।। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।।
।। ২৫তম সংখ্যা ।।
📢 প্রকাশ:
- বাংলা: ৯ই কার্তিক ১৪৩০
- ইংরেজী: ২৭শে অক্টোবর ২০২৩
- বার: শুক্রবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
🔆 আজ আবহাওয়া: ৩২/২৩°C (পশ্চিমবঙ্গ)
✒️ লিখেছেন:
ছড়া: চড়াইটি।
কবির নাম: শংকর ব্রহ্ম।
চড়াই চড়াই চড়াইটি
করলো আমার পড়া মাটি
নেচে বেড়ায় সামনে এসে
যেন আমায় ভালোবেসে
মা বাবা তা বোঝে কই?
বলে, 'পড়ায় মন নাই'
খোলাই থাকে আমার বই
মনে ভিতর নাচে চড়াই
এখন আমি কি করি?
ইচ্ছে করে চড়াই ধরি
আদর করি খুব তাকে
যাতে আমায় মনে রাখে
চড়াই চড়াই চড়াইটি
করিস না আর পড়া মাটি
মা বাবা দেখলে পড়ে
তাড়াবে তোকে দূর করে।
ছড়া: বাঃ ছড়া! নাঃ ছড়া!
কবির নাম: গোবিন্দ মোদক।
ইটেবেড়ে পানিহাটি বাঘছাল
পানখেয়ে ইছাপুর ঠোঁটলাল।
জলটুঙ্গী মোষমারি টকদই
সীতাপুর রাইজানি হইচই।
ঘুঘুডাঙা নলহাটি রথতলা
সাজিমাটি একানড়ে কানমলা।
মধুপুর নুনগোলা ভীমচাটা
আশাবাদী ঠোঁটফাটা কানকাটা।
খড়দহ ঢাকুরিয়া আলিপুর
বারাণসী ঝমঝমা মোতিচুর।
তেজপুর চুয়াডাঙ্গা ফুলতলী
কলকাতা মুমবাই কানাগলি।
মালদহ তোপচাঁচি রায়পুর
কলিজানি নামখানা গুনটুর।
জয়ডাঙা পাঁচথুপি মনচলি
ছড়া শুনে হাসি-কাঁদি কানমলি!
কবিতার নাম: লাঞ্ছিত মানুষ।
কবির নাম: সামসুদ্দোহা।
ছোট্ট মৃগ শিশু যেমন হিংস্ররের ভয়ে বের হয় না বাইরে,
তেমনি লাঞ্ছিত মানুষ শুধু
ঠাই নেই ছোট্ট কুটিরে।
কিছু মানুষ তো নিজের শক্তি বৃদ্ধি তৎপর,
সত্যি সেই মানুষ গুলো বড়ই সার্থপর ।
আসলে কিছু দেশ লাগিয়েছে
নিজেদের মধ্যে ধর্মের দ্বন্দ্ব,
ফলে লাঞ্ছিত মানুষের মধ্যে শুধু বিরাজমান মন্দ ।
তারা উপরে বসে করে শুধু আদেশ ,
যার কারণে সাধারণ মানুষের চারিদিকে
মৃত শব এর সমাবেশ।
ক্ষমতালিস্পু ব্যাক্তিবর্গ শুধু ভাবে এই যুদ্ধ এলো নাকি,
আমিও তাদের হয়ে কবি শঙ্খ ঘোষের মত বলি
" আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি "
কবিতার নাম: শালিক জোড়া।
কবির নাম: উদয় নারায়ণ বাগ।
ঘুমের ঘোরে চেয়ে দেখি
মোরগ ডাকে কক-কক,
পায়রাগুলো ঘুলঘুলিতে
করছে বেদম বক-বক।
মায়ে বাপে আমায় ডাকে
উঠ রে বাছা চট-পট,
বিছনা মাঝে শুয়ে থেকে
করিস না তুই ছট-ফট।
ভোর হয়েছে তাকিয়ে দেখ
নেই তারাদের মিট-মিট,
শালিক-জোড়া টিনের চালে
চেয়ে কেমন পিট-পিট।
বৃষ্টি হবে ওরে খোকা
বারিদ ডাকে গুর-গুর,
মুখ ধুয়ে তুই আয় না ঘরে
করছে বুকে দুর-দুর,
কবিতার নাম: নির্মল হাসি।
কবির নাম: বিবেক পাল।
ছলনা বিহীন শিশুর নির্মল হাসি
আমি দেখেছি---
গর্ভবতী ফসলের মাঠে , নদী তীরে ছলাৎ ছলে !
দেখেছি তারে---
আলোকিত শুভ্র সজনে ফুলে ,
লাফ দড়ি খেলার মাঠ জুড়ে ; ফড়িং ধরার বিফলে !
দেখেছি তারে----
ধূলিময় রাজপথে , জীবনের জয়গানে ,
বন্ধুর পথে ক্লান্তিহীন যাত্রায়--
দেখেছি তারে---
বেলা অবেলায় নির্ভীক পদচারণে ,
ব্যথিত চিত্তে শব্দহীন স্নেহের পরশে ।
আজ বাতাসে কোকিলের কুহুতান
অশোক কিংশুক হাসে তারি ছন্দে ,
সাঁঝতারা জেগে ওঠে অনাবিল আকাশে !
কবিতার নাম: কোথায় শেষ।
কবির নাম: মিহির সেন।
দিকে দিকে হানাহানি
স্বার্থের দ্বন্দ্ব,
অর্থের পিছে ছুটে
মানুষ আজ অন্ধ।
উচ্চ নীচ জাতিভেদ
জাতপাতে ব্যস্ত,
মানুষ হেথা গৌণ
ধর্মটাই মস্ত।
বীর সন্ন্যাসী বিবেক
তারুণ্যের বেশে,
জাগিয়ে ছিলেন মনুষ্যত্ব
এ অভাগা দেশে।
ভাই বলে সম্বোধন
প্রতি জনে জনে,
হিংসা নয় দ্বেষ নয়
ভাবো শিব জ্ঞানে।
শিকাগো ধর্ম সভা
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
ভারতমাতা বিশ্ব মাঝে
করলেন স্থাপন।
যুব সমাজ উদভ্রান্ত
নিয়ত বিপথগামী,
আপনারে বিস্মৃত
আসে অন্ধকার নামি।
তোমার আসন শূণ্য আজি
এ সন্ধিক্ষণে,
অভাগা দেশে প্রদীপ জ্বালাও
বাঁচাও ধনে প্রাণে।
কবিতার নাম: দাদুর হাতে গোলাপ।
কবির নাম: দীপক রঞ্জন কর।
এ.সি বাসে ভিড় কম
দাদু যাবেন দমদম
চড়ে গেলেন বাসে
জানালার পাশে।
খুশ্ মেজাজে
বড় আমেজে,
মুখে দিয়ে পান
গুনগুন গান।
পাঞ্জাবি ধুতি, সাদা সুতি
নাগরা চটি, হাতে লাঠি।
অল্প কেশ ফাঁকা বেশ
চশমা চোখে মানিয়েছে বেশ।
কাঁধে ভাজ চাদর
মেখে গায়ে আতর,
উচাটন মন
পৌছবে কখন।
হাতে গোলাপ ফুল,মিষ্টির হাড়ি
যাচ্ছে দাদু গার্লফ্রেন্ডের বাড়ি।
দাদুকে এসে বলেছে জানি কে
আজ নাকি "ভ্যালেন্টাইন ডে"।
ছড়া: খোকা।
কবির নাম :অতুল সেন।
আকাশ ঘিরে মেঘ করেছে
সুয্যি গেছে পাঠে,
খোকা যাবে বউ আনতে
সঙ্গে নেবে কাকে?
খোকার বউ ভীষণ মেজাজি
একলা পেলেই হয়,
বউয়ের সামনে একলা যেতে
খোকার করে ভয়।
খোকা যে বেজায় সরল
সবাইকে করে সম্মান,
বউয়ের সামনে যেতেই নাকি
খোকার যায় মান সম্মান৷
কি করবে খোকা এখন
বুঝে উঠতে পারে না
তাইতো খোকা একলা চলে
সঙ্গে আর কেউ চলে না
কবিতার নাম: আজগুবি গল্প।
কবির নাম: মানস দেব।
ফোগলা দাদু সবার প্রিয়
গল্প বলেন রোজ
সন্ধ্যে হলেই শিশুরা সব
তাকেই করে খোঁজ ।
কথায় কথায় হেসে দাদু
সুরসুরি দেয় গায়ে
ভীষণ রেগে ছোট্ট বিশু
কামড়ে দিল পায়ে।
প্রচন্ড জ্বর আসলো দাদুর
লাগেনা কাজে ঔষধি
সেদিন থেকে আর কখনো
বলে না গল্প আজগুবি।
কবিতার নাম: অন্ত গহিণে উদয় অস্ত।
কবির নাম: রবিন রায়।
ছেড়ে আসা পথে -
যদি মনে হয় কিছু ফেলে এসেছো,
তা খুঁজতে তুমি যেও না ;
কার সামনে পড়েছে ,
সে হয় তো যত্নে কুড়িয়ে নিয়েছে ;
হেথা কিছু পড়ে থাকে না।
সে যাই হোক -
তোমার হয় তো তা ফেলনাই ছিল,
তার ছিল বড় দরকারী ;
কি প্রয়োজন -
সে তো সময় বলে ও দেখিয়ে দেয়,
এ নসিবের জারিজুরি।
ত্যাগকৃত বিষয়-
আজ যদি আশয় বলে মনে হয়,
তুমি ফের ভুল করছো ;
পেয়ে গেলে -
হৃত হতো ভালো, এই বর্তমানে-
এমন হয় তো ভাবছো !
কিন্তু না গো -
বারংবার করছি যে সমানে সাবধান,
দিনের ঘটেছে বদল ;
চাপ বিবর্তনে -
কাদামাটি হয় তো বা মন্থরে নিয়েছে,
কঠিন শিলার আদল।
একই দিনে-
যেমন সকালের নরম সোনা রোদ,
দ্বিপ্রহরে আগুন রাঙা ;
একই জীবনে
তেমন প্রথমের সহজ সরল বোধ,
শেষে হয় দাঁত ভাঙা।
বিগত স্মৃতি -
বিস্মৃত হও হে ! অশ্রু নীরে ধুঁয়ে,
নিরুদ্দিষ্ট হয় না ফেরত;
অঞ্জাত মোহে -
যেমন অনুভূতি পাল্টে গিয়েছিল -
তেমন থাকুক না বিরত।
অদৃশ্য এই
নসিব লেখ্যে যা ছিল গো খোদিত,
তাই তো হয়েছে চিত্রায়ন ;
চিত্র পটে -
ফের কাহিনী সংস্করণ, বুঝি না তো-
কিই বা আছে প্রয়োজন ?
কেঁদো না -
অজান্তেই লাগবে তার নিঃস্ব হায়,
থাকুক ভালো যে আছে ;
প্রাণপণে -
আঁকড়ে ধরে বাঁচো এ জীবন ভর -
আজ যে একান্ত কাছে।
শেষ দৃশ্যে -
মিলন থাকতেই হবে নেই তো কথা,
হ্যাঁ, সমাপ্তি ঘটুক বিষাদে ;
গোনা এই -
কটা দিন ফুরালে,জুড়াবে যত জ্বালা,
নিঃশ্বাস মুক্তির আস্বাদে।
ছড়া: রাজার শাসন।
কবির নাম: অধীর কুমার রায়।
পাহাড় থেকে ঝর্ণা নেমে
ভাটির দিকে যায়।
রোজ দুপুরে সিংহ রাজা
আয়েস করে খায়।
সেদিন দেখে ক্লান্ত শেয়াল
ভাটিতে জল খায়।
'কেরে তুই জল ঘোলালি'
ধমকে সিংহ কয়।
'আমি আছি ভাটির দিকে
জল ঘোলালাম কিভাবে?'
'তোর কথা কে বলেছে
তোর বাপ ঘোলালো যেভাবে।'
'ছোট বেলায় বাপ মরেছে
সে ঘোলালো জল?'
'তোর বাপ কিংবা দাদু হবে
শুধুই বাঁচার ছল?'
'ভাটির জল কি উজানে যায়?'
শেয়াল যুক্তি দিয়ে বলে।
রাজা বলেন 'এক চড়ে দাঁত ফেলাব
পড়েছিস এবার কলে।'
কবিতার নাম: নেশার ঘোরে।
কবির নাম: অমল কুমার ব্যানার্জী।
মাসে মাসে লক্ষ্মী আসে
পাঁচশো টাকার নোটের সাথে।
ভদকা হাঁড়ির পয়সা মিলে
মা দুগ্গা যখন আসে।
উদ্বোধনী সভায় এসে
অভয় দিয়ে যায় চলে সে।
মা মা বলে পাগল ছেলে,
দিচ্ছে চুমু নোটের মাঝে।
ঘরে ঘরে মায়ের পূজা,
পাঁচশো টাকার নোটের সাথে,
পঙ্গু যে আজ বঙ্গভূমি,
পাঁচশো টাকার নোটের চাপে।
চাকরি গুলো পাচ্ছে কারা?
লক্ষ্য টাকা দিচ্ছে যারা।
বাকিরা সব পাঁচশো টাকায়
নিজের নিজের পেটটি ভরায়।
ঝালমুড়ি আর চায়ের দোকান,
দেখছি যে আজ ঘরে ঘরে,
ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার,
তেলে ভাজার দোকান করে।
মা কালীর ঐ চরণ তলে
জবা তোর আর ঠাঁই কি মিলে?
পাঁচশো টাকার নোট দিয়ে আজ
শ্যামা মায়ের চরণ মুড়ে।
নাচছে সবাই নাচছে ওরে,
বিসর্জনের তালে তালে,
আসছে বছর আবার এসো,
আমরা এখন রসাতলে।
জয় মা কালী কাত্যায়নী
করিস ক্ষমা এ অধমে।
যা দেখেছি তাই বলেছি,
নেশার ঘোরে আপন মনে।
কবিতার নাম: পঞ্চমীর ওই সন্ধ্যেবেলা।
কবির নাম: শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
পঞ্চমীর ওই সন্ধ্যেবেলায়
মায়ের মূর্তির হবে উন্মোচন।
প্রদীপ্তদা ব্যস্ত সকাল থেকে
তার ওপর দায়িত্ব অনুষ্ঠানের আয়োজন।
গান নাটক নাচ করবে পাড়ার সকল ছেলে মেয়ে,
চণ্ডী মন্ত্র পাঠে থাকবে পুরোহিত সবার প্রথমে।
পাড়ার যত ছেলের দল, ব্যস্ত সবাই নিজের কাজে
সঙ্গে তাহার কেউ থাকে না, কাঁধে কাঁধে তাহার সাথে।
হাসি মুখে করে চলে পঞ্চমীর ওই আয়োজন
পাশে তাহার কেউ থাকে না, যতই বলুক প্রিয়জন।
গেল চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছর ধরে
যে মানুষটার চঞ্চলতায় হয়েছে পঞ্চমীর আনন্দ,
আজকে তাহার অনুপস্থিতি কাঁদায় সবার হৃদয়কে।
মঞ্চের কোণায় আজকে তিনি আছেন হয়ে ছবি
মালা দিয়ে তাকে জানায় প্রণাম হৃদয় থেকে।
অনুষ্ঠানের সেই যে চমক আজকে হারিয়ে গিয়েছে
বেসুরো ওই গানগুলো আজ বলে বন্ধ করো
নাচের অনুষ্ঠান দেখে লোকে চোখ বুজে শুধু রয় ।
নাটক করার টানে আমি যেতাম যেথায় ছুটে
তাঁহার সেথায় না থাকাতে হৃদয় গিয়েছে ভেঙ্গে ।
কবিতার নাম: আনন্দ আশ্রম
কবির নাম: দেবব্রত মাজী
তেপান্তরের মাঠের শেষে
আমার বন্ধুর ঘর,
ছোট্ট কুটিরে থাকে সেথায়
লাগবে নাকো পর।
যা কিছু আমি দেবো তোমায়
আদর করে নিও,
অতিথি আমি তোমার ঘরে
আপন ভেবে দিও।
হাঁস মুরগি বেড়ায় ঘুরে
তোমার আঙিনাতে,
ভয় নাইকো তাতে আমার
দেবো খাবার খেতে।
পেয়ারা গাছ আছে উঠোনে
পাক ধরেছে পেয়ারাতে,
মাথায় পড়লে ভয় পাবোনা
পাখিরাতো আসবেই খেতে।
আঙিনা তোমার আছে ঘেরা
সবুজ ঘাসে ভরা,
প্রকৃতির মাঝে থাকো তুমি
হয়না তুলনা করা।
কবিতার নাম: অগ্রদূত।
কবির নাম: শান্তি দাস।
যে শিশু জন্মেছিল মায়ের কোলে অনাদরে,
ভুমিষ্ঠ হতেই হারালো তার মাকে ভাগ্যের ফেরে।
কে দেবে আশ্রয় পিতার মতো পিতা যদি না হয়,
ভাগ্য কি তাকে দেবে উচ্চ শিখরে পৌঁছেতে।
জীবনের পথ প্রদর্শক হিসেবে দেখাবে সঠিক পথ,
নব অগ্রদূত উদয় পাশে দাঁড়ায় বট বৃক্ষের মতো।
পিতার মতো মায়া মমতায় জড়ালো হৃদয়ে,
পিতৃ মাতৃহীণ যারা তাদের পাশে দাড়ানো তার কাজ।
নব উদ্যোগে নতুন উদ্যাণ সৃষ্ঠি করে অনাথ শিশুদের জন্য ।
ওদের পথ প্রদর্শক হিসেবে তদারকি করে থাকেন সর্বক্ষণ।
বটের ছায়াতলে আশ্রয় দিয়ে ওদের পাশে দাঁড়ায় ,
আনাথ শিশুদেরকে জায়গা করে হৃদয়ে স্থান দিতে।
ভাগ্য ফিরিয়ে দিতে কোথা থেকে এসে আপন করে নেয়,
নতুন জীবন দানের অগ্রদূত তিনি ওদের পিতা মাতাসম।
পথ প্রদর্শক নির্দেশনা দানে তিনি ওদের ভগবান,
অনাথ শিশুদের লালন পালন করে নতুন জীবন দানের অগ্রদূত ।
কবিতার নাম: কলম।
কবির নাম: রিপন সিংহ।
জানিস পিয়া তুমি যে আমাকে, একখানা কলম দিয়েছিলে
মনে আসে তোমার সেই কথা? -- " একুশ বছরে " !
কবিতা লেখার জন্য দিয়েছিলে,
আমি পাতার পর পাতা লেখতাম
হঠাৎ তোমার সেই কলমের কালি শেষ হয়ে যায়
আমি না ফেলে, যত্নে রেখেছিলাম।
প্রতিদিন সেই খালি কলমটাকে দেখে, আমি পুরো পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতাম
হৃদয়ে, রক্তে, স্বপ্নে, প্রতি নিঃশ্বাসে
তোমাকে নিয়ে ভাবতাম।
জানিস পিয়া, তোমার দেওয়া সেই কলমটা অজান্তেই হারিয়ে গেছে আজ
আমি বহু খুঁজেছি, পথে, ঘাটে, শহরে
এমনকি নক্ষত্রেও ! কোথাও পেলাম না; সন্ধ্যা হল আজ
তোমার দেওয়া সেই কলমটার মতো দেখতে,
শহরের প্রতিটা দোকানে খুঁজেছি
খুঁজতে খুঁজতে সন্ধ্যা হয়ে আসে, কিন্তু হুবহু তোমার মতো পাইনি।
জানিস পিয়া, মনে হয় সেই কলমটা হারায়নি
কেউ চুরি করে নিয়েছে, হয়তো সেটা আমি জানি।
কবিতার নাম: বিজয়।
কবির নাম: শংকর কুমার ঘোষ।
জিততে এসেছি - হারতে নয় ,
বাঁচতে এসেছি - মরতে নয় ।
আমার লক্ষ্যে অবিচল আমি
সেখানে নেই কোনো সংশয় ।
চলার পথে যখন আসবে ঝঞ্ঝা
আসবে প্রবল ঝড় ,
বিশ্বাস আছে পাবো পরিত্রাণ
যেহেতু মানি আমি ঈশ্বর ।
সততার সাথে ঘর করি তাই ,
বিপদ আমার কাছে এসে
বাঁধতে পারে না ঠাঁই
।
যাত্রার পথে যদি রক্ত ঝরে —
জানবো কোনো ঈঙ্গিত আছে
তার অক্ষরে অক্ষরে ।
ঈশ্বর আমি মানি —
তাই এ তাঁরই প্রেরিত মহা সতর্ক বাণী ।
তাকে মান্যতা দিয়ে————
সেখানে একটু থেমে
আবার এগিয়ে
যাবো -
জানি আমি তারপর
প্রশস্ত পথ পাবো ।
অবশেষে যেদিন এমনি ভাবে
দুর্গম শৃঙ্গ করবো
জয় ,
বলব সেদিন —
জিততে এসেছি - হারতে নয় ।
বাঁচতে এসেছি - মরতে নয় ।
গল্পের নাম: বাতাসে বারুদের গন্ধ।
লেখক: সামসুজ জামান।
আমার পাগল সুবর্ণ,
বাতাসে বারুদের গন্ধ ভেসে আসে।! আমি ঘুমের মাঝে আঁতকে উঠি। এমন তো হবার কথা
নয়। এই ঘরে আমি ছাড়া দ্বিতীয় প্রাণী নেই তাহলে কি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হল?
বিছানা ছেড়ে সারাঘর ঘুরে বেড়াই। সুইচ অন করি দুটো ঘরেরই। ডাইনিং স্পেসের আলো
জ্বালি। বাথরুমে পরীক্ষা করে দেখি বিদ্যুতের পোড়া গন্ধ ওখানে তো নয়? তাহলে এই
পোড়া গন্ধ রোজ রোজ আসে কেন আসে কেন? আর আসেই বা কোথা থেকে?
আসলে সুবর্ণ জানো, আমি অনেক চিকিৎসা করিয়েছি। তোমার অদৃশ্য উপস্থিতি আমার সারা
ঘরে ছড়ানো। এ ঘরের প্রত্যেকটা অনুতে পরমাণু তে তুমি ঘুরে বেড়াও সুবর্ণ। তুমি
কি আমার কাছে থাকো? দেখো, আমি তো এত চিকিৎসা করালাম। কতজন আমায় পরামর্শ দিলেন
মনোবিদ এর পরামর্শ নিতে। তাই শেষ পর্যন্ত আমি তো ডক্টর অনিল চ্যাটার্জীর কাছেও
ছুটে গেলাম। তাঁর মত সুপ্রসিদ্ধ মনোবিদ পাওয়া খুব দুষ্কর ব্যাপার। তিনিও তো
আমার সাথে কথা বললেন। আমার বাড়ির লোকেদের তিনিতো জানিয়েছেন যে আমি কোন অসুস্থ
অবস্থায়ই নেই।
কিন্তু জানো সুবর্ণ, ঘরের মধ্যে আমি যখনই থাকি তখন আমি শুধু তোমারই ছায়া দেখি।
চোখটা একটু বন্ধ করলেও আজও আমি প্রতি মুহূর্তে তোমার অস্তিত্ব টের পাই।
বিছানায় মাঝে মাঝে হাঁতড়ে দেখি আমার মন তো বলে পরিষ্কার তুমি আমার পাশে শুয়ে
আছো। কিন্তু বিশ্বাস করো সুবর্ণ, তৌঋঋৎঋআমি অন্ধকারে তোমাকে স্পর্শ করার জন্য
হাত পর্যন্ত বাড়াই। কিন্তু কিছুই খুঁজে পাইনা। সুবর্ণ, আমার চোখ ফেটে জল আসে।
আমি একথা কাকে কিভাবে বলব বলো তো? তুমি কি আমায় একটু বোঝো না? তুমি কি এখনো
সেই অবিশ্বাস মনের মধ্যে ভরে রেখে দিয়েছে সুবর্ণ? আমি কি করলে বাঁচব বলতো একটু
সুস্থ হয়ে?
এর মানে কিন্তু অপব্যাখ্যা করোনা। এর মানে আমি এটা বোঝাতে চাইনি যে তোমাকে আমি
ভুলতে চাইছি। তোমাকে ভুলে আমি বাঁচবো কিভাবে বলতো? তুমি সেদিন তো সম্পূর্ণ
অভিমান নিয়ে চলে গেলে আমার কাছ থেকে। তুমি কি সত্যিই জানো না. আমি তোমায়
কতখানি ভালবাসতাম? সুবর্ণ, যেদিন কলেজে নবীনবরণে তোমায় প্রথম দেখেছিলাম সেদিনই
তো আমি জানতে পারলাম যে তুমি আমার প্রতি কতখানি আকৃষ্ট ছিলে? যখন আমি ব্যাপারটা
বুঝতে পারলাম আমি মনে করার চেষ্টা করলাম আমি কি তোমায় এর আগে কোনদিন কলেজের
ক্যান্টিনে অথবা ছাত্রসংসদ হলে দেখেছি? আমার মন বলল আমি দেখিনি। কিন্তু আমি
অবাক হলাম, দেখলাম. তুমি আমার নাড়ি-নক্ষত্র, প্রতিটা চালচলন অদ্ভুতভাবে যেন
মুখস্ত করে নিয়েছো। আমি অবাক হলাম। লজ্জা পেলাম। কিন্তু অবাক হলাম এইজন্যে যে
একটা ছেলে আমার মত এরকম একটা মেয়েকে এভাবে ভালোবেসেছে? সেই দিনই আমি নিজেকে
তোমার প্রতি সমর্পণ না করে পারিনি সুবর্ণ। তবুও পরের দিন তুমি যখন ক্যান্টিনের
টেবিলের নিচে দিয়ে আমার হাতটা ধরার জন্য হাতটা বাড়িয়ে ছিলে আমি নিজেকে
সরিয়ে নিয়েছিলাম সে তো একটা নারীর সাধারণ লজ্জায়। আবার তুমি নিজেকে কী
অদ্ভুতভাবে সংবরণ করে নিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলে যখন বারবার, তখন আমার নিজেকেই
ধিক্কার দিতে ইচ্ছে যাচ্ছিল। আমার মনে হচ্ছিল কি জানো, মনে হচ্ছিল হাত ধরে নয়,
তোমাকে জড়িয়ে ধরে তোমার কপালে একটা আলতো চুমু দিলেও আমার মনের আশা এক কণাও
মিটবে না। সুবর্ণ, তুমি বিশ্বাস করো, আমার ইচ্ছেটা আমার মনের ভেতরটা কুড়ে
ফেললেও আমি তা পারিনি, কারণ আমি একেবারেই সেই মানসিকতার ছিলাম না। শুধু সেই
মনোভাবের জন্য আমি নিজেকে অনেক কষ্ট করে ধরে রেখেছিলাম।কিন্তু আমার মন প্রাণ.
আমার শরীরের প্রত্যেকটা অনু-পরমানু তোমাকে সেই দিনই আমি দিয়ে দিয়েছিলাম
সুবর্ণ!
সুবর্ণ, এই দেখো তোমার যে ছবিটা আমার বেডরুমের শো কেসে উপস্থিত থেকে সব সময়
আমার সাথে কথা বলে, তাকে নিয়ে আমি যে বুকের মধ্যে চেপে রেখেছি। তুমি বুঝতে
পারছ সুবর্ণ, তুমি এই অনুভূতি টের পাচ্ছো? আমার উষ্ণতা তোমাকে কি একটুও ছুঁতে
পারছে না সুবর্ণ? তুমি সত্যি বলতো, তুমি আছো কিনা আমার পাশে পাশে? আর তুমি যদি
দুষ্টুমি করে বল যে, আমার পাশে নেই, সে কথাটা কি আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্যবাদিও যদি আমার পাশে দাঁড়িয়ে এই কথা বলে তা হলেও
মেনে নেব না। আসলে তারা দেখবে কিভাবে বল তো? তোমাকে তো আমি রেখে দিয়েছি আমার
হৃদয়ের কন্দরে কন্দরে। সেই অন্তস্থলের গোপন কথাটা জেনে নেয় কার সাধ্য? তোমার
মনে পড়ে সুবর্ণ যেদিন তুমি সত্যিই আমায় ছাড়লে না, জোর করে একটা গান গাইতে
বাধ্য করালে, সেদিন সকলের উপস্থিতিতে আমি তোমার উদ্দেশ্যেই গেয়েছিলাম রবীন্দ্র
নাথের সেই ভালবাসার গান -- 'ও যে মানে না মানা। আঁখি ফিরাইলে বলে না না না'।
তুমি সেদিন পড়তে পেরে ছিলে তো সুবর্ণ আমার মনের না বলা বাণীর সেই অনুরণন?
তোমাকে আপ্লুত করতে পেরেছিল তো সেদিনের আমার মনের অব্যক্ত হাহাকার? আমার ভিতরটা
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া সেই যন্ত্রণার অনুভূতি ছুঁতে পেরেছিল তোমায়?
সুবর্ণ, যেদিন তুমি সেনাবাহিনীতে যোগদানের খবর দিয়ে আমার কোলের কাছে নামিয়ে
দিলে একরাশ লাল গোলাপ, সেদিন আমি মেলাতে পারছিলাম না তোমার দুটো অনুভূতিকে।
একজন সেনা হিসেবে ইউনিফর্মে তোমার ছবির কল্পনা করে আমার মনে হচ্ছিল যে এটা
আমাদের ভালবাসার পথের বাধা হয়ে দাঁড়াবে কিনা! তখনই লাল গোলাপ গুলো যেন অন্য
অনুভূতি জাগিয়ে তুলে আমাকে আবার ভিজিয়ে দিচ্ছিল মনের ভেতর থেকে। আমি ভাবছিলাম
গোলাপের পাপড়ির মত তোমার মন সত্যিই কি পারবে তোমাকে তোমার কর্মস্থলে যোগ্য
উচ্চতায় পৌঁছে দিতে? আমি আসলে নানাভাবেই বুঝতে পারছিলাম তোমার মনটা একেবারেই
ফুলের পাপড়ির মত নরম।
তারপর তুমি আমাকে অনেক কাঁদিয়ে সেদিন চলে গেলে। গতবছরের প্রায় এই সময়। আজকের
এই সেনা দিবসের হিসেবে সঠিকভাবে বললে ১১ মাস ২২ দিন। তোমার পোস্টিং হলো
ভারত-চীন সীমান্তে। সুবর্ণ, আমরা কি এর আগে জানতাম এভাবে ভারত চীন সীমান্তের এত
খুঁটিনাটি? তুমি জানালে সীমান্তের কাছে দৌলত বেগের কথা। তুমি জানালে আলভি
সামরিক ঘাঁটির কথা। আমরা তোমার কাছ থেকেই জানতে পারলাম যে লাদাখের গাল ওয়ান
সীমান্ত চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত লাইন অফ কন্ট্রোল এর পাশাপাশি দু শো পঞ্চাণ্ন
কিলোমিটার সড়ক বানানোর কথা। সুবর্ণ তুমি তোমার কাজের অবসরে যখন আমায় জানাতে
যে এই সড়ক বানানোর ফলে লেহ থেকে দৌলতবেগ পৌঁছতে আগে দুদিন লাগতো কিন্তু এখন
নতুন রাস্তা ব্যবহারের ফলে মাত্র ছয় ঘন্টায় পৌঁছানো যাবে, তখন একজন ভারতীয়
হিসেবে আমাদের কত গর্ব হতো। আর তুমি সেই সীমান্ত প্রদেশে তোমার একনিষ্ঠ সেবা
দিয়ে আমাদের রাতের নিদ্রাকে কেমন অটুট রেখেছ!
কিন্তু সেদিন হঠাৎই তোমার সুরের মধ্যে কেমন চঞ্চলতা ছিল। তুমি সেদিন হঠাৎই বললে
আকসাই সীমান্ত চীন নিয়ন্ত্রিত হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে আছে অথচ এটা ভারতের
সীমান্ত থেকে মাত্র নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর ওখানেই কেমন যেন একটু বেশি
মাত্রায় উত্তেজনার ভাব। চীন এবং ভারত দুপক্ষের সেনাদের মধ্যেই অতিরিক্ত
সতর্কতামূলক প্রস্তুতি চলছে। সেদিন তোমার কথাবার্তা শুনে বুঝতে পারছিলাম
সুবর্ণ, তুমি অনেক কিছু গোপন করে যাচ্ছ। তোমার উত্তেজনা তুমি হয়তো ঠিক চেপে
রাখতে পারছিলে না। আমি তোমার কথা বলার ছন্দের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছিলাম একটা
লালবাতির সতর্কতার মতো চিহ্ন। আমার চোখ থেকে জল ঝরে পড়লেও আমি গলার মধ্যে
উত্তেজনা আনতে দিচ্ছিলাম না তবুও বোধহয় তুমি ধরে ফেললে সে উত্তেজনা। তুমি
আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলে যে ভারতের হাতে অতিরিক্ত আধুনিক এবং উন্নত মানের একশ
চারটে ক্ষেপণাস্ত্র আছে। আরো কত কি কথাবার্তা তুমি বলে যাচ্ছিলে কিন্তু আমি
বোধহয় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। ককিছুক্ষণ পর তুমি হঠাৎ আমাকে তোমার দেওয়া
সেই গোপন নাম ধরে ডেকে উঠলে। সুবর্ণ, কী ছিল তোমার গলায়? আমি আর নিজেকে ধরে
রাখতে পারলাম না। সেদিন আমি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিলাম। তারপর তুমি আমায় কত
আদর করলে। আমার সেল ফোনের মধ্যে সেদিন সুবর্ণ তোমার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি
পুরোমাত্রায় টের পেয়েছিলাম। আমি জানিনা এমন অবাস্তব ঘটনা মানুষের জীবনে কখনো
ঘটে কিনা! লোকে হয়তো বলবে এটা অলৌকিক কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম -- সুবর্ণ,
তুমি ষোলআনা আবির্ভূত হয়ে আমাকে সেদিন আদরে আদরে ভরিয়ে দিয়েছিলে। আমার চোখের
জল তুমিই তো মুছিয়ে দিয়েছিল সেদিন তোমার দুটো হাত দিয়ে। সত্যি করে বলতো
সুবর্ণ তুমি কি অস্বীকার করতে পারো সেদিনের সেই উপস্থিতির কথা?
আর পনেরোই জুনের কথা কি আর বলব বল তোমায়? টিভির সুইচ অন করলাম। টিভি
চ্যানেলে সংবাদ শুনতে গিয়ে আঁতকে উঠলাম। তখন বড় বড় অক্ষরে দেখানো হচ্ছিল
ভারত চীন সীমান্তের সেই আকসাই-এ ভারতীয় সেনাবাহিনীর পনেরো জনের শহীদ হওয়ার
খবর! জানো সুবর্ণ, আমি তখন ছুটে গিয়ে শোকেস থেকে তোমার ছবিটা তুলে আনতে গিয়েই
হঠাৎ হাত ফস্কে ছবিটা পড়ে গেল একেবারে মেঝেতে। আর সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে চুরমার
হয়ে গেল। জানো, আমি তখন উত্তেজনায় কাঁপছিলাম থর থর, থর থর করে। আর তখনই
সেলফোনটা বেজে উঠলো। তাকিয়ে দেখি তোমার মায়ের ফোন। মা ফোন করে কোনো কথা বলতে
পারছেন না শুধু কাঁদছেন। হাউমাউ করে শুধু হাহাকার ধ্বনিই শোনা যাচ্ছে,কোন কথা
নয়। মায়ের এভাবে কান্নায় ভেঙে পড়ার কারণটা তখন আমার কাছে আর বিন্দুমাত্র
অস্পষ্ট নয়।
সুবর্ণ আজ তো সেনা দিবস। দেশজুড়ে সেনাদের জয়গান গাওয়া হচ্ছে। কত বড় বড়
ভাষণ দেয়া হচ্ছে সেনাদের জয়ধ্বনী দিয়ে। দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী
সেনাদের উদ্বুদ্ধ করে কত ভালো-মন্দ স্তোক বাক্য দিচ্ছেন। কিন্তু সুবর্ণ এসবের
বাইরে তুমি শুনতে পাচ্ছ কি আজকের দিনে মায়ের প্রাণ ছেড়া সেই আর্তনাদের শব্দ?
সুবর্ণ, তুমি দেখতে পাচ্ছো, এই হতভাগিনীর বুক ফাটা আফসোসের আর হা-হুতাশ এর
ছবিটা!
জানো সুবর্ণ, আমি পরদিন মায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মা আমাকে বুকে
জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে কিযে বলেছিলেন সে কথা আমি বলে বোঝাতে পারবো না তবে
তিনি আমায় অনুমতি দিয়েছেন যখনই আমার ইচ্ছে আমি তার কাছে যেতে পারি। আর সেই
দিনই আমি আমার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি সুবর্ণ।
ইদানিং একটা সমস্যা হয়েছে আমার। জানো. সব সময় আমি বাতাসে বারুদের গন্ধ পাই।
কিছুতেই সে গন্ধ আমায় ছাড়ে না। আমার শয়নে,স্বপনে, জাগরণে সেই বারুদের গন্ধ
আমার ভিতরের সবকিছু কুড়ে কুড়ে খেয়ে নিতে চায় সুবর্ণ। আর ইদানিং আমার মুখের
ভাষা হারিয়ে গেছে। কথা বলতে আমার একেবারেই ইচ্ছে করে না। আজকে তোমায় লিখে
জানাচ্ছি তাই এই খোলা চিঠিতে। আমার মনের জমানো অনেক দুঃখ বেদনার কাহিনী --- খুব
পরম ভক্ত যেমনভাবে ঠাকুর দেবতার কাছে নিজের মনের পরম শ্রদ্ধা বিশ্বাসের অঞ্জলি
দেয়, ঠিক সেইরকম ভাবে তোমাকে উজাড় করে দিলাম সুবর্ণ আমার মনের না বলা কত কথা
এই খোলা চিঠিতে। আমার এই খোলা চিঠির প্রত্যেকটা কথা ভগবান কি তোমার কাছে পৌঁছে
দেবে না? দেবে, দেবে, নিশ্চয়ই দেবে। এটুকু পবিত্র বিশ্বাস আমার অন্তত আছেই। আর
আজ এই সেনা দিবসে চোখের জলে চিঠিখানি লিখে তোমাকে আর একবার প্রণাম করে আমি
পাকাপাকিভাবে মায়ের কাছে চলে যাচ্ছি ; তুমি যেন আমায় ফিরিয়ে দিও না সুবর্ণ!
চোখ ভরা জল আর বুকভরা ভালবাসা রইল তোমার জন্যে। ইতি ---
।। তোমার আদরের রূপালি।।
কবিতার নাম: বিদায়।
কবির নাম: গোরাচাঁদ পাল।
আজকে মায়ের বিদায় বরণ
দুঃখ ভেজা মন,
প্রদীপ সাথে ধূপ চন্দন
শেষ বরণের ক্ষণ।
একটু মিষ্টি একটু পেড়া...
দিয়ে মায়ের মুখে,
প্রবীণ পাতা নববধূরা
বরণ নবীন পাতে।
নবীন হয়ে এসেছিল
এই জগতের কূলে,
বছরগুলো পেরিয়ে যাচ্ছে
কেমন কালে কালে।
আলতা পায়ে সিঁদুর মাথায়...
চললে মাগো দূরে,
আমরা সবাই থাকবো মাগো
দুঃখ ভরা সুখে।
আজকে মায়ের বিদায় বরণ
পূর্ণ হবার আহবানে,
প্রানের মাঝে রইলে মাগো
নিত্য দিনের সন্ধানে।
মাগো তুমি থাকবে মাগো
বুকের মাঝে রইবে গাঁথা,
তোমার জন্য হৃদয় জুড়ে
ভালোবাসার আসন পাতা।
ছড়া: খুকুর পুতুল।
কবির নাম: দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়।
খুকুর পুতুল কুট্টুসটা
পেট টিপলেই কেঁদে ওঠে
পিঠের ওপর চাপ দিলে
খিলখিলিয়ে হেসেই ফেলে।
খুকু বলে কিনে আনো অন্য
যে পুতুল কথা বলে হেসে।
অবশেষে এলো এক টিয়ে
খুকুর কথা নকল করে।
উত্তর কিছু দেয় না মোটে।
খুকু তখন বেজায় কাঁদে।।
কান্না শুনে সবাই অবাক
কি পেলেই যে বায়না ভোলে
বাবার কোলে আদর খেয়ে
মোবাইলটা পকেট থেকে
তুলে নিয়েই বায়না ভোলে।।
ছড়া: রেলগাড়ি।
কবির নাম: সঞ্জয় ব্যানার্জী।
জানালার ধারে বসে আছি।
স্মৃতির ঘটনা যায় পিছনে সরে।
রেলগাড়ি ছোটে গন্তব্যের দিকে।
চোখে নেমে আসে ঘুম।
জল,জল,পানি পানি
হকারের চিৎকারে।
ঘুম ভাঙে,জল কিনি,তন্দ্রা যায় ছুটে।
রেলগাড়ি ছুটে চলে গন্তব্যের দিকে।
আমি তাকিয়ে জানালার দিকে--
উদাস চোখে।
কবিতার নাম: কালোছায়া।
কবির নাম: আলমগীর।
অভিশাপ দিওনা গো তুমি যেন মোরে
সারা জীবন থাকিতে পারিলাম না
তোমারি তরে ।
ভেবেছিলাম তোমার সাথে
আমি থাকিব আজীবন;
মোদের অফুরন্ত ভালোবাসার মায়া
ভাঙিতে পারিবে না,
কেউ তো
কখন।
কতই না ভালোবেসে ছিল
তোমারে এ মন,
সাক্ষী হয়ে রয়ে গেল
আকাশ পাতাল পাহাড় পর্বত বন।
আমাদের জীবন অনড় ছিল
নদীর প্রবাহের মতো;
সন্ধ্যার কালো ছায়ার মোহ
ছিন্ন করে দিল মোদের বাঁধন ।
তবুও তোমায় ভালোবাসি আমি
দূর সমুদ্রের তীরে বসে;
খুনসুটি ভালোবাসা রয়ে যাবে
মোদের স্মৃতিচারণে ।
অভিশাপ দিওনা গো তুমি যেন মোরে
সারাটি জীবন থাকিতে পারিলাম না
তোমারি তরে ।
কবিতার নাম: গোধূলি লগণ।
কবির নাম: নিতাই শর্মা।
সূর্য অস্ত যায়নি রয়েছে পশ্চিম দিগন্তে,
সন্ধা হয়নি মৃদু আলো পড়ছে ভূমিতে।
ক্লান্ত পাখিরা ফিরছে নিজ নীড় পানে,
বিশ্বকর্মারা দিনের শেষে ফিরছে ভবনে।
রাখাল গরুর পাল নিয়ে ছুটছে গৃহেতে,
ধূলো উড়ে গরুর পায়ের খুরের আঘাতে।
অস্তগামী সূর্যের ধূসর আলো পড়ে ধূলোতে,
এক অপরূপ বর্ণচ্ছটার সৃষ্টি হয় আলোতে।
সাহিত্যের বর্ণনায় সমকালকে গোধূলি বলে,
আজো পঞ্জিকার লগ্ন ছাড়া বিবাহ চলে।
গোধূলির বিপরীতে সূর্যোদয়ের কাল প্রভাত,
গোধূলির পরে সন্ধা আর সন্ধার পর হয় রাত।

