|। পরিচয় শিশু সাহিত্য ।|
📢 প্রকাশ:
- বাংলা: ১২ই ফাল্গুন ১৪৩০
- ইংরেজী: ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪
- বার: রবিবার।
- সময়: সকাল ০৭টা ( কলকাতা টাইম জোন)
✒️ লিখেছেন:
বসন্ত বিষাদ
ফাগুন তো আগুন জ্বালবেই বনে
তুমি কেনো পুড়ে পুড়ে কিছু কথা লুকাও মনে?
দখিনা বাতাস তো চুমু খাবেই পাপড়ির গালে
তুমি কেনো হা-হুতাশ করছ বিরহ ব্যথার ঝালে?
বসন্ত দূত তো মন মাতাবেই কুহু কুহু তানে
তুমি কেনো ভাসছ বসন্তের বানে?
পল্লব তো গজাবেই পত্রহীন শাখে
শূন্য কেনো সরসী তোমার যৌবন ভরা কাঁখে?
দিন শেষে ফুল তো ঝরে যাবেই ভূমে
তুমি কেনো কাঁদছ ঝরা ফুল চুমে?
গর্বের মাতৃভাষা
সঞ্জয় বৈরাগ্য
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা মোদের প্রাণ,
বাংলা আমার জন্মভূমি,
রাখবো বাংলার মান।
বাংলা আমার হাতের লেখা,
বাংলা আমার কথা
বাংলা হল মধুর ভাষা,
এটাই পরম গাথা।
বাংলা ভাষা মায়ের সমান,
নিবিড় কোমল ছায়া
শ্রদ্ধা করো, ভক্তি করো,
কোরো না কোনও হায়া।
মোদের প্রিয় মাতৃভাষা
সুদীপ্ত দে
নতুন ভোরে ফুলের বনে
ছুট লাগলাম কলতানে।
আজ হয়েছি এক যে মোরা
বাধা মোরা মায়ের সুরে।
বেঁধেছি গান একে একে
বিশু, মালিনী, সুরেশ, কেতকী।
মায়ের মুখে ওই যে ভাষা
নব প্রভাতের আলোর দিশা।
মোদের মনের সুপ্ত প্রকাশ
মোদের প্রিয় মাতৃভাষায়।
আজকালকার খোকা
জীবন সরখেল
কাবাডি আর ক্রিকেট ভুলে
দেশের যত খোকা
কার্টুন,গেম ও মোবাইলে
হচ্ছে ভারী বোকা!
কেক,ফাস্টফুড,চকোলেটেতে
ভুগছে নানা রোগে
ঠান্ডা সব পানীয় পেটে
পড়ছে যে দুর্ভোগে!
আত্মসুখের দুনিয়াতে
না হয়ে ঠিক মানুষ
পেশাদারে বাড়ছে শুধুই
অসারতার ফানুস!
আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষায়
লড়ালে জান ও প্রাণ
দেশের দশের প্রয়োজনে
'ওরা' রাখবেই ঠিক মান।
ধুলি তলে শিশু আমার
পম্পা ঘোষনিঝুম রাতে অন্ধকার
আকাশ তলে নামে,
পথশিশু ওই ফুটপাতে
থাকে না সম্ভ্রমে।
রাস্তায় খায় রাস্তায় থাকে
রাস্তায় বড় হয়।
জীবন শুধুই আঁধার
নেই কোনো ঘর।
খেলতে খেলতে হঠাৎ করে
দুচোখ ভরে ঘুম
ইটখানি মাথায় দিয়ে
কাটায় রাত হিম।
অট্টালিকায় শিশু বেশ
আছে আরাম করে,
পথশিশু ওই ধরা তলে
আছে কেমন পড়ে।
বাংলা ভাষা
মিহির সেনবাংলা আমার মায়ের ভাষা
বাংলা আমার মা,
বাংলা আমার জীবন মরণ
বাংলা গরীমা।
প্রথম যেদিন কথা ফোটে
চিনি আপনজন,
আপন করি মায়ের ভাষায়
করি আলাপন।
এই ভাষাতে কাঁদি হাসি
বলি মনের কথা,
মিষ্টি মাখা সহজ সরল
কতই মধুরতা।
রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকবি
বাংলা ভাষার জয়,
লক্ষ জনে বিশ্ব জিনে
যশস্বী হয়েছে নিশ্চয়।
বিশ্ব মাঝে বঙ্গ জনে
বাংলা ভাষায় চেনে,
শহীদ হয়ে বাংলা ভাষায়
আনলো জগৎ জিনে।
তোমার বুলিই আমার ভাষা
প্রহ্লাদ কুমার প্রভাসমায়ের ক্রোড়ে বাড়ে শিশু খেলে পিতার কোলে।
মায়ের সাথেই উঠা বসা, কথা বলে মায়েরই বোলে।।
মায়ের কাছে হাঁটা শেখে, শেখে সদাচার।
বাবার কাঁধে বেড়ায় ঘুরে, মায়ের কাছে শেখে ধর্মীয় আচার।।
মা হলো প্রধান শিক্ষক শিশুর জন্ম কালে।
মায়ের থেকে শেখা প্রথম বুলিই শিশু আজীবন বলে।।
"মাগো, তোমার শেখানো সেই বুলি আজ আমার ভাষা।
হয় হোক জীবন আঁধার, হোক জীবনের সার তবু মান রাখতে পারি যেন এই করি আশা"।।
" তুমি, শেখালে মাগো, ভাষা কি জিনিস!!
অ, আ, ক, খ মাগো তোমার বুলি, জানাই তারে কুর্ণিশ"।।
" সদা যেন তোমার মান, রাখতে পারি দিয়ে প্রাণ এই করি আশা।
মাগো, বলি তোমায় বারেবার, এই আমার জীবন সার ""তোমার বুলিই আমার ভাষা" ।।"
আ-মরি বাংলা ভাষা
উদয় নারায়ণ বাগসৃষ্টি মাঝে বাংলা ভাষা
মহান সৃষ্টির একটি দান,
এমন ভাষা রাখতে বুকে
শহিদ হলো কত প্রাণ।
ভাষার সেরা আমার ভাষা
আমবাঙালির হৃদির টান,
এই ভাষারই সৃষ্টি-ধারায়
বাংলা পেল বিশ্বে মান।
অ আ ক খ বর্ণমালায়
লুকিয়ে স্বপ্ন অন্তহীন,
স্বপ্নগুলো কাব্য হয়ে
ধরায় আনে নতুন দিন,
ভাষার তরে কত মহান
রেখে গেছেন নানান চিন,
বিশ্ব-দোরে বাংলা ভাষা
তাদের কাছে অশেষ ঋণ।
ভাষার মাঝে মায়ার-সংসার
হাসিকান্নার লহরি,
এই ভাষাকে করতে আপন
হয়েছি আজ জহরি।
ভুলতে কি আর পারি বলো
বাংলা ভাষার মধুর সুর?
গলি থেকে মাঠ পেরিয়ে
ঝংকার তোলে বহুদূর।
স্পন্দিত এই মনের মাঝে
বাংলা-কাব্য আনে সুখ,
সৃষ্টি-রসে মন ভাসালে
ভিজিয়ে দেবে ভাঙা-বুক।
বাংলা-মায়ের বাংলা ভাষা
আবেগ দিয়ে বাঁধা ঘর,
সাধন-ভজন করলে তারে
হবেই হবে অধীশ্বর।।
অমর একুশ
নিতাই শর্মাএকুশ মানে রক্তে রাঙা বসন্তের পলাশ,
একুশ মানে মাতৃভাষা লাভের প্রয়াস।
একুশ মানে রক্তে রাঙা ঢাকার রাজপথ,
একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষার তরে সপথ।
একুশ মানে বাঙালির রক্তের প্রতিদান,
একুশ মানে বিশ্বজুড়ে মাতৃভাষার সম্মান।
একুশ মানে হানাদার বাহিনীর পরাজয় ,
একুশ মানে বাংলা তথা বাঙালির জয়।
একুশ মানে রফিক সালামের জীবন দান,
একুশ মানে বরকত জব্বারের মহা প্রয়াণ।
একুশ মানে সফিউর আর বাংলার অবদান,
একুশ মানে বিশ্ববাসী পেল মাতৃভাষার মান।
একুশ মানে বাঙালির আকাঙ্ক্ষা পূরণ,
একুশ মানে মায়ের ভাষার বর্ধমান।
একুশ মানে স্বৈরাচারীতার চিরতরে পতন,
একুশ মানে মাতৃভাষার অধিকার অর্জন।
মাতৃভাষা
তপন মাইতিএকুশে সেই দিনের কথা
বুকের রক্ত করেছে দান
বর্ণমালার কষ্টের ব্যাথা
শিশুর মুখে কদরে মান।
বাংলার মাটি ভিজল সেদিন
পলাশ রঙে বর্ণমালা
শহীদ স্মরণে ঘুচবে ঋণ
শিশুর কথায় মিটবে জ্বালা।
বর্ণমালা মৃত্তিকার ঘ্রাণ
ভাব প্রকাশে বাংলা দিশা
বুকের ভাষা জুড়ায় যে প্রাণ
শিশুর চোখে কাটে নিশা।
শৈশব বেলায় হাতে খড়ি
ঘুম পাড়ানি মায়ের গানে
মায়ের হাতে ডালের বড়ি
সুখের কথা টেনে আনে।
গর্বে আমার বুক ফেটে যায়
বিশ্বে প্রথম মাতৃভাষা
লড়াই করে স্বীকৃত পায়
গান যে লিখি শব্দচাষা।
দুই বন্ধু
আব্দুল রাহাজআমার মাতৃভাষা বাংলা
রবিন রায়শৈশবে যখন অবোধ আমি,
জানতাম না কোনোকিছু ;
মায়ের মুখে কিছু আনকোরা -
শব্দ শুনে হতাম কাচুমাচু।
মায়ের মুখটি পানে চেয়ে রইতাম,
অদ্ভুত বিস্ময়ে খালি তা শুনতাম।
ধরেছি স্মৃতিতে একে একে,
কিছুটা ঈশারায় আবৃত্তিতে ;
বাকিটা নিত্য ঘটনা সাপেক্ষে -
সম শব্দের পুনঃপুনরাবৃত্তিতে।
আয়ত্তে আসে ভাব প্রকাশের তরে,
উচ্ছ্বসি আমিও আধো আধো করে।
ধ্বনিতে ধ্বনি মিলে
পূর্ণ হয় শব্দ ;
অস্ফুট সে আওয়াজ শুনে
মা হন আনন্দে স্তব্ধ!
"এই তো আমার সোনা বলছে কথা,
সত্যি শুনে লাগছে কি যে প্রসন্নতা !"
দিন ক্রমে স্বর থলি -
পূর্ণ হলো যার প্রভাবে,
সেই প্রথম শিক্ষিকা -
মা ছাড়া ভিন্ন নয় ভবে।
পরিব্যক্তে ব্যক্ত করতে বুকের আশা,
মা'ই শেখালেন পরম স্নেহতে ভাষা।
মায়ের মুখে উচ্চারিত -
মধু বানী বুকে বেঁধেছে বাসা ;
আমি কথা বলি, স্বপ্ন দেখি-
যে ভাষাতে, তাই মাতৃভাষা।
বাংলায় কথা বলে সুখ পাই মেলা,
গর্ব এই, আমার মাতৃ ভাষা বাংলা।
ভিন্ন ভাষা যদিও জানি-
বাংলায় দুঃখে বকি প্রলাপ,
আনন্দে অন্য ভাষা আসে না;
সেই ভাষাতেই সুখের বিলাপ।
বাংলাতে গান গাই হয়ে আনমনা ;
বাংলা ভাষাতেই কাঁদি মরা কান্না।
আমার সবেতেই বাংলা ভরা,
বাংলায় লিখি কবিতা ;
মস্তিষ্ক বিকৃতেও ভুলবো না-
কভু বাংলায় বলতে কথা।
আমার মাতৃভাষা ধরে না এই কন্ঠে ;
অন্য ভাষা তেমন লাগে না বৈকুন্ঠে।
পণ করে বলছে কবি,
মাতৃভাষায় মা যে বাসেন ;
সে সিংহাসনে দেবো না-
ঠাঁই, নব্যরূপে যেই আসেন।
পশ্চিম বাংলায় আমারই অবস্থিতি,
বাংলা ভাষাতেই আমার পরিচিতি।
কবি জীবনানন্দ দাশ
অভিজিৎ দত্তরবীন্দ্র পরবর্তী যুগে
আধুনিক কবি হিসাবে
যার নাম সর্বপ্রথমে উঠে আসে
তিনি কবি জীবনানন্দ দাশ।
১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই ফেব্রুয়ারি
যে শিশুটি কোল আলো করে এসেছিল
কুসুমকুমারী দাশের ঘরে
তিনিই পরবর্তীকালে বিখ্যাত হয়েছিলেন
কবি জীবনানন্দ দাশ নামে।
দারিদ্র্য আর অনটন ছিল যার চিরসঙ্গী
তার হাত দিয়েই সৃষ্টি হয়েছিল
অসাধারণ সব লেখনীর।
বনলতা সেন আর রূপসী বাংলা
তার শ্রেষ্ঠ দুখানি কাব্যগ্রন্থখানি
পরিচয় দেই তার প্রতিভা কতখানি।
জীবিতকালে সঠিক মূল্যায়ন
হয় নি যার
শুধু পেয়েছিলেন কিছু পুরস্কার
রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার ও
সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার।
১৪টি উপন্যাস ও শতাধিক
ছোট গল্পের প্রণেতার
আকস্মিক প্রয়াণ ঘটেছিল
ট্রাম দুর্ঘটনার দ্বারা ১৯৫৪ সালে।
কবিতারা পরে থাক
আফরিনা সুলতানা ঈশিতাকবিতারা পরে থাক;
কেন যানি ইদানীং
হাতের কলম টা আর খাতায় যায় না।কালি বুঝি শেষ ;
হাত টাও আর চলেনা৷
কলম ধরার বুঝি আজ আর নেই
আগের মতন শক্তি বেশ।
কবিতার কথা ছিল আমার কাছে
থাকবে তারা সব,
কবিতারই ভাষায় কথা বলে মনে পরে কথা বলা হয়েছে কি তব?
কবিতায় নেই আর আগের মতো প্রেম;
তব বিরহের স্বাদ যায়না পাওয়া।কি করে লিখবো কবিতা
উদাস বনে নেইতো আর শূণ্য হাওয়া।
কবিতায় নেই ভালোবাসা
নেই রস,কশ, স্নিগ্ধতা।
আবেশের চাদরে জড়িয়ে রেখে
পাবো কি কবিতা লেখার পূর্ণতা?


পরিচয় শিশু সাহিত্যের নিয়মিত পাঠিকা হিসেবে গর্বিত এবং ধন্য।এই সাপ্তাহিক সংখ্যাটি কৃতিত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে সফল হয়েছে।এই পত্রিকার সঙ্গে রয়েছি ও থাকব।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
🙏