পরিচয় শিশু সাহিত্য | অষ্টম সংখ্যা | প্রকাশ ৫ই অক্টোবর ২০২৩

পরিচয় শিশু সাহিত্য 

অষ্টম সংখ্যা
প্রকাশ: ৫ই অক্টোবর ২০২৩ | সকাল ৭টা

পরিচয় শিশু সাহিত্য | অষ্টম সংখ্যা | প্রকাশ ৫ই অক্টোবর ২০২৩


কবিতার নাম:- গান্ধী।

কবির নাম:- মহা রফিক শেখ।

সাদাসিধে সরলমতি
 মোহনদাস গান্ধী,
 ইংরেজের রোষানলে
   হলে কারা বন্দী।

সাদাসিধে - বুদ্ধিমান
 মোহনদাস গান্ধী,
ইংরেজদের প্রলোভনে
 করেনি তো সন্ধি।

সাদাসিধে- সাহসী
 মোহনদাস গান্ধী,
 ভেঙে দিলে নিমেষে
ইংরেজের ফন্দি।

সাদাসিধে - বেপরোয়া
 মোহনদাস গান্ধী,
 স্বাধীনতা আনতে
পথ দেখায় "ডান্ডি"

কবিতার নাম:- "ঘনকাল"।

কবির নাম:- তন্ময় ঘোষ।

আসিয়াছে প্রাক বর্ষা
বাংলা মায়ের কোলে
ঝরিছে বারি ধারা
অবিরত রাত্রি-দিনে।।

নিঝুম বর্ষণে বর্ষে 
গর্জে উঠে আল্লাদ
পুলকে ভরে নদ
খাল-বিল- নালা।।

জেলেদের খাটা খাঁটি
জালে জড়ায় নবকাঠি
মাছেদের সু-দিন
মিঠে জলে পাড়ে ডিম।।

ব্যাঙেদের হাঁটা-হাঁটি
মক-মক ধ্বনির পরিপাটি
মেঘে মেঘে ছয়লাপ
গান গাই কৃষক ভাই।।

The Magical Brazilian.

 Sanjoy Banerjee.

Pele,You are no more 
You are the magical football star. 
You are the greatest and best footballer. 
Your good name--
Edson Arantes do Nascimento.
You are the only Super Star footballer to win the World Cup three times. 

Pele,You are no more 
Pele dies,a magical Brazilian Football era ends. 

Name of the poem:- Our current autumn.

Poet Name:- Pritam Ghosh

Bengalis of our country;
The smell of autumn brings joy.
Kas flower garden
And blue sky.
But now that smell
No more
The smell of that puja is, No more.
Just by the river, 
It really feels like autumn.

Poem Name:- My Pal

Poet Name:- Bapi Nag

    He is the most caring
    most loved
    most trusted
    most trusted
    most hopeful
    the bravest
    most pleasant
    The most valuable asset…

    he is my friend
    Who is with me forever
    Every odd and step
    Each difficult level
    In this whole world
    I consider myself most fortunate
    To find such a special herd
    My forever best friend...

কবিতার নাম:- বর্ষারানি।

কবির নাম:- শুভব্রত ব্যানার্জি।

গরম শেষ বিদায় নিলে গ্রীষ্ম
বৃষ্টি এসে তৃপ্তি দিলো বিশ্ব।
আষাঢ় শ্রাবণ বর্ষারানির খেলা
চারিদিকে সবুজ রঙের মেলা।
চাষের মাটি ফাটে প্রবল তাপে
বাদল ঝরতে নরম করে ধাপে।
চাষির মনে জাগে নতুন আশা
মাঠের তরে চলে ছেড়ে বাসা।
খাল বিল নদী পুকুর ছিলো শুষ্ক
গরম মোদের মেজাজ করে রুক্ষ।
বর্ষা আসতে জলে গেলো ভরে
দিনে রাতে জিমূত ঝরে পরে।
চারিদিকে পথে ঘাটে কাদা
চলতে ফিরতে নোংরা যে হয় সাদা।
মাঠে মাঠে কচি ধানের চারা
সবুজ বসন দেখি আমরা সারা।
গাছে গাছে প্রাণ সে ফিরে আসে
মানুষ সকল তৃপ্তিতে সে হাসে।
খেলা করে বৃষ্টির সাথে রবি
উষ্ণ শীতল পরিবেশের ছবি।
বর্ষা রানির কৃপার পরে ঋণী
আমরা তাহার রূপকে ভালো চিনি।
অশনি তার চপলা সাথ ভবে
বাদল ধারায় প্লাবন করে তবে।
ভেসে চলে আলয় বাহন সবে
মানুষ তখন উচ্চে কাঁদে রবে।
বাড়ি ফসল সব হয়ে যায় মাটি
জীবন তখন অস্থিরতার ঘাঁটি।
বর্ষা রানির অশুভ সে দৃষ্টি
হরণ করে প্রকৃতির সেই সৃষ্টি।
তাহার ওপর অভিমানের পালা
তিনি তখন নয় আমাদের বালা।
শ্রাবণ মাসের অবিরাম সে ধারা
চাষির কাছে তাহা যেন খাঁড়া।

কলম এখন তীক্ষ্ণ কবির হাতে
বন্ধু তিনি বর্ষারানির সাথে।
সকাল বিকেল লেখেন শুধু তিনি
আমরা সবাই তাহার কাছে ঋণী।
সুরে কথা বলে মাঝি তালে
নদীর মাঝে হাওয়া লাগে পালে।
জেলেরা সব ইলিশ ধরে মেতে
ভালো লাগে বাদল দিনে খেতে।
বাদল ধারার রানি তুমি বর্ষা
চিরকালের তুমি মোদের ভর্সা।

কবিতার নাম:- আমি বসন্তের কোকিল।

কবির নাম:- মিহির সেন।

দেখতে আমি হয়তো কালো
নেইকো কোন রূপ,
রং দেখে কেউ ঘৃণা করো
তবু থাকি চুপ।

বসন্তের দূত আমি 
কোকিল নামে খ‍্যাত,
অলস দুপুর মাতিয়ে রাখি
তাই আদর এত।

হয়তো বাসা বাঁধতে নারি
কর্মে একটু কুড়ে,
বসন্তকালে আপন হই
অন‍্য সময় দূরে।

মানুষ বড় স্বার্থবাদী
প্রয়োজনে রাখে মনে,
গান শুনিয়ে বন্ধু হই
ব‍্যর্থ হতাশ জনে।

বর্ষা জলে ভিজি আমি 
শীতে কাঁপি ঠক্ ঠক্,
সবসময় চুপ থাকি
 করি নাকো বক বক।

বসন্তে সবার পড়ে মনে
গাছের পানে চায়,
মন ভোলানো কুহু শব্দ
কখন শুনতে পায়।

আমি অমৃতা চক্রবর্তী। পরিচয় শিশু সাহিত্য
শিল্পী: অমৃতা চক্রবর্তী।

কবিতার নাম:- আগমনী।

কবির নাম:- পূর্ণা গাঙ্গুলী ।

জাগো দুর্গা, জাগো মা..
জাগো দশপ্রহরণধারিণী,জাগো জগন্মাতা,বিশ্ব জননী..
জাগ্রত করো মনুষ্যত্ব,
দয়া, মায়া, করুণা, ভালোবাসা !
দূর করো পাপ এ বিশ্ব হতে,
আনো ধৈর্য্য, সহনশীলতা..
সবার মাঝারে !
করো মনকে উদার সকলের,
আনো সহমর্মিতায় পরিপূর্ণতা!
দারিদ্র্য,অশিক্ষা দূর করো মা,
আনো সমতা মানুষে মানুষে !
হিংসা হানাহানি বিদ্বেষ দূর করে,
আনো ভাতৃত্ববোধ সবার মাঝারে ।।

কবিতার নাম:- দেবের দেবী।

কবির নাম:- উদয় নারায়ণ বাগ।

তুমি ছিলে মাটি তখন আমি ছিলাম প্রভু,
বাহির থেকে তোমায় তুলে এনে ছিলাম কভু। 
শিল্পী হয়ে হাতে মেড়ে লেই করিলাম আমি, 
তখন আমি তোমার থেকে ছিলাম বড়ো দামি। 
পায়ের নিচে হেলায় ফেলে দিলাম কত দলা,
এবার আমি তোমায় নিয়ে করি পথে চলা।
ছাঁচ করিলাম খড় মিশিয়ে কঙ্কাল রূপ পেলে, 
তার উপরে ভেজা মণ্ড দিলাম আমি মেলে। 
কদিন তোমায় রেখে দিলাম ভাঙা চালার নিচে, 
তখনও তো মাটি তুমি পুতুল ছিলে মিছে। 
রঙ করিলাম সারা দেহে দিলাম তোমায় আঁখি, 
এবার তোমায় যত্নে তুলে ঘরের মাঝে রাখি। 
শাঁখ বাজিয়ে ফুলের মালা তোমার দিলাম গলে,
চরণ দুটি ধুয়ে দিলাম গঙ্গা-নদীর জলে। 
আজকে তুমি দেবের দেবী আমি চরণ তলে, 
ভক্তি দিয়ে মাথার উপর রাখি আপন বলে। 
স্নেহের পরশ দাও গো মাতা আমি আজই ভক্ত, 
আশিস দিয়ে সারা জগৎ করো তুমি শক্ত। 
তাইতো বলি মাটি সোনা মাটি হলো মাতা,
মাটির কোলে বসত করে মহান অন্নদাতা।

কবিতার নাম:- রেলগাড়ি।

কবির নাম:- দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়।

রেলগাড়ি স্যাটা সাট
বৃষ্টি ফোঁটা পটাপট
জলে ভিজে টপাটপ
হাঁটাচলা ছপাছপ।

কামরা গুলো ছুটছে জোরে
এঁকেবেঁকে দূর পাহাড়ে,
তাকিয়ে থাকি পাহাড় চুড়ে
 মেঘ ধরবো এক দৌড়ে

রেলগাড়ি ঝিকঝিক চলে
হেসে খেলে কথা বলে
পৌঁছে গেল স্টেশন ঘুম 
পড়লো তাড়া নামার ধুম।।

কবিতার নাম:- কাঠবেড়ালী।

কবিতার নাম:- শান্তি দাস।

তুলতুলে শরীর পশমে ভরা, 
গায়ে কালচে আঁকা ডোরা। 
নাচতে নাচতে পেয়ারা ডালে, 
খাচ্ছে আনন্দে কাঠ বেড়ালে। 

দুধারে চোয়ালে ধারারো দাঁতে, 
পাকা পেয়ারা খাচ্ছে খুঁটে খুঁটে। 
এদিক ওদিক ফিরে তাকায়
ঘাড় ঘুড়িয়ে উল্টো বাঁকায়। 

মনের সুখে বসে আরাম করে
গাছের ডালে হাতে পেয়ারা ধরে। 
পেয়ারাটা পুরোটাই তো খেলে, 
ভোজনটা ও বেশ সেরে নিলে।

পেয়ারা খেয়ে লেজ গুটিয়ে
হঠাৎ কাউকে দেখে ছটফটিয়ে
আবার উঁকি মারে আরো আছে! 
দেখলো ঝুলছে আরো গাছে। 

আরেকটি আবার দেখতে পেয়ে
এক লাফেতে ঠিক বসলো গিয়ে। 
কাঠবেড়ালী, লেজটি বেজায় বেশি,
পেয়ারা পেলে মনটা থাকে খুব খুশি।


গল্পের নাম:- বাঁশ বাগানের আলো।

লেখক:- বিমল চন্দ্র পাল।

হাওড়া -কাটোয়া রেলপথে মেরতলা পালেয়া রেল স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে ৪ কিমি পথ চলার পর চিকুলিয়া বাসস্ট্যাণ্ড । সেখান থেকে ডান দিকে প্রায় দুই কিমি রাবিস ফেলা রাস্তায় চললে চিকুলিয়া গ্রাম পাওয়া যায়। জন সংখ্যা আগে ৫০-৬০ ঘর থাকলেও বর্তমানে আছে মাত্র ১০ ঘর। এক সময়ে যাতায়াতের খুব অসুবিধা ছিল। এঁটেল মাটির কাঁচা রাস্তায় বছরের বেশির ভাগ সময় পায়ে হাঁটা ছাড়া যাতায়াতের অন্য কোনো সুযোগ ছিল না। আশির দশকের প্রথম দিক থেকে কিছুটা উন্নতি সুরু হয়ে বর্তমানে সব রকম যানবাহন চলাচলের মতন ব্যবস্হা হয়েছে। রাস্তার দক্ষিণ পাশে বিশাল বাঁশ বাগান। বাগানের ভিতরে রাস্তা থেকে সামান্য দূরে বেশ বড় একটা জলাভূমি। বামদিকে অনেকটা ঘন জঙ্গল এলাকা। এক সময় এগুলো এক জমিদারের সম্পত্তি ছিল। বর্তমানে তাদের বংশ ধরেরা বাইরে থাকায় এখন ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

এই গ্রামের সাহসী রত্ন ছেলে মানিক কাঠি। কলকাতায় একটা বড় বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করে। এই গ্রাম থেকে কলকাতায় আর কেউই বড় একটা যায় না।

সেদিনটা ছিল ভাদ্র মাসের অমাবস্যা। সেদিন কলকাতা থেকে ফেরার পথে হাওড়া লাইনে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তিন ঘণ্টা গাড়ি চলাচল বন্ধ। রাত প্রায় ১টায় মানিক মেরতলায় পৌঁছে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল। পাকা রাস্তা থেকে গ্রামের পথে বাঁশ বাগানের পাশ দিয়ে যেতেই মানিক শুনতে পেল কে যেন একজন রাস্তার পাশে শুয়ে গোঙাচ্ছে। মাঝে মাঝে শুধু
ভু----- ভু-----ভু-- করছে। মানিক সাইকেল থেকে নেমে মোবাইলের আলোয় ভালো করে দেখে বুঝলো এতো দুলাল কাকা। সে নিজের ব্যাগের ভিতর থেকে জলের বোতল বের করে দুলাল কাকার চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিতেই সে একটু ধাতস্থ হল । ঠিক সেই সময় তাদের পাড়ারই রতন লেট নামে একটি ছেলে তার টোটো নিয়ে সেখানে হাজির। রতন পাশের গ্রামের এক পরিবারকে নিমন্ত্রণ খাওয়ার পর তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এখন বাড়ি ফিরছে। মানিক আর রতন মিলে দুলাল কাকাকে টোটোয় তুলে বাড়িতে পৌছে দিল। তখনও তার মুখ থেকে মাঝে মাঝে ভু-----ভু----ভু------ শব্দ বেড় হচ্ছে। 

মানিক তার সাইকেলটা বাড়িতে রেখে আবার সেখানে এলো। এরই মধ্যে পাড়ার সবাই সেখানে হাজির। দুলাল আরও একটু সুস্হ হলে মানিক তাকে ধীরে ধীরে বলল,' কী হয়েছিল কাকা?' দুলাল ধীরে ধীরে বলতে লাগলো,' স্টেশনের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলাম। বাঁশ বাগানের কাছে আসতেই জলাভূমির ওখানে
দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠলো। আবার একটু পড়েই নিভেও গেল। ঠিক তখনই একটু ঝড় উঠল। বাঁশ বাগানে শকুনের ডাকের মত শব্দ হতে থাকলো ।আরও নানা রকম শব্দ কানে এলো। মনে হল যেন কী একটা দেখলাম। তারপর অজ্ঞান হয়ে কখন যেন পড়ে রইলাম তা আর মনে নেই। বলেই সে চোখ বড় বড় করে সকলের দিকে একবার তাকালো। দুলাল কাকার কথা শুনে সবাই ভয়ে কাঁপতে লাগলো। বয়ষ্কদের মুখ দিয়েও নানা কথা ভেসে এলো। অনেকদিন আগেও কেউ কেউ এমন আলো দেখেছে। তাইতো ভুতের ভয়ে অনেকেই গ্রাম ছাড়া হয়েছে।
ভয়ে শিশুরা কেউ কেঁদেই ফেলল।

মানিক বলল,'কাকা তুমি মানুষের মতো বিকৃত কোনো মুর্তি কিছু দেখেছো?' দুলাল বলল,' না তেমন কিছু দেখিনি।' মানিক বলল,'দেখুন এটা কোনো ভুত-প্রেত-অপদেবতার খেলা নয়। এটা প্রাকৃতিক রাসায়নিক খেলা মাত্র। মার্স নামক 
এক ধরণের গ্যাস প্রাকৃতিক জলাভূমির পঁচা পাক মাটিতে তৈরী হয়। গ্যাসটি বাতাসে মিললেই আগুন জ্বলে যায়। যতক্ষণ গ্যাস অবশিষ্ট থাকে ততক্ষণ আলো জ্বলে। গ্যাস ফুরিয়ে গেলে আগুন নিভে যায়। আগুন নিভে গেলে কিছু অবশিষ্ট পড়ে থাকে না। একটু পড়েই আর এক জায়গায় আবার একই ভাবে আগুন জ্বলে উঠতে পারে।
এর সাথে ভৌতিক কোনো ব্যাপার নেই। ঝড়ের ফলে হাওয়ার কারণে কিছু শব্দ সৃষ্টি হয়। আবার বাঁশে বাঁশে ঘসাঘসিতেও নানা রকম শব্দ কানে আসে। এর ফলে আলো দেখে ভয় পাওয়া মন আরও নানা রকম শব্দ শুনতে পায়, এবং আরও ভীতু হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। দুলাল কাকার তাই হয়েছে। তোমরা সমস্ত ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছ তো ?


মানিক বলল,' একটা কথা বলি সবাই শোন। এটা মনে রাখবে যে ভুত--প্রেত বলে কিছু হয়না। এগুলো হল প্রকৃতির কিছু খেলা। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় গুলোকে কিছু খারাপ লোক নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য নানা ভাবে ব্যবহার করে। বিষয় গুলো যারা জানেনা তারা ভুত-প্রেত মনে করে ভীত হয়ে কষ্ট পায়। অনেক সময় ছোট বেলায় দাদু/দিদা, ঠাকুরমা / ঠাকুরদা বা পাড়ার অন্য কেউ শিশুদের ভুতের গল্প বলে।তাতে শিশুদের মনে ভুত সম্পর্কে একটা ধারণা জন্মে যায়। এই ধারণা তাদের সারা জীবন সক্রিয় থাকে । তাই ভুতের গল্প শোনানোর সময় তার অস্তিত্বের বিরুদ্ধেই বলতে হবে। তবেই ধীরে ধীরে তাকে কাটানো যাবে।তোমাদের আর কোনো ভয় আছে? সকলে বলে উঠল,' না না আর কোনো ভয় নেই। 'চলুন সবাই যার যার বাড়ি যাই।

কবিতার নাম:- মা এসেছে।

কবির নাম:- তাপস কুমার বর।

মা এসেছে, বছর পরে
খুশির জোয়ার-ই বইছে।
কাশ ফুলেতে, বাতাস লেগে
কানে কানে কি বলছে?

মা,তুমি আমার মা,
মা,তুমি সবার দুগ্গা মা।।

ঢাকে কাঁঠি,বাজছে দেখো
শারদীয়ার-ই সুরে।
মা আমার মঙ্গলময়ী, 
এসেছো আমাদের মর্তে।

মা,তুমি আমার মা,
মা,তুমি সবার দুগ্গা মা।।

অর্ঘ্য ডালা,সাজিয়েছি,
বরণ করে নেবো মা-কে। 
মা এসেছে,মোদের ঘরে
ডাক-রে আমার সকল ভাই-কে।

মা,তুমি আমার মা,
মা,তুমি সবার দুগ্গা মা।।

বলো, দুগ্গা মা কি? জয়।।

সাজবে ঘরের,আলপনাতে
পূজোর থালা ঘরে সাজিয়ে।
মা গো তুমি,রক্ষা করো
সকল বিপদ থেকে সবাই-কে।

মা,তুমি আমার মা,
মা,তুমি সবার দুগ্গা মা।।

কবিতার নাম:- ভালোবাসার নেইকো বয়স।

কবিতার নাম:- দেবব্রত মাজী।

   বাড়ুক দেখতে বয়স যত
        ছোট্ট রাখবে মনে,
  ভালোবাসা শুধু দিয়ে যাবে 
         সদা নিজ মননে।
 বিফলে যাবে না ভালোবাসা
         বেঁধে রাখবে সদা,
   লালন পালন ঠিক করলে
         মজবুত হবে পদা।

কবিতার নাম:- ছোট্ট খুকি।

কবির নাম:- দীপক রঞ্জন কর।

ছোট্ট খুকি যায় স্কুলে 
দাদার হাতটা ধরে 
দাদার মত মস্ত হবে 
লেখা পড়া করে ।
দেশ-বিদেশ দেখবে খুকি
 বিমান রেলে চড়ে
 মা'র মত থাকবে না সে
কেবল রান্না ঘরে।
স্কুল কলেজে পড়ে খুকি 
দেশের কাজ করবে 
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সে 
স্বপ্নের দেশ গড়বে।

কবিতার নাম:- বিপিন খুড়ো।

কবির নাম:- বিবেকানন্দ মাইতি।

পাড়ার মোড়ল বিপিন খুড়ো
সবাই বলে --' মোড়ল বুড়ো'
ধুতি -পাঞ্জাবি, চোখে চশমা
কখনো বা ফতোয়া-পাজামা ।
সবেতেই তিনি ভীষণ সৌখিন
সাদা পাকা চুলে খুব প্রাচীন
কথা -বার্তায় একটু মেজাজী
খাওয়ার টেবিলে চাই যে সুজি
রাখ ঢাক নাই শুধু খাই খাই
লুচি বা হালুয়া ,মন্ডা --মিঠাই ।

মোড়ল মশাই-- গ্রামের মাথা
সোজাসাপ্টা বলেন সব কথা
গলার জোর খুব বেশি তার
হোক না তা বিচার - আচার ৷
যুক্তি-তর্কে ,কভু হার না মানে
কথার প্যাঁচ খুব ভালো জানে
খুব সহজেই করে রাতকে দিন
সত্যকে নয় খুব মিথ্যা কঠিন
এরাই আনবে গ্রামের সুদিন
ঝড়- ঝাপটা কাটিয়ে দুর্দিন ৷

কবিতার নাম:- বিকেল।

কবির নাম:- সুশান্ত সেন।

রোদে সব ভাজা ভাজা
তার ওপর বড়ই সাজা
ভাত'টা মনের মত ফুটছে না।
এদিকে কখন দেখি
দমাদম পড়লো ঢেঁকি
কানেতে শব্দ কেন আসছে না।
এল কি গগন ভেদি
বোশেখের মর্ম ছেড়ি
দাপুটে ঝড়ে ঘেরা বিকেল টা।
তালগাছ বেজায় নড়ে
টপাটপ শিল ও পড়ে
তবুও হলো না ত আক্কেলটা।
এখন ত ভাবছি বসে
কতক্ষন কোমর কসে
বাগানে দৌড়ে যাবো কুড়াতে আম
তারপর আয়েস করে
নুন আর লঙ্কা জরে
পুরিয়ে নিতেই হবে মনস্কাম।

গল্পের নাম:- হীরের আংটি।

লেখক:- গোরাচাঁদ পাল।

সান্যাল বাবু... ও সান্যাল বাবু, বাড়ি আছেন নাকি।
এত ভর দুপুরে কে এলো আবার, 
আসছি আসছি.....
সান্যাল বাবু তার বিছানা ছেড়ে বেরিয়ে এসে দরজা খুলে
 দিলেন। একি কমলেশ বাবু যে, এত দুপুরে আপনি হটাৎ,
 কিছু হয়েছে কি... কোনো সমস্যা। কমলেশ বাবু বলেন
 ভিতরে প্রবেশ করতে বলবেন নাকি এখানেই দাড়িয়ে
 দাড়িয়ে বলবো, সান্যাল বাবু বললেন না না আসুন
 আসুন বাড়ির ভিতরে আসুন, আমি রামু কে বলছি চা
 আনতে সেটা পান করে আপনি নিশ্চিন্তে বলুন। এই রামু
 দুটো গরম চা নিয়ে আয় তো, 
হ্যাঁ বাবু এখুনি আসছি আমি, একটু অপেক্ষা করুন আমি
 জলদি জলদি নিয়ে আসছি।
ইতিমধ্যে রামু চা দিয়ে যায়, সান্যাল বাবু বললেন বলুন
 আপনার সমস্যা টা কী? আর বলবেন না আমার একটা
 দামি জিনিস চুরি হয়ে গেছে।
কী বলছেন আপনি এই সব ?
হ্যাঁ আমি ঠিকই বলছি, আজ থাকে কুড়ি বছর আগে মনে
 যখন আমার বিয়ের কথা বার্তা চলছিল, সেই সময়
 আশীর্বাদের দিন আমার শাশুড়ি মা আমাকে একটা
 হীরের আংটি দিয়েছিলেন। সেটা আমি যত্ন করে কুড় বছর ধরে রাখলাম, আমার বউ এখন তারা বাবার বাড়ি
 গেছে, এসে যদি দেখে আংটিটা নেই তাহলে তো
 আমাকে আসতো রাখবে না, সব থেকে বড় বেপার এত
 দামী জিনিস খুব খারাপ লাগছে, এখনও আমি পুলিশ
 কমপ্লেন করিনি, আপনি তো একজন বড় নাম করা
 গোয়েন্দা তাই আগে আপনার কাছে এলাম, আপনি এর
 কিছু একটা ব্যাবস্থা করুন মশাই, নাহলে আমি যে
 বউয়ের হতে মারা পড়বো। সান্যাল বললেন পুলিশ এ
 কমপ্লেন করেননি ভালো করেছেন, নাহলে তো চোর রা
 সতর্ক হয়ে যাবে, আমি দেখছি কি করা যায়। তবে
 আপনার আংটি টার দাম কত হবে।

এটা অনেক আগেকার তখন এটার দাম ছিল ওই নব্বই
 হাজার -এর মতো মনে এখন কার দিনে এটার দাম হবে
 প্রায় এক লক্ষ - র কাছাকাছি।
আচ্ছা বাবু আপনি তো বললেন এটা চুরি হয়েছে, আপনি
 বুঝলেন কি করে। 
আসলে আমি দুপুর বেলা রেস্ট নিচ্ছিলাম তখন আমার
 চোখ টা একটু লেগে এলো অমনি আমার বাথরুম এর
 দিক থেকে একটা কাঁচ ভাঙার আওয়াজ এলো, আমি
 তাড়াতাড়ি সেখানে গিয়ে দেখি জানলার কাঁচ ভাঙ্গা নিচে
 পড়ে আছে, ওখান দিয়ে হয়তো চোর টা পালিয়েছে। 
তখন আমার নজর গেল আমার হাত টার দিকে দেখলাম
 আমার হাতের আংটি নেই, খাওয়ার আগে সেটা আমার
 হাতে ছিল কিন্তু এখন নেয় তাই তো আপনার কাছে ছুটে
 এলাম। 
সান্যাল বাবু বললেন, আরে মশাই আপনি কি আমার
 সাথে মজা করছেন। 
কেনো আমি আবার কী মজা করলাম?
মজা নাহলে এটা কী? চোর কে দেখলেন বাথরুম এ,
 আর আপনি আছেন নিজের রুম এ, সেখান থেকে
 আপনার আংটিটা কিভাবে নেবে আপনার আঙ্গুল থেকে
 ছাড়িয়ে, তখন তো আপনি টের পাবেন। কিন্তু সেই রকম
 কোনো ঘটনা ঘটেনি। আগে বলুন ত আপনার বাড়িতে
 আর আপনি ছাড়া আর কে কে থাকে। আমার স্ত্রী, আর
 একটা পোষা বেড়াল জার নাম 'মুনি'। 
ও এখন বাড়িতে আছে? 
না মশাই আমি যখন ঘর থেকে বের হয় তখন কিন্তু তাকে
 দেখতে পাইনি।
দেখুন গা আনার বেড়াল টা হয়তো এই কাজ টা করেছে।
 দুষ্টুমি করতে গিয়ে ভেঙে গেছে তাই পালিয়েছে। 
আপনি বললেন খাওয়ার আগে ছিলো সেটা আপনার
 হাতে। যখন খাচ্ছিলেন তখনও ছিল কী?
কমলেশ বললেন হ্যাঁ ছিলো তো তখন সেটা আমার
 হাতেই ছিল। তার পর কি যে হলো...।
আপনি যেখানে হাত ধোয়েন মনে ওয়াশ রুম এর নিচটা
 মিস্ত্রি দিয়ে খোদাই করুন, দেখবেন আপনার জল যাবার
 পাইপ এর মধ্যে সেটা আটকে পড়ে আছে। টা ছাড়া এটা
 কোথাও যাবার নয়। পাইপে না পেলে যেখানে জল জমা
 হয় সেখানে পাবেন, হাত ধোয়ার সময় হয়তো ভুলবশত
 খুলে পরেগেছে। 
আচ্ছা মশাই আমি আপনাকে বিকেলের মধ্যে জানাচ্ছি
 পেলাম কিনা। আমি আসি তাহলে এখন.....
হ্যাঁ হ্যাঁ যান, ভালো করে যাবেন। আর ফোন করতে
 ভুলবেন না যেন।
আচ্ছা ঠিক আছে।
কমলেশ বাবু বাতি থেকে যাবার পর সান্যাল বাবু
 বিরক্তিকর ভাব নিয়ে বললেন...
  কোথা থেকে আসে এইসব মানুষজন কোন লজিক নেই
 কিছু নেই চোর চোর বললেই হল। আমার দুপুরের ঘুমটা
 একেবারে নষ্ট করে দিলো...।

কবিতার নাম:- শরতে...

কবির নাম:- তপন মাইতি।

মিহিন রোদে কে রাঙালো 
এমন চমক রঙে 
শিউলি ফুল ঘুম ভাঙালো 
শারদীয়া ঢঙে।

কাশের বনে ঢেউ তুলেছে 
পেঁজা মেঘের ভেলা 
হীমেল সন্ধ্যায় মন ভুলেছে 
জাদুকরী খেলা।

এখন দেখি নীলের গায়ে 
কে ছেটালো কালো?
বৃষ্টি যেন ভেজার দায়ে 
মন জ্বেলেছে আলো। 

ফোটে যখন পদ্ম পাঁকে 
পুজো পুজো হাওয়া
শরৎ যেন ছবি আঁকে 
খুশির ঝিনুক পাওয়া।

কবিতার নাম:- অমেরুদণ্ডী।

কবির নাম:- বিবেক পাল।

যে সকল কবি সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীগণ
মেধা মননের চর্চায় একপেশে স্বার্থপর ,
তাঁদের মেরুদন্ড গচ্ছিত দুর্যোধনের কাছে 
এ চরম সত্য সকলেই জানে !

শব্দ শ্রমিকের সামাজিক দায়িত্ব পালনে তাঁরা ব্যর্থ ,
প্রাচুর্য্যের হাতছানিতে দিশেহারা শব্দের কারিগরেরা 
ব্যর্থ , হিম রাত্রির অবসানের গুরু-দায়িত্ব পালনে ,
কালের নিয়মে ওদের হবে ঠাঁই আস্তাকুঁড়েতে ।
 
যারা পথ চলে গ্রীষ্ম হতে বসন্তে 
শিড়দাঁড়া টানটান রেখে , মানুষকে ভালবেসে ,
তাদের আঙিনায় রাষ্ট্রের অনুচরদের
সজাগ দৃষ্টি সদা-সর্বক্ষণ ।

এই শ্রাবণের ভিজে বাতাসে
পাখিদের ডানায় ভর দিয়ে নতুন বার্তা 
বয়ে আনে গোধূলির রাঙা আকাশ ,
মহাকালের অমোঘ নিয়মে ঈশাণ কোণে মেঘ জমে ।

বোকা-বুড়োর পাহাড় কাটা নতুন পথে
নতুন ভোরের আলোর ধ্বনিতে ,
মন প্রাণ জুড়ে অদ্ভুত ভালোলাগা 
আগামী পাখিদের কলতানে হবে মুখরিত ।

🔹️ ই- সম্মাননা পত্র ডাউনলোড করুন - Click Now
🔸️ লেখা ও শিল্পকলা পাঠান - Click Now
🔹️ হোয়াটসঅ্যাপ পরিবারের যুক্ত হন - Click Now
🔸️ ফেসবুক পরিবারের যুক্ত হন- Click Now




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)