমায় পাশে দেখতে না পেয়ে অস্থির হয়ে
বাইরে খুঁজতে বেরতে যাচ্ছিল আর ঠিক তখনই আমি নাকি এসে পড়েছি।
রাতের বেলায় ওকে সবটা বলতে ও খানিকক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ও যেটা বলল সেটার
কথাই আজ আর একবার মনে পড়ায় একটু যেন আনমনা হয়ে পড়েছিলাম।
...
রায়চৌধুরী বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা সেই মানিকলালের চার ছেলে ও একটিই মেয়ে ছিল যার নাম
নেত্যকালী ! তাকে আট বছর বয়সে গৌরীদান করতে চেয়ে এই বৈকুন্ঠ মঞ্জিলে বিবাহবাসর
বসেছিল সেই ১৮৩২ সালের এক বৈশাখে। পাত্রটির অনেক বয়স প্রায় সত্তর বছরের হবে।
সেযুগে এমনটা তো হতই। তবে গল্পটা এখানেই শেষ নয়। বিয়ের রাত্রে কি একটা গোলযোগ
ঘটে ও মেয়েটি একছুটে পালাতে গিয়ে সামনের দীঘির জলে পা ফসকে পড়ে ও তার সলিলসমাধি
ঘটে।
উৎসবের দিনে বাপের একরত্তি মেয়ের এই দূর্ঘটনায় মানিকলাল নিজে খুব মুষড়ে পড়েন ও
মেয়ের একটি ছবি কিছুদিনের মধ্যে তৎকালীন স্বনামধন্য ইংরেজ পোট্রেট আঁকিয়ে
ড্যানিয়েল কাথবার্টসন সাহেবকে দিয়ে আঁকিয়ে বাড়ির বইঘরে টাঙিয়ে রাখেন।
ওদের পরিবারে এটাই কথিত আছে বলে ও শুনেছে যে কখনও কখনও নাকি আজও নেত্যকালীর
দেখা পাওয়া যায় বইঘর বা উত্তরের মহলের আনাচে কানাচে। সে নাকি কারও কোন ক্ষতি
করে না শুধু আবদার করে তার হারিয়ে যাওয়া অতি প্রিয় সাতনড়ীর ধুকধুকি দেওয়া গলার
হারটাকে শুধু খুঁজে দিতে।মৃত্যুর প্রায় আড়াইশ বছর পরেও সে আজও তার ওই হারানো
গয়নাটিকে তখনও অবধি ভুলতে পারেনি।
তবে এখন প্রশ্ন হল এই যে, তার ভদ্রাসনের মাটিতে আধুনিক বিলাসবহুল হাউসিংএর
ক্যাম্পাসে সে কি আজও অনাহুত বা অপরিচিতের মত তার সেই হারখানাকে খুঁজতে আসে
কি?
প্রফেসর সোম চোখ থেকে চশমাটা খুলে রুমালের খুঁট দিয়ে আর একবার ভালো করে মুছে
নিলেন।
কবিতার নাম: মেধা।
কবির নাম: দীপক রঞ্জন কর।
যাকে যায় না ছোঁয়া,নেই যে তার পাখা
আবার যায়না বদ্ধ ঘরে আটকে রাখা।
নানা অজুহাতে,করেও নানাবিধ ফন্দি
যাকে করা সম্ভব নয় কারাগারে বন্দি।
থাকে হয়তো লোকানো,জনমাঝে সুপ্ত
তাই বলে হয় না কখনো চিরতরে লুপ্ত।
অবশেষে একদিন আসবে যে প্রকাশে
মেঘ কেটে গেলেই ভাসবে আকাশে ।
কিছুতে মানে না কোন প্রকার বাধা
প্রতিটা মানব মাঝে সুপ্ত থাকা মেধা।
দিনে যেমন চন্দ্রালোক থাকে ক্ষীণ
সে চাঁদই রাতের আকাশ করে রঙ্গিন।
সযতনে বাঁচালে গাছ আসবেই মুকুল
সুসময়ে ফুটবে যে তাতে সুগন্ধি ফুল ।
কথায় বলে"বৃক্ষ পরিচয় তার ফলে"
মেধা নিরাকার, সে তো অদৃশ্য চলে ।
সর্ব মানবেই আছে বিশেষ এক গুণ
পথের পাথরও ঘর্ষণে জ্বালায় আগুন।
কবিতার নাম: বাহন বদল।
কবির নাম: বদ্রীনাথ পাল।
মেজাজ খানা বিগড়ে গেছে
গণেশ ঠাকুর তাই,
এক কোণাতে বসে আছে
মুখে হাসি নাই !
কারণ হলো আজের দিনেও
বাহন ইঁদুর তার,
কেমন করে বইতে পারে
নাদুস নুদুস ভার ?
গাড়ি ঘোড়া থাকতে এতো
কেন সেসব বাদ-
আসল ভক্তি নেই মানুষের
মিশেল তাতে খাদ !
বাহন যদি বদল না হয়
এই করেছে পণ-
কোনোদিনই আসবে না আর
মর্তে গজানন।
কবিতার নাম: দুর্গা তুমি।
কবির নাম: মন্মথ হালদার।
দুর্গা তুমি দুর্গতি দায়িনী
দশ হস্তে প্রহরিণী
তুমি নও অসুর দলনী
তুমি অসুর পালিনী।
দুর্গা তোমার উদ্বোধনী
করে তস্কর জননী,
দীন দরিদ্রের সর্বস্ব হরণী
চৌর্য সাম্রাজ্যের রাণী।
তোমার ধ্বংশের হস্ত শিরে
অসুর কুলের জননী,
শ্মশান কালীর নৃত্য বঙ্গে
জ্ঞানহীনা মহাজ্ঞানী।
দুর্গ তোমার প্রসাদে আজ
তস্কর কুলের নৃত্য,
হীরক রাণীর দরবারে আজ
পন্ডিত কুল ভৃত্য।
দুর্গা তুমি ধর্ষক জননী
শোননি ক্রন্দন ধ্বনি?
অনুপ্রেলণার ধর্ষণ ভূমি
তুমি ধর্ষিতা কামদুনি।
দুর্গা তুমি কাঠুয়ার মন্দিরে
অষ্টম বর্ষীয়া ধর্ষিতা,
তুমি কি দেখেছ বর্ণ পশুদের
নিষ্ঠুর ধর্ষণ বর্বরতা।
দুর্গ তুমি রজঃস্বলা
চির অপবিত্র,
দেবতাদের মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ
শবরী মালার চিত্র।
দুর্গা তুমি পাপযোনী
গীতায় কৃষ্ণ বানী,
দুর্গা তুমি চরিত্র হীনা
মনু স্মৃতির বানী।
দুর্গা তুমি মহাকাব্য
রামায়ণের সীতা,
অগ্নিতে নারীর সতীত্ব পরীক্ষা
আহাম্মুখের বর্বরতা।
রামের সততার হয়না পরীক্ষা
পবিত্র পুরুষ জাতি,
নারী চরিত্রহীনা অপবিত্র
সাক্ষ্য মনুস্মৃতি।
কবিতার নাম: খুঁজে ফিরি তোমায়।
কবির নাম: বিবেক পাল।
তোমার রাঙা ঠোঁটে দেখেছি
চতুর্দশী চাঁদের হাসি
একরাশ এলোচুল সে যেন
শ্রাবণের কাজল ঘন মেঘ-রাশি ।
তোমার চলার পথ জুড়ে
বন হরিণীর চপলতা
স্নিগ্ধ কোমল চোখের তারায়
মিষ্টি হাসির লাজুকতা
।
নাম না জানা পথের ভীড়ে
প্রতীক্ষায় কাটে বেলা
অশ্রুর অঞ্জলীতে----
চিত্ত হল বাঁধন হারা
!
বয়সের পাকদন্ডীতে
নিরালা নিঝুম
সন্ধ্যা--
খুঁজে ফিরি আজও তোমায়
হাতে নিয়ে " এক গুচ্ছ বন্য
রঙ্গন ।"
কবিতা নাম: শিশুর অধিকার।
কবির নাম: আফরিনা সুলতানা ঈশিতা।
আমরা শিশু, আমরা নতুন
আমরা অবুঝ দল,
আমরা সবাই নতুন দিনের
সজীবতার বল।
তবে আমরা কেন
পাইনা আহার,পাইনা পানি
পাইনা ন্যায্য অধিকার,
আজকি তবে বলব আমরা
নেই আর শিশুর অধিকার।
হয়না আর আগের মতন
বিদ্যা পীঠের কাজ,
তবু সবাই গর্ব করে
আসলে নেইতো তাদের লাজ।
আজকে আমরা ছোট্ট শিশু
ভবিষ্যতের কর্ণধার,
লেখাপড়া শিখে হব
এ জাতীর ই অহংকার।
কবিতার নাম: পাঠশালা।
কবির নাম: শান্তি দাস।
শিশুর শিক্ষা পরিবারে জীবনের পাঠশালায় বড় হওয়া,
পাঠশালা শব্দটি সবার পরিচিত প্রাক প্রাথমিক শিক্ষালয়।
কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে পাঠশালায় শিক্ষাদানের সময়,
সারা বিশ্বজুড়েই পাঠশালা শেখার কোন শেষ নেই।
যেখানে বিনাবেতনে শিক্ষা নিতো সব ছাত্র নতুন নতুন কিছু,
গাছতলায় প্রকৃতির মাঝে গুরু দ্বারা পরিচালিত পাঠশালা।
সেই আদিকাল থেকেই গুরু মশাইয়ের শিক্ষা দান,
প্রকৃতি পরিবেশের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতো।
শৈশবের পাঠশালা স্মৃতিতে আজও মনের ঝুলিতে,
গুরু বসে বসে অ আ উচ্চারণে ছাত্রদের মুখে মুখে।
ছাত্রদল ঘিরে বসে হৈচৈ করে গুরুর চারিপাশে,
চাটাই পেতে বসে গুরুর সঙ্গে সঙ্গে মুখে মুখে উচ্চারণে।
গুরুর আদেশ মতে পাঠশালায় বসে প্রকৃতির ছবি আঁকে,
আদর্শ লিপি ধারাপাত তাতে যা আছে সবেতে মন বসে।
এই পাঠশালায় শিক্ষা নিয়ে গুরুর শিক্ষা মাথায় করে,
জীবনে সফলতা অর্জনে অনেকেই সেই ভূমিকা পালন করে ।
কবিতার নাম: খোকনের বিয়ে।
কবির নাম: বাপী নাগ।
খোকন যাবে বিয়ে করতে
সঙ্গে যাবে পুচকু।
পুচকু তো হাঁটে হেলে দুলে
সে তো কতটুকু।
নতুন সাজে খোকা যাবে
ঘোড়ার গাড়ি চড়ে।
ধুতি পাঞ্জাবি গলায় মালা
যাবে আনন্দ করে।
ঘোড়ার গাড়ি নেই লাইট
জ্বালায় দারোয়ান।
রাস্তায় নেই কোন আলো
চারিদিক শুনশান।
খোকার আজ মহা আনন্দ
ঘরেতে বউ আসবে।
শ্বশুরবাড়ি মধুর হয় হাড়ি
খোকা বসে খাবে।
ঘুমের ঘোরে হঠাৎ খোকা
তাকিয়ে দেখে ঘরে।
হয়তো স্বপ্নটা দেখছিল সে
খোকা ঘুমের ঘোরে।
রাত পেরিয়ে ভোর হলো
উঠলো সে জেগে।
বউকে নিয়ে ফিরতে হবে
স্বপ্ন গেছে ভেঙ্গে।
কবিতার নাম: দশভুজা।
কবির নাম: শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
দশভুজা দেবী দুর্গা তুমি
উমা রূপে আরাধিতা ভূমি।
অসুর নাশি দেবী বলে জানি
শরৎকালে তুমি মাতা রানী।
সিংহ বাহক জয়া তুমি মাতা
নানা অস্ত্রে তুমি যে শোভিতা।
সর্ব বেদন ক্ষোভের হনতা বালা
ভালোবাসা স্নেহদায়ী ডালা।
জ্ঞান দায়ীনি বলে সবাই ডাকে
আকার যে দাও তুমি জীবন শাখে।
আজকে ষষ্ঠী বোধন তোমার হবে
আনন্দ তাই লোকের হৃদয় সবে।
ঘুরে ঘুরে দেখছি রূপের বাহার
উদর ভরে করছি সবাই আহার।
চলবে খুশি পাঁচটা দিবস ধরে
লুটবো যে সুখ হৃদয় সকল ভরে।
মায়ের আশায় ছিলাম আমরা বসে
মেতেছি তাই সুখের স্রোতের রসে।
দুগ্গা মোদের আজকে ঘরের মেয়ে
আনন্দ তাই তাহার সুগান গেয়ে।
বেঁচে থাকুক উমা সবার মাঝে
দুর্গা কালী বিরাজ জীবন তাজে।
কবিতার নাম: সময়কাল।
কবির নাম: নিতাই শর্মা।
সময় কাল সদা চলে আপন গতিতে,
কারুর তরে থামেনা চলার পথে।
সময় এগিয়ে চলে রেখে যায় স্মৃতি,
সদা লক্ষ্য থাকে তার বাস্তবের প্রতি।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছি আমরা,
বিপরীতে চলতে গেলে হতে হবে বাস্তুহারা।
আজকে যে রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করে,
কাল সে ফকির হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে।
সময় বড়ই নির্মম নিষ্ঠুর স্বভাবের হয় ,
সময়ের সাথে বন্ধুত্ব কখনো সম্ভব নয়।
এখন আছি দুনিয়ায় সকলের সাথে,
ক্ষিয়ৎক্ষণ পরে পারি হারিয়ে যেতে।
পৃথিবী সৃষ্টির পর কত মানুষ এসেছে,
ঠাকুর দাদা ঠাকুর মা হারিয়ে গেছে।
কত সাম্রাজ্যের উত্থান হয়েছে জগতে,
সময়ের সাথে হয়েছে হারিয়ে যেতে।
শৈশব কৈশোর পেরিয়ে পৌঁছেছি প্রৌঢ়ে,
বার্ধক্যের শেষে চলে যাব সবাইকে ছেড়ে।
শৈশব কৈশোর ফিরে আসে না জীবনে,
সময় এগিয়ে চলে সদা আপন মনে।
সময়ের কাজটা সময়ে করে না যে,
জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে যায় সে।
সময়ের অপচয়ে পড়তে হয় পিছিয়ে,
এগিয়ে চলার পথটা যায় ক্ষীণ হয়ে।
কবিতার নাম: পাহারাদার।
কবির নাম: বিমল চন্দ্র পাল।
পাঁচদিন হাকাহাকি ডাকাডাকি
কোলাহল মুখরিত ভুবন
শব্দ যন্ত্র ,ঢাকের বাদ্যি চিৎকার
থর থর কেঁপেছে গগণ।
সব চিৎকার চেচামেচি মাতামাতি শেষ
প্রতিমা গিয়েছে বিসর্জন
আকাশে বাতাসে গভীর নীরবতা
ভেসে গেছে সব আকর্ষণ।
শব্দ যন্ত্রের সুর, ঢাকের বাদ্য কানে বাজে
আরতি ঘন্টা ধ্বনি মৌন ঝ্্কারে
বিয়ের শেষে যেন মৌন মন্ডপ খাড়া
কারে যেন ডাকে বারে বারে।
চারিদিকে শূন্যতার মাঝে ঝুলে আছে সে
একা একটা ত্রিশুলের বুকে
সকাল বিকাল রাতদিন এক পায়ে খাড়া
চাঁদমালা, পাহারা দেয় বুক ঠুকে।


