|। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।|
।। ২৭তম সংখ্যা ।।
📢 প্রকাশ:
- বাংলা: ২০ই মাঘ ১৪৩০
- ইংরেজী: ০৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৪
- বার: রবিবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
✒️ লিখেছেন:
হাতির বোধোদয়
মহা রফিক শেখ
হাতির বোধোদয়
মহা রফিক শেখ
পিঁপড়ে বলে হাতিকে,
শোন মোর কথা,
মাড়িয়ে যাস মোদের
পাস মনে ব্যথা?
তাই শুনে হাতির-
ধাক্কা লাগে "ব্রেনে",
হাঁটাহাঁটি ছেড়ে দিয়ে
চলে এখন "ক্রেনে"।
ছোট্ট সোনামণি
বাপী নাগ
ছোট্ট সোনা তুমি আমার
মিষ্টি চাঁদের কণা।
তোমায় আমি ভালোবাসি
তুমি তো প্রেরণা।
তোমার মুখে ওই দুষ্টু হাসি
দেখতে ভালোবাসি।
তোমার টানে যে বারে বারে
আমি কাছে আসি।
ওই সুন্দর মুখে যে তোমার
ছোট্ট দুটি আঁখি।
তোমায় দেখে মন ভরে না
তাই তোমায় দেখি।
ফোকলা দাতে মিষ্টি হাসি
নেই তোমার জুড়ি।
তুমি যে আমার সোনামণি
ছোট যে রাজপরী।
বড় হয়ে মানুষ হবে পূরণ
হবে কত যে স্বপ্ন।
তুমিই আমাদের আদরের
হীরের টুকরো রত্ন।
আর অবাক ব্যাপার কি জানিস! গ্রামের লোকেও ভেবেছিল ও হয়তো আমার সাথেই পালিয়ে গেছে। গ্রামে আমাকে অনেক রকম ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই মেয়েটার পালিয়ে যাওয়াতে আমাকে অনেক অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। মেয়েটার সাথে আমার অনেক ভালো বন্ধুত্ব ছিল কিন্তু তারপরেও, ও একবারের জন্যেও আমাকে ওর ভালোবাসার কথা জানায়নি। ওর বাবা-মাও আমাকে অনেক ভরসা করত। কিন্তু গ্রামে ফিরে যেদিন জানতে পারলাম ও পালিয়েছে, সেদিনকে বুঝতে পারলাম আমার প্রতি ভালোবাসা তো দূরের কথা, ওর বিন্দুমাত্র বন্ধুত্বের ভরসা টুকুও ছিল না।
০১ থেকে ৩০ পর্ব পড়ুন
পড়ুন: https://pratilipi.page.link/
নতুন বই
গোলাপ মাহমুদ সৌরভ
আজ অনন্ত বড্ড খুশি
পেয়েছে নতুন বই,
নতুন বছর নতুন ক্লাস
কিযে আনন্দ সই।
মায়ের কাছে পড়তে বসি
নতুন বইয়ের পড়া,
কবি গোলাপ মাহমুদ এর
মজার মজার ছড়া।
আমরা যে হব নতুন কুড়িঁ
করবো বিশ্ব জয়,
গড়বো মোরা নতুন সমাজ
সকলেই যেন কয়।
একদিন আমি বড়ো হবো
রাখবো দেশের মান,
সত্যিকারের মানুষ হবো
অর্জন করে জ্ঞান।
শিশুর চোখে পৃথ্বী
সুদীপ্ত দে
ছিলেম যখন জঠরে সবই ছিল স্তব্ধ
আঁধার ছিলো চারিধারে সলিল স্রোতে মগ্ন।
আলোর আশা জেগেছিলো বুজিনি সে ডাক ওরে
গোপন ছিলো অখিল বিশ্ব মুদিত নয়ন মাঝে।
সময় শেষে প্রকাশ আমার নতুন প্রাতে নয়ন মেলা
কিরণ রাশি বাজায় বীণা তরুণ দিবাকরে।
উষার প্রাতে ভৈরবী আজ নতুন সুরে বাঁধা
প্রভাত বেলায় কূজন মধুর দিনের স্তুতি গাওয়া।
এই ধরণী মধুর আজ শৈশবের চোখে
প্রভাত বেলায় সকল খেলা সুহৃদ জনের সাথে।
ঋতু সঙ্গে রঙ্গ আজ নানান বিভঙ্গে
নানান খেলা শিখিয়ে যায় প্রকৃতি আপনা হতে।
জীবন বলে কতো কথা অভিজ্ঞতায় ভরা
সময় সাথে সমান তালে জীবন গড়ে ওঠা।
সূর্য শেষে বিদায় নেয় দিনের পূজা নিয়ে
বিদায় শেষে ছড়িয়ে যায় সোনার কিরণ দিগন্তে।
গোধূলি খেলে লুকোচুরি সাঁঝ দিবসের সাথে
ঝড়ে পরে ফুলের দল দিবসে যে ফোটে।
সাঁঝের বেলায় শশীকলা গগন জুড়ে হাসে
ক্লান্ত দুই নয়ন মাঝে স্বপ্ন মুদে আসে।
এই ধরণী মধুর রূপে শৈশবে আসে
হৃদয় জুড়ে অলীক মায়া কল্পনাতে ভাসে।
খুকুর দোলনা
দেবব্রত মাজী
খুকুমণি ধরেছে বায়না
লাগে তার দোলনা,
মাথায় হাত বাবার
করতে পারেনা মানা।
হাতে নেই পয়সা
তাইতো চিন্তা মাথায়,
লাগবে অনেক টাকা
ধার পাবে কোথায়?
লাগাবে দোলনা কোথায়
সেই চিন্তায় মগ্ন,
টালির ঘর পুরনো
তাই আড়কাঠটা রুগ্ন।
উঠানে পেয়ারা গাছ
হবেনা মন্দ লাগালে,
লাগলো দোলনা সেখানে
খুশিতে খুকুমণি দোলে।
কান
সুপ্রিয়া গঙ্গোপাধ্যায়
কানে যদি যায় কথা
মাথা ভাবে তা;
এমন এক সে বাণ
কভু ফিরে না ।
ভালো কথায় সবাই বশ,
প্রাপ্তি ভালোবাসাই;
মন্দ উক্তি বিষ ছড়ায়,
ঘৃণা কেবল পাই।
কান দিয়ে শুনি কথা
জেগে থাকি যবে;
কানে তালা লেগে যায়,
টানা কটু রবে!
কাকে কান নিয়ে যায়,
_ মিথ্যে সে জানি;
(সে) মজাদার কথা নিয়ে
হয় কানাকানি।
উস্কানী দিয়ে লোকে
করে কান ভারী;
দেওয়ালেরও কান আছে,
(তা) জানা দরকারী।
দুকান কাটার নাকি
নেই কোনও লজ্জা!
চেঁচামেচিতে কানের পোকা
বেরোয়; ছাড়ি শয্যা।
কান নিয়ে আরও কথা
থাকে যদি জানা,
লিখে ফেলো তাড়াতাড়ি,
_ দিলাম ঠিকানা।।
অঙ্কন
|
| শিল্পীর নাম: সিমিকা বৈরাগ্য |
দামাল ছেলে
দীপক রঞ্জন কর
দামাল ছেলে কামাল করে,
বন বাদারে পাখি ধরে।
ঝোপঝাড়ে বাঁশের ঝাড়ে
পাখির বাসা তালাশ করে।
ধরে আনে টিয়া ময়না
নানান পাখি ধরার বায়না।
দামাল ছেলে রাত দুপুরে
পানকৌড়ি খোঁজে পানাপুকুরে।
কেটে যাওয়া ঘুড়ি ধরা
মাঝির নৌকায় পাল ধরা।
জেলের সাথে জাল ধরা
কৃষকের সাথে হাল ধরা।
বুলবুলির বাসার ছানা
আঁধার রাতে তোলে আনা।
রাত-বেরাতেও ঝুঁকি নেয়
দামাল ছেলে সামাল দেয়।।
রাত্রি হয়ে গেল, বাবু আসার আগে শ্যামলী মেয়েটাকে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে। শ্যামলী বলল, এই লাল বাড়িতে আজ পর্যন্ত কোন মেয়ে এরকম পাগলামি করেনি! তারপর বলল এই মেয়ে তোর নাম কিরে? তোর নামটা তো জানাই হয়নি। মেয়েটা বলল আমার নাম চুমকি.......
পড়ুন: https://pratilipi.page.link/
ঘুষ
অধীর কুমার রায়
শুনছো তুমি হাবুর বাবা
উত্তর পাড়ার গদাই।
ভীষন ভালো চাকরি করে
হাসি খুশি সদাই।
হাতা হাতা ঘুষ খায়
তবু কেমন কাবু।
ঘুষ খেয়ে কি পেট ভরে না
সে কি শুধুই সাবু?
শোন তুমি হাবুর মা
এমন খাবার ঘুষ।
যতো খাবে ততো খিদে
মনে হয়না খুশ।
রাতের বেলা ঘুম হয়না
ভয় করে যে মনে।
তবু ঘুষ খেতে হবে
মনে থাকে বেশ।
শহরটা বড়ই নিষ্ঠুর
আলমগীর
আমি ভালোবেসে ফেলেছি
এই শহরটাকে
নিবিড় ভাবে আঁকড়ে
বেঁচে থাকতে চেয়েছি যুগ যুগ ধরে।
তবুও যেন সে আমাকে
দূরে সরিয়ে দিতে চাই,
চাই পর করিতে
সারা জীবনের মতো।
জানিনা কেন আমি তাকে
ভালোবাসার মোহ দিয়ে
আপন করে নিতে পারলাম না?
আমার কী কোন
ভালোবাসার কমতি ছিল
তাও বুঝতে পারলাম না
আজীবন ভালোবেসে?
আমি তো তাকে
প্রাণীর চেয়েও বেশি
ভালোবেসেছি!
আমি সারা জীবন
তারই বক্ষে থাকতে চেয়েছি
একটি ছোট্ট ধূলিকণার মতো
বাতাসে ভেসে ।
কিন্তু আমাকে ঠাঁই দিলো না
আপন করে বুঝতে চাইলো না
দূরে সরিয়ে দিল
নিষ্ঠুর পাষাণীর মতো।
Michael Madhusudan
Anup Kumar Jana
In the well-decorated garden of the sea-beard
Madhu poet blossomed,
Very extraordinary in knowledge and intelligence
Dawn in the literary world!
Leaving Hinduism and entering Christianity
The father abandoned the son.
In the vast erudition in English literature
Focus on the head!
Rebecca came as a life partner
Do not last long,
Anrieta was there for the rest of her life
The heart is seated in French.
Finally returned to Bengali literature
Poetry, drama, farce;
'If you are born you must die' - this is the truth
Eternal in every life.
The King of the King of Bengali Sonnets,
Amitrakshara is the hero of rhythm;
'Meghnadvadh Kavya' in the literary world
Bearer of indomitable height!
বই মেলা
আফরিনা সুলতানা ঈশিতা
ওহে শিশু,নবীন, প্রবীণ
বই মেলাতে যাবে?
সেথায় আছে হরেক রকম বই
মন মতো সব পাবে।
বাংলাদেশের ঢাকা জেলার
শাহবাগের টি এস সি এর পাশে,
ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান
বই মেলা বসেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
ভুতের থেকে শুরু করে
কৌতুক, রোমাঞ্চকর সব বই,
গল্প,প্রবন্ধ,উপন্যাসের মেলা
যাহা ইচ্ছে তাহা কিনে লই।
ফেব্রুয়ারি ভাষার মাসে
বই মেলা বসে,
একমাস জুড়ে বইয়ের মেলা
কিনবে বই ভালোবেসে।
অঙ্কন
|
| শিল্পীর নাম: অমৃতা চক্রবর্তী। |
ছোট্টুর দুষ্টুমি
নাসরিন বানু
একটি ছিল শিশু
নাম তার ছোট্টু
লোকে তারে বলে শুধু
আয়না কাছে একটু।
তোকে নিয়ে খেলতে যেন
লাগছে ভারি মজা
তাই মনে হয় বুঝি।
আমরা সবাই প্রজা।
এমনই একটি শিশু
অবাক করে দেয়,
লোকে দেখে তারে
করে হায় হায়।
বুদ্ধি যেন তার
এক অসীম আকাশ,
তাইতো তার কোনো মোরা
পাই না অবকাশ।
আধো আধো কথা
অর্ধস্ফুর্ত দাঁতে,
মেতে থাকে মাতিয়ে রাখে
পাড়া পড়শিতে।
দুরন্তের অঞ্চলতার উদ্দীপনায়
হঠাৎ সেই ছোট্টু
পাশের গলির ড্রেনে,
সমগ্র পাড়া নিস্তব্ধ নিশ্চুপ
শুধু হাহাকার করুণাতি
ছোট্টু ছোট্টু ছোট্টু।
উফ্! বড্ড ভারী
সঞ্জয় বৈরাগ্য
বড্ড ভারী স্কুল ব্যাগটা
ভর্ত্তি তাতে বই,
দিন-রাত্রি পড়া আর পড়া
খেলার সময় কই ?
ইংরাজী, অঙ্ক, বিজ্ঞান
আর বাংলা, ইতিহাস
সকাল-সন্ধ্যা পড়ার জ্বালায়
প্রাণ করে হাঁসফাঁস।
মা-বাবা শুধু বকেই চলেন
ফার্স্ট হওয়া চাই
নইলে নাকি ঠকতে হবে
ভবিষ্যৎ-এ ভাই।
কর্তব্য
গোবিন্দ মোদক
আজ চল ফুল হয়ে
ফুটি গাছে,
ছোটো-বড়ো যতো সব
কুঁড়ি আছে!
ফুটে ফুটে করি আলো
দশ দিক,
চমকায় গাছ যেন
ঝিকিমিক!
সেই সাথে সুবাসটা
ছুটে যাক,
মউ-মাছি প্রজাপতি
মধু খাক!
জীবনের জয় মালা
গাঁথা হোক,
ভুলে যাক যতো ব্যথা
যতো শোক!!
শীতের মজা
মিহির সেন
পৌষ পার্বণ পিঠে পুলি
সকাল থেকে সন্ধ্যে,
সারা পাড়া মাতোয়ারা
নলেন গুড়ের গন্ধে।
ঠান্ডা বাতাস মন উচাটন
নানা পোশাক পরে,
উৎসব মুখর গ্রাম গঞ্জ
জন মানুষের ভীড়ে।
ভোজন রসিক চেয়ে থাকে
শীতের প্রহর বেলা,
নানান স্বাদের পিঠে পুলি
জমে ওঠে মেলা।
বাড়ি বাড়ি অতিথি আপ্যায়ন
কিংবা প্রিয়জন,
ঠাণ্ডা মরশুম পিঠে পায়েস
এলাহি আয়োজন।
পিঠের গন্ধ জানান দেয়
শীত এসেছে বঙ্গে,
বারো মাসে তের পার্বণ
আছি বেশ রঙ্গে।
শ্রেষ্ঠ ভারত বাসি
ইয়াহইয়া আহমেদ মাঝারভূইয়া
আমরা গর্বিত আমরা ভারতীয়
ভারত আমার জন্মভূমি,
পুষ্পিত সবুজের ছায়া ঘিরে
শোভিত উদ্যান চুমি।।
এই পৃথিবীর মাঝে আছে
মোদের ভারত ঘরে,
আজ স্বাধীনতায় গর্বিত
তেরঙ্গা শাড়ি পরে।।
উদ্যম গিরি কান্তার মরু
শ্রেষ্ঠ ভারত সেরা,
ধরাধামে শ্রেষ্ঠ ভারত বাসি
সবুজের বুকে ঘেরা।।
হে ভারত তুমি আমার
প্রাণের চেয়ে প্রিয়,
তোমার তরে কতই রক্ত
বহে যায় জেনে নিও।।
রক্ত সাগর বহিছে ভুবনে
তব সন্তানের বুকে,
বীর শহীদদের কারণে ভাই
আছি কতই সুখে।।
এ মহাবিশ্বের মাঝে শ্রেষ্ঠ
মোদের ভারত ভূমি,
আমি গর্বিত আমি ভারতীয়
ভারত আমার জন্মভূমি।।
হিন্দু মুসলিম শিখ ও ইসাই
সবি আমরা ভাই ভাই,
হিংসা বিবাদ ভুলে সবাই
হে আমরা শান্তি চাই ।।
বৃদ্ধা
শুভব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
হাঁটতে অপারক সে তাহার দু'পায়ে
শীতের বসন নেই তার দেখি গায়ে,
হিমেল বাতাসে কাঁপে বার্ধক্যের অঙ্গ
একটা শায়া ব্লাউজ তাহার যে সঙ্গ।
স্টেশনেতে থাকে বুড়ি নিজে একা একা
প্রতিদিন ভোরবেলা তার সাথে দেখা।
রোদে পোড়া কালো দেহ অগছালো কেশ,
কুবেরের ধন ছিলো আছে তার রেশ।
পথে পথে বসে থাকে খোঁজে যেন কিছু
পাগলিনী বলে তারে খ্যাপায় তো পিছু।
সাতখানা বাড়ি ছিলো ডেকে বলে সবে
জুয়াতে হারালো স্বামী সব কিছু তবে।
সব দেনা শোধ করে ভিক্ষা করে আজ
রাণীর মতন তার হারিয়েছে সাজ।
ছেলে মেয়ে যারা ছিলো সব গেল ছেড়ে
সম্বল যেটুকু ছিলো তারা নিল কেড়ে।
বয়সের ভারে তার দেহে নেই বল
জীবন বিপাকে তার ভাগ্যের সে কল।
ভিক্ষা করে মেলে যাহা খেতে দুটি পায়
ঈশ্বর শিয়রে তার দিলো এই রায়।
লাগে মনে ভারি ব্যথা দেখে তার মায়া
গরিব দুখীর তরে দেয় বুড়ি ছায়া।
কেউ খেতে নাই পেলে ছোটে তার কাছে
তুলে দেয় খাদ্য সে যাহা তার আছে।
স্পষ্ট কথা বলে বুড়ি দিয়ে তিনি যুক্তি
গরিবেরা পায় তবে তার তরে মুক্তি।
মা বলে ডাকে সবাই পায় যারা সুখ
অসহায় মায়াময় সেই চেনা মুখ।
প্রণাম জানাই তবে ওগো বুড়ি মাতা
তুমি হলে গরিবের মায়ের সে ছাতা।
বৈচিত্র্যময় বিশ্ব
রবিন রায়
আমার শিশু মন,
ভেবে না পায়-
প্রকৃতির বিবর্তন আবেশে !
মনোযোগ নিবেশে -
পাই যোগাযোগ,
পৃথিবীর আবর্তনে মিশে।
আমি অবাক হই,
যখন দেখি আকাশে -
সূর্য ওঠে ভেসে ;
বিস্ময়ে চেয়ে রই,
আঁধার ভুবন কেমনে -
আলোকে ওঠে হেসে।
সেই গগনে আবার -
মেঘের খেলা মেলায়,
বৃষ্টিধারা নেমে আসে;
ভেজা মাটি ফুঁড়ে -
নতুন চারা গজায়,
চির আপণ অভ্যাসে ।
মাতৃ মৃত্তি রসে,
বেড়ে ওঠে ক্ষুদে-
আলোক বাতাসে ;
পুষ্প ধরে,
মধুতে মাতায়-
অলিকুলে সুবাসে।
প্রজাপতি ওড়ে-
ফুল হতে ফুলে,
ফুলকে ভালোবেসে ;
রঙিন ডানায়-
উড়তে চায় মন,
রংধনুর আকাশে।
দূরে ওই দেখি,
বরফ ঢাকা পর্বত,
আবছা প্রকাশে ;
শুনতে পাই,
তার বুকে ঝর্ণা -
খিলখিলিয়ে হাসে।
ঝর্ণা নামে -
আপন ধারায়,
গিরিরাজের পাদদেশে ;
উত্তর উচ্চ হতে,
দক্ষিণ নিম্নে-
সাগর মোহনায় মেশে।
নদীর চলার পথে-
হরিৎ ক্ষেত্র,
জনপদ বসবাসে ;
আশার অম্বু-
ডোবায় প্লাবনে,
উচ্ছ্বলতা দেবার বশে।
কোথাওবা রুক্ষ প্রকৃতি -
তীক্ষ্ণ ক্ষোভের দাহে,
বালুকা দেয় ঝলসে ;
সেই মরুতে চাঁদের -
স্নেহ জ্যোৎস্না,
প্রতিটি কণায় উদ্ভাসে।
আমারও শৈশব ভেঙে -
আসবে কৈশোর,
কৈশোর পরে বার্ধক্য শেষে ;
আমিও পরিবেশের -
প্রভাবে হই প্রভাবিত,
নেই যে কোনো পার্থক্য রেষে।
এই বিচিত্র বিশ্ব,
আমায় আকুল করে-
এতো বৈচিত্র্যের বিভাসে ;
ধন্য আমার এ নয়ন,
স্বার্থক এই জীবন,
মনোহর এ ধরাতে এসে।।
দেশের উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করা ড. বিধান চন্দ্র রায়
বেবি চক্রবর্ত্তী
ডক্টর বিধান চন্দ্র রায় বিশ্বাস করতেন যে, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ
নির্ধারণ করে। তাই তাদের উচিত ধর্মঘট ও অনশন ছেড়ে নিজেদের ও দেশের উন্নয়নের জন্য
কঠোর পরিশ্রম করা।
ডক্টর বিধান চন্দ্র রায় যখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন তখন রাজ্যের পরিস্থিতি খুবই
খারাপ ছিল। পশ্চিমবঙ্গ ছিল সাম্প্রদায়িক হিংসার কবলে। এর পাশাপাশি খাদ্য ঘাটতি,
বেকারত্ব এবং পূর্ব পাকিস্তান থেকে উদ্বাস্তুদের আগমনও উদ্বেগের কারণ ছিল।তিনি
কঠোর পরিশ্রম করে তিন বছরের মধ্যে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন এবং
অন্যান্য সমস্যাও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।বিধানচন্দ্র রায়ের ভারত রত্ন
ভারত সরকার বিধান চন্দ্র রায়ের অসামান্য অবদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১ সালে
দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘ভারত রত্ন’ দিয়ে তাকে সম্মানিত করে।১৯২৮ সালে
কংগ্রেস কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘাতের
রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখে সবার প্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯২৯ সালে তিনি দক্ষতার সাথে
বাংলায় আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালনা করেন এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে
নির্বাচিত হন। ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিকে বেআইনি ঘোষণা করে এবং ডঃ
বিধান চন্দ্র রায় সহ সকল সদস্যকে গ্রেফতার করে জেলে বন্দি করে। ১৯৩১ সালে ডান্ডি
মার্চের সময় কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অনেক সদস্য জেলে ছিল। তাই
কংগ্রেস পার্টি বিধানচন্দ্র রায়কে জেলের বাইরে থাকতে এবং কর্পোরেশনের কাজ
সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে বলে। বিধানচন্দ্র রায় কলকাতার মেয়র ১৯৩৩ সালে
বিধানচন্দ্র রায় কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তার
নেতৃত্বে কর্পোরেশন বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত রাস্তা, ভাল আলো এবং
ভাল জল বিতরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করে। ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়
প্রবন্ধ রচনা বিধানচন্দ্র রায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতার পর
কংগ্রেস পার্টি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের নাম
প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু তিনি চিকিৎসা পেশায় মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলেন। মহাত্মা
গান্ধী তাকে বোঝালে তিনি পদটি গ্রহণ করেন এবং ২৩ জানুয়ারী ১৯৪৮ সালে বাংলার
মুখ্যমন্ত্রী হন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে বিধানচন্দ্র রায়ের অবদান তিনি
চিকিৎসা শিক্ষা সংক্রান্ত অনেক প্রতিষ্ঠানে তার অবদান রেখে গিয়েছেন। বিধান চন্দ্র
রায় যাদবপুর টি.বি. হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন সেবা সদন, কমলা নেহেরু হাসপাতাল,
ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউট এবং চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপন করেন। ১৯২৬
সালে তিনি চিত্তরঞ্জন সেবা সদন স্থাপন করেন। প্রথমদিকে মহিলারা এখানে আসতে দ্বিধা
করলেও ডক্টর বিধান চন্দ্র রায় ও তাঁর দলের কঠোর পরিশ্রমে সকল সম্প্রদায়ের
মহিলারা এখানে আসতে শুরু করে। তিনি নার্সিং ও সমাজ সেবার জন্য নারী প্রশিক্ষণ
কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪২ সালে ডঃ বিধান চন্দ্র রায় কলকাতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো কঠিন
পরিস্থিতিতেও তিনি কলকাতায় শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা বজায় রাখতে সফল হন। তার
চমৎকার সেবার জন্য তাকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ উপাধি দেওয়া হয়। বিধান চন্দ্র রায়
ছিলেন এক ধন্বন্তরী চিকিৎসক। রোগীকে একবার দেখেই তিনি বলেদিতেন রোগীর কি রোগ
হয়েছে। ডক্টর বিধান চন্দ্র রায় বিশ্বাস করতেন যে, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ
নির্ধারণ করে। তাই তাদের উচিত ধর্মঘট ও অনশন ছেড়ে নিজেদের ও দেশের উন্নয়নের জন্য
কঠোর পরিশ্রম করা। ড. বিধান চন্দ্র রায়ের জীবন কাহিনী রাজনৈতিক জীবন তিনি ১৯২৩
সালে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ব্যারাকপুর নির্বাচনী
এলাকায় শক্তিশালী নেতা সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জিকে পরাজিত করেন। ১৯২৫ সালে, তিনি
হুগলি নদীতে ক্রমবর্ধমান দূষণ এবং তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করার জন্য বিধানসভায়
একটি প্রস্তাবও পেশ করেছিলেন | তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ,
মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিধান চন্দ্র রায় ১৯৪৮ থেকে
১৯৬২ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের অনেক
উন্নয়ন করেছেন। এজন্য তাকে ‘পশ্চিমবঙ্গের রূপকার’ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি
পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটি নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করেন – দুর্গাপুর, কল্যাণী, বিধাননগর,
অশোকনগর এবং হাবড়া। তিনি সেই বিরল মানুষদের একজন যারা M.R.C.P. ও F.R.C.S.
করেছেন একসাথে মাত্র ২ বছর ৩ মাসে। তার জন্ম ও মৃত্যুদিন ১ জুলাই ভারতে ‘চিকিৎসক
দিবস’ হিসাবে পালিত হয়।রাজনৈতিক জীবন তিনি ১৯২৩ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ব্যারাকপুর নির্বাচনী এলাকায় শক্তিশালী নেতা
সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জিকে পরাজিত করেন। ১৯২৫ সালে, তিনি হুগলি নদীতে ক্রমবর্ধমান
দূষণ এবং তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করার জন্য বিধানসভায় একটি প্রস্তাবও পেশ
করেছিলেন।
বিলেত থেকে এফআরসিএস পাশ করার পর তিনি দেশের মানুষের চিকিৎসার করার জন্য বাংলায়
ফিরে এসছিলেন | প্রথমে কলকাতার মহানাগরিক এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী
হিসাবে তিনি কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের একাধিক উন্নয়ন করেছিলেন | সল্টলেক ,
লেকটাউন মত বেশ কিছু এলাকার রূপকার | এসবকে ছপিয়ে ড. বিধান চন্দ্র রায়ের
আরও একটি গল্প অমর হয়ে গিয়েছে | ডাক্তার নীলরতন সরকারের কন্যা কল্যাণীর সঙ্গে
বিধান চন্দ্র রায়ের অপূর্ণ প্রেম কাহিনী | বিধানচন্দ্র রায় নিজের পুরানো
প্রেম নিজের থেকে কখনও আলাদা করেন নি | বরং প্রেমিকার নামেই আস্ত শহরের
নামকরণ করেছিলেন যা আজকে পরিচিত কল্যাণী নগরী হিসাবে | নদীয়া জেলায় এই ছোট
শহরটি কলকাতা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এই শহরটি কলকাতা থেকে
অনেক নবীন | বিধান চন্দ্র রায় এই শহরটি তৈরি করেছিলেন | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময় এই শহরটি রুজভেল্ট টাউন হিসাবে পরিচিত ছিল , পরে এই শহরটি নিজের প্রেমিকার
নামে নামাঙ্কিত করেছিলেন |
বিধানচন্দ্র রায়ের মৃত্যু ১৯৬২ সালের ১ জুলাই তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি একটি ‘নার্সিং হোম’ চালানোর জন্য তার বাড়ি দান করেছিলেন। এরপর তিনি তাঁর মা
কে শ্রদ্ধা জানাতে ‘অঘোরকামিনী দেবীর’ নামে এই নার্সিং হোমের নামকরণ করেছিলেন।
স্নিগ্ধ মুখের মৃদু হাঁসি দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে জয় করেছিলেন কঠিন বাস্তবকে "
প্রেমিকা কল্যাণী'র " অপূর্ণ প্রেমের ত্যাগের কাহিনী আজও যেন অমর ইতিহাসের পাতা |
প্রজাতন্ত্র জনতার
ডঃ কবি অসিত পাল
স্বাধীনতার সেই স্বপ্ন ছিলো যখন একসময়,
এক ডাকে সব একত্রিত, ভাবলে গর্ব হয় !
কিন্তু স্বপ্ন একটাই, “বলো, ভারত মাতার জয়!”
কিন্তু এখন, অবাক লাগে সঙ্গে আবার ভয়।
আসলে প্রজার মেরুদণ্ড আজ নেই আর সোজা,
যেমনটা ছিলো পরাধীনতায়, বৃথা আজ তা খোঁজা;
নেতারা এখন সর্বেসর্বা,প্রজা মানে হলো গাধা !
দল আর নেতা এখন রাজা, বাকি হীরকের প্রজা!
শুধুই বিভেদ, ষড়যন্ত্র আর রাজনীতি ছুতা,
প্রজা প্রজাই, রাজা এখন কেবলমাত্র নেতা;
প্রজার মূল্য ঘোড়ার আণ্ডা প্রজাতন্ত্র এক ঘোট,
প্রজাতন্ত্র দিবসেও তাই রাজনীতি একচোট!
প্রজা আছে রাজ্যময় শত সহস্র জুড়ে
অস্থির চঞ্চল হয়ে ঘুরে বেড়ায় কেবল !
যুবকের দল খুঁজে এথায় সেখায় সব,
চাকুরীর বাজারে চলছে যেন মন্দায় ।।
পকেট ভরার হরেক রকমের ধান্ধায়
হতাশায় মাথা ডুকরে তারা মরে !
অবেলায়ে শত শত যুবক ঝরে পরে
কে দেবে তাদের ভবিষ্যতের শান্তনা ।।
কেটে গেছে পরাধীনতার শিকল,
পেয়েছি প্রজাতন্ত্র, আজ হয়েছি মুক্ত !
এই স্বধীনতা কি চেয়েছিনু মোরা ?
দুর্নীতি আর কুট রাজনীতি যুক্ত॥
সাম্প্রদায়িকতার ভাইরাস বাসা বেঁধেছে,
হারিয়ে গেছে দেশাত্ববোধ ও মানবিকতা বোধ!
চলছে শুধু সন্ত্রাস আর রাজনীতির খেলা,
বলতে পারো এ কেমনে হল প্রজাতন্ত্র ?
তবু মানব হাঁসি মুখে বরন করে ধরনীতে,
সকল দুঃখের মাঝে তালে তাল দিয়ে মরে
গলায় গলায় সবে মিলায় সুরে জাতীয় সঈীত !
কল্যানময় হউক “প্রজাতন্ত্রদিবস"আনন্দময়ে।।
শশী-মামা
উদয় নারায়ণ বাগ
কে আঁকিল কলঙ্কের দাগ
শশীর গায়ে খালি?
ধোঁয়াশার এক চাদর মুড়ে
কে ছোড়াল কালি?
কে দিয়েছে শশীর রানির
নামটি চরকা বুড়ি?
কে বলে যে সেথায় আছে
শুধুই পাথর নুড়ি?
আমার মতো স্নেহ নিয়ে
একবার যাও সেথা,
দেখবে তুমি এমন কথায়
পায় যে শশী ব্যথা।
তোমরা কেন বাদ করো যাও
শশী মামাটিকে?
কত সুন্দর তাকায় দেখ
সবার মুখের দিকে।
এমনি ভাবে আর দিও না
বদনামেরই জ্বালা,
মনের মাঝে রেখে তারে
পরাও ফুলের মালা।
সোনার বরণ রূপটি কি তার
পাওনি দেখতে তোমরা?
এমন রূপে জ্বলে কেন
মুখটি করো গোমড়া?
খুশিতে বিভোর বসুন্ধরা
শান্তি দাস
অপরূপ লীলা ভুবন জুড়ে মোদের এই পৃথিবীর সৃষ্টি,
এদেশ আমার তোমার সকল দেশের সেরার সেরা,
আমাদের বসুন্ধরা শস্য শ্যামলা ফসলে প্রকৃতির সৌন্দর্য,
প্রকৃতির সাজে খুশিতে বিভোর নব নব উল্লাসের ধারা।
বছর ঘুরে আসবে নতুন ফসল সকলের মন,ভরবে আনন্দে,
মোদের দেশ ফসলে সবুজে ঘেরা অপরূপ রূপে ভরা।
সকালের সূর্যোদয় আর পাখির ডাকে ভাঙে ঘুম,
সারাদিনের কোলাহলে পাখিরা সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরা।
কি অপরূপ দৃশ্য মোদের এই বসুন্ধরার রূপের খেলা।
চারদিকে সবুজে সবুজ ফসলে কি অপরূপ সুন্দর।
ভোরের আলো পড়তেই কৃষক লাঙ্গল জোয়াল হাতে,
চাষিরা চাষ করে আনন্দে সারাদিন খাটে।
নদী নালা খাল বিল অপরূপ রূপে সজ্জিত এই বসুন্ধরা,
যেন খুশিতে বিভোর প্রকৃতির সাজানো রূপ মাধুর্যে।
মাঠে মাঠে ধানের শীষ হাওয়াই দুলছে চাষির মুখে হাসি,
প্রকৃতি নতুন রূপে অবিরাম সরবে খোলা আকাশের নীচে।
বিপরীত প্রবাহে বইছে জলধারা স্রোতের গতির ডাকে,
জীবনের গতি ও আমাদের অজানা নানান পথে চলতে।
গন্তব্য কোথায় শুধু চঞ্চল বসুন্ধরা অজানা সুখের খোঁজে,
আমাদের প্রিয় পৃথিবী স্বপ্ন ভেসে
ভেসে যাচ্ছে আকাশের বুকে।
মাদ্রাসার শিক্ষা
হা.ক্বারী মঈন উদ্দিন
মাদ্রাসা নামক ফুল বাগানে
ফুলের ছড়াছড়ি ,
আর পাবেনা এমন বাগান
বুঝাই কেমন করি ।
সব কিছুরই নিয়ম আছে
আছে অনেক সুনাম,
মাদ্রাসাতে পাবে তুমি
সুষ্ঠ কারিকুলাম ।
আর চলোনা উল্টো পথে
এবার একটু রুখো।
ভদ্রতা আর শিষ্টকচারী
মাদ্রাসাতেই শিখো ।
মাদ্রাসাতে ইলমে ওহী
শিক্ষা দেওয়া হয়,
জঙ্গীবাদের আস্তানা তো
মাদ্রাসাগুলো নয়।
দিশার সাইকেলটা সারিয়ে দেওয়ার পর থেকে, দিশা আর অভিজিতের কথোপকথন বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে সেটা বন্ধুত্বে পরিণত হয়। দিশা বলেছিল যে, ওদের সম্পর্কটা শুধু বন্ধুত্বের থাকবে। কিন্তু সেই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা যে কখন ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়, দিশা নিজেও বুঝতে পারেনি।
পড়ুন: https://pratilipi.page.link/
বদলে গেছে আমার খোকা
প্রহ্লাদ কুমার প্রভাস
খোকা আমার ছোট্ট সোনা
পারত না খেতে তুলে।
কোলে নিয়ে যতন করে
খাওয়াতাম, আজ গেছে ভুলে।।
দূর থেকে যে মা
বলে ডাকতো উচ্চ স্বরে।।
সময়ের ব্যবধানে যে আজ
সে গেছে সরে দূরে।।
আমার কথায় যে মানতো,
সদাই করত আমার পূজা।
বিয়ের পরে কোথায় গেল?
আমার সেই আদুরে খোকা?
খোকার এখন বৌ হয়েছে
তার সময় হয় না।
বাড়ি এসেই মাকে যে
ডাকত এখন ডাকে না।।
একটি নজর না দেখে
যে প্রচুর কান্না করতো।
আজ সে জিগ্গেসও করে
না মাগো কেমন আছো?
রাত্রি জেগে থাকতাম বসে,
তার ফিরতে দেরী হলে।
আদর করে বকা দিতাম
দূরে গেছে বিরক্ত হয়ে?
এত অভিমান মায়ের উপর,
ঠিকমতো খেতেও দিশ না??
বৌ এর আদর পেয়ে,
আজ মনেও পড়ে না??
বদলে গেছে আমার খোকা
করে দিয়েছে পর।
মাকে বাইরে রেখে খোকা
আজ বাঁধছে সুখের ঘর।
নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
ছড়ার জীবন
দীপঙ্কর বৈদ্য
ছড়ার জীবন বয়ে যাব
সাত সমুদ্র পার,
তেরো নদী তেরচা বাঁকা
দূর বেশি নয় আর।
ভেসে ভেসে জলের স্রোতে
তাইরে নাইরে না,
জীবন তরী আমার হাতে
মন যে মানে না।
ছোটো বড়ো মিলে মিশে
করবো সবাই কাজ,
হেসে খেলে মজার ছলে
লাজ ভরাবো সাজ।
ইড়িং বিড়িং চিংড়ি দিয়ে
দিচ্ছি সুড়সুড়ি,
চলার ছন্দে বঙ্গা রথে
চলুক হুড়োহুড়ি।
খোকার বায়না
শিবনাথ মন্ডল
খোকা এখন বায়না ধরেছে
মামার বাড়ি যাবে
শীতকালে খেজুর গুড়
মুড়ি মাখিয়ে খাবে।
মামার বাড়ি যাবে খোকা
, চড়ে মটর গাড়ি
রাস্তার দু'ধারে খেজুর গাছ
দেখে সারি সারি।
খেজুর রস খাবে খোকা
গাছের তলে বসে
মামা উঠেছে গাছের মাথায়
কলস গেল খসে।
ছোট ভাগনা রস পেলোনা
যেন কপাল দোষে
রস পরে গাছের তলা
গেল যেন ভেসে।।



